প্রাকৃতিক কৃষি হলো প্রকৃতির নিজস্ব নিয়মের সাথে সামঞ্জস্য রেখে চাষবাস করার একটি টেকসই ও পরিবেশবান্ধব পদ্ধতি। এটি মূলত রাসায়নিক মুক্ত চাষ ও বিষাক্ত কীটনাশকমুক্ত এমন একটি কৃষি ব্যবস্থা, যা স্থানীয় ঐতিহ্যবাহী জ্ঞান এবং মাটির স্বাভাবিক জীববৈচিত্র্যের ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে। প্রাকৃতিক কৃষির নিয়মাবলী অনুযায়ী চাষ করলে চাষের উৎপাদন খরচ অনেকাংশে কমে যায় এবং মাটির স্বাস্থ্য ও জৈব রাসায়নিক ভারসাম্য দীর্ঘমেয়াদে পুনরুজ্জীবিত হয়। শুন্য খরচে আয় দ্বিগুণ করতে হলে প্রাকৃতিক কৃষির মূল নীতি গুলি জানা আবশ্যক। কৃষক ভাইদের জন্য কম খরচে নিরাপদ, পুষ্টিকর ফসল উৎপাদন এবং জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলার অন্যতম সেরা সমাধান হলো প্রাকৃতিক কৃষি।
এক নজরে: প্রাকৃতিক কৃষির ৯টি মূল নীতি ও ১০টি কৌশল
প্রাকৃতিক কৃষির মূল দর্শনটি বোঝার জন্য প্রাকৃতিক কৃষির মূল নীতি ও কৌশলগুলোর সংক্ষেপ তালিকা নিচে টেবিলে তুলে ধরা হলো:
| প্রাকৃতিক কৃষির ৯ টি মুল নীতি | ১০ টি বৈজ্ঞানিক কৌশল |
|---|---|
| মাটিতে জৈব পদার্থের পরিমাণ বৃদ্ধি | মাটিতে জৈব পদার্থের সমৃদ্ধকরণ |
| মাটিতে ন্যূনতম চাষ/হস্তক্ষেপ | বৈচিত্র্যময় ক্ষেতের সীমানা ও বর্ডার ক্রপ |
| বৈচিত্র্যময় ফসল চাষ পদ্ধতি | নূন্যতম জমি চাষ |
| সারা বছর মাটিকে ঢেকে রাখা | বৃষ্টির জল সংরক্ষন |
| পশুপালন অন্তর্ভুক্তি | পশুপালনের মেলবন্ধন |
| প্রাকৃতিক উপায়ে কীট ও রোগ ব্যাবস্থাপনা | কভার ও ডাল জাতীয় ফসল চাষ |
| কৃত্রিম ও রসায়নিক ইনপুট বর্জন | বহুমাতৃক ফসল চাষ |
| খামারে তৈরি জৈব উপাদানের ব্যবহার | এগ্রো ফরেস্ট্রি |
| স্থানীয় ও দেশিবীজ এর ব্যবহার | উপকারী পোকার আবাসস্থল তৈরি ও সতেজ মাটি। |
আরও দেখুন প্রাকৃতিক কৃষি কি ও প্রাকৃতিক কৃষি সুবিধা গুলি কি?
১. মাটিতে জৈব পদার্থের পরিমাণ বৃদ্ধি
প্রাকৃতিক কৃষির মূল নীতি অনুযায়ী মাটির স্বাস্থ্য ও উর্বরতা দীর্ঘস্থায়ী রাখতে মাটিতে পর্যাপ্ত জৈব পদার্থ (Organic Matter) থাকা অত্যন্ত জরুরি। মাটি মূলত জীবিত অনুজীব, কেঁচো এবং উদ্ভিদের পচা অংশের একটি জীবন্ত মিশ্রণ। জৈব পদার্থ মাটিতে মাটির দানাদার গঠন তৈরি করতে এবং পুষ্টিচক্র সক্রিয় রাখতে প্রধান ভূমিকা পালন করে।
১.১. মাটিতে জৈব পদার্থ বাড়ানোর সুবিধা:
- ১. প্রয়োজনীয় পুষ্টির পুনরাবৃত্তি : জৈব পদার্থ মাটিতে ধীরগতিতে নাইট্রোজেন, ফসফরাস, পটাসিয়াম এবং প্রয়োজনীয় অণুপুষ্টি (দস্তা, লোহা ইত্যাদি) সরবরাহ করে, যা উদ্ভিদের সুষম বৃদ্ধিতে সাহায্য করে।
- ২. অণুজীবের কর্মক্ষমতা বৃদ্ধি : ব্যাকটেরিয়ার মতো উপকারী অণুজীব জৈব পদার্থকে ভেঙে পুষ্টিকণা মুক্ত করে। কৃষ্ণমৃত্তিকা অঞ্চলে সুতি গাছের অবশিষ্টাংশ বা ডালজাতীয় ফসলের অবশিষ্টাংশ যোগ করলে কেঁচো ও অনুজীবের সংখ্যা দ্রুত বাড়ে।
- ৩. মাটির গঠন ও জলধারণ ক্ষমতা বৃদ্ধি: বেলে মাটিতে কম্পোস্ট বা জৈব সার যোগ করলে মাটির কণাগুলো বাঁধুন পায়। এতে মাটির জল ধরে রাখার ক্ষমতা বাড়ে এবং খরাপ্রবণ এলাকায় সেচের প্রয়োজন কম হয়।
