ড্রোন দিদি কি? নমো ড্রোন দিদি যোজনা: ৮ লাখ টাকা ভর্তুকি পাবেন কিভাবে জানুন নিয়ম গুলি

নমো ড্রোন দিদি যোজনায় ধান ক্ষেতে ড্রোন উড়িয়ে সার স্প্রে করছেন স্বনির্ভর গোষ্ঠীর প্রশিক্ষিত মহিলারা - স্মার্ট কৃষি প্রযুক্তি পশ্চিমবঙ্গ।
নমো ড্রোন দিদি যোজনায়’ স্মার্ট চাষাবাদে মিলছে ৮ লক্ষ টাকা পর্যন্ত ভর্তুকি। আবেদনের সহজ পদ্ধতি।

১. ভূমিকা: কৃষি প্রযুক্তিতে নারীর ক্ষমতায়ন

Namo Drone didi yojana: নারী স্বনির্ভর গোষ্ঠীকে (SHG) প্রযুক্তিনির্ভর করতে কেন্দ্রীয় সরকার ১২৬১ কোটি টাকা বাজেটে ‘নমো ড্রোন দিদি যোজনা‘ চালু করেছে। ২০২৪-২৫ থেকে ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষের মধ্যে সারা দেশে ১৫,০০০টি ড্রোন দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে, যেখানে National Fertilizers Limited (NFL)-এর মতো লিড ফার্টিলাইজার কোম্পানিগুলো ড্রোন সরবরাহ ও প্রশিক্ষণে প্রধান ভূমিকা পালন করছে।
পশ্চিমবঙ্গে এই প্রকল্পের অধীনে মোট ১,০৯৩টি ড্রোন বরাদ্দ করা হয়েছে, যার মধ্যে ২০২৬ সালের শুরু পর্যন্ত ১৫টি ড্রোন সফলভাবে প্রদান করা হয়েছে। অর্থাৎ, রাজ্যে এখনও ১,০৭৮টি ড্রোন নেওয়ার বিশাল সুযোগ রয়েছে, যার জন্য যোগ্য গোষ্ঠীগুলো ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষ পর্যন্ত আবেদন করতে পারবে। প্রশিক্ষিত দিদিরা ড্রোনের মাধ্যমে ন্যানো ইউরিয়া ও কীটনাশক স্প্রে করে নিজেদের বার্ষিক আয় ১ লক্ষ টাকায় নিয়ে যাওয়ার সুযোগ পাবেন। এই প্রকল্পের মাধ্যমে গ্রামীণ নারীরা এখন আধুনিক কৃষি প্রযুক্তির উদ্যোক্তা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করছেন।

১.১ নমো ড্রোন দিদি যোজনার লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য

নমো ড্রোন দিদি প্রকল্পের উদ্দেশ্যগুলো অত্যন্ত সুদূরপ্রসারী এবং সুনির্দিষ্ট:

  • প্রযুক্তিগত আধুনিকীকরণ: সনাতন পদ্ধতিতে জমিতে সার বা কীটনাশক স্প্রে করতে প্রচুর সময় ও শারীরিক পরিশ্রম লাগে। ড্রোন ব্যবহারের ফলে মাত্র ১০-১৫ মিনিটে এক একর জমিতে নিখুঁতভাবে স্প্রে করা সম্ভব।
  • পরিবেশ ও স্বাস্থ্য সুরক্ষা: হাতে স্প্রে করার সময় কৃষকরা বিষাক্ত রাসায়নিকের সংস্পর্শে আসেন, যা স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। ড্রোন প্রযুক্তিতে দিদিরা নিরাপদ দূরত্ব থেকে এটি পরিচালনা করবেন, যা স্বাস্থ্যঝুঁকি কমাবে।
  • সাশ্রয়ী কৃষি: ড্রোন দিয়ে স্প্রে করলে সার বা কীটনাশকের অপচয় রোধ হয়। এতে চাষির খরচ কমে এবং ফসলের গুণমান ভালো হয়।
  • নারীর আয় বৃদ্ধি: প্রতিটি স্বনির্ভর গোষ্ঠী এই ড্রোনের মাধ্যমে ভাড়ায় পরিষেবা দিয়ে নিজেদের বার্ষিক আয় অন্তত এক লক্ষ টাকায় (Lakhpati Didi Mission) নিয়ে যেতে পারবে।

১.২ লখপতি দিদি মিশনে ড্রোন প্রযুক্তির গুরুত্ব

লখপতি দিদি মিশনের মূল ভিত্তি হলো গ্রামীণ মহিলাদের অর্থনৈতিক স্বাধীনতা। ড্রোন প্রযুক্তি এখানে একটি ‘গেম চেঞ্জার’ হিসেবে কাজ করছে।

