লাভজনক Murgi Palon পদ্ধতি: বাসস্থান থেকে টিকার তালিকা—এক নজরে সব (২০২৬)

প্রোডিউসর গ্রুপের দিদিরা মুরগি পালন পদ্ধতিতে মুক্তাঙ্গনে পরিচর্যা ও ভ্যাক্সিন দিচ্ছেন দৃশ্য।
প্রোডিউসর গ্রুপের দিদিরা মুরগি পালন পদ্ধতিতে মুক্তাঙ্গনে পরিচর্যা ও ভ্যাক্সিন দিচ্ছেন দৃশ্য।

নমস্কার বন্ধু, বর্তমান সময়ে চাকরির পেছনে না ছুটে অনেক বেকার ভাই মুরগি পালনের মাধ্যমে স্বনির্ভর হওয়ার চেষ্টা করছেন। ডিম ও মাংসের চাহিদা বাজারে সারা বছরই থাকে, তাই এটি একটি চমৎকার ব্যবসা। তবে সমস্যা হয় তখন, যখন অনেকে না জেনে বুঝে শুধু লাভের মুখ দেখে এই ব্যবসায় নামে। ফলে লোকসানের মুখে পড়তে হয়। আপনার এই যাত্রাকে সহজ করতেই আমাদের আজকের এই বিশেষ মুরগি পালন পদ্ধতি নিয়ে আলোচনা। মনে রাখবেন, পর্যাপ্ত জ্ঞান এবং অন্তত দুটি সফল ফার্ম নিজে চোখে না দেখে বড় বিনিয়োগ করা ঠিক নয়।

এই নিবন্ধে আমরা আমাদের বাস্তব অভিজ্ঞতা এবং অভিজ্ঞ প্রাণী চিকিৎসকের পরামর্শ মিলিয়ে একটি পূর্ণাঙ্গ গাইড সাজিয়েছি।

১. মুরগি সম্পর্কে সঠিক ধারণা ও জাত নির্বাচন

সঠিক মুরগি পালন পদ্ধতি শুরু করতে হলে আগে মুরগির ধরণ চিনতে হবে।

  • লেয়ার ও ব্রয়লার: ডিমের জন্য পালিত মুরগিকে বলা হয় লেয়ার এবং মাংসের জন্য পালিত মুরগিকে বলা হয় ব্রয়লার। তবে বর্তমানে গ্রামীণ এলাকায় সোনালী, আর আই আর (RIR) ও কাদাকনাথ জাতের মুরগির দ্বৈত সুবিধা (ডিম ও মাংস) পাওয়া যাচ্ছে।
  • পালন কাল: একটি লেয়ার মুরগি ১৮ মাস পর্যন্ত লাভজনকভাবে পালন করবেন। ১৮ মাস পর থেকে লাভজনক হার কমে যায়, তাই ১৮ মাস বয়সেই এগুলো বিক্রি করে দেওয়া ভালো।
  • মাংসের জন্য সময়: ব্রয়লারের জন্য ৪০ দিন এবং সোনালীর জন্য ৭০-৮০ দিন রাখা সবচেয়ে লাভজনক মুরগি পালন পদ্ধতি

মুরগির বয়স অনুযায়ী নাম:

  • ১-২ মাস বয়স পর্যন্ত: বাচ্চা মুরগি।
  • ৩-৫ মাস বয়স পর্যন্ত: বাড়ন্ত মুরগি বা পুলিট।
  • ৬-১৮ মাস বয়স পর্যন্ত: লেয়ার বা পূর্ণ বয়স্ক মুরগি।

হ্যাচিং বা বাচ্চা উৎপাদন: যারা বাড়িতেই ডিম ফুটিয়ে বাচ্চা করতে চান, তারা প্রতি ৫টি মুরগি পিছু একটি মোরগ রাখবেন এবং মোরগের উর্বরতা বাড়াতে উন্নত খাবার জরুরি। প্রথম ২ মাসের ডিম আকারে ছোট হয়, তাই সেগুলো থেকে বাচ্চা না ফুটিয়ে বিক্রয় করাই ভালো। মনে রাখবেন, মুরগির ডিম থেকে বাচ্চা বের হতে ২১ দিন সময় লাগে। কৃত্রিম ভাবে ইনকিউবেটর মেশিনে ডিম ফুটিয়ে বাচ্চা উৎপাদন করলে লেয়ার মুরগি পালনকারী ভাই বোনেরা বেশি লাভবান হতে পারবেন।

