সফল খামারি হওয়ার ৩০টি ছাগল পালনের কৃষি সূত্র: প্রিয়াঙ্কা রায়ের অভিজ্ঞতা থেকে শেখা

অভিজ্ঞ খামারীর কাছে ছাগল পালনের কৃষি সূত্র  গুলি শুনছেন তার দৃশ্য
অভিজ্ঞ খামারীর কাছে ছাগল পালনের কৃষি সূত্র অভিজ্ঞতা গুলি শুনছেন তার দৃশ্য।

স্বপ্ন বড় হওয়া অপরাধ নয়, কিন্তু ভিত্তিহীন স্বপ্ন দেখা বিপজ্জনক। অনেকে শুধু সফলতার গল্প শুনেই খামার শুরু করেন, কিন্তু বাস্তবতার কঠিন মাটিতে পা রাখার আগেই তারা ছিটকে পড়েন। ভারতের বিখ্যাত শিল্পপতি রতন টাটা বলেছিলেন— “আমি সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ায় বিশ্বাস করি না, আমি সিদ্ধান্ত নিই এবং তারপর সেটিকে সঠিক প্রমাণ করি।” প্রিয়াঙ্কা রায়ের গল্পটিও [এখানে ক্লিক করুন ] ঠিক তেমন। ব্যর্থতা থেকে শিক্ষা নিয়ে তিনি যে ছাগল পালনের কৃষি সূত্র তৈরি করেছেন, তা আজ হাজারো নতুন উদ্যোক্তার পথপ্রদর্শক।

যারা ভুল করে আটকে আছেন বা যারা নতুন শুরু করে হোঁচট খেতে চান না, তাদের জন্য এই ৩০টি ছাগল পালনের কৃষি সূত্র জীবন বদলে দিতে পারে:

ক. উদ্যোক্তা মানসিকতা ও সঠিক প্রারম্ভ

সূত্র ১: আবেগে ভেসে বড় বিনিয়োগ নয়

শুরুতে অভিজ্ঞতাহীন বড় বিনিয়োগ মানেই হলো লোকসানের ঝুঁকি বাড়ানো। ইউটিউব বা গল্পের লাভের অংক কষে শুরুতেই অনেক ছাগল কিনবেন না। প্রথমে অল্প পুঁজিতে ঘরোয়াভাবে ৫-৬টি ছাগল দিয়ে শুরু করুন। ৬-১০ মাস নিজের হাতে লালন-পালন করে অভিজ্ঞতা সঞ্চয় করুন। লাভজনক ছাগল পালনের পদ্ধতি দেখতে [এখানে ক্লিক করুন [ ।

সূত্র ২: ব্যর্থতা থেকে নোট বুক তৈরি

অন্য খামারিরা কেন লোকসান করেছেন তা জানলে আপনার খামার সুরক্ষিত থাকবে। সফল খামারিদের খামারে গিয়ে শুধু তাদের হাসি দেখবেন না, বরং তাদের ব্যর্থতাগুলো খুঁটিয়ে দেখুন এবং সেগুলো সমাধান করার উপায়গুলো ডায়েরিতে নোট করে আনুন। এটিই শ্রেষ্ঠ ছাগল পালনের কৃষি সূত্র।

সূত্র ৩: বৈজ্ঞানিক ও সরকারি প্রশিক্ষণ

বিজ্ঞানসম্মত পদ্ধতিতে পালন না করলে উৎপাদন খরচ নিয়ন্ত্রণ করা অসম্ভব। শুরুর আগে প্রাণিসম্পদ বিকাশ দপ্তর থেকে একটি প্রফেশনাল ট্রেনিং নিয়ে নিন। এখন খামারে অনেক টাকা দিয়ে দুদিন প্রশিক্ষণের চেয়ে সরকারি প্রশিক্ষণ নিয়ে কাজ করা অনেক বেশি ফলদায়ক।

সূত্র ৪: ধৈর্য ও ৩ বছরের লক্ষ্য

ছাগল পালনের কৃষি সূত্র অনুসারে পশুপালন ব্যবসায় ধৈর্যই হলো আসল পুঁজি। ছাগল পালন করে কয়েক মাসেই ফল পাবেন না। প্রথম ১৮ মাস সবচেয়ে কঠিন সময়। এই সময়টা পার করে ৩ বছর টিকে থাকতে পারলেই আপনি সেই লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারবেন যা আপনি স্বপ্ন দেখেছিলেন।