  • নতুন ব্যবসার সুযোগ: ড্রোনটি কেবল একটি কৃষি যন্ত্র নয়, এটি একটি ভ্রাম্যমাণ ব্যবসা। গ্রাম পর্যায়ে ড্রোন রেন্টাল সার্ভিস বা ভাড়ায় ড্রোন দেওয়ার মাধ্যমে একটি স্থায়ী আয়ের পথ তৈরি হয়।
  • দক্ষতা উন্নয়ন: একজন ড্রোন দিদি যখন ড্রোন ওড়ানোর লাইসেন্স পাবেন, তখন তার আত্মবিশ্বাস ও দক্ষতা বৃদ্ধি পাবে, যা তাকে সমাজের অন্যান্য নারীদের কাছে রোল মডেলে পরিণত করবে।
  • সমন্বিত কৃষি ব্যবস্থা (IFC): লাখপতি দিদি প্যাকেজে ড্রোনকে একটি গুরুত্বপূর্ণ টুল হিসেবে ব্যবহার করা হবে, যা ইন্টিগ্রেটেড ফার্মিং ক্লাস্টারের (IFC) উৎপাদনশীলতা নিশ্চিত করবে।

আড়ও দেখুন ইন্টিগ্রেটেড ফার্মিং ক্লাস্টার (IFC) গাইডলাইন ২০২৬: লাখপতি দিদি হওয়ার সম্পূর্ণ গাইড

২. প্রকল্পের কাঠামো ও আর্থিক সহায়তা

এই প্রকল্পটি একটি ‘সেন্ট্রাল সেক্টর স্কিম’, যার অর্থ হলো এর সিংহভাগ অর্থায়ন সরাসরি কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে করা হয়। এটি বাস্তবায়িত হচ্ছে কৃষি ও কৃষক কল্যাণ মন্ত্রক এবং গ্রামীণ উন্নয়ন মন্ত্রকের (DAY-NRLM) যৌথ উদ্যোগে।

২.১ কেন্দ্রীয় সরকারের আর্থিক অনুদান (৮০% ভর্তুকি)

নমো ড্রোন দিদি যোজনার সবচেয়ে বড় আকর্ষণ হলো এর বিশাল পরিমাণ সরকারি অনুদান বা সাবসিডি।

  • সর্বোচ্চ অনুদান: কেন্দ্রীয় সরকার ড্রোন এবং এর আনুষঙ্গিক যন্ত্রাংশের মোট দামের ৮০% পর্যন্ত ভর্তুকি প্রদান করবে।
  • আর্থিক সীমা: এই ভর্তুকির সর্বোচ্চ পরিমাণ হবে ৮ লক্ষ টাকা।
  • প্যাকেজ সুবিধা: এই অনুদানের মধ্যে কেবল ড্রোন নয়, বরং ড্রোনের ব্যাটারি, চার্জিং হাব এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় কিট অন্তর্ভুক্ত থাকবে। এটি নিশ্চিত করে যে, স্বনির্ভর গোষ্ঠীর দিদিদের যেন ড্রোন কেনার জন্য বড় কোনো মূলধন একবারে বিনিয়োগ করতে না হয়।

২.২ ঋণের সুবিধা এবং সুদ ভর্তুকি

৮০% ভর্তুকি দেওয়ার পর বাকি ২০% টাকা স্বনির্ভর গোষ্ঠী (SHG) বা ক্লাস্টার লেভেল ফেডারেশনকে (CLF) সংগ্রহ করতে হবে। এক্ষেত্রেও সরকার ঋণের সহজ সুযোগ করে দিয়েছে:

  • AIF লোন সুবিধা: অবশিষ্ট ২০% অর্থের জন্য দিদিরা ‘এগ্রিকালচার ইনফ্রাস্ট্রাকচার ফান্ড’ (AIF) থেকে ঋণ নিতে পারবেন।
  • সুদ ভর্তুকি: এই ঋণের ওপর ৩% সুদ ভর্তুকিতে ৭ বছর পরিশোধের সময় পাওয়া যাবে। ফলে দিদিদের ওপর ঋণের সুদের হার অনেক কম হবে।
  • অন্যান্য উৎস: এছাড়াও গ্রামীণ উন্নয়ন মন্ত্রকের অধীনে থাকা অন্যান্য লোন সুবিধা বা আনন্দধারা প্রকল্পের নিজস্ব তহবিল থেকেও এই মূলধন সংগ্রহ করার সুযোগ রয়েছে।

২.৩ ক্লাস্টার লেভেল ফেডারেশন (CLF)-এর ভূমিকা ও অর্থায়ন

ক্লাস্টার লেভেল ফেডারেশন বা সিএলএফ হলো এই প্রকল্পের আর্থিক মেরুদণ্ড।

  • মালিকানা ও ব্যবস্থাপনা: ড্রোনটির মালিকানা এবং রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব সিএলএফ-এর অধীনে থাকবে। তারা ড্রোনের ভাড়ার হার নির্ধারণ করবে এবং আয়ের একটি অংশ দিদিদের পারিশ্রমিক হিসেবে প্রদান করবে।
  • বিজনেজ হাব: সিএলএফ একটি বিজনেস হাব হিসেবে কাজ করবে, যেখানে ড্রোনের চার্জিং এবং স্টোরেজের ব্যবস্থা থাকবে।
  • অর্থনৈতিক নিশ্চয়তা: CLF নিশ্চিত করবে যে, ড্রোনটির মাধ্যমে যেন নিয়মিত পরিষেবা দেওয়া হয়, যাতে ঋণের কিস্তি সময়মতো শোধ হয় এবং দিদিদের আয় অব্যাহত থাকে।