২. আদর্শ মুরগির ঘর তৈরির নিয়ম (বাসস্থান ব্যবস্থাপনা)

একটি বিজ্ঞানসম্মত মুরগি পালন পদ্ধতি-তে ঘরের পরিবেশ হলো সাফল্যের মূল মন্ত্র।

  • জায়গার হিসেব: প্রতিটি মুরগির জন্য ২ থেকে ২.৫ বর্গফুট জায়গা দিতে হবে। অর্থাৎ ১০০ মুরগির জন্য কমপক্ষে ২০০-২৫০ বর্গফুট ঘর লাগবে।
  • ঘরের উচ্চতা: ঘরের উচ্চতা কমপক্ষে ৮ ফুট হতে হবে এবং বাতাস চলাচলের জন্য বড় জানালা রাখতে হবে।
  • লিটার বা বিছানা: মেঝেতে ধানের তুষ বা কাঠের গুঁড়ো শুকিয়ে ৩-৪ ইঞ্চি পুরু করে দিতে হবে। একেই লিটার বলে।
  • পরিচ্ছন্নতা: ঘরের কোণে যেন মাকড়সার জাল না থাকে। প্রতি ১৫ দিন অন্তর ফরমালিন বা পটাশিয়াম পারম্যাঙ্গানেট মিশ্রিত জল দিয়ে ঘর জীবাণুমুক্ত করতে হবে।

৩. মুরগির রোগের কারণ ও আধুনিক চিকিৎসা

মুরগি পালন পদ্ধতি-তে রোগ প্রতিরোধই হলো প্রধান লাভ। আসুন জেনে নিই সাধারণ কিছু রোগের চিকিৎসা:

ছত্রাক ঘটিত রোগ (অ্যাস্পারজিলোসিস)

এটি মূলত ৭ দিন বয়সের বাচ্চাদের হয়। বর্ষাকালে ভেজা লিটার বা খাবার থেকে এই ছত্রাক জন্ম নেয়।

  • লক্ষণ: শ্বাসকষ্ট ও দুর্বলতা।
  • চিকিৎসা: লিভার টনিক প্রতি ১০টি মুরগিকে ১ মিলি করে দিনে ১ বার জলে গুলিয়ে ৭ দিন দিতে হবে। তবে পশু চিকিৎসক এর পরামর্শ নিয়ে জলে সামান্য তুঁতে বা কপার সালফেট মিশিয়ে দিলে ছত্রাক দ্রুত নির্মূল হয়। সাধারণ ১০ লিটার জলে ১ গ্রাম তুঁতে বা কপার সালফেট মেশাতে হয়।
  • সতর্কতা: তুঁতে বা কপার সালফেট পরিমাণ একটু বেশি হলেই মুরগির ক্ষতি হতে পারে তাই চিকিৎসক এর পরামর্শ নিয়ে বয়স অনুসারে ডোজ ঠিক করে ঔষধ দেওয়া ভাল ।

আড়ও জানুন ২৮ টি জটিল হাঁসের রোগের লক্ষণ ও চিকিৎসা পদ্ধতি: খামারির অভিজ্ঞতা ও প্রতিকার

পুলোরাম – ব্যাকটেরিয়া ঘটিত

মুরগি পালন পদ্ধতি-তে এই রোগ টি মুরগির বাচ্চার ৫-১০ দিন বয়সে হয়। এই রোগটি আসে মুরগির হ্যাচ ডিমের মধ্যমে। এটি খামারিকে প্রথম সমস্যা তে ফেলে।

রোগের লক্ষণ: সাদা টুথপেস্ট এর মত পায়খানা করে। চুপচাপ বসে থাকে ও খায়না। এক সাথে অনেক বাচ্চা মারা যায়।

চিকিৎসা: এনরোফ্লক্সাসিন (Enrofloxacin) ,নিউডক্স (Neodox) বা ডক্সিসাইক্লিন (Doxycycline) । যে কোন একটি ঔষধ দিনে ২ বার ১০০ বাচ্চা পিছু ৫ গ্রাম করে দিতে হবে।

সতর্কতা: এই রোগ প্রতিরোধের জন্যে বাইরে থেকে বাচ্চা ক্রয় করে নিয়ে আসার একদিন পর পশু চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে অক্সিটেট্রাসাইক্লিন ঔষধ জলে দিয়ে খাওয়ালে রোগটি আক্রান্ত করার সুযোগ পায়না।

ব্যাকটেরিয়া ঘটিত সি.আর.ডি (CRD)