খ. পরিকাঠামো ও ঘর তৈরির আদর্শ নিয়ম

সূত্র ৫: নিরাপদ ঘেরা বা ফেন্সিং ব্যবস্থাপনা

ছাগলকে সবসময় একটি নির্দিষ্ট ঘেরার মধ্যে রাখতে হবে। এতে শেয়াল-কুকুরের হাত থেকে রক্ষা পাবে, অন্যের ফসল নষ্ট করবে না এবং ঘাসের মাথা অগোছালোভাবে খেয়ে ঘাসের বৃদ্ধি ব্যাহত করবে না। এটি ছাগল পালনের কৃষি সূত্র-এর প্রাথমিক ধাপ।

সূত্র ৬: ঘেরার ভেতর আরামদায়ক শেড

ছাগল ঘর ঘেরার ভেতরে রাখতে হবে এবং একটি শেড রাখতে হবে। এতে রোদ-ঝড়-বৃষ্টিতে ছাগল প্রয়োজনমতো আশ্রয় নিতে পারবে এবং নিজেকে মুক্ত বা ফ্রী অনুভব করবে এবং খামারীর চাপ ও ঝামেলা কম অনুভব হবে।

সূত্র ৭: মাচা পদ্ধতি ও বায়ু চলাচল

ছাগল নোংরা পরিবেশে থাকলে দ্রুত নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়। ছাগলের মাচার নিচ সবসময় পরিষ্কার রাখুন। গরমে পর্যাপ্ত হাওয়া-বাতাসের ব্যবস্থা রাখুন। এতে রোগবালাই অর্ধেক কমে যাবে। ছাগলকে সবসময় বিশুদ্ধ জল পান করান ছাগল পালনের কৃষি সূত্র এর গুরত্বপূর্ণ অংশ।

সূত্র ৮: ঘরে নিরাপদ দূরত্বে ছাগল রাখা

ছাগল ঘর একটি হলে ঘরের ভেতর আলাদা আলাদা পার্টিশন করে পাঠা খাসি , গর্ববতি বা ভর্তি ছাগল ও সদ্যোজাত: ছাগল বাচ্চা সহ আলাদা রাখার ব্যবস্থা করা, এতে ছাগলএর সাথে ছাগল গুতো গুতি করে আঘাত লাগার ভয় থাকবে না এবং বাচ্চা নষ্ট হবে না। ছাগলের ক্ষতি আটকাতে ছাগল পালনের কৃষি সূত্র টি পালনীয়।

সূত্র ৯: শীতকালীন বিশেষ সুরক্ষা

ঠান্ডার সময় মাচার নিচ এবং চারপাশ চট বা ত্রিপল দিয়ে ঢেকে দিতে হবে। প্রচণ্ড ঠান্ডা হলে ঘেরার ভেতর নির্দিষ্ট জায়গায় আগুন তাপানোর ব্যবস্থা রাখতে হবে। এটি নিউমোনিয়া ও ঠান্ডায় মৃত্যু রোধে একটি পরীক্ষিত ছাগল পালনের কৃষি সূত্র।

সূত্র ১০: জীবাণুমুক্ত পরিবেশ ও পরিচ্ছন্নতা

ছাগল পালনের কৃষি সূত্র অনুসারে সপ্তাহে অন্তত একদিন ঘর ও মাচার নিচে এবং খাবারের পাত্র জীবাণুনাশক দিয়ে পরিষ্কার করতে হবে। পরিচ্ছন্ন খামার মানেই অর্ধেক রোগমুক্তি।

প্রজনন ও উন্নত জাত নির্বাচন

সূত্র ১১: কোয়ারেন্টাইন বা নতুন ছাগল ক্রয় নিয়ে সতর্কতা

ছাগল ক্রয়ের সময় সাধারণ হাট বা বাজার থেকে কিনবেন না। নিজের এলাকায় ভালো প্রজাতি, গঠন এবং কয়টি বাচ্চা দেয় তা জেনে সরাসরি খামার থেকে ক্রয় করুন। বাইরে থেকে আনা ছাগল অনেক সময় মড়ক বা মহামারি বয়ে আনে। নতুন ছাগল এনেই পালে মেশাবেন না। অন্তত ২১ দিন তাকে আলাদা রাখুন এবং পিপিআর (PPR) সহ প্রয়োজনীয় ভ্যাকসিন (টিকা) দিয়ে তবেই পুরনোদের সাথে মেশান হলো আসল ছাগল পালনের কৃষি সূত্র।

