
বর্তমান বিশ্বে কৃষি ক্ষেত্রে ফসল উৎপাদনের জন্য রাসায়নিক বিষাক্ততা থেকে খাদ্য ও পরিবেশকে বাঁচাতে জৈব সমাধানের উপর বিশেষ জোর দিচ্ছেন কৃষি গবেষকরা। অনেকেই বাড়িতে বিষমুক্ত সবজি উৎপাদন করছেন, কিন্তু সঠিক জৈব কীটনাশক তৈরির পদ্ধতি না জানায় সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন। একটু পরিশ্রম করলে কোনো খরচ ছাড়াই বাড়িতে কার্যকরী জৈব কীটনাশক (কীটবিতারক) তৈরি করা সম্ভব। এগুলি প্রয়োগে পোকা সরাসরি না মরলেও ফসল থেকে দূরে থাকে, ফলে মাটির স্বাস্থ্য ও পরিবেশ ভালো থাকে এবং আমরা বিষমুক্ত খাদ্য পাই।
জৈব কীটনাশক কি ?
জৈব কীটনাশক হলো উদ্ভিদ, খনিজ বা অণুজীবের মতো সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক উৎস থেকে তৈরি বালাইনাশক, যা বাড়ির আশেপাশে থাকা গাছের পাতা, বিষাক্ত ফল ও গোমূত্র ব্যবহার করে সহজে ঘরোয়া জৈব কীটনাশক তৈরির পদ্ধতিতে প্রাপ্ত ঔষধি। এটি পরিবেশ বা মানুষের স্বাস্থ্যের ক্ষতি না করে কেবল অপকারী পোকাদের তাড়িয়ে দেয় এবং তাদের বংশবৃদ্ধি ও ডিম নষ্ট করে দেয়, কিন্তু মৌমাছির মতো উপকারী পতঙ্গদের কোনো ক্ষতি করে না। ফলে পরাগায়ন বাধাগ্রস্ত হয় না এবং কৃষকরা রাসায়নিকের ঝামেলা ছাড়াই বিষমুক্ত ও উচ্চ ফলনশীল নিরাপদ ফসল উৎপাদন করতে পারেন।
জৈব কীটনাশক এর উদাহরণ – কয়কেটি উল্লেখ যোগ্য উদাহরণ হল নিম তেল,নিমাস্ত্র ব্রহ্মাস্ত্র ও অগ্নিঅস্ত্র। এগুলি তৈরি ও ব্যবহারের বিস্তারিত লিংক এই আর্টিকেলে দেওয়া আছে এবং এছাড়া ঘরোয়া ভাবে জৈব পদ্ধতিতে পোকা দমনের আড়ও ২০টি কিটনাশক ও কীটবিতারক তৈরির পদ্ধতি এবং ব্যাবহার বিস্তারিত নিচে আলোচনা করা হয়েছে।
সবজি চাষে পোকা দমনের উপায় ও জৈব নিয়ন্ত্রক
চাষের ক্ষেত্রে রোগ-পোকার আক্রমণ স্বাভাবিক, তবে শুরুতেই বিষ ব্যবহার না করে পরিচর্যাগত নিয়ন্ত্রণ যেমন—পরিচ্ছন্ন চাষ, শস্যাবর্তন, মিশ্র চাষ এবং বীজ শোধন অত্যন্ত জরুরি। প্রয়োজনে নিচে আলোচনা করা ইকো-ফ্রেন্ডলি সবজি চাষে পোকা দমনের উপায় হিসাবে জৈব কীটনাশক তৈরির পদ্ধতি গুলি ব্যবহার করুন।
আড়ও দেখুন ১২ মাসে সবজি চাষ করার পূর্ণাঙ্গ নির্দেশিকা: কৃষকের লাভজনক ক্যালেন্ডার
১. নিম বীজের নির্যাস
জৈব পদ্ধতিতে পোকা দমনে নিম বীজ থেকে তৈরি এই নির্যাস অত্যন্ত কার্যকর।