৩. ড্রোন দিদি হওয়ার যোগ্যতা ও নির্বাচন প্রক্রিয়া

এই প্রকল্পের অধীনে ড্রোন পরিচালনার জন্য কেবল ব্যক্তিগত আগ্রহ নয়, বরং নির্দিষ্ট কিছু প্রাতিষ্ঠানিক ও ব্যক্তিগত যোগ্যতার প্রয়োজন।

৩.১. ক্লাস্টার চিহ্নিতকরণের প্রধান শর্তাবলী

কৃষি ক্ষেত্রে ড্রোনের উপযোগিতা: একটি বড় এলাকা জুড়ে যেখানে প্রধানত এক ধরণের ফসল (Mono Crop) চাষ হয়, সেখানে ড্রোনের ব্যবহার সবচেয়ে বেশি কার্যকর। রাজ্য পর্যায়ের কমিটি বাণিজ্যিক ফসলের আধিক্য রয়েছে এমন এলাকাগুলো চিহ্নিত করবে। ক্লাস্টার নির্বাচনের জন্য প্রস্তাবিত মানদণ্ড গুলি নিচে বিস্তারিত দেওয়া হলো:

  • ক. গ্রাম বা গ্রাম পঞ্চায়েত ক্লাস্টার: ১০ থেকে ১৫টি গ্রাম বা গ্রাম পঞ্চায়েতের সমন্বয়ে একটি ক্লাস্টার গঠিত হবে। উক্ত এলাকায় অন্তত একটি FPOs বা কাস্টম হায়ারিং সেন্টার (CHC) থাকলে তাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।
  • খ. সিএলএফ (CLF)-এর লক্ষ্য ও দৃষ্টিভঙ্গি: নির্বাচিত ক্লাস্টার লেভেল ফেডারেশনকে অবশ্যই তাদের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনায় ‘জীবিকা উন্নয়ন‘-কে অন্যতম প্রধান গুরুত্ব হিসেবে গ্রহণ করতে হবে।
  • গ. সদস্যদের কৃষি নির্ভরতা: সংশ্লিষ্ট সিএলএফ (CLF)-এর অন্তত ৭০% সদস্যকে সরাসরি কৃষি কাজের সাথে যুক্ত থাকতে হবে।
  • ঘ. বাণিজ্যিক ফসলের এলাকা: ক্লাস্টারটিতে ১,০০০ থেকে ১,৫০০ হেক্টর জমি থাকতে হবে যেখানে লঙ্কা, তুলা, ধান, গম, আখ বা ফলমূলের মতো বাণিজ্যিক ফসল চাষ হয়।
  • ঙ. সফল কাস্টম হায়ারিং সেন্টার: যে সকল এলাকায় ইতিমধ্যে কাস্টম হায়ারিং সেন্টারগুলো (CHC) সফলভাবে পরিচালিত হচ্ছে, সেই ক্লাস্টারগুলো ড্রোন পাওয়ার ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার পাবে।
  • চ. এফপিও (FPO) বা উৎপাদক এন্টারপ্রাইজ: যেখানে বড় আকারের কৃষক উৎপাদক সংগঠন (FPO) বা উৎপাদক এন্টারপ্রাইজ (Producer Enterprises) বিদ্যমান, সেই এলাকাগুলো নির্বাচনের যোগ্য।
  • ছ. সেচ সমৃদ্ধ এলাকা: ক্লাস্টারটিতে অন্তত ৪,০০০ একর বা তার বেশি সেচযোগ্য জমি থাকা আবশ্যক।
  • জ. সার ও কীটনাশকের ব্যবহার: যে সকল এলাকায় সার এবং কীটনাশকের ব্যবহার তুলনামূলকভাবে বেশি, সেখানে ড্রোনের মাধ্যমে স্প্রে করার চাহিদা ও উপযোগিতা বেশি থাকবে।

আড়ও দেখুন FPO কি ? FPO গঠন ও কার্যাবলী গাইড: কৃষক উৎপাদক সংস্থা রেজিস্ট্রেশন পদ্ধতি

৩.২ স্বনির্ভর গোষ্ঠী (SHG) নির্বাচনের মানদণ্ড

নমো ড্রোন দিদি যোজনা গাইডলাইন অনুযায়ী, সব গোষ্ঠী ড্রোন পাওয়ার যোগ্য নয়। ড্রোন প্রদানের জন্য নিম্নলিখিত বিষয়গুলো দেখা হয়:

  • সক্রিয় গোষ্ঠী: গোষ্ঠীটিকে অবশ্যই DAY-NRLM-এর অধীনে সক্রিয় হতে হবে এবং তাদের ট্র্যাক রেকর্ড ভালো থাকতে হবে।
  • এলাকার চাহিদা: এমন এলাকায় গোষ্ঠীকে নির্বাচন করতে হবে যেখানে ড্রোন পরিষেবার চাহিদা রয়েছে (যেমন—যেখানে তরল সার বা কীটনাশক স্প্রে করার সুযোগ বেশি)।
  • ব্যবস্থাপনা ক্ষমতা: গোষ্ঠীর বা ক্লাস্টার লেভেল ফেডারেশনের (CLF) ড্রোন রক্ষণাবেক্ষণ এবং ব্যবসায়িক হিসাব রাখার মতো পরিকাঠামো ও মানসিকতা থাকতে হবে।

৩.৩ ড্রোন পাইলট এবং সহকারী নির্বাচনের প্রয়োজনীয় যোগ্যতা

প্রতিটি নির্বাচিত গোষ্ঠী থেকে একজন সদস্যকে ‘ড্রোন পাইলট‘ এবং অন্য একজনকে ‘সহকারী’ হিসেবে বেছে নেওয়া হবে।

৩.৩.১ বয়স এবং শিক্ষাগত যোগ্যতার মাপকাঠি

নমো ড্রোন দিদি যোজনা গাইডলাইন অনুযায়ী ড্রোন পাইলট হওয়ার জন্য নির্দিষ্ট শর্তাবলী হলো:

  • শিক্ষাগত যোগ্যতা: ড্রোন পাইলটকে অবশ্যই কমপক্ষে দশম শ্রেণী উত্তীর্ণ হতে হবে। এটি একটি বাধ্যতামূলক শর্ত কারণ তাকে কারিগরি প্রশিক্ষণ নিতে হবে।
  • বয়স: আবেদনকারীর বয়স অবশ্যই ১৮ বছর বা তার বেশি হতে হবে।
  • শারীরিক সক্ষমতা: পাইলটকে শারীরিকভাবে সুস্থ হতে হবে যাতে তিনি মাঠে দাঁড়িয়ে ড্রোন পরিচালনা করতে পারেন।
  • পছন্দাধিকার: যাদের স্মার্টফোন ব্যবহারের অভিজ্ঞতা আছে বা যারা আগে থেকেই কৃষি কাজের সাথে যুক্ত, তাদের নির্বাচনে অগ্রাধিকার দেওয়া যেতে পারে।

৩.৩ নির্বাচন পদ্ধতি

নমো ড্রোন দিদি যোজনা গাইডলাইন অনুসারে, রাজ্য গ্রামীণ জীবিকা মিশন (SRLM) বা পশ্চিমবঙ্গের ক্ষেত্রে আনন্দধারা (WBSRLM) এবং সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলো মাঠ পর্যায়ে যাচাইয়ের মাধ্যমে যোগ্য দিদিদের তালিকা তৈরি করবে। পাইলট এবং সহকারী উভয়কেই প্রশিক্ষণের জন্য পাঠানোর আগে তাদের সম্মতিপত্র গ্রহণ করা হবে।

৪. প্রশিক্ষণ এবং কারিগরি সক্ষমতা বৃদ্ধি

নির্বাচিত ড্রোন পাইলট এবং সহকারীদের জন্য সরকার মানসম্মত প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করেছে। এই প্রশিক্ষণের মূল উদ্দেশ্য হলো গ্রামীণ মহিলাদের আত্মবিশ্বাসের সাথে আকাশ থেকে কৃষি পরিষেবা প্রদানে দক্ষ করে তোলা।

৪.১ ড্রোন পাইলট প্রশিক্ষণ কোর্স এবং লাইসেন্সিং

প্রতিটি নির্বাচিত স্বনির্ভর গোষ্ঠী থেকে মনোনীত ‘ড্রোন দিদি‘ বা পাইলটকে একটি বাধ্যতামূলক আবাসিক প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণ করতে হবে:

  • প্রশিক্ষণের সময়সীমা: এটি সাধারণত একটি ১৫ দিনের (১৫ days) নিবিড় প্রশিক্ষণ কোর্স। এর মধ্যে ৫ দিনের বাধ্যতামূলক ড্রোন পাইলট ট্রেনিং এবং ১০ দিনের অতিরিক্ত কৃষি-সংক্রান্ত ড্রোন ব্যবহারের প্রশিক্ষণ অন্তর্ভুক্ত।
  • লাইসেন্স প্রদান: প্রশিক্ষণ শেষে সফল দিদিদের অফিসিয়াল রিমোট পাইলট লাইসেন্স প্রদান করা হয়, যা ডিরেক্টরেট জেনারেল অফ সিভিল এভিয়েশন (DGCA) দ্বারা স্বীকৃত।
  • প্রশিক্ষণ কেন্দ্র: এই প্রশিক্ষণগুলো সরকার অনুমোদিত রিমোট পাইলট ট্রেনিং অর্গানাইজেশন (RPTO) বা সংশ্লিষ্ট ড্রোন সরবরাহকারী সংস্থার মাধ্যমে প্রদান করা হয়।