সূত্র ১২: প্রজননক্ষম পাঠা সংগ্রহ ও ব্যবস্থাপনা

একটি পাঠা দিয়ে সপ্তাহে দুই দিনের বেশি পাল খাওয়ানো বা প্রজনন করানো যাবে না। সবসময় আলাদা এলাকা থেকে উন্নত জাতের পাঠা সংগ্রহ করে নির্দিষ্ট বয়সে খামারে ব্যবহার করতে হবে। এতে বাচ্চার স্বাস্থ্য ভালো থাকবে, বৃদ্ধি দ্রুত হবে এবং বিকলাঙ্গ হওয়ার ভয় থাকবে না। একই বংশের পাঠা ব্যবহার করা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ, এতে ইনব্রিডিং সমস্যা হয়।

বাচ্চা ও ছাগলের বিশেষ যত্ন

সূত্র ১২: নবজাতক বাচ্চার নাভি ব্যবস্থাপনা

ছাগল পালনের কৃষি সূত্র অনুসারে বাচ্চা হওয়ার পর নাভি না শুকানো পর্যন্ত বিশেষ যত্ন নিতে হবে এবং নিয়মিত মলম লাগাতে হবে যাতে ইনফেকশন না হয়।

সূত্র ১৩: প্রথম দুধ বা শালদুধ পান করানোয় সতর্কতা

বাচ্চা হওয়ার সাথে সাথেই মায়ের ওলান থেকে সরাসরি দুধ খেতে দেবেন না। প্রথম দিকের দুধ খুব ঘন থাকে, যা খেলে বাচ্চার পাতলা পায়খানা হতে পারে। একটু সময় নিয়ে হালকা হাতে দুধ টেনে বের করে বাচ্চার পুষ্টি নিশ্চিত করুন।

সূত্র ১৪: বাচ্চার বাড়তি পুষ্টি

বাচ্চার পুষ্টির ঘাটতি থাকলে আলাদা করে বোটল (Bottle) দিয়ে দুধ খাওয়ানোর ব্যবস্থা করতে হবে। মা ও বাচ্চাকে সবসময় অন্যান্য বড় ছাগল থেকে আলাদা ঘরে রাখতে হবে।

সূত্র ১৫: খনিজ লবণের জোগান

শরীরে মিনারেল বা খনিজ উপাদানের অভাব থাকলে ত্বক ও পশম রুক্ষ হয়ে যায়। খামারে সবসময় ‘মিনারেল সল্ট ব্লক’ বা খনিজ লবণের ব্লক ঝুলিয়ে রাখুন। এতে ওদের শরীরের পুষ্টির ঘাটতি পূরণ হয় এবং শরীর ঝকঝকে থাকে।

স্বাস্থ্যসেবা ও রোগ প্রতিরোধ (কৃষি সূত্র)

সূত্র ১৬: কৃমি নাশক ও টিকাদান বা ভ্যাকসিনেশন শিডিউল

কৃমি থাকলে খাবার দিলেও ছাগলের ওজন বাড়ে না। নিয়ম করে প্রতি ৩ মাস অন্তর কৃমিনাশক ঔষধ এবং চিকিৎসকের পরামর্শে লিভার টনিক ও ভিটামিন সাপ্লিমেন্ট নিশ্চিত করুন এবং নিমিত্ত পিপিআর (PPR), গোট পক্স (বসন্ত) এবং খুরাই রোগের টিকা সময়মতো দিতে হবে। ছাগল পালনের কৃষি সূত্র মতে এটি ছাগল পালনের কৃষি সূত্র-এর একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ।

সূত্র ১৭: ঘরোয়া পদ্ধতিতে সর্দি প্রতিরোধ

ঠান্ডার সময় ঘরোয়া পদ্ধতিতে বিশেষ তেল (সরিষার তেলের সাথে কালোজিরা বা রসুন ফুটিয়ে) বানিয়ে নাকে দিলে ঠান্ডা লাগার প্রবণতা কমে যায়। ছাগল পালনের কৃষি সূত্র এটি গুরত্বপূর্ণ ।