- তৈরির পদ্ধতি: খোসা ছাড়ানো ৫০ গ্রাম অথবা ৭৫ গ্রাম খোসাযুক্ত নিম বীজ গুঁড়ো করে (যেন তেল না বেরোয়) একটি মিহি কাপড়ে বেঁধে ১ লিটার জলে ১২ ঘণ্টা ডুবিয়ে রাখুন।
- কার্যকারিতা বৃদ্ধি: এর সাথে আধা চা চামচ সাবান ও এক চা চামচ তিল তেল মেশালে ভালো ফল পাওয়া যায়। বিকেলের দিকে এটি স্প্রে করতে হয়। মনে রাখবেন, নিম বীজ ৩ থেকে ১০ মাসের বেশি পুরনো হওয়া চলবে না।
২. সাবান কেরোসিনের দ্রবণ
- পিঁপড়ে, জাব পোকা ও শুঁয়োপোকা দমনে এটি বেশ কার্যকরী।
- পদ্ধতি: ২০ মিলি কেরোসিন তেল এবং ৫ গ্রাম সাবান (গুঁড়ো সাবান নয়) প্রতি লিটার জলে মিশিয়ে বিকেলের দিকে স্প্রে করুন। প্রয়োজনে ৭-১০ দিন অন্তর ২-৩ বার ব্যবহার করা যেতে পারে।
৩. ছাই এর ব্যবহার
উনানের শুকনো ছাই পাতার ওপর হালকা করে ছড়িয়ে দিলে পাতাখেকো পোকার হাত থেকে ফসল রক্ষা পায়। বৃষ্টির সময় এই ছাই মাটিতে পড়ে সারের কাজও করে।
আড়ও দেখুন – শূন্য খরচে ৯০% বীজ অঙ্কুররিত ও রোগ মুক্ত ফসল উৎপাদনে বীজামৃত তৈরি পদ্ধতি।
৪. সাবানের দ্রবণ
- জাব পোকা ও ছোট-বড় বিটল দমনে ০.৫% থেকে ০.৮% ঘনত্বের সাবান জল ব্যবহার করুন।
- সতর্কতা: প্রতি লিটার জলে ১০ গ্রামের বেশি সাবান ব্যবহার করবেন না, এতে গাছের ক্ষতি হতে পারে।
৫. গোমূত্রের দ্রবণ
- গোমূত্র একটি শক্তিশালী জৈব কীটবিতারক এবং ছত্রাকনাশক।
- পদ্ধতি: ২-৩ দিনের পুরনো গোমূত্র রোদে রেখে ৪ থেকে ৬ গুণ জলের সাথে মিশিয়ে স্প্রে করুন। দুপুর রোদে এটি প্রয়োগ করলে পাতাখেকো পোকা ও শোষক পোকা দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আসে।
৬. ফসলের কৃমি ও ছত্রাক রোগ নিয়ন্ত্রণ
- ফসলের শিকড়ে আলপিনের মাথার মতো গুটি হলে বুঝবেন কৃমি জনিত রোগ হয়েছে।
- সমাধান: জমিতে গাঁদা ফুলের চাষ করলে উপকার হয়। এছাড়া বিঘা প্রতি ২৫-৩০ কেজি নিম খৈল ব্যবহার করলে কৃমি দমনের পাশাপাশি মাটিতে নাইট্রোজেন, ফসফরাস ও পটাশিয়ামের জোগান বাড়ে। এটি মাটির ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া ও ছত্রাকও নিয়ন্ত্রণ করে।
৭. রেড়ির খৈল ও উইপোকা দমন
উইপোকা দমনের জন্য বিঘা প্রতি ৪০-৫০ কেজি রেড়ির খৈল ব্যবহার করা হয়। এটি একদিকে যেমন উইপোকা নিয়ন্ত্রণ করে, অন্যদিকে মাটিতে সার হিসেবে কাজ করে।
৮. নিয়মিত জৈব সারের ব্যবহার
