
নমস্কার কৃষক বন্ধুগণ, যারা ভাবছেন জৈব পদ্ধতিতে চাষ করে বিষমুক্ত খাদ্য খাবেন বা জৈবভাবে চাষ শুরু করবেন, তাদের জন্য জৈব কীটবিতারক অগ্নিঅস্ত্র (Agniastra) হতে পারে একটি অত্যন্ত শক্তিশালী ও কার্যকরী হাতিয়ার। এটি কেবল একটি কিটবিতাড়ক নয়, এটি আপনার ফসলের রক্ষাকবচ। বলে রাখা ভাল জৈব পদ্ধতিতে তৈরি ভাল জৈব পদ্ধতিতে তৈরি মিশ্রণ গুলি কীটনাশক হিসেবে নয় কিট বিতারক হিসেবে কাজ করে, আর এটাই দরকার আমাদের।
কারণ কীটনাশক প্রয়োগ মানে শত্রু ও বন্ধু পোকা বিনাশ করে যা পরাগায়নের জন্যে ক্ষতিকর। এখানে আপনাদের বুঝার সুবিধার্থে কীটনাশক কথাটি ব্যবহার হয়েছে। মনে রাখবেন, উৎপাদিত ফসলের দাম আমাদের হাতে নেই, কিন্তু চাষের খরচ কমানো আমাদের হাতে আছে। খরচ যত কমাবেন, লাভের শেষ হাসিটা ঔষধ কোম্পানি বা ডাক্তার নয়, কৃষকই হাসবে।
অনেকেই বাজার থেকে ৫০ মিলি কিটবিতাড়ক ১৫০ টাকায় কেনেন, যেখানে বাড়িতে জৈব কীটবিতারক অগ্নিঅস্ত্র (Agniastra) তৈরি করলে খরচ হবে মাত্র ২ টাকা। নিজের পরিবারকে বিষমুক্ত সবজি খাওয়ানোর চেয়ে বড় তৃপ্তি আর কিছু হতে পারে না। নিচে পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে অগ্নিঅস্ত্র প্রস্তুতির তথ্য তুলে ধরা হলো।
উপকরণ (Ingredients for Agniastra)
বৈজ্ঞানিক তত্ব ও আমাদের বেক্তিগত অভিজ্ঞতা হিসেবে আমারা এখানে একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ বা রেশিও (Ratio) বলে দিচ্ছি, আপনারা আপনাদের প্রয়োজন অনুসারে এটি বাড়িয়ে বা কমিয়ে নেবেন :
- দেশী গোমূত্র: ১০ লিটার
- দেশী নিমপাতা (থেঁতো করা): ১ কেজি
- রসুন (থেঁতো করা): ২৫০ গ্রাম
- কাঁচা লঙ্কা (তীব্র ঝাল, থেঁতো করা): ২৫০ গ্রাম
- তামাক পাতা (ডাটা গুঁড়ো): ১০০ গ্রাম
- পাত্র: গরম করার জন্য মাটির হাঁড়ি হলে সবথেকে ভালো, না হলে অন্য ধাতব পাত্র নিতে পারেন।
জৈব কীটনাশক অগ্নিঅস্ত্র (Agniastra) প্রস্তুতি প্রণালী
জৈব কীটবিতারক অগ্নিঅস্ত্র (Agniastra) তৈরির সময় ধৈর্যের সাথে এই পদ্ধতিটি অনুসরণ করুন:
- প্রথমে একটি পাত্রে গোমূত্র ঢেলে চুলোতে গরম করতে দিন।
- গোমূত্র গরম হতে শুরু করলে তাতে নিমপাতা, রসুন, লঙ্কা এবং তামাক পাতার মিশ্রণটি দিয়ে দিন।
- মিশ্রণটি গরম করতে থাকলে দুধের মতো সাদা ফেনা উঠতে থাকবে। এই অবস্থায় আগুনের আঁচ একবার বাড়িয়ে এবং একবার কমিয়ে মোট ৫ বার টগবগিয়ে ফুটিয়ে নিন।
- ৫ বার ফোটানো হয়ে গেলে হাঁড়িটি নামিয়ে নিন এবং মুখটি একটি সুতির কাপড়ের টুকরো দিয়ে বেঁধে দিন।
