সুস্থায়ী কৃষি ব্যবস্থাপনা ও জৈব সারের গুরুত্ব এবং আধুনিক কর্মপরিকল্পনা

 সুস্থায়ী কৃষি ব্যবস্থাপনার একটি দৃশ্য।
সুস্থায়ী কৃষি ব্যবস্থাপনার একটি দৃশ্য।

সুস্থায়ী কৃষি ব্যবস্থাপনা হলো বর্তমান সময়ের কৃষকদের জন্য সবচেয়ে লাভজনক এবং পরিবেশবান্ধব চাষ পদ্ধতি। আধুনিক কৃষিতে মাটি ও জল রক্ষা করতে সুস্থায়ী কৃষি ব্যবস্থাপনা এর কোনো বিকল্প নেই। নিচে এই পদ্ধতির বিস্তারিত আলোচনা করা হলো:

১. সুস্থায়ী কৃষি: প্রকৃতির শক্তির সাথে চাষবাসের মেলবন্ধন

মাটি, জল এবং আঞ্চলিক প্রাণসম্পদ নষ্ট না করে, প্রকৃতির স্বাভাবিক শক্তিকে ব্যবহার করে এবং তাকেই আরও মজবুত করে যে চাষবাস বা পশুপালন করা হয়, তাকেই বলা হয় সুস্থায়ী কৃষি ব্যবস্থাপনা। এটি কেবল একটি চাষ পদ্ধতি নয়, এটি একটি সামগ্রিক জীবন দর্শন। সুস্থায়ী কৃষি ব্যবস্থাপনা এ কৃষক প্রধানত তাঁর নিজের খামারে এবং আশপাশের প্রকৃতি-পরিবেশে পাওয়া যায় এমন উপাদানগুলো ব্যবহার করেন। বিভিন্ন প্রক্রিয়াকরণের মাধ্যমে বা সরাসরি এগুলো চাষে প্রয়োগ করা হয়। এর সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো—চাষের খরচ খুব কম থাকে এবং এই ক্ষেত্রে যা কিছু ব্যবহার হয় সব কিছুই জৈবিক উৎস থেকে প্রাপ্ত। ফলে সুস্থায়ী কৃষি ব্যবস্থাপনা অনুসরণ করলে বাজার থেকে আলাদা করে চড়া মূল্যে কোনো উপকরণ ক্রয় করতে হয় না।

২. টেকসই কৃষির মূল মন্ত্র: অবশেষ থেকেই খাদ্য

একটি চাষ ব্যবস্থাকে তখনই ‘টেকসই’ বা ‘স্থায়ী’ বলা যাবে, যখন চাষের পরে তার অবশিষ্টাংশ বা উচ্ছিষ্ট পরবর্তী চাষে সার হিসেবে জমিতে ফিরে আসে। সুস্থায়ী কৃষি ব্যবস্থাপনা এ ফসলের অংশ মাটিতে পচে গাছের খাদ্য উপাদানের যোগান বজায় রাখে। ফলে বাইরে থেকে নতুন করে অধিক খাদ্য বা রাসায়নিক যোগানের প্রয়োজন হয় না। এর ফলে চাষ লাভজনক হয় এবং এই কারণেও এই চাষ সুস্থায়ী বা টেকসই। এই লক্ষ্য অর্জনে এবং সঠিক সুস্থায়ী কৃষি ব্যবস্থাপনা গড়ে তুলতে জৈব উপাদান যুক্ত জৈব সারের ভূমিকা বা গুরুত্ব অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।

৩. সুস্থায়ী কৃষির ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট ও গ্রামীণ কৃৎ-কৌশল

পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের মতো আমাদের পশ্চিমবঙ্গ তথা ভারতবর্ষের কৃষকেরা যুগ যুগ ধরে পরম্পরাগত ও বৈজ্ঞানিকভাবে প্রমাণিত জ্ঞানের সমাবেশ ঘটিয়ে সুস্থায়ী কৃষি ব্যবস্থাপনা এর মাধ্যমে আয়ের উপায় বের করেছেন।