মাটির অম্লতা ও ক্ষার ভাব কমাতে এবং মাটির স্বাস্থ্য ফেরাতে নিয়মিত কম্পোস্ট, সবুজ সার, জীবাণু সার, জীবামৃত ও ঘনজীবামৃত (তৈরি পদ্ধতি দেখতে ক্লিক করুন ) ব্যবহার করুন। করঞ্জ পাতা মেশালে মাটির লবণাক্ততাও দূর হয়।
৯. নিম ও অন্যান্য ভেষজ পাতার নির্যাস তৈরি
- নিম ছাড়াও মহানিম, আতা, নিসিন্দা বা করঞ্জ পাতা ব্যবহার করে শক্তিশালী কীটবিতারক তৈরি করা যায়।
- পদ্ধতি: ১৫০ গ্রাম কাঁচা পাতা থেঁতো করে ১ লিটার ঠান্ডা জলে ৪৮ ঘণ্টা ভিজিয়ে রাখুন। এরপর জলটি ছেঁকে নিয়ে তাতে ৫ গ্রাম সাবান মেশান। বিঘা প্রতি স্প্রে করার জন্য সাধারণত ৯ কেজি পাতা এবং ৬০-৮০ লিটার জলের প্রয়োজন হয়।

১০. টাটকা গোবর জলের নির্যাস
ছত্রাক ও ব্যাকটেরিয়া জনিত রোগ (যেমন: ধানের ব্লাইট, বেগুনের ধসা বা পটল-টমেটোর গোড়া পচা) নিয়ন্ত্রণে এটি অপ্রতিদ্বন্দ্বী।
পদ্ধতি: প্রতি লিটার জলে ১৫০ গ্রাম টাটকা গোবর গুলে একবেলা রেখে দিন। উপরের স্বচ্ছ টলটলে নির্যাসটি ছেঁকে নিয়ে বিকেলে স্প্রে করুন। ১০-১২ দিন অন্তর এটি স্প্রে করলে ফলনও বৃদ্ধি পায়।
১১. পুটুস বা ল্যান্টানা ক্যামেরা পাতার নির্যাস
- বেগুন ও টমেটোর সাদা মাছি এবং বাঁধাকপির ‘ডায়মন্ড ব্যাকমথ‘ দমনে এটি দারুণ কাজ করে।
- পদ্ধতি: ১৫০ গ্রাম পাতা থেঁতো করে ২ দিন জলে ভিজিয়ে অথবা হালকা আঁচে ফুটিয়ে নির্যাস তৈরি করুন। ৭-১০ দিন অন্তর বিকেলের দিকে ২-৩ বার স্প্রে করলে কঠিন শোষক পোকাও নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।
১২. কুচিলার নির্যাস ও বোর্দো মিশ্রণ (চুন-তুতের দ্রবণ)
- কুচিলার ব্যবহার: ২৫ গ্রাম শুকনো কুচিলা ভেজে গুঁড়ো করে ১০ লিটার জলে ৪৮ ঘণ্টা ভিজিয়ে স্প্রে করুন। এটি অত্যন্ত তেতো, তাই ব্যবহারের পাত্রটি আলাদা রাখা জরুরি।
- বোর্দো মিশ্রণ: ১০ গ্রাম তুঁতে ও ১০ গ্রাম চুন ১ লিটার জলে মিশিয়ে এটি তৈরি করা হয়। এটি আলু ও ধানের ধসা বা পচা রোগ নির্মূলে সস্তা ও কার্যকরী সমাধান। তবে এটি তৈরির সময় সবসময় প্লাস্টিক বা মাটির পাত্র ব্যবহার করবেন, কোনো ধাতব পাত্র নয়।
১৩. ট্রাইকোডারমা ও সিউডোমোনাস (জীবাণুর দ্রবণ)
- পরিবেশবান্ধব উপায়ে ধান ও অন্যান্য ফসলের রোগ নির্মূলে এই উপকারী জীবাণুগুলি ব্যবহার করা হয়।
- বীজ ও চারা শোধন: প্রতি কেজি বীজে ১০ গ্রাম সিউডোমোনাস বা ৪ গ্রাম ট্রাইকোডারমা মিশিয়ে শোধন করুন। এতে মাটি ও বীজ বাহিত ছত্রাক রোগ নির্মূল হয়।
১৪. বিশেষ জৈব কীটনাশক তৈরির ফর্মুলা (ঘরোয়া টোটকা)
