বড় মাছ চাষ পদ্ধতি: লাভজনক মজুত পুকুর নির্বাচন ও প্রস্তুতির নিয়ম

প্রোডিউসার গ্রুপের আধুনিক মাছ চাষ পদ্ধতি প্রদর্শনী ক্ষেত্রে মাছ তুলছেন পুকুর থেকে দিদি-রা ।
প্রোডিউসার গ্রুপের আধুনিক মাছ চাষ পদ্ধতি প্রদর্শনী ক্ষেত্রে মাছ তুলছেন পুকুর থেকে দিদি-রা ।

বন্ধুরা, ধানী পোনা থেকে চারা পোনা তৈরির সফল ধাপ পার করে এবার আমরা পা রাখছি মাছ চাষের আসল জায়গায়— অর্থাৎ মজুত পুকুরে বড় মাছ পালন। বন্ধুরা, আপনারা যদি আমাদের ধানী পোনা মাছ চাষ পদ্ধতি না পড়ে থাকেন, তবে সেটি আগে একটু দেখে নিবেন, তাহলে আজকের এই আলোচনাটি বুঝতে আরও সুবিধা হবে।

বড় মাছ চাষের ক্ষেত্রে প্রথমেই আমাদের ঠিক করতে হয় আমরা একক চাষ করব নাকি মিশ্র চাষ। রুই, কাতলা ও মৃগেল— এই দেশীয় তিন প্রজাতি নিয়ে হয় একক চাষ। আর দেশীয় ও বিদেশি প্রজাতি মিলিয়ে হয় মিশ্র চাষ। বিদেশি মাছের বৃদ্ধির হার অনেক বেশি; যেমন কাতলার চেয়ে সিলভার কার্প দ্রুত বাড়ে। আবার মৃগেলের চেয়ে সরপ্রিনার্স বা সাইপ্রিনাস (Common Carp) মাছের বৃদ্ধি অনেক বেশি। তাই একই সময়ে বেশি উৎপাদন পেতে মিশ্র মাছ চাষ পদ্ধতি সবচেয়ে লাভজনক।

তবে আপনি যদি লালন পুকুরে বড় মাছ চাষ এই কন্টেন্টটি পড়ার আগে আমাদের আতুর পুকুর ডিম পোনা চাষ [এখানে ক্লিক করুন ] এবং পালন পুকুরে ধানী পোনা চাষ গাইড [এখানে ক্লিক করুন ] গুলি না দেখে থাকেন তবে অবশ্যই দেখুন এতে আপনার মাছ চাষের একটি পূর্ণাঙ্গ সঠিক ধারণা তৈরি হবে যা মাছ চাষে অধিক লাভ নিশ্চিত করবে।

বড় মাছ চাষের সাফল্যের জন্য আমাদের ৪টি প্রধান ধাপ অনুসরণ করতে হয়:

মাছ চাষ পদ্ধতি-তে ভাল উৎপাদন এর জন্যে নিন্মের বিষয় বিস্তারিত জানা প্রয়োজন:

ক. লালন বা মজুত পুকুর নির্বাচন
খ. লালন পুকুর প্রস্তুতি
গ. পোনা মজুতের হার
ঘ. পোনা ছাড়ার পর পরিচর্যা

১. লালন বা মজুত পুকুর নির্বাচন (Pond Selection)

বড় মাছ পালনের জন্য পুকুরটি হতে হবে আদর্শ। মাছ চাষ পদ্ধতি-র একটি গুরত্ব পূর্ণ অংশ।

  • পুকুরে সারা বছর অন্তত ৪.৫ থেকে ৬ ফুট জল থাকা প্রয়োজন। পুকুরের পাড় হতে হবে উঁচু, যাতে বর্ষার জলেও প্লাবিত না হয়।
  • এঁটেল-দোআঁশ মাটি মাছ চাষের জন্য সেরা এবং পুকুরের তলায় পাক বা কাদার পরিমাণ কম থাকতে হবে।
  • আদর্শ মজুত পুকুর আয়তাকার ও আয়তনে ১ বিঘা বা তার বড় হওয়া ভালো। এক একরের বেশি পুকুর হলে মাছের বৃদ্ধি খুব দ্রুত হয়।
  • পুকুরে যেন সরাসরি সূর্যালোক পড়ে সেই ব্যবস্থা থাকতে হবে। পাড়ে নারকেল বা সুপারি গাছ থাকলে কোনো সমস্যা নেই।