৪.২ ড্রোন রক্ষণাবেক্ষণ এবং যান্ত্রিক ত্রুটি সংশোধন

ড্রোন দিদিদের কেবল ওড়ানোই নয়, বরং যন্ত্রটির প্রাথমিক রক্ষণাবেক্ষণও শেখানো হয়:

  • ব্যাটারি ম্যানেজমেন্ট: ড্রোনের ব্যাটারি চার্জ দেওয়া, স্টোরেজ এবং সঠিক ব্যবহারের নিয়ম।
  • পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা: ডাস্ট এবং কেমিক্যাল থেকে ড্রোনকে সুরক্ষিত রাখার পদ্ধতি।
  • সহকারীর ভূমিকা: সহকারী বা ‘হেল্পার’ দিদিকে ড্রোনের ব্যাটারি পরিবর্তন, ল্যান্ডিং প্যাড প্রস্তুত করা এবং স্প্রে করার জন্য কেমিক্যাল মিশ্রণ তৈরিতে দক্ষ করে তোলা হয়।

৪.৩ কৃষি কাজে ড্রোনের ব্যবহার – সার ও কীটনাশক স্প্রে

ড্রোন দিদি প্রকল্পে প্রশিক্ষণের একটি বড় অংশ জুড়ে থাকে মাঠ পর্যায়ে ড্রোনের প্রয়োগ:

  • নিখুঁত স্প্রে পদ্ধতি: কোন উচ্চতায় ড্রোন ওড়াতে হবে এবং কীভাবে স্প্রে করলে পুরো জমিতে সমানভাবে সার বা কীটনাশক পৌঁছাবে।
  • নিরাপদ দূরত্ব: কেমিক্যাল ব্যবহারের সময় ব্যক্তিগত সুরক্ষা এবং নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখা।
  • সাশ্রয়ী ব্যবহার: ড্রোনের মাধ্যমে ন্যানো ইউরিয়া বা অন্যান্য তরল সারের সঠিক ঘনত্ব নিশ্চিত করা যাতে অপচয় না হয়।

৫. ব্যবসায়িক মডেল এবং আয় বৃদ্ধি

নমো ড্রোন দিদি প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য হলো গ্রামীণ এলাকায় ড্রোন পরিষেবাকে একটি লাভজনক ব্যবসায়িক মডেলে রূপান্তর করা। এর ফলে একদিকে যেমন কৃষকরা আধুনিক সুবিধা পাবেন, অন্যদিকে স্বনির্ভর গোষ্ঠীর দিদিদের অর্থনৈতিক ভিত্তি মজবুত হবে।

৫.১ ড্রোন রেন্টাল সার্ভিস ও আয়ের নতুন উৎস

নমো ড্রোন দিদি যোজনা গাইডলাইন অনুযায়ী, নির্বাচিত স্বনির্ভর গোষ্ঠী বা সিএলএফ (CLF) কৃষকদের জন্য ভাড়ায় ড্রোন পরিষেবা (Rental Services) প্রদান করবে।

  • পরিষেবার ধরন: মূলত তরল সার (Nano Urea/DAP) এবং কীটনাশক স্প্রে করার জন্য এই পরিষেবা দেওয়া হবে।
  • আয়ের উৎস: কৃষকদের কাছ থেকে প্রতি একর জমিতে স্প্রে করার জন্য একটি নির্দিষ্ট সার্ভিস চার্জ বা ভাড়া নেওয়া হবে।
  • সময় সাশ্রয় ও মুনাফা: প্রথাগত স্প্রে-র তুলনায় ড্রোনে খরচ কম এবং কার্যকারিতা বেশি হওয়ায় কৃষকরা এই পরিষেবা নিতে আগ্রহী হবেন, যা দিদিদের নিয়মিত আয় নিশ্চিত করবে।

৫.২ সিএলএফ (CLF)-কে বিজনেজ হাব হিসেবে ব্যবহার

ক্লাস্টার লেভেল ফেডারেশন বা সিএলএফ এই প্রকল্পের ব্যবসায়িক কেন্দ্র হিসেবে কাজ করবে।

  • সমন্বয়কারী ভূমিকা: সিএলএফ নির্ধারণ করবে কোন এলাকায় কতটুকু চাহিদা আছে এবং সেই অনুযায়ী ড্রোন দিদিদের কাজ বণ্টন করবে।
  • রক্ষণাবেক্ষণ তহবিল: আয়ের একটি অংশ ড্রোনের ব্যাটারি পরিবর্তন, মেরামত এবং বিমার (Insurance) জন্য আলাদা করে রাখা হবে।
  • বিপণন ও ব্র্যান্ডিং: স্থানীয় হাট বা কৃষি মেলায় ড্রোনের কার্যকারিতা প্রদর্শন করে সিএলএফ নতুন নতুন ক্লায়েন্ট বা কৃষক সংগ্রহ করবে।