ক. ধুতুরা, করবী ও তামাক পাতার মিশ্রণ
ডগা ও ফল ছিদ্রকারী এবং চোষক পোকা জৈব পদ্ধতিতে পোকা দমন এটি অদ্বিতীয়। ধুতুরা ফল, করবী বীজ ও তামাক পাতা (প্রতিটি ১ কেজি) পিষে নিয়ে ৫ লিটার গোমূত্র ও ২৫০ গ্রাম চুনের সাথে মাটির কলসিতে ৭ দিন মুখ বন্ধ করে মাটিতে পুঁতে রাখুন। ব্যবহারের সময় ১:১০ অনুপাতে জলের সাথে মিশিয়ে স্প্রে করুন।
খ. আদা, রসুন ও লঙ্কার নির্যাস
- লেদা পোকা, শোষক পোকা ও লিফ মাইনার দমনে এটি ম্যাজিকের মতো কাজ করে।
- উপকরণ: ৫০ গ্রাম রসুন (কেরোসিনে ভেজানো), ২৫ গ্রাম কাঁচা লঙ্কা ও ২৫ গ্রাম আদা। এগুলি আলাদাভাবে বেটে ৩ লিটার জলের সাথে মিশিয়ে ব্যবহার করতে হয়।
আড়ও দেখুন রোগ পোকা দমনের যম জৈব কীটনাশক অগ্নিঅস্ত্র তৈরি পদ্ধতি।
গ. গান্ধী পোকা দমনের টোটকা
ধানের গান্ধী পোকা দমনে এক অদ্ভুত কিন্তু কার্যকরী পদ্ধতি হলো—২০-২৫টি গান্ধী পোকা ধরে থেঁতো করে ১ লিটার জলে মিশিয়ে আক্রান্ত জমিতে স্প্রে করলে জৈব পদ্ধতিতে পোকা দমনে ভাল কাজ করে। এটি করলে পোকাগুলি ফসল খাওয়া বন্ধ করে দেয়।
১৫. ভেষজ জৈব কীটনাশক
- উপকরণ: ১ কেজি বেড়া কলমি বা ঢোল কলমি পাতা ও কচি ডগা, ১ কেজি নিম বীজ (৬ মাসের বেশি পুরনো নয়), ৫০০ গ্রাম দোক্তা পাতার ডাঁটা, ২৫০ গ্রাম ভেজানো ঠান্ডা চুন এবং ৫ লিটার গোমূত্র।
- প্রস্তুতি: কলমি ও দোক্তা পাতা মিহি করে পিষে জলে ভিজিয়ে রাখুন। ১০ লিটারের মাটির কলসিতে গোমূত্র ও চুন মিশিয়ে মুখ বন্ধ করে ৭ দিন মাটিতে পুঁতে রাখুন।
- ব্যবহার: ৭ দিন পর মিশ্রণটি ছেঁকে নিয়ে ১০ গুণ জলের সাথে মিশিয়ে বিকেলে স্প্রে করুন। সব রকমের শত্রু পোকা নিয়ন্ত্রণে ভেষজ জৈব কীটনাশক দারুণ কাজ করে।
১৬. আদা ও গোমূত্রের জৈব কীটনাশক:
- উপকরণ: ৫০০ গ্রাম আদার নির্যাস, ১ লিটার গোমূত্র এবং ১০ লিটার জল।
- পদ্ধতি: আদার নির্যাস তৈরি করে গোমূত্র ও জলের সাথে মিশিয়ে নিন। এটি লেদা পোকা, শোষক পোকা ও লিফ মাইনার দমনে অত্যন্ত কার্যকরী। ১০-১২ দিন অন্তর ২-৩ বার এটি স্প্রে করা উচিত।
১৭. নিম, গোমূত্র ও গোবরের নির্যাস:
- উপকরণ: ৫ কেজি নিম পাতা, ২ কেজি টাটকা গোবর এবং ৫ লিটার গোমূত্র।
- প্রস্তুতি: নিম পাতা থেঁতো করে ১০ লিটার জলে মেশান। এতে গোবর ও গোমূত্র মিশিয়ে একটি ১০০ লিটারের ড্রামে ২৪ ঘণ্টা রাখুন। দিনে ৩-৪ বার ঘুলিয়ে দিতে হবে।