২. লালন পুকুর প্রস্তুতি (Pond Preparation)

মাছ চাষ পদ্ধতি-তে পুকুর প্রস্তুতির ওপরই নির্ভর করে আপনার মাছ কত দ্রুত বাড়বে।

  • আগাছা ও পাড় মেরামত: পুকুরের আগাছা পরিষ্কার করুন। তবে গ্রাসকার্পের জন্য কিছু আগাছা রাখা যেতে পারে। পাড়ের গর্ত বন্ধ করতে হবে এবং বাইরের জল প্রবেশের রাস্তা পুরোপুরি বন্ধ রাখতে হবে।
  • অবাঞ্ছিত মাছ নিধন: মজুত পুকুর থেকে রাক্ষুসে বা অবাঞ্ছিত মাছ সরাতে হবে। এর জন্য ৩ ফুট জলের গভীরতায় প্রতি শতকে ৯ কেজি মহুয়া খৈল ব্যবহার করতে পারেন। তবে বর্তমান সময়ে গ্যাস ট্যাবলেট বা রোটেনন পাউডার ব্যবহার বেশি কার্যকর ও সাশ্রয়ী
  • চুন ও সার প্রয়োগ: অবাঞ্ছিত মাছ সরানোর ৭ দিন পর ৩ ফুট জলের গভীরতায় প্রতি শতকে ১-১.৫ কেজি চুন গুলে ছিটিয়ে দিন।
  • জৈব সার: মহুয়া খৈল দিলে ৩ দিন পর শতকে ১৫ কেজি গোবর দিন। আর মহুয়া খৈল না দিলে শতকে ৩০ কেজি গোবর প্রয়োগ করুন। এটি পুকুরে প্রাকৃতিক খাদ্যের ভাণ্ডার তৈরি করবে।

৩. পোনা মজুতের হার (Stocking Density)

মাছ চাষ পদ্ধতি-তে মজুত ঘনত্ব ঠিক না থাকলে মাছের ওজন বাড়বে না।

  • একক চাষ (বিঘা প্রতি ১০০০ মাছ): কাতলা ৪০০ টি, রুই ৩০০ টি এবং মৃগেল ৩০০ টি।
  • মিশ্র চাষ (বিঘা প্রতি ১০০০ মাছ): কাতলা ১০০ টি, রুই ৩০০ টি, মৃগেল ১৫০ টি, সিলভার কার্প ২০০ টি, গ্রাসকার্প ১০০ টি এবং সরপ্রিনার্স বা কমন কার্প ১৫০ টি।

জলের স্তর অনুযায়ী মাছের অবস্থান:

  • উপরের স্তর: কাতলা ও সিলভার কার্প। কাতলা প্রাণীকণা খায় এবং সিলভার কার্প উদ্ভিদকণা খেয়ে পুকুরের ভারসাম্য বজায় রাখে।
  • মধ্যম স্তর: রুই ও গ্রাসকার্প। রুই ছোট অবস্থায় প্রাণীকণা ও বড় হলে উদ্ভিদকণা খায়। গ্রাসকার্প খায় জলজ উদ্ভিদ বা ঘাস।
  • নিচের স্তর: মৃগেল ও সরপ্রিনার্স কার্প। এরা পুকুরের তলার মাটি সংলগ্ন খাদ্য এবং পচনশীল জৈব পদার্থ খায়।

বন্ধুরা, পোনা ছাড়ার আগে অবশ্যই বড় সাইজের (১০০ গ্রামের ওপরে) পোনা নির্বাচন করবেন এবং লোনা জল বা পটাশ জলে ৩০ সেকেন্ড শোধন করে পুকুরে ছাড়বেন।

৪. মাছের পোনা ছাড়ার পর পরিচর্যা ও খাবার ব্যবস্থাপনা

মাছের ওজন অনুযায়ী খাবারের পরিমাণ নির্ধারণ করা বিজ্ঞানের মতো নিখুঁত হতে হয়। ভুল পরিমাণে খাবার দিলে হয় মাছের বৃদ্ধি কম হবে, না হয় পুকুরের জল নষ্ট হয়ে মাছ চাষ পদ্ধতি-তি ব্যাহত।