৫.৩ কৃষকদের সাথে সমন্বয় ও ড্রোন বুকিং প্রক্রিয়া

সফল ব্যবসার জন্য কৃষকদের সাথে সুসম্পর্ক ও সহজ যোগাযোগ ব্যবস্থা প্রয়োজন:

  • সহজ বুকিং: কৃষকরা যাতে সহজেই ড্রোন বুক করতে পারেন, তার জন্য স্থানীয় পর্যায়ে প্রচার চালানো হবে।
  • পরিষেবার মান: দিদিরা নিশ্চিত করবেন যে প্রতিটি জমিতে যেন সমানভাবে এবং সঠিক পরিমাণে স্প্রে করা হয়।
  • সচেতনতা বৃদ্ধি: ড্রোনের মাধ্যমে স্প্রে করলে কেন সারের অপচয় কম হয় এবং কেন এটি স্বাস্থ্যসম্মত, তা কৃষকদের বোঝানো হবে।

৬. বাস্তবায়ন এবং মনিটরিং

প্রকল্পের প্রতিটি ড্রোন যেন কার্যকর থাকে এবং দিদিরা যেন কাজ পান, তা নিশ্চিত করা ব্লক ও জেলা পর্যায়ের অফিস কর্মীদের প্রধান দায়িত্ব।

৬.১ ড্রোন ক্রয়ের গাইডলাইন ও ভেন্ডর সিলেকশন

নমো ড্রোন দিদি যোজনা গাইডলাইন অনুযায়ী, ড্রোন ক্রয়ের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা বজায় রাখা বাধ্যতামূলক:

  • অনুমোদিত ভেন্ডর: ড্রোনগুলো অবশ্যই সরকার অনুমোদিত এবং DGCA সার্টিফাইড ভেন্ডরদের কাছ থেকে ক্রয় করতে হবে।
  • সার্ভিস গ্যারান্টি: ড্রোন সরবরাহকারী সংস্থাকে ড্রোনের সাথে প্রয়োজনীয় ব্যাটারি, চার্জার এবং ন্যূনতম সময়ের জন্য মেইনটেন্যান্স গ্যারান্টি প্রদান করতে হবে।
  • ইনস্টলেশন ও সাপোর্ট: ড্রোন দিদিরা যেন তাদের এলাকায় ড্রোনটি সঠিকভাবে সেট-আপ করতে পারেন, সে বিষয়ে ভেন্ডররা প্রযুক্তিগত সহায়তা প্রদান করবে।

৬.২ নিয়মিত রিপোর্ট তৈরি এবং ডাটা ম্যানেজমেন্ট

নমো ড্রোন দিদি প্রকল্পের অগ্রগতি বোঝার জন্য ডিজিটাল ডাটা এন্ট্রি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ:

  • পরিষেবার হিসাব: প্রতিদিন কত একর জমিতে ড্রোন ব্যবহার করা হলো এবং কতজন কৃষক উপকৃত হলেন, তার রেকর্ড রাখতে হবে।
  • আয়ের হিসাব: ড্রোন রেন্টাল থেকে কত আয় হলো এবং তার কত অংশ মেরামত তহবিলে জমা পড়ল, তার বিস্তারিত রিপোর্ট সিএলএফ (CLF) প্রদান করবে।
  • পোর্টাল এন্ট্রি: ড্যাশবোর্ডে নিয়মিত প্রকল্পের ডাটা আপডেট করতে হবে যাতে উচ্চপদস্থ আধিকারিকরা সঠিক চিত্র দেখতে পান।

৬.৩ ড্রোন দিদিদের নিরাপত্তা ও বিমা (Insurance)

উচ্চমূল্যের এই যন্ত্রটির সুরক্ষায় গাইডলাইনে বিমার কথা স্পষ্টভাবে উল্লেখ আছে:

  • ড্রোন বিমা: প্রতিটি ড্রোনের জন্য থার্ড-পার্টি ইন্স্যুরেন্স বা বিমা করা বাধ্যতামূলক, যাতে দুর্ঘটনা বা ক্ষতির সময় আর্থিক সুরক্ষা পাওয়া যায়।
  • পাইলটের নিরাপত্তা: ড্রোন দিদিদের ব্যক্তিগত সুরক্ষা এবং ড্রোন পরিচালনার সময় মাঠ পর্যায়ে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

৭. চ্যালেন্জ ও সমাধানের উপায়

মাঠ পর্যায়ে কাজ করতে গেলে কিছু সমস্যা আসতে পারে, যার সমাধানও গাইডলাইনে নির্দেশিত আছে:

  • যান্ত্রিক ত্রুটি: ছোটখাটো ত্রুটি দিদিরা নিজেরাই সারাবেন, বড় সমস্যার জন্য ভেন্ডরের সার্ভিস সেন্টারের সাথে যোগাযোগ করতে হবে।
  • আবহাওয়া সচেতনতা: বৃষ্টি বা ঝড়ো বাতাসের সময় ড্রোন ওড়ানো নিষিদ্ধ। আবহাওয়া বুঝে কাজ করার প্রশিক্ষণ দিদিদের দেওয়া হবে।