১০ সপ্তাহ বয়সের মধ্যে এটি মারাত্মক রূপ নেয়। সর্দি ও গরগর আওয়াজ এর প্রধান লক্ষণ।

চিকিৎসা: নিউডক্স পাউডার প্রতি ১০টি মুরগিকে ১ গ্রাম করে দিনে ২ বার ৭ দিন খাওয়াতে হবে। এটি দেশি মুরগি পালন পদ্ধতির ক্ষেত্রেও দারুণ কাজ করে।

ফাউল কলেরা ও কোলি ব্যাসিলোসিস

মুরগির পা ফুলে যাওয়া, খুঁড়িয়ে হাঁটা এবং হলুদ পায়খানা এর লক্ষণ।

চিকিৎসা: সালকপ্রীম বা ডুয়াপ্রীন পাউডার প্রতি ১০টি মুরগিকে ১ গ্রাম করে ৩ দিন অথবা নিউডক্স পাউডার ৭ দিন খাওয়াতে হবে।

কক্সিডিওসিস বা রক্ত আমাশয়

বর্ষাকালে এই রোগ বেশি হয়। মুরগি ঝিমোয় এবং ডানা ঝুলে পড়ে।

চিকিৎসা: এমেপ্রোসল বা সালকপ্রীম পাউডার প্রতি ১০টি মুরগির জন্য ১ গ্রাম করে দিনে ২ বার ৫ দিন জলে মিশিয়ে দিতে হবে।

রানীক্ষেত (ভাইরাস জনিত)

সফল মুরগি পালন পদ্ধতি-তে এই রোগ হলো সবচেয়ে বড় শত্রু।

লক্ষণ: ১. রানীক্ষেতে মুরগি চুনজলের মতো সাদা পায়খানা করে, চুপচাপ বসে ঝিময়, ডানা ঝুলে যায়, পালক উষ্ক খুষ্ক হয়ে যায়, মুখ দিয়ে নিশ্বাস নেয় ও নিশ্বাসে কষ্ট হয়।

সতর্কবার্তা: এই ভাইরাস ঘটিত রোগের কোনো কার্যকর চিকিৎসা নেই। তাই নির্দিষ্ট সময়ে টিকা বা ভ্যাকসিন দেওয়া বাধ্যতামূলক।

গামবোরো (ভাইরাস জনিত)

মুরগি পালন পদ্ধতি-তে খামারীদের এটিও বড় শত্রু।

লক্ষণ: স্নায়ু আক্রান্ত হয় , শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা থাকে না , অবসাদ গ্রস্থ হয়ে অনেকদিন বেচে থাকে ও চলা ফের করার ক্ষমতা থাকে না, জলের মত সাদা পায়খানা করে।

সতর্কবার্তা: এই ভাইরাস ঘটিত রোগের কোনো কার্যকর চিকিৎসা নেই। তাই নির্দিষ্ট সময়ে টিকা বা ভ্যাকসিন দেওয়া বাধ্যতামূলক।

কৃমিনাশক ঔষধ

মুরগির শরীর রোগমুক্ত রাখতে পাইপারজিন লিকুইড দিন:

  • ১ মাস বয়স: ৩ ফোঁটা।
  • ২ মাস বয়স: ৪ ফোঁটা।
  • ৩ মাস বয়স: ৬ ফোঁটা।
  • ৪ মাস বয়স: ৮ ফোঁটা।
  • ৬ মাস পর: ১০ ফোঁটা করে প্রতি মাসে ১ বার।

কৃমির ঔষধ ব্যবহারের বিশেষ নিয়ম: মুরগির কৃমি দমনে অ্যালবেনডাজল অত্যন্ত কার্যকর, তবে মনে রাখবেন একই ঔষধ প্রতি মাসে ব্যবহার করলে কৃমির রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বেড়ে যায়, ফলে ঔষধের কার্যকারিতা কমে যায়। তাই প্রতি মাসে ঔষধ পাল্টে বা ‘অল্টারনেট’ করে ব্যবহার করা ভালো (যেমন—এক মাস পাইপারজিন দিলে পরের বার অ্যালবেনডাজল)। অ্যালবেনডাজল লিকুইড সাধারণত প্রতি ১ কেজি ওজনের মুরগির জন্য ৫ মিলিগ্রাম হিসেবে প্রয়োগ করতে হয়। তবে অধিক নিরাপত্তার জন্য লিভামিসোল বা আইভারমেকটিন ব্যবহারের আগে অবশ্যই একজন অভিজ্ঞ পশু চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে মুরগির বয়স ও ওজন অনুযায়ী সঠিক ডোজ জেনে নেবেন। কৃমি ঔষধ খাওয়ানোর পরে লিভার টনিক দেবেন।