সূত্র ১৮: রেজিস্টার্ড পশু চিকিৎসকের পরামর্শ ও বন্ধুত্ব

জরুরি অবস্থায় ডাক্তারের পরামর্শ আপনার বড় ক্ষতি রুখে দিতে পারে। সবসময় একজন রেজিস্টার্ড পশু চিকিৎসকের সাথে যোগাযোগ রাখুন।জরুরি অবস্থায় হাতুড়ে ডাক্তার না ডেকে সবসময় একজন ডিগ্রিধারী পশু চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। খামারে অসুস্থ প্রাণীকে দ্রুত আলাদা (Quarantine) করুন। নিয়মিত যোগাযোগ থাকলে ডাক্তারও আপনার খামারের প্রতি বেশি দায়িত্বশীল থাকবেন। ছাগলের রোগের লক্ষণ ও প্রতিকার দেখতে [এখানে ক্লিক করুন ]

খাদ্য ও বাড়তি আয়ের কৌশল

সূত্র ১৯: সমন্বিত কাঁঠাল চাষ (অতিরিক্ত আয়)

খামারের আলাদা জায়গা থাকলে ১২ মাসি বা পিন কাঁঠালের চাষ করুন। এর পাতা ছাগলের শ্রেষ্ঠ খাদ্য এবং ইঁচড় বা চারা বিক্রি করে আপনি বাড়তি উপার্জন করতে পারবেন। এটি মূল ব্যবসা ধসে পড়লেও আপনাকে ঘুরে দাঁড়াতে সাহায্য করবে। সমন্বিত খামার করে প্রতিমাসে ৩৫,০০০-৪০,০০০ টাকা আয় করে তার সাফল্য সুত্র দেখতে [এখানে ক্লিক করুন]

সূত্র ২০: বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও সার উৎপাদন

খামারের বর্জ্যকে সম্পদে রূপান্তর করতে। ছাগলের মলমূত্র সরাসরি মাচার নিচে না রেখে তা জৈব সার হিসেবে ঘাস ও কাঠাল চাষে ব্যাবহার ও প্রক্রিয়াজাত করুন। এটি আপনার খামারের বাড়তি আয়ের উৎস হতে পারে।

সূত্র ২১: খাদ্য অপচয় রোধে উঁচু ট্রে

খাবার দেওয়ার জন্য একটু উঁচু লম্বা ট্রের মতো তৈরি করুন। তবে ছাগল তার নাগালের বাইরের খাবার বেশি পছন্দ করে, তাই ঘাস বা পাতা উপরে ঝুলিয়ে দিলে তারা পরিশ্রম করে খেতে ভালোবাসে এবং অপচয় কম হয়।

সূত্র ২২: আলাদা সুষম খাদ্য ব্যবস্থাপনা

পাঠা, খাসি, অন্তঃসত্ত্বা ছাগল এবং বাচ্চাওয়ালা মা ছাগলের জন্য আলাদা আলাদা সুষম খাদ্যের ব্যবস্থা রাখতে হবে। অতিরিক্ত দানাদার খাবার দিলে ছাগলের হজমে সমস্যা হতে পারে। শুধুমাত্র ঘাসের ওপর নির্ভর না করে প্রোটিন সমৃদ্ধ দানাদার খাবার পরিমাণ মতো সরবরাহ করুন যাতে দ্রুত ওজন বৃদ্ধি পায়।

অ্যাজোলা,হাইড্রোপনিক্স ঘাস, নেপিয়ার ঘাস চাষের ছাগল পালনের কৃষি সূত্র।
অ্যাজোলা,হাইড্রোপনিক্স ঘাস, নেপিয়ার ঘাস চাষের ছাগল পালনের কৃষি সূত্র।

সূত্র ২৩: নিজস্ব ঘাস চাষ

ছাগল খামার করতে ঘাসের ব্যবস্থা রাখা আবশ্যিক । জায়গা অনুসারে নেপিয়ার, পাকচুং, অধিক প্রোটিন এর জন্যে অ্যাজোলা চাষ ও জায়গা কম থাকলে হাইড্রোপনিক (Hydroponic) পদ্ধতিতে ভুট্টা বা গম দিয়ে ঘাস উৎপাদন করুন। মনে রাখবেন, কেনা খাবারের ওপর নির্ভরতা কমানোই হলো সফল ছাগল পালনের কৃষি সূত্র।