৮. নমো ড্রোন দিদি আবেদন পদ্ধতি

নমো ড্রোন দিদি প্রকল্পের সুবিধা পাওয়ার জন্য আবেদন প্রক্রিয়াটি মূলত স্বনির্ভর গোষ্ঠীর (SHG) মাধ্যমে সম্পন্ন হয়। যেহেতু এটি একটি বিশেষ প্রযুক্তিগত প্রকল্প, তাই এর আবেদন সরাসরি ব্যক্তিগতভাবে না হয়ে প্রাতিষ্ঠানিক স্তরে সম্পন্ন করতে হয়। নিচে ধাপ অনুযায়ী আবেদন পদ্ধতি দেওয়া হলো:

৮.১. প্রাথমিক প্রস্তুতি ও গোষ্ঠী নির্বাচন

আবেদনের আগে নিশ্চিত করতে হবে যে আপনার স্বনির্ভর গোষ্ঠীটি আনন্দধারা (WBSRLM) বা সংশ্লিষ্ট রাজ্য গ্রামীণ জীবিকা মিশনের অধীনে সক্রিয়। গোষ্ঠীর অন্তত ১০-১৫টি গ্রামের একটি ক্লাস্টারের অংশ হওয়া প্রয়োজন যেখানে ড্রোনের চাহিদা রয়েছে।

৮.২. অনলাইন ও অফলাইন আবেদন প্রক্রিয়া

  • বিডিও (BDO) বা মিশন শক্তি অফিস: প্রথম ধাপে আপনার স্বনির্ভর গোষ্ঠীর প্যাডে একটি আবেদনপত্র লিখে ব্লক ডেভেলপমেন্ট অফিস (BDO) বা ব্লক স্তরের আনন্দধারা অফিসে জমা দিতে হবে। সেখানে আপনার গোষ্ঠীর গ্রেডিং এবং পূর্বের কাজের রেকর্ড যাচাই করা হবে।
  • অফিসিয়াল পোর্টাল: বর্তমানে কেন্দ্র ও রাজ্য সরকার ড্রোন দিদিদের ডেটাবেস তৈরির জন্য নির্দিষ্ট পোর্টাল ব্যবহার করে। প্রশিক্ষক বা অফিস কর্মীরা লখপতি দিদি পোর্টালে গোষ্ঠীর প্রোফাইল আপডেট করার সময় ড্রোন পরিষেবার আগ্রহ প্রকাশ করবেন।
  • সিএলএফ (CLF)-এর মাধ্যমে আবেদন: ক্লাস্টার লেভেল ফেডারেশনকে অবশ্যই প্রস্তাব দিতে হবে যে তারা ড্রোনটি রক্ষণাবেক্ষণ এবং ব্যবসায়িক কাজে ব্যবহার করতে সক্ষম।

৮.৩. প্রয়োজনীয় নথিপত্র

আবেদনের সময় নিম্নলিখিত নথিগুলো প্রস্তুত রাখতে হবে:

  • স্বনির্ভর গোষ্ঠীর রেজিস্ট্রেশন সার্টিফিকেট।
  • মনোনীত ড্রোন পাইলটের শিক্ষাগত যোগ্যতার প্রমাণপত্র (ন্যূনতম ১০ম শ্রেণী পাস)।
  • আবেদনকারীর আধার কার্ড এবং মোবাইল নম্বর (যা আধার কার্ডের সাথে লিঙ্ক করা)।
  • ব্যাংক পাসবুকের ফটোকপি এবং গোষ্ঠীর রেজোলিউশন কপি।

৯. উপসংহার

নমো ড্রোন দিদি যোজনা কেবল একটি প্রকল্প নয়, এটি গ্রামীণ ভারতের নারীদের আত্মমর্যাদার প্রতীক। ড্রোনের প্রতিটি ওড়া দিদিদের লখপতি হওয়ার লক্ষ্যের দিকে এক ধাপ এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। ডিজিটাল প্রযুক্তি ও কৃষি সমন্বয়ের এই মডেল আগামীর ভারতকে আরও শক্তিশালী করবে।

প্রায়ই জিজ্ঞাসিত প্রশ্নোত্তর (FAQ)

১. নমো ড্রোন দিদি কি?

উত্তর: এটি ভারত সরকারের একটি বিশেষ প্রকল্প যার মাধ্যমে নারী স্বনির্ভর গোষ্ঠীর (SHG) সদস্যদের আধুনিক ড্রোন চালনার প্রশিক্ষণ দেওয়া হয় এবং কৃষিকাজে ব্যবহারের জন্য ড্রোন প্রদান করা হয়। এর মূল লক্ষ্য হলো গ্রামীণ মহিলাদের ‘টেক-উদ্যোক্তা’ হিসেবে গড়ে তোলা এবং তাদের আয় বৃদ্ধি করা।

২. নমো ড্রোন দিদি যোজনায় ভর্তুকি কত দেয়?