  • মাটির স্বাস্থ্য সুরক্ষা: প্রাচীনকাল থেকেই কৃষকেরা গোবর সার, প্রাণী বর্জ্য এবং পুরনো পুকুরের পাঁক ব্যবহার করে মাটির প্রাণ ফিরিয়ে আনছেন, যা সুস্থায়ী কৃষি ব্যবস্থাপনা এর একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ।
  • প্রাকৃতিক শত্রু-মিত্র জ্ঞান: ফসলের বন্ধু পোকা ও শত্রু পোকাকে চিহ্নিত করে বন্ধু পোকার বংশবৃদ্ধি ঘটানোর মাধ্যমে পোকা নিয়ন্ত্রণ করা হয়। যেমন—ধান পাকার সময় ইঁদুরের উপদ্রব কমাতে বাংলার কৃষকেরা মাঠে পেঁচা বসার উপযোগী ডাল পুঁতে দেন।
  • ভেষজ প্রযুক্তির ব্যবহার: মাঠের ফসলের রোগ-পোকা নিয়ন্ত্রণে নিম, নিশিন্দা, পড়াশি বা কুর্চি গাছের পাতার নির্যাস ব্যবহার করা হয়। এছাড়া আলোর ফাঁদ, ফেরােমন ফাঁদ বা হলুদ আঠালো প্লেট ব্যবহারের মাধ্যমে পরিবেশ রক্ষা করে সুস্থায়ী কৃষি ব্যবস্থাপনা এর মাধ্যমে আয় সুনিশ্চিত করার চেষ্টা চলছে।

৪. বৈজ্ঞানিক ভিত্তি: গাছ কি মাটি থেকে সব খাবার নেয়?

সুস্থায়ী কৃষি ব্যবস্থাপনা এর আসল সাফল্য নির্ভর করে গাছের পুষ্টির উৎস বোঝার ওপর। আধুনিক বিজ্ঞান বলছে:

  • প্রকৃতি থেকে পুষ্টি (৯৮%): একটি গাছের প্রয়োজনীয় পুষ্টির সিংহভাগ (কার্বন, হাইড্রোজেন, অক্সিজেন) আসে বাতাস, জল এবং সূর্যালোক থেকে।
  • মাটি থেকে পুষ্টি (২%): মাটি থেকে গাছ গ্রহণ করে মাত্র দেড় থেকে দুই শতাংশ খনিজ উপাদান।
  • সুস্থায়ী কৃষি ব্যবস্থাপনা এই ৯৮% প্রাকৃতিক শক্তিকে যথাযথভাবে কাজে লাগাতে শেখায়। যখন আমরা মাটিতে জৈব সার প্রয়োগ করি, তখন মাটির অণুজীবেরা এই প্রাকৃতিক শক্তির সাথে মাটির খনিজের সংযোগ ঘটিয়ে দেয়।

৫. মাটির কার্বন: চাষের ভবিষ্যৎ ও খরচের হিসাব

মাটির স্বাস্থ্যের মূল মাপকাঠি হলো জৈব কার্বন। বর্তমানে রাসায়নিক সারের অত্যাধিক ব্যবহারের ফলে আমাদের মাটির কার্বন স্তর আশঙ্কাজনকভাবে কমে গেছে, যা সুস্থায়ী কৃষি ব্যবস্থাপনা এর জন্য বড় চ্যালেঞ্জ।

  • আদর্শ মাত্রা: মাটিতে কার্বনের পরিমাণ ১ শতাংশের উপরে থাকা জরুরি। যদি এটি ১ শতাংশের উপরে থাকে, তবে আপনার চাষে বর্তমানের তুলনায় ২৫% সার কম প্রয়োজন হবে।
  • ভয়াবহ পরিস্থিতি: যদি মাটির কার্বন ০.০৫ শতাংশের নিচে নেমে যায়, তবে চাষে সারের চাহিদা ও খরচ ২৫% এর বেশি বেড়ে যায়।
  • তাই মাটি পরীক্ষা করে কার্বন সম্পর্কে ওয়াকিবহাল হওয়া সুস্থায়ী কৃষি ব্যবস্থাপনা এর প্রথম কাজ। মাটির কার্বন বৃদ্ধি পেলে সারের বাজারজাত নির্ভরতা কমে এবং চাষ লাভজনক হয়।

৬. সুস্থায়ী কৃষির অপরিহার্য উপাদান ও সঠিক পদ্ধতি

চাষ করতে হলে প্রধান যে উপাদানগুলো লাগে তা হলো—মাটি, জল, বায়ু, চাষের শ্রম এবং সঠিক পদ্ধতি। সুস্থায়ী কৃষি ব্যবস্থাপনা এর জন্য নিজের সম্পদগুলোকে চিনে নিতে হবে:

জৈব সম্পদ ব্যবহার: নিজের খামারে যা আছে তাকেই সার ও কীটনাশক হিসেবে ব্যবহার করতে হবে।
অণুজীবের সক্রিয়তা: মাটির উর্বরতা শক্তি বৃদ্ধির জন্যে কেঁচো সার, সবুজ সার এবং জীবাণু সারের প্রচলন বাড়ানো।
জীবামৃত ও বীজামৃত: মাটির জীবনীশক্তি বাড়াতে এবং বীজ শোধন করতে এগুলোর ব্যবহার অত্যন্ত জরুরি। বীজামৃত বীজকে রোগমুক্ত রাখে এবং জীবামৃত মাটিতে অণুজীবের এক বিশাল ভাণ্ডার তৈরি করে, যা সুস্থায়ী কৃষি ব্যবস্থাপনা কে সফল করে তোলে।
পশুপালন: গরুর চনা ও গোবর হলো এই চাষের মূল চালিকাশক্তি।

৭. জৈব সার ও রাসায়নিক সারের মৌলিক পার্থক্য

চাষি কেন সুস্থায়ী কৃষি ব্যবস্থাপনা এর পথে ফিরে আসবে, তা বুঝতে হলে এই পার্থক্যগুলো জানা জরুরি:

স্থায়িত্ব: জৈব সারের কার্যকারিতা ধীরে শুরু হলেও ফসলের স্থায়িত্ব ও মান অনেক বেশি হয়। অন্যদিকে রাসায়নিক সারের কাজ সাময়িক এবং ব্যবহারের পর দ্রুত এর গুণাগুণ কমে যায়।

মাটির গঠন: জৈব সার মাটিতে কার্বন ও উপকারী জীবাণু বাড়ায়। বিপরীতে, রাসায়নিক সার মাটির গঠন নষ্ট করে তাকে ‘টক্সিক’ বা বিষাক্ত করে তোলে, ফলে ধীরে ধীরে সারের চাহিদা বাড়তে থাকে, যা সুস্থায়ী কৃষি ব্যবস্থাপনা এর পরিপন্থী।

অর্থনীতি: জৈব পদ্ধতিতে চাষের প্রায় সব উপকরণ প্রকৃতি থেকে পাওয়া যায় বলে খরচ শূন্যের কোঠায়। কিন্তু রাসায়নিক চাষ সম্পূর্ণ বাজার-নির্ভর এবং ব্যয়বহুল।

কীটবিতারক বনাম কীটনাশক: জৈব পদ্ধতিতে পোকা মরে না কিন্তু তাড়ানো হয়, ফলে উপকারী পোকা ও পরাগায়ন ব্যাহত হয় না। রাসায়নিক বিষে উপকারী-অপকারী সব পোকা মারা যায়, যা বাস্তুতন্ত্রের ক্ষতি করে। সঠিক সুস্থায়ী কৃষি ব্যবস্থাপনা এই বাস্তুতন্ত্রকে রক্ষা করে।

আড়ও দেখুন চাষের খরচ কমিয়ে লাভ দ্বিগুণ করুন: জৈব কৃষি শংসাপত্র ও প্রাকৃতিক চাষের পূর্ণাঙ্গ গাইড

৮. পাঞ্জাবের শিক্ষা ও ‘ক্যান্সার ট্রেন’-এর করুণ ইতিহাস

রাসায়নিকের অত্যাধিক ব্যবহারের চরম পরিণতি দেখেছে পাঞ্জাব। সবুজ বিপ্লবের শুরুতে ফলন বাড়লেও আজ সেখানকার মাটি উৎপাদন শক্তি হারিয়ে ফেলেছে। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে যে, জমির ওপরের এক-দেড় ফুট বিষাক্ত মাটি কেটে সরিয়ে ফেলে আবার জৈব সার দিয়ে সুস্থায়ী কৃষি ব্যবস্থাপনা প্রয়োগের চেষ্টা চলছে। সবচেয়ে ভয়াবহ বিষয় হলো—অত্যাধিক কীটনাশকের প্রভাবে সেখানে ক্যান্সার রোগীর সংখ্যা আকাশচুম্বী। ভাতিন্ডা থেকে বিকানের পর্যন্ত একটি ট্রেন শুধু ক্যান্সার রোগীদের যাতায়াতের জন্য চলে, যার নাম হয়ে গেছে ‘ক্যান্সার ট্রেন‘। এটি আমাদের চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেয় কেন জৈব ও সুস্থায়ী কৃষি ব্যবস্থাপনা আজ অপরিহার্য

৯. সুস্থায়ী কৃষি ব্যবস্থাপনা ও কর্মপরিকল্পনা কৌশল (বিস্তারিত)

