
১. ভূমিকা: কেন কেঁচো সার আধুনিক চাষের প্রাণ?
রাসায়নিক সারের অত্যাচারে আমাদের মাটির আজ নাভিশ্বাস দশা। মাটি শক্ত হয়ে যাচ্ছে, বন্ধু পোকা মরে যাচ্ছে এবং ফসলে বিষ বাড়ছে। এই সংকটে আমাদের ত্রাতা হতে পারে কেঁচো সার (Vermicompost)। বিশ্ববিখ্যাত বিজ্ঞানী চার্লস ডারউইন একে বলেছিলেন “পৃথিবীর লাঙল”, আর এরিস্টটল একে আখ্যা দিয়েছিলেন “পৃথিবীর পুষ্টিপ্রণালী যন্ত্র”।
আপনি কি জানেন? এক বিঘা বিষমুক্ত জমিতে প্রায় ৭০-৮০ লক্ষ কেঁচো থাকতে পারে, যারা দিনরাত আপনার জন্য মাটিকে কুপিয়ে নরম ও উর্বর করে তোলে। কিন্তু রাসায়নিক বিষে তারা আজ নিখোঁজ। আজ আমরা জানবো কীভাবে এই কেঁচোদের ফিরিয়ে এনে আপনিও হতে পারেন একজন সফল জৈব কৃষক বা উদ্যোক্তা।
২. কেঁচো সারের বৈজ্ঞানিক ও বায়োলজিক্যাল রহস্য
কেঁচো যখন জৈব বর্জ্য বা গোবর খায়, তখন তার পাকস্থলী দিয়ে যাওয়ার সময় এতে কোটি কোটি উপকারী অণুজীব ও এনজাইম মিশে যায়।
- হিউমাস গঠন: কেঁচোর মল (Castings) খুব দ্রুত পচনশীল পদার্থকে ‘হিউমাস’-এ পরিণত করে, যা মাটির প্রাণ।
- অণুজীবের ভাণ্ডার: সাধারণ মাটির তুলনায় কেঁচো সারে ১০০০ গুণ বেশি উপকারী ব্যাকটেরিয়া থাকে।
- পুষ্টির পাওয়ার হাউস: কেঁচো মাটি খেয়ে যে মল ত্যাগ করে তাতে সাধারণ মাটির চেয়ে ৫-৬ গুণ বেশি নাইট্রোজেন, ৭ গুণ বেশি ফসফরাস এবং ১০-১২ গুণ বেশি পটাশ থাকে।
আড়ও দেখুন ১২ মাসে সবজি চাষ করার পূর্ণাঙ্গ নির্দেশিকা: কৃষকের লাভজনক ক্যালেন্ডার
৩। কেঁচো সারের ১৬টি অপরিহার্য উপাদান
গাছ মাটি থেকে যে ১৬টি খাদ্য উপাদান গ্রহণ করে, তার প্রায় ১০-১২টি উপাদানই একা কেঁচো সার (Vermicompost) দিতে সক্ষম। নিচে এর প্রধান উপাদানগুলোর তালিকা দেওয়া হলো: ১. নাইট্রোজেন (N), ২. ফসফরাস (P), ৩. পটাশিয়াম (K), ৪. ক্যালসিয়াম (Ca), ৫. ম্যাগনেসিয়াম (Mg), ৬. সালফার (S), ৭. আয়রন (Fe), ৮. ম্যাঙ্গানিজ (Mn), ৯. জিঙ্ক (Zn), ১০. কপার (Cu), ১১. বোরন (B), ১২. মলিবডেনাম (Mo),
৪. কেঁচোর জাত ও উপযুক্ত পরিবেশ নির্বাচন
সব কেঁচো দিয়ে সার ভালো হয় না। বাণিজ্যিক ভাবে জনপ্রিয় জাত হলো আইসিনিয়া ফয়টিডা (Eisenia foetida) এবং দেশী জাত: পেরিয়নিক্স এক্সকাভাটাস (Perionyx excavatus) – আমাদের আবহাওয়ার জন্য খুব ভালো। দুটি প্রজাতির মধ্যে চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য ও ব্যবহারে অনেকটা পার্থক্য রয়েছে:
ক. দেশী কেঁচোর বৈশিষ্ট্য (মাটির দীর্ঘমেয়াদী বন্ধু):
- আকার ও বর্ণ: এরা সাধারণত কালচে বা ধূসর রঙের হয় এবং আকারে বেশ লম্বা (১৫-২০ সেমি) হয়।
- বিচরণ ও গভীরতা: এরা মাটির গভীরে গর্ত করে থাকতে পছন্দ করে। এরা মাটির ১০-১৫ ফুট গভীর পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে।
- কার্যকাল: এরা দিনে মাটির গভীরে অবস্থান করে এবং রাতে মাটির উপরিভাগে উঠে এসে কাজ করে।
- খাদ্য অভ্যাস: এরা খাবারের সাথে প্রচুর পরিমাণ মাটিও খায়, যা মাটির খনিজ চক্র বজায় রাখতে সাহায্য করে।
- তাপমাত্রা সহনশীলতা: এরা তাপমাত্রা সহনশীল। মাটির গভীরে যাতায়াত করার ক্ষমতা থাকায় এরা প্রতিকূল আবহাওয়া ও তীব্র গরমেও নিজেদের রক্ষা করতে পারে।
- জল ধারণ ক্ষমতা ও হিউমাস: মাটির গভীরে লম্বা ছিদ্র বা সুড়ঙ্গ তৈরি করার ফলে জমিতে বাতাস চলাচল বাড়ে এবং জল ধারণ ক্ষমতা বহুগুণ বৃদ্ধি পায়। এরা প্রকৃত হিউমাস তৈরিতে প্রধান ভূমিকা পালন করে।
- কেঁচো সংগ্রহ: সার তৈরির জন্যে যদি কেনা কেঁচো না থাকে, তবে ৫০০ গ্রাম গুড় ও ৫০০ গ্রাম কাঁচা গোবর ১ লিটার জলে মিশিয়ে ভেজা চটের বস্তা দিয়ে ঝোপের তলায় ঢেকে রাখলে ৭ দিন এর মধ্যে হাজার হাজার স্থানীয় কেঁচো জমা হয়েছে দেখা যায়।
- সার তৈরির গতি: এদের বর্জ্য পচানোর ক্ষমতা তুলনামূলক কম, তাই সার তৈরি হতে সময় বেশি লাগে।
- উপযোগিতা: সরাসরি চাষের জমিতে কেঁচোর সংখ্যা বাড়িয়ে মাটির স্বাস্থ্য ফেরাতে দেশী কেঁচোই শ্রেষ্ঠ।
খ. বিদেশী লাল কেঁচোর বৈশিষ্ট্য (বাণিজ্যিক সার তৈরির কারিগর):
- আকার ও বর্ণ: এরা গাঢ় লাল বা বাদামী রঙের হয় এবং আকারে ছোট (৫-১০ সেমি) হয়। জাত: আইসিনিয়া ফয়টিডা (Eisenia Foetida)।
- বিচরণ ও গভীরতা: এরা মাটির গভীরে যেতে পারে না। মূলত মাটির ওপরের স্তরে বা পচনশীল বর্জ্যের স্তরে (২-৩ ইঞ্চি গভীরে) বিচরণ করে।
- তাপমাত্রা সংবেদনশীলতা: এরা তাপমাত্রা সহনশীল নয়। ৩০° সেলসিয়াসের বেশি তাপমাত্রা হলে এরা দ্রুত মারা যায়। সার তৈরির সময় তাপমাত্রা ১৫-৩০ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং আদ্রতা ৬০-৭০% রাখা। তাই উন্মুক্ত চাষের জমিতে এরা বাঁচতে পারে না।