- এটি কোনো ছায়াযুক্ত জায়গায় ৪৮ ঘণ্টার জন্য রেখে দিন।
- ৪৮ ঘণ্টা পর মিশ্রণটি ভালো করে ছেঁকে নিয়ে প্লাস্টিকের বোতল বা জারে ভরে রাখুন।
কৃষি সূত্র পরামর্শ: এই পদ্ধতিতে তৈরি অগ্নিঅস্ত্র আপনি পরবর্তী ৩ মাস পর্যন্ত অনায়াসে ব্যবহার করতে পারবেন। এটি নষ্ট হবে না, বরং এর কার্যকারিতা বজায় থাকবে।
আড়ও দেখুন ফসফেট দ্রবণকারী ব্যাক্টেরিয়া (পি.এস.বি) কি ? ফসল উৎপাদনে পি.এস.বি জীবাণু সার এর ব্যবহার
অগ্নিঅস্ত্রের উপাদান ও তাদের বৈজ্ঞানিক কার্যকারিতা
অনেকের মনে প্রশ্ন জাগতে পারে, সামান্য কিছু ঘরোয়া উপাদান কীভাবে শক্তিশালী পোকা তাড়াতে পারে? এর পেছনে রয়েছে নিখাদ বিজ্ঞান । আসুন আমরা জেনে নেই জৈব কিটবিতারক (কীটনাশক) অগ্নিঅস্ত্র (Agniastra) এর উপাদান গুলির বৈজ্ঞানিক ভিত্তি এবং এটি বায়োলজিক্যাল ভাবে কীভাবে কাজ করে দেখে নেওয়া যাক:
১. নিমপাতা (Azadirachtin):
- বৈজ্ঞানিক তত্ত্ব: নিমের প্রধান উপাদান হলো আজাদিরাকটিন। এটি পোকার শরীরে ‘একডাইসোন’ (Ecdysone) নামক হরমোনের নিঃসরণ বন্ধ করে দেয়।
- কিভাবে কাজ করে: এই হরমোন ছাড়া পোকা তাদের খোলস বদলাতে পারে না এবং লার্ভা থেকে পূর্ণাঙ্গ পোকা হতে পারে না। ফলে পোকার জীবনচক্র থেমে যায়। এছাড়াও এটি একটি ‘Antifeedant‘, যা পাতার স্বাদ তিতো করে দেয় ফলে পোকা না খেয়ে মারা যায় এবং বংশবিস্তার করতে ব্যর্থ হয়।
২. লঙ্কা (Capsaicin):
- বৈজ্ঞানিক তত্ত্ব: লঙ্কায় থাকে ক্যাপসাইসিন। এটি একটি তীব্র নিউরোটক্সিন হিসেবে কাজ করে।
- কিভাবে কাজ করে: এটি পোকার গায়ে লাগা মাত্র তাদের প্রান্তীয় স্নায়ুতন্ত্রে (Peripheral Nervous System) প্রচণ্ড জ্বালা ও উত্তেজনা সৃষ্টি করে। পোকার গায়ের নরম চামড়া বা কিউটিকল (Cuticle) পুড়িয়ে দেয়, যার ফলে পোকা অস্থির হয়ে পড়ে এবং পোকা দ্রুত গাছ ছেড়ে পালায়।
৩. রসুন (Allicin & Sulphur compounds):
- বৈজ্ঞানিক তত্ত্ব: রসুনে প্রচুর পরিমাণে অ্যালিসিন এবং সালফার থাকে।
- কিভাবে কাজ করে: রসুনে থাকা অ্যালিসিন (Allicin) এবং সালফার যৌগ পোকার শ্বাসযন্ত্রের ছিদ্রগুলো ব্লক করে দেয় বা এর তীব্র গন্ধ বিষাক্ত গ্যাসের মতো কাজ করে, যার ফলে পোকার দমবন্ধ ভাব বা শ্বাসকষ্ট তৈরি হয়।। অর্থাৎ পুরুষ ও স্ত্রী পোকা একে অপরকে খুঁজে পায় না, ফলে তারা ডিম পাড়তে পারে না। এটি একটি শক্তিশালী পোকা বিতাড়ক।
৪. তামাক পাতা (Nicotine):