সূত্র ২৪: ওজনের ওপর ভিত্তি করে খাবার

ছাগল পালনের কৃষি সূত্র অনুসারে প্রতি ১৫ দিন অন্তর ছাগলের ওজন নিন এবং সেই অনুযায়ী দানাদার খাবারের ডোজ ঠিক করুন।

ছাগল পালন এর সাথেই যদি আপনি আড়ও আয় বাড়াতে চান তবে মুরগি পালন পদ্ধতি গাইড টি দেখুন [ এখানে ক্লিক করুন]

উদ্যোক্তা কৌশল ও বাজারজাতকরণ

সূত্র ২৫: বিমা বা ইনস্যুরেন্স (Insurance)

বড় কোনো মড়ক বা আর্থিক বিপর্যয় এড়াতে প্রতিটি ছাগলের ইনস্যুরেন্স করিয়ে রাখা জরুরি। আকস্মিক মড়ক বা দুর্ঘটনায় আর্থিক সুরক্ষা পেতে। ছাগলের ইনস্যুরেন্স করিয়ে রাখুন। এতে কোনো বড় ক্ষতি হলে আপনি আর্থিক বিপর্যয়ে পড়বেন না।

সূত্র ২৬: এলাকাকে সুরক্ষিত রাখা

বায়োসিকিউরিটি শুধু নিজের খামারে সীমাবদ্ধ নয়। এলাকার অন্য ক্ষুদ্র খামারিদের নিয়ে প্রাণী সম্পদ বিকাশ দপ্তরে যোগাযোগ করে ‘ফ্রি ভ্যাকসিন ক্যাম্প’ করান। এলাকা সেভ থাকলে আপনার খামারও সুরক্ষিত থাকবে।

সূত্র ২৭: প্রোডিউসার গ্রুপ গঠন

আনন্দধারা প্রকল্পের মতো প্রোডিউসার গ্রুপ গঠন [ এখানে ক্লিক করুন] করে দলগতভাবে লোন ও উন্নত চিকিৎসার সুবিধা গ্রহণ করুন। দলগত শক্তি বড় বাজার ও সরকারি সুবিধা পাওয়ার জন্য জরুরি। ২৫-৩০ জন মিলে ‘আনন্দধারা প্রোডিউসার গ্রুপ’ তৈরি করুন। বাড়ির নারীরা যুক্ত থাকলে পুরুষরা তাদের মাধ্যমে লোন ও উন্নত চিকিৎসার সুবিধা সহজেই পাবেন এছাড়া ব্যবসা বৃদ্ধির জন্যে এককালীন টাকাও প্রদান করে থাকে।

সূত্র ২৮: নিয়মিত ওজন ও দুর্বল প্রাণী ছাঁটাই

কোন ছাগল লাভ দিচ্ছে আর কোনটি লস দিচ্ছে তা বুঝতে প্রতি মাসে ওজন চেক করুন। যেগুলোর বৃদ্ধি হচ্ছে না বা যারা সবসময় অসুস্থ থাকে, তাদের মায়া না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে খামার থেকে বের (বিক্রি) করে দিন।

সূত্র ২৯: রেকর্ড কিপিং

জন্ম, টিকা, এবং ওজনের সঠিক খতিয়ান, আয়-ব্যয়ের হিসাব ডায়েরিতে লিখে রাখুন। খামারের ও প্রজনন রেকর্ড রাখতে। কোন ছাগল কবে বাচ্চা দিল, কবে টিকা পেল—তার পুঙ্খানুপুঙ্খ হিসাব রাখুন। এটিই এক সময় আপনার খামারের ব্রান্ড ভ্যালু বাড়াবে।

সূত্র ৩০: ডিজিটাল মার্কেটিং ও নিজের ব্র্যান্ড

পাইকারদের ওপর নির্ভরতা কমাতে এবং সঠিক দাম পেতে। সোশ্যাল মিডিয়া বা বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে নিজের পরিচিতি তৈরি করুন। বিশেষ করে মা বা পাঠি ছাগলগুলো নতুন উদ্যোক্তাদের কাছে সরাসরি অনেক বেশি দামে বিক্রি করা যায়।