৪. মুরগির টিকাকরণ তালিকা (Vaccination Chart)

মুরগি পালন পদ্ধতি-তে মুরগিকে মড়ক ও ভাইরাস থেকে বাঁচাতে টিকাকরণ বা ভ্যাকসিনের কোনো বিকল্প নেই। নিচের এই টিকা দেওয়ার নিয়মটি আপনার মুরগি পালন পদ্ধতি-কে ১০০% নিরাপদ রাখবে:

মুরগির বয়সটিকার নাম রোগের নাম প্রয়োগ পদ্ধতি
৩-৫ দিন আই বি + এন ডিরানীক্ষেত ও সর্দিচোখে বা নাকে ১ ফোঁটা
৭-১০ দিন গামবোরো (জীবিত)গামবোরোচোখে বা নাকে ১ ফোঁটা
১৪-১৭ দিন গামবোরো (বুস্টার)গামবোরোজলের সাথে মিশিয়ে
২১-২৪ দিন ল্যাসোটা (বুস্টার)রানীক্ষেতচোখে বা নাকে ১ ফোঁটা
২ মাস R2Bরানীক্ষেতমাংসপেশিতে ইনজেকশন
৪ মাস আর টু বি (R2B)রানীক্ষেতচামড়ার নিচে ইনজেকশন
৫-৬ মাস ফাউল পক্সবসন্ত রোগ পাখার চামড়ায় ঘষে

৫. বেকার ভাইদের জন্য কিছু বিশেষ পরামর্শ

আপনি যদি নতুন করে মুরগি পালন পদ্ধতি শুরু করতে চান, তবে বাজারের চাহিদার দিকে কড়া নজর রাখুন। মুরগি অসুস্থ হলে অক্সিটেট্রাসাইক্লিন বা সালকোপ্রিম ট্যাবলেট (১০টি মুরগির জন্য ১/৮ অংশ) দিনে ২ বার ৪ দিন খাওয়াতে পারেন।

  • সবসময় লক্ষ্য রাখবেন:
  • মুরগি ঠিকমতো খাবার খাচ্ছে কিনা?
  • পায়খানার রঙ কি চুনজলের মতো বা রক্তবর্ণ?
  • মুরগি কি পা গুটিয়ে ঝিমোচ্ছে?

সতর্কতা: লক্ষণ দেখামাত্রই আলাদা করে চিকিৎসা শুরু করুন। মুরগি মারা গেলে স্থানীয় প্রাণী স্বাস্থ্য কেন্দ্রে নিয়ে গিয়ে পোস্ট-মর্টেম করিয়ে রোগ নির্ণয় করতে হবে এবং সেই মত খামারে থাকা মুরগিদের ঔষধ দিতে হবে।

মুরগিকে বাইরের দূষিত ঘাস না খাইয়ে পরিষ্কার ঘাস ধুয়ে বা হাইড্রোপনিক ঘাস খাওয়ানো আধুনিক মুরগি পালন পদ্ধতি-র অংশ। কারণ বাইরের ঘাসে কৃমির ডিম থাকতে পারে, যা আপনার মুরগির ওজন কমিয়ে দেবে।

উপসংহার

সফলভাবে মুরগি পালন পদ্ধতি পরিচালনা করতে হলে শুধু পুঁজি নয়, ধৈর্যের প্রয়োজন। আমাদের বেকার ভাই ও বোন-দের প্রতি অনুরোধ, আপনারা খামার শুরু করার আগে অন্তত দুটি সফল ফার্ম ঘুরে দেখুন। আধুনিক পদ্ধতিতে মুরগি পালন করলে বাজারের চাহিদা অনুযায়ী ডিম ও মাংস সরবরাহ করে বড় অংকের মুনাফা করা সম্ভব। নিয়মিত টিকাকরণ, উন্নত লিটার ব্যবস্থাপনা এবং পরিমিত পরিষ্কার জল সরবরাহ করলে আপনার খামার থাকবে রোগমুক্ত। মনে রাখবেন, একটি সুস্থ মুরগিই আপনার ব্যবসার সাফল্যের চাবিকাঠি।