- বৈজ্ঞানিক তত্ত্ব: তামাকের মূল উপাদান নিকোটিন।
- কিভাবে কাজ করে: এটি পোকার স্নায়ু কোষে থাকা ‘অ্যাসিটাইলকোলিন রিসেপ্টর’ (Acetylcholine receptor)-কে আক্রমণ করে। এর ফলে পোকার সারা শরীর অবশ বা পক্ষাঘাতগ্রস্ত (Paralyze) হয়ে যায় এবং পোকা মারা যায়।
৫. দেশী গোমূত্র (Ammonia & Phenols):
- বৈজ্ঞানিক তত্ত্ব: গোমূত্রে থাকে অ্যামোনিয়া, ইউরিয়া এবং বিভিন্ন ফেনোলিক অ্যাসিড।
- কিভাবে কাজ করে: অ্যামোনিয়া পোকার জন্য শ্বাসরোধকারী গ্যাস হিসেবে কাজ করে। গোমূত্র এবং অন্যান্য তীব্র গন্ধযুক্ত উপাদানের মিশ্রণ গাছের চারদিকে এমন একটি উগ্র গন্ধের বলয় তৈরি করে যা ক্ষতিকারক পোকার প্রজনন বা ডিম পাড়ার সংকেতকে নষ্ট করে দেয়। এছাড়া গোমূত্র একটি শক্তিশালী ‘সারফ্যাক্ট্যান্ট’ হিসেবে কাজ করে, যা লঙ্কা বা নিমের রসকে পাতার গায়ে দীর্ঘক্ষণ লেপ্টে থাকতে সাহায্য করে।
অগ্নিঅস্ত্র ব্যবহার বিধি (How to Use)
অগ্নিঅস্ত্র (Agniastra) মাঠে প্রয়োগ করার সময় সঠিক মাপ মাথায় রাখা জরুরি:
প্রতি লিটার জলের সাথে ২৫ মিলি (বা ২৫ গ্রাম) অগ্নিঅস্ত্র মিশিয়ে ভালো করে ঝাঁকিয়ে স্প্রে করুন।
পোকার আক্রমণ শুরু হওয়ার আগে থেকে প্রতি ৭ দিন অন্তর এটি স্প্রে করলে সবথেকে ভালো ফল পাওয়া যায়।
কৃষি সুত্র পরামর্শ: ব্যবহারের সময় অবশ্যই কিছু আক্রান্ত গাছে আগে ব্যাবহার করে একদিন অপেক্ষা করে দেখবেন গাছের কোন পরিবর্তন হচ্ছে কি না যেমন কচি পাতা ও ডগা জ্বলে যাওয়ার মত হয়েছে কি না । কারণ এগুলি ঘরোয়া ভাবে তৈরির সময় সব সঠিক পরিমাপ হয় না কাজেই ব্যবহারের সময় কিছু গাছে প্রয়োগ করে পরিমাপ ঠিক করে বেশি জমিতে প্রয়োগ করা উচিত । বিশদ জানতে নিকটতম কৃষি বিভাগে পরামর্শ নিবেন ।
অগ্নিঅস্ত্র ব্যবহারের উপকারিতা (Benefits)
যেকোনো ফল ছিদ্রকারী পোকা তাড়ানোর জন্য অগ্নিঅস্ত্র (Agniastra) এক অপ্রতিদ্বন্দ্বী নাম।
- এটি সাদা মাছি এবং জাব পোকার বিরুদ্ধে দারুণ কাজ করে।
- বেগুন, লঙ্কা, টমেটো, ভেন্ডি, বাঁধাকপি ও ভুট্টা প্রভৃতি ফসলে এটি ব্যবহারে অভাবনীয় সাফল্য পাওয়া যায়।
- প্রাকটিক্যাল অভিজ্ঞতা: আমাদের এলাকার সফল কৃষক বিমল বাবু এবং শ্যামল দা গত মরসুমে বেগুনের ডগা ও ফল ছিদ্রকারী পোকা দমনে এই অগ্নিঅস্ত্র ব্যবহার করেছিলেন। তাদের মতে, “রাসায়নিক বিষে যে কাজ হচ্ছিল না, এই ঘরোয়া অগ্নিঅস্ত্র ব্যবহারের পর ফসলের সতেজতা এবং ফলন—দুটোই অনেক বেড়ে গেছে।”
কেন অগ্নিঅস্ত্র রাসায়নিকের চেয়ে সেরা?