- ব্যবহার: ২৪ ঘণ্টা পর নির্যাসটি ছেঁকে নিয়ে ১০০ লিটার জলে মিশিয়ে স্প্রে করুন। এটি মিলি বাগ বা দাই পোকা দমনে অত্যন্ত কার্যকরী।
১৮. তামাক পাতা ও চুনের মিশ্রণ (কীটবিতারক):
জৈব পদ্ধতিতে পোকা দমনে এটি শোষক পোকা ও ডগা ছিদ্রকারী পোকা দমনে ব্যবহার করা হয়। দোক্তা পাতা বা তামাকের গুঁড়ো চুনের সাথে মিশিয়ে যে জৈব দ্রবণ তৈরি হয়, তা পোকা নিয়ন্ত্রণে দীর্ঘমেয়াদী কাজ করে।
১৯. শস্য বৈচিত্র্য ও পরিচর্যাগত নিয়ন্ত্রণ:
এটি মূলত প্রতিরোধের উপায়। পরিচ্ছন্ন চাষ, শস্যাবর্তন, মিশ্র চাষ, এবং বপন সময়ের হেরফের করার মাধ্যমে প্রাকৃতিকভাবেই রোগের প্রকোপ কমানো যায়। এছাড়া রোদ্রে বীজ শোধন এবং নিরোগ বীজের ব্যবহার রাসায়নিক বিষের প্রয়োজনীয়তা কমিয়ে দেয়। সবজি চাষে পোকা দমনের উপায় হিসাবে জৈব কীটনাশক তৈরির পদ্ধতি প্রয়োগ করলে জৈব বৈচিত্র বজায় থাকে ও পরাগায়ন ভাল হওয়ার কারণে ফলন ভাল হয়।
আড়ও দেখুন যেকোনও পোকার প্রতিরোধক কীটনাশক ব্রহ্মাস্ত্র তৈরি পদ্ধতি।
সাধারণ জিজ্ঞাসা (FAQ)
প্রশ্ন ১: জৈব কীটনাশক বা জৈব কীটবিতারক কেন ব্যবহার করা উচিত?
উত্তর: রাসায়নিক বিষ মানুষের শরীর, মাটি এবং পরিবেশের ক্ষতি করে। জৈব কীটনাশক বাড়িতে বিনা খরচে তৈরি করা যায়, এটি বিষমুক্ত খাদ্য উৎপাদনে সাহায্য করে এবং উপকারী বন্ধুদের (যেমন মৌমাছি) ক্ষতি না করে শত্রু পোকাদের ফসল থেকে দূরে রাখে।
প্রশ্ন ২: বাড়িতে সহজে তৈরি করা যায় এমন একটি জৈব কীটনাশক কী?
উত্তর: সবথেকে সহজ উপায় হলো নিম পাতার নির্যাস জৈব পদ্ধতিতে পোকা দমনে কার্যকর। ১৫০ গ্রাম নিম পাতা ১ লিটার জলে ৪৮ ঘণ্টা ভিজিয়ে রেখে সেই জল ছেঁকে স্প্রে করলে অধিকাংশ শোষক ও পাতাখেকো পোকা দমন হয়।
প্রশ্ন ৩: জৈব কীটনাশক কি সব ধরনের পোকা দমনে কার্যকর?
উত্তর: হ্যাঁ, সঠিক উপাদান যেমন ধুতুরা, আদা-রসুন-লঙ্কা বা নিম বীজের নির্যাস সঠিক নিয়মে তৈরি করলে লেদা পোকা, জাব পোকা, সাদা মাছি এবং ফল ছিদ্রকারী পোকা সহ প্রায় সব ধরণের ক্ষতিকারক পোকা নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।
তথ্য সূত্র
- জাতীয় জৈব ও প্রাকৃতিক কৃষি গবেষণা কেন্দ্র গাজিয়াবাদ (NCOF)
- জাতীয় প্রাকৃতিক কৃষি মিশন (NMNF)
- শূন্য খরচ প্রাকৃতিক কৃষি (ZBNF)
- বিধানচন্দ্র কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (BCKV)
- বিবেকানন্দ সান্যাল (লোককল্যাণ পরিষদ)