- খাদ্য অভ্যাস: এরা বর্জ্য বা কাঁচা গোবর খেতে বেশি পছন্দ করে, মাটি প্রায় খায় না বললেই চলে।
- বংশবৃদ্ধি: এদের বংশবৃদ্ধির হার অত্যন্ত বেশি, যা ব্যবসায়িক ভাবে কেঁচো সার উৎপাদনের জন্য খুবই লাভজনক।
- কেঁচো সংগ্রহ: সার উৎপাদন এর জন্যে ক্রয় করতে হয় ।
- জল ধারণ ক্ষমতা: যেহেতু এরা মাটির গভীরে ছিদ্র তৈরি করতে পারে না, তাই সরাসরি জমিতে জল ধারণ ক্ষমতা বাড়ানো বা বায়ু চলাচলে এদের বিশেষ কোনো ভূমিকা নেই।
- সার তৈরির গতি: এরা অত্যন্ত দ্রুত বর্জ্য খেয়ে মলত্যাগ করে, তাই খুব অল্প সময়ে উন্নত মানের সার পাওয়া যায়।
- উপযোগিতা: কৃত্রিম উপায়ে ট্যাংক বা বেড পদ্ধতিতে বাণিজ্যিক ভাবে ‘ভার্মিকম্পোস্ট’ তৈরির জন্য এরা সবচেয়ে উপযোগী।
কৃষি সুত্র পরামর্শ: যারা বাণিজ্যিক কেঁচো সার (Vermicompost) উৎপাদন এর জন্যে ব্যাবহার করবেন তাদের জন্যে বিদেশী কেঁচো ভাল হলেও যারা সরাসরি চাষের জন্যে বাড়িতে উৎপাদন করবেন তাদের জন্যে বিদেশী জাতের কেঁচো ব্যাবহার করার থেকে দেশীয় জাতের কেঁচো ব্যাবহার করা ভাল। কারণ চাষের জমিতে বিদেশী কেঁচো কোন ভূমিকা পালন করতে পারে না শুধু সার ছাড়া কিন্তু দেশী কেঁচো ব্যাবহার করলে সার ও মাটির উর্বরা শক্তি বাড়িয়ে জল ধারণ ক্ষমতা বৃদ্ধি করতে ফ্রী শ্রমিক পাবেন।
আড়ও দেখুন broব্রহ্মাস্র (Brahmastra) তৈরি পদ্ধতি: জৈব উপায়ে বড় পোকা ও শুঁটি ছিদ্রকারী পোকা দমনের সমাধান
৫. কেঁচো সার তৈরির ৩টি আধুনিক পদ্ধতি
ক. পিট পদ্ধতি (গর্ত করে):
৩ ফুট চওড়া, ৬ ফুট লম্বা এবং ২.৫ ফুট গভীর গর্ত করে নিচে প্লাস্টিক বিছিয়ে দিন।
কৃষি সুত্র সতর্কতা: প্লাস্টিকের ওপর সরাসরি গোবর দেওয়া ভুল পদ্ধতি, প্লাস্টিকের ওপর প্রথমে ৩ ইঞ্চি ইটের টুকরো বা মোটা বালির স্তর দেওয়া সঠিক, যাতে অতিরিক্ত জল নিচে জমে থাকতে পারে এবং কেঁচো না পচে।
খ. ট্যাংক বা খাঁচা পদ্ধতি (বাণিজ্যিক):
সিমেন্টের ট্যাংক করে মাঝখানে ছিদ্রযুক্ত দেওয়াল দিলে কেঁচো এক পাশ থেকে অন্য পাশে যাতায়াত করতে পারে। একে ‘চেম্বার মেথড‘ বলে।
গ. বেড পদ্ধতি (সবচেয়ে সস্তা ও সেরা):
প্লাস্টিক বা পাকা মেঝের ওপর স্তূপ করে ১.৫ ফুট উঁচু , ৪ ফুট চওড়া ও লম্বা জায়গা অনুসারে বেড তৈরি করা। বেড় করে বেডের উপর কুচুড়ি পানা, খড়, বিচুলি বা পোয়াল দিয়ে আচ্ছাদন দিয়ে রাখলে নিচে ঠান্ডা থাকে এবং কেঁচো সেগুলিকে ধীরে ধীরে খেয়ে গবরের সাথে মিশিয়ে দিয়ে শক্তিশালী সার তৈরি করে। এটি করলে লেবার খরচ কমে এবং সার সংগ্রহ সহজ হয়।