মনে রাখবেন, কিন্তু পোকা মরবে না, বরং পোকা আসবে না। চাষে উপকারী এবং অপকারী দুই ধরনের পোকাই থাকে। কিন্তু রাসায়নিক কীটনাশক দিলে বন্ধু পোকা ও শত্রু পোকা সবই মারা যায়, ফলে পরাগায়ন কমে যায় এবং উৎপাদনও ব্যাহত হয়। জৈব পদ্ধতিতে চাষ করলে আপনার পরিবারের স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত হবে এবং চাষের খরচ কম হওয়ায় লাভের ১০০ শতাংশ টাকাই আপনার পকেটে থেকে যাবে।
আড়ও দেখুন পোকামাকড় নিয়ন্ত্রণে জৈব কিটবিতাড়ক নিমাস্ত্র তৈরির সম্পূর্ণ পদ্ধতি
চাষের তথ্যে কৃষি সুত্র এক্সপার্ট মতামত
- উপকরণ সংগ্রহ: হাইব্রিড গরুর মূত্র ব্যবহার করবেন না, বৈজ্ঞানিকভাবে দেশী গরুর মূত্রে খনিজ ও অণুজীবের ঘনত্ব অনেক বেশি থাকে যা অগ্নিঅস্ত্রের শক্তি বাড়ায় তাই সবসময় দেশী গরুর মূত্র সংগ্রহের চেষ্টা করুন।
- উপকরণ প্রস্তুতি: রসুন ও লঙ্কা সরাসরি গোটা ফেলে দেবেন না , উপকরণগুলো অবশ্যই ভালো করে থেঁতো করে দিতে হবে যাতে এদের নির্যাস গোমূত্রের সাথে পুরোপুরি মিশে যায়।
- তৈরির পদ্ধতি: ফোটানোর সময় অগ্নিঅস্ত্র মাত্র একবার ফুটিয়ে নামিয়ে নিবেন না এবং খুব বেশি ফুটিয়ে ঘন বা কাই করে ফেলবেন না, ৫ বার দুধের মতো ফেনা তুলে ফোটালে তবেই এটি শক্তিশালী হয় এবং সংরক্ষণের গুণাগুণ পায়। অতিরিক্ত ফোটালে তামাকের নিকোটিন বা নিমের আজাদিরাকটিন বাষ্পীভূত হয়ে নষ্ট হয়ে যেতে পারে।
- সংরক্ষণ: অগ্নিঅস্ত্র (Agniastra) রোদে বা খোলা অবস্থায় রাখা যাবে না, এতে বাষ্পীভূত হয়ে এর গুণমান কমে যেতে পারে; সবসময় অন্ধকার ও ঠান্ডা জায়গায় বায়ুরোধী বোতলে রাখা সঠিক।
- ব্যবহারের সময়: অগ্নিঅস্ত্র (Agniastra) স্প্রে করার পরপরই রাসায়নিক সার দেওয়া একটি ভুল পদ্ধতি, জৈব কীটনাশক ব্যবহারের ২৪-৪৮ ঘণ্টার মধ্যে কোনো কড়া রাসায়নিক প্রয়োগ করবেন না, এতে জৈব কার্যকারিতা নষ্ট হতে পারে।
- স্প্রে ঘনত্ব: অগ্নিঅস্ত্র (Agniastra) জলের সাথে না মিশিয়ে সরাসরি গাছে স্প্রে করা একটি ভুল পদ্ধতি হবে, এটি একটি অতি ঘন বা কনসেন্ট্রেটেড নির্যাস। সরাসরি দিলে গাছের কচি ডগা ও পাতা পুড়ে যাবে। অবশ্যই প্রতি লিটার জলে ২৫ মিলি মিশিয়ে ব্যবহার করবেন। সবচেয়ে ভাল আগে কিছু গাছে পরীক্ষা করে দেখবেন ২৪ ঘণ্টা , যদি গাছের কোন অস্বাভাবিক পরিবর্তন না হয় তবে আপনার প্রয়োজনীয় ফসলে ব্যাবহার করবেন।
- প্রয়োগ সতর্কতা: অগ্নিঅস্ত্র (Agniastra) স্প্রে করার সময় বাতাসের প্রতিকূলে স্প্রে করবেন না, যেহেতু এতে লঙ্কা ও তামাক আছে, তাই বাতাসের বিপরীতে স্প্রে করলে সেটি আপনার চোখে-মুখে লেগে মারাত্মক জ্বালা হতে পারে। সবসময় বাতাসের গতি যেদিকে সেদিকে স্প্রে করুন।
খরচ ও লাভের খতিয়ান: আপনার পকেট কেন হাসবে?