আপনার কৃষি জীবনকে টেকসই করতে নিচের ব্যবস্থাপনাগুলো ধাপে ধাপে গ্রহণ করা উচিত:

ক. প্রাকৃতিক সম্পদের সঠিক পরিকল্পনা

নিজের জমি, গাছপালা, প্রাণী এবং পুকুরকে স্রেফ জিনিস নয়, বরং ‘সম্পদ’ হিসেবে দেখতে হবে। সঠিক পরিকল্পনার মাধ্যমে এই সম্পদগুলোর ব্যবহার করলে চাষের খরচ অবিশ্বাস্যভাবে কমে আসবে। এটিই সুস্থায়ী কৃষি ব্যবস্থাপনা এর মূল ভিত্তি।

খ. মাটির স্বাস্থ্য ও জৈব প্রয়োগ:

সবুজ সার ও জীবাণু সার: মাটিতে নাইট্রোজেন ও উর্বরতা বাড়াতে ধঞ্চে বা এজোলার মতো সবুজ সার এবং এ্যাজোস্পাইরিলিয়াম বা এ্যাজোটোব্যাকটরের মতো জীবাণু সারের ব্যবহার বাড়ানো।

মালচিং পদ্ধতি: আগাছা নাশক বিষ ব্যবহার না করে খড় বা ফসলের উচ্ছিষ্ট দিয়ে জমি ঢেকে রাখা। এতে মাটির আর্দ্রতা ঠিক থাকে, অণুজীবের সংখ্যা বাড়ে এবং অবশেষে মাটির কার্বন শক্তি বৃদ্ধি পায়।

গ. বৈজ্ঞানিক শস্য বিন্যাস ও মিশ্র চাষ:

সাথি ও ফাঁদ ফসল: টমেটো বা লঙ্কার চারপাশ দিয়ে ভুট্টার বেড়া দেওয়া (পোকা প্রতিরোধী বেড়া হিসেবে)। বেগুনের সাথে পেঁয়াজ বা গাঁদা ফুলের চাষ করা, যা মাটিবাহিত রোগ কমায়। এটি সুস্থায়ী কৃষি ব্যবস্থাপনা এর একটি উন্নত কৌশল।

পয়রা পদ্ধতি ও ফসল চক্র: ধান কাটার আগে ডাল বা মটর ছড়িয়ে দেওয়া (বিনা চাষে ফলন)। ডালের চাষ জমিতে রাইবোজিয়াম বাড়ায়, যা মাটির জন্য প্রাকৃতিক সার।

ঘ. সমন্বিত বালাই ব্যবস্থাপনা (IPM):

কীটবিতারকের ব্যবহার: বাজারজাত বিষ নয়, বরং বাড়ির তৈরি নিমবীজ, নিমপাতা বা তিতা জাতীয় গাছের নির্যাস ব্যবহার করা।

প্রাকৃতিক ফাঁদ: পোকার চরিত্র অনুযায়ী ফেরোমন ট্র্যাপ, আলোক ফাঁদ বা আঠালো হলুদ কার্ড ব্যবহার করা। (যেমন: শ্যামা বা কারেন্ট পোকা আলোর প্রতি আকৃষ্ট হয়, তাই রাতে আলোর নিচে জল রেখে তাদের নিয়ন্ত্রণ করা যায়)।

ঙ. পশুপালন ও পরিবেশ রক্ষা:

পশু পালনের ওপর জোর দিতে হবে কারণ পশুর বর্জ্যই জৈব সারের মূল উৎস। পাশাপাশি জমির আলে নিমগাছ লাগানো উচিত; এর পাতা মাটিতে পচে নিমাটোড ও ক্ষতিকারক ব্যাকটেরিয়া রোধে কাজ করে, যা সুস্থায়ী কৃষি ব্যবস্থাপনা কে আরও মজবুত করে।

চ. সচেতনতা ও প্রশিক্ষণ:

চিরাচরিত অভিজ্ঞতার সাথে নতুন প্রযুক্তির মেলবন্ধন ঘটাতে হবে। পরিবারের শিক্ষিত তরুণদের কৃষি প্রশিক্ষণে শামিল করতে হবে। মাটির স্বাস্থ্য রক্ষা, বীজ শোধন এবং প্রাণীদের নিয়মিত প্রতিষেধক দেওয়ার মতো প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নিলে বাড়তি অর্থব্যয় হবে না।

আড়ও দেখুন আনন্দধারা প্রকল্পের অধীনে মহিলা প্রোডিউসার গ্রুপ (PG) বা উৎপাদক গোষ্ঠী গঠনের পূর্ণাঙ্গ গাইড