৫. উপকরণ প্রস্তুতি: গ্যাস বের করার বিশেষ কৌশল
প্রস্তুতি সতর্কতা: টাটকা গরম গোবর সরাসরি কেঁচোকে খেতে দেওয়া ভুল পদ্ধতি হবে, টাটকা গোবরে প্রচুর মিথেন গ্যাস থাকে যার তাপে কেঁচো মরে যাবে। গোবরকে অন্তত ৭-১০ দিন বাইরে ছড়িয়ে রেখে গ্যাস বের করে ঠান্ডা করে নেওয়া সঠিক।
আদর্শ মিশ্রণ: ১০% মাটি + ২০% কাঁচা জৈব বস্তু (কচুরিপানা/আগাছা) + ৩০% শুকনো খড় + ৪০% ঠান্ডা করা গোবর। এই মিশ্রণটি ৩০ দিন পচিয়ে তারপর কেঁচো ছাড়া উচিত।
৬. ফসলের ম্যাজিক পরিবর্তন ও ব্যবহারের নিয়ম
কেঁচো সার (Vermicompost) ব্যবহারের সময় যদি আপনি জীবাামৃত, PSB (ফসফরাস সলুবলাইজিং ব্যাকটেরিয়া) বা অ্যাজোটোব্যাকটর মিশিয়ে দেন, তবে সারের কার্যকারিতা ৫০০ গুণ বেড়ে যায়।
কীভাবে মেশাবেন? ১ কুইন্টাল কেঁচো সার (Vermicompost) এর সাথে ৫ লিটার জীবাামৃত এবং ৫০০ গ্রাম পিএসবি কালচার মিশিয়ে ছায়ায় ৪৮ ঘণ্টা রেখে দিন। এরপর জমিতে প্রয়োগ করুন। এটিকে বলা হয় ‘সুপার কম্পোস্ট’।
আড়ও দেখুন জীবামৃত (Jeevamrut): প্রাকৃতিক কৃষির মহাবিজ্ঞান ও মাটির হারানো সাম্রাজ্য পুনরুদ্ধারের সূত্র
ফসলের পরিবর্তন:
- রাসায়নিকের তুলনায় গাছের পাতা বেশি সবুজ ও চওড়া হয়।
- মাটির জল ধারণ ক্ষমতা বাড়ে, ফলে সেচ কম লাগে।
- শিকড়ের বৃদ্ধি ২ গুণ বেশি হয় ।
| ফসলের নাম | প্রয়োগের পরিমাণ |
|---|---|
| ধান/গম/ভুট্টা | বিঘা প্রতি ২০০-৩০০ কেজি |
| সবজি চাষ | বিঘা প্রতি ৪০০-৫০০ কেজি |
| লাউ, কুমড়া লতা জাতীয় সবজি | মাদা প্রতি ২ কেজি |
| ফল গাছ | গাছ প্রতি ২-৫ কেজি |
| টবের গাছ | ২৫০-৫০০ গ্রাম |
৭. লাভের হিসাব ও ব্যবসার সুযোগ (টেবিল)
১টি ছোট ইউনিটের (১০টি বেড) মাসিক লাভের একটি হিসাব তুলে ধরা হল স্থানীয় জায়গা অনুসারে দাম আড়ও বেশি হতে পারে :
| আয়ের উৎস | পরিমাণ | বাজার মূল্য (টাকা) | মোট আয় |
|---|---|---|---|
| কেঁচো সার বিক্রয় | ২ টন/মাস | ৮,০০০/টন | ১৬,০০০/- |
| অতিরিক্ত কেঁচো বিক্রয় | ৫ কেজি | ৪০০/কেজি | ২,০০০/- |
| ভার্মিওয়াশ বিক্রয় | ৫০ লিটার | ৪০/ লিটার | ২,০০০/- |