বাস্তববাদী কৃষক মাত্রই হিসাব বোঝেন। আসুন একটি ছোট্ট তুলনামূলক হিসাব দেখি:
| বিষয় | বিষয় রাসায়নিক কীটনাশক (১ বিঘা) | জৈব অগ্নিঅস্ত্র (১ বিঘা) |
|---|---|---|
| ঔষধের মূল্য | ৫০০ – ৮০০ টাকা খরচ (প্রতি স্প্রে) | ১০ – ২০ টাকা (উপকরণ সংগ্রহ) |
| মাটির উর্বরতা | রাসায়নিকের ফলে মাটি শক্ত হয় | কোনো ক্ষতি হয় না |
| পরাগায়ন | বন্ধু পোকা মৌমাছি ও মাকড়সা মারা যায় | বন্ধু পোকা নিরাপদ থাকে |
| স্বাস্থ্য | বিষাক্ত সবজিতে রোগের ঝুঁকি থাকে | পরিবার সম্পূর্ণ নিরাপদ থাকে |
কৃষি সুত্র পরামর্শ: যদি আপনি বছরে ৪ বার স্প্রে করেন, তবে ১ বিঘা জমিতে আপনার সরাসরি ২০০০ – ২৫০০ টাকা সাশ্রয় হবে। এই সাশ্রয়টুকু আপনার বাড়তি নিট মুনাফা।
উপসংহার
পরিশেষে বলতে চাই, জৈব কীটবিতারক(কীটনাশক) অগ্নিঅস্ত্র (agniastra) কেবল একটি তরল মিশ্রণ নয়, এটি কৃষকের স্বনির্ভর হওয়ার একটি অঙ্গীকার। আমরা যখন রাসায়নিকের পেছনে অন্ধের মতো দৌড়াই, তখন আমরা শুধু আমাদের পকেট খালি করি না, বরং আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মকেও একটি বিষাক্ত পৃথিবী দিয়ে যাই। অগ্নিঅস্ত্র ব্যবহারের মাধ্যমে আপনি যেমন পোকা দমন করবেন, তেমনি আপনার মাটিকেও রাসায়নিকের অভিশাপ থেকে রক্ষা করবেন। মনে রাখবেন, “সুস্থ মাটি, সুস্থ মানুষ এবং সমৃদ্ধ কৃষক”—এই লক্ষ্যেই আমাদের এই প্রচেষ্টা। আজই আপনার বাড়িতে অগ্নিঅস্ত্র তৈরি করুন এবং বিষমুক্ত চাষের বিপ্লবে সামিল হন।
FAQ – সচরাচর জিজ্ঞাস্য প্রশ্নাবলী
প্রশ্ন: অগ্নিঅস্ত্র কি সব ফসলে ব্যবহার করা যায়?
উত্তর: হ্যাঁ, ধান থেকে শুরু করে সবজি এবং ফল গাছ—সব ধরণের ফসলেই অগ্নিঅস্ত্র (Agniastra)ব্যবহারযোগ্য।
প্রশ্ন: অগ্নিঅস্ত্র কতদিন ভালো থাকে?
উত্তর: সঠিকভাবে তৈরি করলে জৈব কীটনাশক অগ্নিঅস্ত্র (Agniastra) ৩ মাস পর্যন্ত ব্যবহার করা যায়।
প্রশ্ন: অগ্নিঅস্ত্র কি পোকা মেরে ফেলে?
উত্তর: না, জৈব কীটনাশক অগ্নিঅস্ত্র (Agniastra) একটি শক্তিশালী রিপেলেন্ট বা বিতাড়ক। এটি ব্যবহার করলে পোকা ফসলে ডিম পাড়ে না এবং দূরে থাকে।
প্রশ্ন: অগ্নিঅস্ত্র এর সাথে কি অন্য কিছু মেশানো যাবে?
উত্তর: অগ্নিঅস্ত্র (Agniastra) স্প্রে করার সময় আপনি চাইলে সামান্য ‘খাদি সাবান’ বা স্টিকার মেশাতে পারেন যাতে পাতার সাথে ভালো করে লেগে থাকে।
প্রশ্ন: বাড়িতে কিভাবে অগ্নিঅস্ত্র তৈরি করবেন?
উত্তর: ১০ লিটার গোমূত্রের সাথে ২৫০ গ্রাম অত্যন্ত ঝাল লঙ্কা বাটা, ২৫০ গ্রাম রসুন বাটা, ১০০ গ্রাম তামাক পাতা এবং ১ কেজি থেত নিম পাতা ফুটিয়ে বাড়িতেই অগ্নিঅস্ত্র তৈরি করা যায়। মিশ্রণটি ৫ বার ফুটিয়ে অর্ধেক করে ২ দিন রেখে ব্যবহার করুন।