১০. মতামত ও বর্তমান প্রেক্ষাপট

আজ বিশ্বব্যাপী বিজ্ঞানীরা সুস্থায়ী কৃষি ব্যবস্থাপনা এর প্রয়োজনীয়তা স্বীকার করে নিয়েছেন। ভারত সরকারের ‘প্রাকৃতিক কৃষি মিশন’ বা পশ্চিমবঙ্গের ‘আনন্দধারা’ প্রকল্পের মাধ্যমে নারীদের প্রশিক্ষণ দিয়ে বিষমুক্ত কৃষি প্রসারের কাজ চলছে। সুভাষ পালকর বা লোকোকল্যাণ পরিষদের মতো সংস্থাগুলো দীর্ঘদিন ধরে এই কাজ করে যাচ্ছে। আমাদের লক্ষ্য হতে হবে—পরবর্তী প্রজন্মের জন্য সুস্থ মাটি ও বিষমুক্ত পরিবেশ রেখে যাওয়া।

লেখকের শেষ কথা: সুস্থায়ী কৃষি ব্যবস্থাপনা মানে হলো নিজের সম্পদের সর্বোচ্চ ব্যবহার। একটি দেশি গরু ও সঠিক কর্মপরিকল্পনা আপনার কৃষি জীবনকে কেবল লাভজনক নয়, বরং গৌরবময় করে তুলবে।

সুস্থায়ী কৃষি ব্যবস্থাপনা নিয়ে সাধারণ কিছু প্রশ্ন (FAQ)

প্রশ্ন: সুস্থায়ী কৃষি ব্যবস্থাপনা আসলে কী?

উত্তর: সুস্থায়ী কৃষি ব্যবস্থাপনা হলো এমন একটি আধুনিক ও বৈজ্ঞানিক চাষ পদ্ধতি যেখানে রাসায়নিক সার বা বিষ ব্যবহার না করে প্রাকৃতিক সম্পদ (যেমন- গোবর, গোমূত্র, ফসলের অবশেষ) ব্যবহার করে চাষ করা হয়। এর মূল লক্ষ্য হলো মাটির উর্বরতা বজায় রেখে কম খরচে দীর্ঘমেয়াদী এবং বিষমুক্ত ফসল উৎপাদন করা।

প্রশ্ন: রাসায়নিক সারের বদলে জৈব সার কেন ব্যবহার করা উচিত?

উত্তর: রাসায়নিক সার সাময়িকভাবে ফলন বাড়ালেও দীর্ঘমেয়াদে মাটির গঠন নষ্ট করে এবং পরিবেশের ক্ষতি করে (যেমন- পাঞ্জাবের মাটির টক্সিসিটি)। অন্যদিকে, জৈব সার মাটির গঠন উন্নত করে, উপকারী অণুজীব ও কেঁচোর সংখ্যা বাড়ায় এবং উৎপাদিত ফসলকে পুষ্টিগুণে ভরপুর ও বিষমুক্ত রাখে।

প্রশ্ন: সুস্থায়ী কৃষি বা প্রাকৃতিক কৃষি কি আদতেও লাভজনক?

উত্তর: হ্যাঁ, এটি অত্যন্ত লাভজনক। কারণ এই পদ্ধতিতে চাষের উপকরণগুলো (যেমন- বীজ, সার, কীটবিতারক) কৃষকের নিজের কাছেই থাকে। ফলে বাজার থেকে দামী রাসায়নিক কিনতে হয় না, যা চাষের খরচ প্রায় শূন্যে নামিয়ে আনে এবং উৎপাদিত বিষমুক্ত ফসলের বাজারমূল্যও অনেক বেশি পাওয়া যায়।

তথ্য সুত্র

  • ন্যাশনাল মিশন ফর সাস্টেনেবল এগ্রিকালচার (NMSA) – ভারত সরকার
  • ন্যাশনাল সেন্টার ফর অর্গানিক অ্যান্ড ন্যাচারাল ফার্মিং (NCONF), ভারত সরকার ।
  • গুরুকুল কুরুক্ষেত্র (Gurukul Kurukshetra) হরিয়ানা ।
  • ন্যাশনাল পোর্টাল অন ন্যাচারাল ফার্মিং (National Portal on Natural Farming) ভারত সরকার ।
  • পশ্চিমবঙ্গের গ্রামীণ জীবিকা ও সুস্থায়ী চাষ (আনন্দধারা- WBSRLM)
Spread the love

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!
Scroll to Top