  • দৈনিক খাদ্যের চার্ট (দৈহিক ওজনের ওপর ভিত্তি করে):
  • ১০০০টি মাছের মধ্যে অন্তত ৯০০টি বেঁচে আছে ধরে নিয়ে নিচের হারে খাবার দিতে হবে:
  • মাছের ওজন ২৫-১০০ গ্রাম: মোট ওজনের ৩% খাবার।
  • মাছের ওজন ১০০-২৫০ গ্রাম: মোট ওজনের ২.৫% থেকে ২% খাবার।
  • মাছের ওজন ২৫০-৪৫০ গ্রাম: মোট ওজনের ২% থেকে ১.৫% খাবার।
  • মাছের ওজন ৪৫০-৭০০ গ্রাম: মোট ওজনের ১.৫% থেকে ১.২% খাবার।

হাতে তৈরি খাবার তৈরির নিয়ম:

সরিষার খৈল এবং রাইস ব্রান (বা চালের কুঁড়ো) ১:১ অনুপাতে মেশাতে হবে। যেমন— ১০ কেজি খাবার তৈরি করতে ৫ কেজি খৈল, ৫ কেজি রাইস ব্রান এবং ১০০ গ্রাম লবণ দিন। খৈল আগের দিন ভিজিয়ে রেখে পরের দিন রাইস ব্রান ও ১৫০ গ্রাম লবণ মিশিয়ে বড় বড় লাড্ডু বা বল তৈরি করুন। এই বলগুলো বাঁশের ঝুড়িতে করে পুকুরের ২-৩টি নির্দিষ্ট জায়গায় জলের নিচে নামিয়ে দিন। এতে খাবারের অপচয় কম হয়।

আড়ও দেখুন শূন্য থেকে লক্ষপতি: অমৃতা দাসের Integrated Farming থেকে প্রতি মাসে ৩৫,০০০-৪০,০০০ টাকা আয় সাফল্যের কৃষি সূত্র

গ্রাসকার্প মাছের বিশেষ খাবার:

গ্রাসকার্প মাছকে তার ওজনের সমান পরিমাণে উদ্ভিদ খাদ্য দিতে হবে। মাছ ১ কেজি হলে ১ কেজি ঘাস নিশ্চিত করুন। কলার পাতা, এজোলা, নেপিয়ার ঘাস বা পুকুরের পাড়ে কলমি ও হেলেঞ্চা শাকের উপস্থিতি মাছ চাষ পদ্ধতি-তে এই মাছের জন্য লটারি জেতার মতো।

৫. নিয়মিত স্বাস্থ্য রক্ষা ও জল শোধন

মাছ চাষ পদ্ধতি-তে মাছকে রোগমুক্ত রাখতে এবং দ্রুত বৃদ্ধি নিশ্চিত করতে কিছু নিয়মিত চিকিৎসার প্রয়োজন হয়:

  • চুন প্রয়োগ: প্রতি মাসে অন্তত একবার প্রতি শতকে ২০০ গ্রাম চুন (বিঘা প্রতি ৬.৫ কেজি) প্রয়োগ করুন। এটি রৌদ্রোজ্জ্বল দিনে সকাল ১০টার পর করতে হবে।
  • লবণ প্রয়োগ: পোনা ছাড়ার ২ মাস পর থেকে প্রতি মাসে একবার প্রতি শতকে ১০০ গ্রাম (বিঘা প্রতি ৩.৩ কেজি) লবণ জলে গুলে ছিটিয়ে দিন। এটি মাছের ফুলকা পরিষ্কার রাখে এবং পরজীবী আক্রমণ কমায়।
  • চিটেগুড় (মোলাসেস): মাসের নির্দিষ্ট দিনে প্রতি শতকে ৫০ গ্রাম চিটেগুড় প্রয়োগ করুন, যা জলের কার্বন-নাইট্রোজেন ভারসাম্য বজায় রাখে।

৬. প্রাকৃতিক খাদ্য তৈরির বিশেষ ফর্মুলা (প্লাঙ্কটন বুস্টার)

যদি সাধারণ উপায়ে পুকুরের জল সবুজ বা বাদামি না হয়, তবে নিচের আধুনিক পদ্ধতিগুলো ব্যবহার করুন:

আটা ও ইউরিয়া পদ্ধতি: জল সবুজ (ফাইটো-প্লাঙ্কটন) করতে প্রতি শতকে ৭৫ গ্রাম আটা এবং ৪ গ্রাম ইউরিয়া ভিজিয়ে নিয়ে প্রয়োগ করুন।