উপসংহার ও এক্সপার্ট উপদেশ

মনে রাখবেন, সফল হওয়ার জন্য শুধু পুঁজি নয়, সঠিক পরিকল্পনা প্রয়োজন। পৃথিবীখ্যাত উদ্যোক্তা হেনরি ফোর্ড বলেছিলেন— “ব্যর্থতা হলো নতুন করে কাজ শুরু করার সুযোগ, এবার আরও বুদ্ধিমত্তার সাথে।” প্রিয়াঙ্কা রায়ও তার ব্যর্থতাকে বুদ্ধিমত্তার সাথে বদলেছেন বলেই আজ তিনি সফল এবং সাফল্যের গল্প ও অভিজ্ঞতাপূর্ণ ছাগল পালনের কৃষি সূত্র গুগল থেকে জানতে পাচ্ছেন।

প্রায়ই জিজ্ঞাসিত প্রশ্নগুলি (FAQ)

প্রশ্ন ১: ছাগল পালনে সবচেয়ে বেশি লাভ কোন জাতে?

উত্তর:: ছাগল পালনের জন্য সবচেয়ে লাভজনক জাত নির্ভর করে আপনার এলাকার জলবায়ুর ওপর। তবে মাংসের জন্য ব্ল্যাক বেঙ্গল ছাগল (Black Bengal) এবং দ্রুত বৃদ্ধির জন্য তোতাপারি বা বিটল ছাগল খামারিদের প্রথম পছন্দ। সঠিক ছাগল পালনের কৃষি সূত্র মেনে জাত নির্বাচন করলে লোকসানের ঝুঁকি থাকে না।

প্রশ্ন ২: ছাগলকে কি কি টিকা বা ভ্যাকসিন দিতে হয়?

উত্তর: ছাগলের খামারকে মড়ক থেকে বাঁচাতে নিয়মিত PPR (পিপিআর), গোট পক্স (বসন্ত) এবং খুরাই (FMD) রোগের টিকা দিতে হয়। ভ্যাকসিন দেওয়ার আগে অবশ্যই কৃমিনাশক ঔষধ খাওয়ানো জরুরি।

প্রশ্ন ৩: ছাগলের মাচা পদ্ধতি বা শেড তৈরির সঠিক নিয়ম কী?

উত্তর: ছাগলের ঘর সবসময় মাটি থেকে অন্তত ৩-৪ ফুট উঁচু মাচা পদ্ধতিতে করা উচিত। মাচার ভেতরে পর্যাপ্ত ফাঁকা রাখতে হবে যেন মল-মূত্র নিচে পড়ে যায়। এতে ছাগলের নিউমোনিয়া ও ঠান্ডাজনিত রোগ কম হয় এবং ঘর জীবাণুমুক্ত রাখা সহজ হয়।

প্রশ্ন ৪: একটি পাঠা দিয়ে কতটি ছাগল পালন করানো যায়?

উত্তর: খামার ব্যবস্থাপনায় একটি সুস্থ পাঠা দিয়ে সপ্তাহে সর্বোচ্চ ২ দিন প্রজনন বা পালন করানো উচিত। ২০-২৫টি ছাগলের জন্য একটি সুস্থ ও আলাদা বংশের পাঠা রাখা আদর্শ। মনে রাখবেন, একই বংশের পাঠা ব্যবহার করলে বাচ্চার বৃদ্ধি ব্যাহত হয়।

প্রশ্ন ৫: ছাগলের খাবারের খরচ কমানোর উপায় কী?

উত্তর: খাবারের খরচ কমাতে কেনা খাবারের বদলে নিজস্ব জমিতে নেপিয়ার, পাকচং বা এজোলা ঘাস চাষ করুন। এছাড়া শীতকালীন বাড়তি আয়ের জন্য কাঁঠাল পাতা ও সজনে গাছের চাষ একটি কার্যকর ছাগল পালনের কৃষি সূত্র

তথ্য সুত্র

  • সফল খামারীদের ছাগল পালন সাফল্য, কোচবিহার ।
  • পশ্চিমবঙ্গ গ্রামীণ আজীবিকা মিশন (WBSRLM)
  • জাতীয় পশুপালন মিশন (NLM) ভারত সরকার।
Spread the love

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!
Scroll to Top