| মোট আয় | ২০,০০০/- |
উৎপাদন খরচ ৪০০০ টাকা বাদ দিয়ে মাসে নিট লাভ ১৬০০০ টাকা
৮. কেঁচো সার উৎপাদনের প্রশিক্ষণ কেন্দ্র: সঠিক জ্ঞান ও সরকারি সহায়তা
আপনি যদি বাণিজ্যিকভাবে কেঁচো সার (Vermicompost) উৎপাদন শুরু করতে চান, তবে কেবল ইউটিউব দেখে নয়, বরং সরকারি স্বীকৃত প্রতিষ্ঠান থেকে হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ নেওয়া জরুরি। ভারত ও বাংলাদেশের প্রধান কেঁচো সার (Vermicompost) প্রশিক্ষণ কেন্দ্রগুলির তথ্য নিচে দেওয়া হলো:
কেঁচো সার (Vermicompost) প্রশিক্ষণ কেন্দ্র পশ্চিমবঙ্গ (ভারত):
১. বিধানচন্দ্র কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (BCKV): মোহনপুর, নদীয়া। এখানে নিয়মিত কেঁচো সার উৎপাদন ও জৈব চাষের ওপর স্বল্পমেয়াদী কোর্স করানো হয়।
২. কৃষি বিজ্ঞান কেন্দ্র (KVK): পশ্চিমবঙ্গের প্রতিটি জেলাতেই একটি করে KVK রয়েছে (যেমন- কল্যাণ, রামকৃষ্ণ মিশন লোকশিক্ষা পরিষদ, নরেন্দ্রপুর)। আপনার নিকটস্থ জেলা কৃষি বিজ্ঞান কেন্দ্রে যোগাযোগ করলে বিনামূল্যে বা স্বল্পমূল্যে প্রশিক্ষণ ও সরকারি সার্টিফিকেট পাওয়া যায়।
৩. ন্যাশনাল সেন্টার অফ অর্গানিক ফার্মিং (NCOF): ভারত সরকারের এই প্রতিষ্ঠানটি জৈব সার উদ্যোক্তাদের জন্য বিশেষ ট্রেনিং প্রোগ্রাম পরিচালনা করে।
৪ নিকটবর্তী প্রশিক্ষণ সুবিধা কেন্দ্র: আপনার নিকটবর্তী ব্লক কৃষি বিভাগ, উদ্যানপালন বিভাগ , CADC অফিস গুলিতে যোগাযোগ করুন প্রশিক্ষণের জন্যে এবং বাড়িতেই চাষের জন্যে সার তৈরির হাতে কলমে প্রশিক্ষণ ও গাইড পেতে আনন্দধারা মহিলা সংঘ সমবায়ে কৃষি সখী (CRP) এর সহযোগিতা নিতে পারেন।
কেঁচো সার (Vermicompost) প্রশিক্ষণ কেন্দ্র বাংলাদেশ:
১. বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট (BARI): জয়দেবপুর, গাজীপুর। বারি (BARI) উদ্ভাবিত আধুনিক পদ্ধতিতে কেঁচো সার তৈরির ওপর এখানে নিয়মিত প্রশিক্ষণ ও কারিগরি সহায়তা প্রদান করা হয়।
২. যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর (DYS): বাংলাদেশের প্রতিটি উপজেলায় যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের মাধ্যমে বেকার যুবক ও কৃষকদের স্বাবলম্বী করতে কেঁচো সার তৈরির বিশেষ প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। প্রশিক্ষণ শেষে অনেক ক্ষেত্রে সহজ শর্তে ঋণের ব্যবস্থাও থাকে।