ইস্ট ও মোলাসেস পদ্ধতি: মাছ চাষ পদ্ধতি-তে প্রাণীকণা (জু-প্লাঙ্কটন) বৃদ্ধির জন্য শতক প্রতি ২০০ গ্রাম রাইস ব্রান, ২০ গ্রাম চিটেগুড় এবং ১ গ্রাম ইস্ট ২৪ ঘণ্টা ভিজিয়ে রেখে পরের দিন প্রয়োগ করুন। এটি মাছের জন্য অত্যন্ত পুষ্টিকর।

খড় পদ্ধতি: মাছ চাষ পদ্ধতি-তে সবচেয়ে সাশ্রয়ী উপায় হলো ধানের খড় ব্যবহার। প্রতি শতকে ৪০০ গ্রাম শুকনো খড় পুকুরের এক কোণে জলে ডুবিয়ে রাখুন। ৪ ঘণ্টা পর থেকে এর নির্যাস জলকে সমৃদ্ধ করতে শুরু করবে।

৭. পর্যবেক্ষণ ও জাল টানা

বন্ধুরা, মাসে অন্তত একবার বড় জাল টানতে হবে। জাল টানলে তলার বিষাক্ত গ্যাস বেরিয়ে যায় এবং মাছের ব্যায়াম হয়। এতে আপনি মাছের গড় ওজন কত হচ্ছে তাও পরিমাপ করতে পারবেন এবং সেই অনুযায়ী খাবার কমাতে বা বাড়াতে পারবেন।

সঠিকভাবে এই মাছ চাষ পদ্ধতি অনুসরণ করলে আপনার খামারে মাছের বৃদ্ধি হবে চোখে পড়ার মতো এবং চাষে লোকসানের ভয় থাকবে না।

আড়ও দেখুন কেঁচো সার (Vermicompost): মাটির জাদুকরী ডাক্তার ও কৃষকের লক্ষ্মী

বড় মাছ চাষের ২৫টি ‘কৃষি সূত্র’ (সফল খামারি হওয়ার শর্ট চেকলিস্ট)

সেরা মাছ চাষ পদ্ধতি বজায় রাখতে এই ২৫টি সূত্রের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ ৬টি এক নজরে দেখে নিন:

  • ১. পাড়ের সুরক্ষা: পুকুর পাড়ের ইঁদুরের গর্ত বুজিয়ে ফেলুন; নতুবা জল বেরিয়ে যাওয়ার সাথে সাথে আপনার বিনিয়োগও বেরিয়ে যাবে।
  • ২. তলার পাক নিষ্কাশন: তলার অতিরিক্ত পাক তুলে পাড়ে দিন; এটি সবজি চাষের শ্রেষ্ঠ সার এবং পুকুরের গ্যাস মুক্ত রাখার মূল মাছ চাষ পদ্ধতি।
  • ৩. চুন প্রয়োগের সময়: কড়া রোদে বা সকাল ১০টার পর চুন দেবেন না; এতে জল-এর রাসায়নিক ভারসাম্য নষ্ট হয়ে মাছের মড়ক লাগতে পারে।
  • ৪. তাপমাত্রা সইয়ে পোনা মোচন: সরাসরি পোনা না ছেড়ে প্যাকেটটি পুকুরের জল-এ ভাসিয়ে তাপমাত্রা সমান করে তবেই ছাড়ুন।
  • ৫. কাদা ঘাঁটা ও জাল টানা: মাছের দ্রুত বৃদ্ধির জন্য নিয়মিত জাল টেনে তলার কাদা ঘেঁটে দিন; এটি বিষাক্ত গ্যাস বের করার সবচেয়ে কার্যকর মাছ চাষ পদ্ধতি।
  • ৬. সম্মিলিত চাষ: পুকুর পাড় ফেলে না রেখে সবজি চাষ ও আয়তন বুঝে হাঁস পালন করুন; এতে আপনার মাছের খাবার খরচ অর্ধেকে নেমে আসবে।

সংশোধন ও এক্সপার্ট টিপস (বোল্ড সংশোধন):

অনেক সময় না বুঝে সরাসরি রাসায়নিক সার বেশি দেওয়া হয়। মনে রাখবেন, মাছ চাষ পদ্ধতি অনুযায়ী পুকুরের জল ও গভীরতা মেপে সার না দিলে মাছের মৃত্যু ঝুঁকি বেড়ে যায় (অতিরিক্ত ইউরিয়া বা টিএসপি ব্যবহার এড়িয়ে বিশেষজ্ঞের ডোজ মেনে চলুন)।

  • বাকি ১৯টি ‘মাস্টার সূত্র’ কি আপনার জানা আছে?
  • সফল খামারি হতে হলে আপনাকে আরও জানতে হবে:
  • মাছ ধরার আগে কী করলে বাজারে দ্বিগুণ দাম পাওয়া যায়?
  • ভারী বৃষ্টির পর জল-এর অম্লতা কাটানোর অব্যর্থ ট্রিক কী?