কৃষি সুত্র সতর্কতা ও পরামর্শ: মুরগি পালন পদ্ধতি নিবন্ধন-টি খামারীদের সচেতনতা বৃদ্ধি করতে দেওয়া, চিকিৎসা এর পূর্বে অবশ্যই অভিজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে চিকিৎসা করুন। এখন বাড়িতে বসেই আপনি ভারত সরকার ও পশ্চিমবঙ্গ সরকার প্রাণী পালন বিভাগের চিকিৎসা বিশেষজ্ঞদের সাথে নিজ ভাষায় সমস্যার সমাধান পেতে পারেন, পশুর ইমারজেন্সি সমস্যার জন্যে ফ্রী এম্বুলেন্স পরিষেবা পেতে পারেন । এছাড়াও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান

জরুরি পশু চিকিৎসা ও অ্যাম্বুলেন্স পরিষেবা (হেল্পলাইন)

যদি আপনার খামারে হঠাৎ কোনো মুরগি মারা যায় বা অনেক মুরগি একসাথে অসুস্থ হয়, তবে সময় নষ্ট না করে সরকারি টোল ফ্রি নম্বরে কল করুন। আপনার এলাকায় থাকা সরকারি মোবাইল মেডিকেল ভ্যান দ্রুত আপনার ঠিকানায় পৌঁছে যাবে।

প্রায়ই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন (FAQ)

প্রশ্ন: মুরগির চুনা পায়খানা বা সাদা পায়খানা হলে করণীয় কী?

উত্তর: মুরগির চুনা বা সাদা পায়খানা সাধারণত রানীক্ষেত বা পুলোরাম রোগের লক্ষণ। এমনটি দেখা দিলে আক্রান্ত মুরগিকে দ্রুত আলাদা করুন এবং জল (পানির বদলে জল) এর সাথে এনরোফ্লক্সাসিন বা নিউডক্স জাতীয় অ্যান্টিবায়োটিক ৩-৫ দিন দিন। তবে মনে রাখবেন, ভাইরাসের ক্ষেত্রে কোনো ঔষধ কাজ করে না, তাই নিয়মিত ভ্যাকসিন দেওয়া বাধ্যতামূলক।

প্রশ্ন: মুরগি পালনে কত দিনে ওজন এক কেজি হয়?

উত্তর: উন্নত মুরগি পালন পদ্ধতি অনুযায়ী, ব্রয়লার মুরগি ৩০-৩৫ দিনেই ১ কেজি ওজন পার করে ফেলে। তবে সোনালী মুরগির ক্ষেত্রে ১ কেজি ওজন পেতে সাধারণত ৬০-৭০ দিন সময় লাগে। সঠিক পুষ্টি ও বাসস্থানের পরিবেশ ভালো হলে ওজন দ্রুত বাড়ে।

প্রশ্ন: দেশি মুরগির ঘর তৈরির নিয়ম কেমন হওয়া উচিত?

উত্তর: মুরগি পালন পদ্ধতি-তে ঘর সবসময় উত্তর-দক্ষিণ লম্বা হতে হবে যাতে পর্যাপ্ত রোদ ও বাতাস চলাচল করে। মেঝেতে শুকনো তুষের লিটার ব্যবহার করুন। মুরগি পিছু ২ থেকে ২.৫ বর্গফুট জায়গা নিশ্চিত করুন এবং ঘরের উচ্চতা কমপক্ষে ৮ ফুট রাখুন যাতে গ্যাস জমতে না পারে।

প্রশ্ন: মুরগির কৃমির ঔষধ দেওয়ার নিয়ম কী?

উত্তর: মুরগিকে কৃমির ঔষধ সবসময় খুব ভোরে খালি পেটে দেওয়া উচিত। অ্যালবেনডাজল বা পাইপারজিন ব্যবহারের সময় মুরগির ওজন ও বয়স অনুযায়ী ডোজ ঠিক করুন। মনে রাখবেন, একই ঔষধ প্রতি মাসে না দিয়ে অল্টারনেট করে দেওয়া ভালো এবং ঔষধের পর অবশ্যই লিভার টনিক দিন।

প্রশ্ন: মুরগি পালনের সরকারি টোল-ফ্রি নম্বরটি কী?

উত্তর: যেকোনো জরুরি চিকিৎসা বা অ্যাম্বুলেন্স পরিষেবার জন্য সরকারি টোল-ফ্রি নম্বর হলো ১৯৬২ (1962)।

তথ্য সুত্র

  • প্রাণিসম্পদ বিকাশ বিভাগ (ARDD) পশ্চিমবঙ্গ সরকার।
  • পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য গ্রামীণ জীবিকা মিশন (WBSRLM)
Spread the love

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!
Scroll to Top