উত্তর: ড্রোন দিদি প্রকল্পে ড্রোনের মূল্যের ওপর ৮০% পর্যন্ত ভর্তুকি বা সর্বোচ্চ ৮ লক্ষ টাকা পর্যন্ত আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়। বাকি ২০% টাকা স্বনির্ভর গোষ্ঠী নিজস্ব তহবিল বা স্বল্প সুদে ব্যাংক ঋণের মাধ্যমে পরিশোধ করতে পারে।

৩. ড্রোন দিয়ে এক চার্জে কত বিঘা স্প্রে করা যায়?

উত্তর: ড্রোনের ব্যাটারির ক্ষমতা অনুযায়ী এক চার্জে সাধারণত ২০-২৫ মিনিট ওড়া যায়। এই সময়ে প্রায় ৬ থেকে ৯ বিঘা (১.৫ থেকে ২ একর) জমিতে স্প্রে করা সম্ভব। তবে বাতাসের গতিবেগ এবং দিদিদের দক্ষতার ওপর এটি কিছুটা কম-বেশি হতে পারে।

৪. ড্রোন দিয়ে কত লিটার স্প্রে করা যায়?

উত্তর: কৃষি কাজে ব্যবহৃত ড্রোনগুলোতে সাধারণত ১০ লিটার ধারণক্ষমতার ট্যাঙ্ক থাকে। এক একর জমিতে স্প্রে করার জন্য এই ১০ লিটার জল ও সারের মিশ্রণই যথেষ্ট।

৫. ড্রোন দিয়ে কি সার স্প্রে করা যায়?

উত্তর: হ্যাঁ, ড্রোন দিয়ে মূলত তরল সার (যেমন- ন্যানো ইউরিয়া, ন্যানো ডিএপি) এবং তরল কীটনাশক বা ছত্রাকনাশক স্প্রে করা হয়। এটি সরাসরি পাতার ওপর সূক্ষ্মভাবে পড়ে বলে সারের অপচয় কম হয় এবং ফলন বৃদ্ধি পায়।

৬. নমো ড্রোন দিদি স্কিম সুবিধা নিতে কোথায় যোগাযোগ করতে হবে?

উত্তর: এই সুবিধা পেতে আপনার নিকটস্থ বিডিও (BDO) অফিস, ব্লক পর্যায়ের আনন্দধারা (WBSRLM) অফিস অথবা কৃষি দপ্তরে যোগাযোগ করতে হবে। এছাড়া আপনার ক্লাস্টার লেভেল ফেডারেশন (CLF)-এর মাধ্যমেও আবেদন প্রক্রিয়া শুরু করা যায়।

৭. নমো ড্রোন দিদি পাইলটের বেতন কত?

উত্তর: এটি কোনো নির্দিষ্ট মাইনের চাকরি নয়, বরং একটি আয়ের সুযোগ। ড্রোন দিদিরা প্রতি একর জমিতে স্প্রে করার বিনিময়ে কৃষকদের কাছ থেকে একটি নির্দিষ্ট সার্ভিস চার্জ পান। সাধারণত দক্ষ একজন ড্রোন দিদি মাসে ১০,০০০ থেকে ১৫,০০০ টাকা বা তার বেশি আয় করতে পারেন।

৮. ড্রোন দিয়ে এক বিঘা স্প্রে করতে কত সময় লাগে?

উত্তর: একটি এগ্রিকালচারাল ড্রোন দিয়ে এক বিঘা জমিতে স্প্রে করতে মাত্র ২ থেকে ৫ মিনিট সময় লাগে। যেখানে হাতে স্প্রে করতে প্রায় ৪০-৫০ মিনিট সময় লাগত, সেখানে ড্রোন ব্যবহারের ফলে কৃষকের অনেক সময় বাঁচে।

৯. ড্রোন পাইলট হওয়ার জন্য কি নিজেস্ব জমি ও কোনো লাইসেন্স লাগে?

উত্তর: না জমি থাকা বাধ্যতা মূলক নয়। হ্যাঁ, ড্রোন ওড়ানোর জন্য DGCA অনুমোদিত সংস্থা থেকে রিমোট পাইলট সার্টিফিকেট (RPC) বা লাইসেন্স প্রয়োজন। নমো ড্রোন দিদি যোজনার আওতায় নির্বাচিত দিদিদের সরকারি খরচেই এই লাইসেন্স এবং ১৫ দিনের বিশেষ প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়।

১০. বৃষ্টির দিনে কি ড্রোন দিয়ে স্প্রে করা যায়?

উত্তর: না, বৃষ্টির সময় বা অত্যধিক জোরে বাতাস বইলে ড্রোন ওড়ানো নিরাপদ নয়। এছাড়া বৃষ্টির সময় স্প্রে করলে সারের কার্যকারিতাও কমে যায়। সবসময় পরিষ্কার আবহাওয়ায় স্প্রে করার পরামর্শ দেওয়া হয়।

তথ্য সূত্র

Spread the love

Leave a Comment

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Scroll to Top