৩. পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশন (PKSF): বিভিন্ন সহযোগী সংস্থার মাধ্যমে মাঠ পর্যায়ে কেঁচো সার উৎপাদনের প্রশিক্ষণ ও আর্থিক সহায়তা দিয়ে থাকে।
কৃষি সুত্র প্রশিক্ষণ পরামর্শ
- যোগাযোগের সঠিক পদ্ধতি: কেঁচো সার (Vermicompost) প্রশিক্ষণের জন্যে সরাসরি প্রধান কার্যালয়ে না গিয়ে অপেক্ষা করা ভুল পদ্ধতি। প্রশিক্ষণের সঠিক সময় ও ব্যাচ জানতে সরাসরি আপনার ব্লকের ‘কৃষি অধিকর্তা’ বা ‘উপজেলা কৃষি অফিসার’-এর অফিসে যোগাযোগ করা সঠিক, কারণ অনেক সময় অনলাইনে সব তথ্য আপডেট থাকে না।
- প্রশিক্ষণের গুরুত্ব: শুধুমাত্র কেঁচো সার (Vermicompost) তৈরি শিখে কাজ শুরু করা ভুল পদ্ধতি । প্রশিক্ষণের সময় সার প্যাকিং, কেঁচোর রোগ নিয়ন্ত্রণ এবং সরকারি লাইসেন্স করার নিয়মগুলো ভালোভাবে শিখে নেওয়া সঠিক, কারণ বাণিজ্যিক সাফল্যের জন্য এগুলো অত্যাবশ্যক। প্রশিক্ষণ নেওয়ার সময় অবশ্যই সরকারি সার্টিফিকেট সংগ্রহ করবেন, যা ভবিষ্যতে ব্যাংক থেকে কৃষি ঋণ (Loan) বা সরকারি ভর্তুকি (Subsidy) পাওয়ার ক্ষেত্রে আপনার প্রধান নথি হিসেবে কাজ করবে।
উপসংহার:
কেঁচো সার (Vermicompost) কেবল সার নয়, এটি মাটির পুনর্জন্ম। রাসায়নিকের মায়া কাটিয়ে আজই নিজের বাড়িতে ছোট করে শুরু করুন। এটি আপনাকে বিষমুক্ত ফসলের পাশাপাশি দেবে বাড়তি আয়ের সুযোগ। কৃষি সূত্র-এর সাথে থেকে আপনিও হয়ে উঠুন একজন আধুনিক ও সফল কৃষক।
সচরাচর জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন (FAQ)
প্রশ্ন: কেঁচো সার তৈরিতে কতদিন সময় লাগে?
উত্তর: পরিবেশ ও পদ্ধতি ভেদে ৪৫ থেকে ৬০ দিন সময় লাগে।
প্রশ্ন: পিঁপড়ে ধরলে কী করবো?
উত্তর: পিঁপড়ে মারতে বিষাক্ত কীটনাশক দেওয়া না দিয়ে কেঁচো পিটের চারপাশে হলুদ গুঁড়ো বা কেরোসিন মিশ্রিত ছাইয়ের গণ্ডি দিলে পিপরে আসে না এবং কেঁচোর ক্ষতি হয় না)]।
প্রশ্ন: ভার্মিওয়াশ কী?
উত্তর: কেঁচো সার (Vermicompost) থেকে নিঃসৃত পুষ্টিসমৃদ্ধ জলীয় অংশ যা স্প্রে করলে গাছের টনিক হিসেবে কাজ করে।
তথ্যসূত্র
- ICAR – Indian Institute of Soil Science (IISS): ভারত সরকা।
- NCOF – National Centre of Organic and Natural Farming: ভারত সরকা।