এই সব প্রশ্নের উত্তর এবং মাছ চাষের পূর্ণাঙ্গ ‘কী করবেন ও কেন করবেন’ গাইডটি দেখতে নিচের লিঙ্কে ক্লিক করুন।

👉 [বড় মাছ চাষের ২৫ টি সিক্রেট কৃষি সূত্র: সম্পূর্ণ গাইড]

উপসংহার:

বড় মাছ চাষ মূলত ধৈর্যের কাজ। সঠিক পুকুর প্রস্তুতি থেকে শুরু করে বিজ্ঞানসম্মত খাবারের জোগান নিশ্চিত করতে পারলেই আপনি লাভবান হবেন। মৎস মৈত্রী প্রোডিউসর গ্রুপের দিদিরা যেভাবে মাছ চাষ পদ্ধতি যত্ন নিয়ে করেন, আপনারাও যদি সেভাবে নিয়মগুলো পালন করেন, তবে মৎস্য চাষে আপনারাই হবেন আগামী দিনের সফল উদ্যোক্তা।

কৃষি সুত্র পরামর্শ ও সতর্কতা: মাছ উৎপাদন চাষ কার্য শুরু করার পূর্বে, পুকুরে কোন কিছু প্রয়োগের পূর্বে আপনার নিকটবর্তী মৎস বিভাগ থেকে মাছের ডিম পোনা চাষ পদ্ধতি প্রশিক্ষণ বা পরামর্শ নিয়ে করুন । পুকুরের পরিবেশ পরিস্থিতির উপর অনেক সময় আমাদের বলা ব্যবহারিক জিনিস গুলির মাত্রা পরিবর্তন হতে পারে, তাই মৎস বিশেষজ্ঞ এর সাথে পরামর্শ করে প্রয়োগ করুন ।

আড়ও দেখুন আনন্দধারা প্রকল্পের অধীনে মহিলা প্রোডিউসার গ্রুপ (PG) বা উৎপাদক গোষ্ঠী গঠনের পূর্ণাঙ্গ গাইড

সরকারী মৎস বিভাগ হেল্পলাইন নং

বাড়িতে বসেই নিজ ভাষায় মৎস বিভাগ ভারত সরকারের এর মৎস বিজ্ঞানীদের সাথে পরামর্শ নিতে টোল ফ্রী নম্বরে ফোন করুন ।

FAQ (সচরাচর জিজ্ঞাস্য প্রশ্ন):

১. মাছ দ্রুত বড় করার উপায় কী?

উত্তর: সুষম খাদ্যের পাশাপাশি পুকুরে পর্যাপ্ত প্রাকৃতিক খাদ্য (প্লাঙ্কটন) মজুত রাখা এবং নিয়মিত জাল টানা মাছ বড় করার প্রধান উপায়।

২. ১ বিঘা পুকুরে কত মাছ ছাড়া যায়?

উত্তর: আমাদের এই গাইড অনুযায়ী ১ বিঘা (৩৩ শতক) পুকুরে ১০০০টি বড় মাছ (মিশ্র চাষ) আদর্শ মজুত ঘনত্ব।

৩. মাছ ভাসা বন্ধ করব কীভাবে?

উত্তর: পুকুরে অক্সিজেনের অভাব হলে মাছ ভাসে। সেক্ষেত্রে চুন বা অক্সিজেনের পাউডার ব্যবহার করুন এবং জল নাড়াচাড়া করুন।

তথ্য সুত্র

  • মৎস বিভাগ, পশ্চিমবঙ্গ সরকার ।
  • ভারতীয় মৎস অনুসন্ধান কেন্দ্র ( উড়িষ্যা ) ভারত সরকার (ICAR-CIFA)
  • বাংলাদেশ মৎস গবেষণা ইন্সটিউট (BFRI) বাংলাদেশ সরকার।
Spread the love

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!
Scroll to Top