- ৪. ফসলের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানো: জৈব পদার্থ সমৃদ্ধ মাটিতে স্ট্র্যাপ ক্রপ, ট্র্যাপ ক্রপ ও বর্ডার ক্রপিং করলে গাছের নাইট্রোজেন সংবন্ধন বাড়ে এবং পুষ্টির অভাবে হওয়া বিভিন্ন রোগ প্রতিরোধ হয়।
- ৫. পরিবেশবান্ধব ও টেকসই মাটির উর্বরতা: রাসায়নিক সারের নির্ভরতা কমায় এবং মাটিতে কার্বন সঞ্চয় করে পরিবেশের ভারসাম্য ও জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিকর প্রভাব রোধ করে।
১.২ মাটির স্বাস্থ্য ও জৈব অনুজীব বৃদ্ধি
প্রাকৃতিক কৃষি ব্যবস্থাপনাতে মাটিকে শুধু নিষ্ক্রিয় পুষ্টির আধার ভাবলে চলবে না; মাটি হলো এক বিলিয়ন জীবন্ত অনুজীব ও কেঁচোর সক্রিয় বাসস্থান। তাই মাটিতে জৈব পদার্থের সাথে সাথে অনুজীবের সংখ্যা বৃদ্ধি করা প্রাকৃতিক কৃষি নিয়মাবলীর অত্যন্ত জরুরি একটি দিক।
- ১. অন-ফার্ম বায়ো-ইনপুটস ও অনুজীবের ভূমিকা: অনুজীবের সক্রিয়তা বাড়ানো: খামারে তৈরি জীবামৃত ও ঘন-জীবামৃত মাটিতে প্রয়োগ করলে কোটি কোটি উপকারী ব্যাকটেরিয়া ও ছত্রাক সক্রিয় হয়ে ওঠে। এগুলো মাটির সুপ্ত পুষ্টিকে দ্রবীভূত করে গাছের গ্রহণযোগ্য করে তোলে।
- ২. বীজ শোধন ও সুষম চারা গঠন: বীজামৃত দিয়ে বীজ শোধন করলে বীজের মাধ্যমে রোগ ছড়ানোর ঝুঁকি কমে এবং শিকড় দ্রুত ও শক্তিশালী হয়ে বাড়ে।
- ৩. মাটিতে বায়ু চলাচল ও আর্দ্রতা (whapsa / ওয়াফসা): মাটিতে জল ও বাতাসের সঠিক ভারসাম্য অর্থাৎ ওয়াফসা (whapsa) অবস্থা তৈরি হলে গাছের শিকড় সহজে পুষ্টি গ্রহণ করতে পারে এবং ক্ষতিকর ছত্রাক আক্রমণ করতে পারে না।
২. মাটিতে ন্যূনতম হস্তক্ষেপ বা চাষ করা
প্রাকৃতিক কৃষির অন্যতম প্রধান নীতি হলো মাটিতে অযথা লাঙল না দেওয়া বা অতিরিক্ত চাষ না করা। অতিরিক্ত জমি চষলে মাটির প্রাকৃতিক গঠন নষ্ট হয়, মাটির আর্দ্রতা উবে যায় এবং মাটিতে থাকা উপকারী অণুজীব ও কেঁচোর বাসস্থান ধ্বংস হয়।
২.১. কম চাষ করার সুবিধা:
- ১. মাটির স্বাস্থ্য ও উর্বরতা সুরক্ষা : মাটির গঠন বজায় রাখা: কম চাষ করলে অনুজীব ও কেঁচোর তৈরি ছোট ছোট নালা বা পথগুলো অক্ষুণ্ণ থাকে, যা জল শোষণ ও শিকড়ের স্বাভাবিক বৃদ্ধিতে সাহায্য করে।
- ২. জৈব পদার্থ সংরক্ষণ: ধান বা ভুট্টা কাটার পর উদ্ভিদের অবশিষ্টাংশ মাটির ওপরেই রেখে দিলে তা ধীরে ধীরে পচে মাটিতে জৈব অনুজীবের খাদ্য জোগায়।
- ৩. মাটি ক্ষয় রোধ: বাতাসে বা বৃষ্টির জলে মাটির উপরের উর্বর স্তর ধুয়ে বা উড়ে যাওয়া থেকে রক্ষা পায়।
- ৪. খরচ ও সময় বাঁচানো : জ্বালানি ও শ্রমের খরচ কম: বারবার ট্রাক্টর বা লাঙল দেওয়ার প্রয়োজন না থাকায় ডিজেল, যন্ত্র ও শ্রমিকের খরচ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে।
- ৫. কম রাসায়নিকের প্রয়োজন: সুস্থ মাটিতে প্রাকৃতিকভাবেই ক্ষতিকর পোকা দমিত হয়, ফলে কীটনাশকের খরচও কমে।
- ৬. জলবায়ু পরিবর্তন সহনশীলতা
- ক. জল ধরে রাখার ক্ষমতা: মাটিতে রস দীর্ঘদিন আটকে থাকে, ফলে খরা বা তীব্র দাবদাহের সময়ও গাছ শুকিয়ে যায় না।
- খ. কার্বন সঞ্চয় : মাটি চষা না হলে মাটির ভেতরের কার্বন বাতাসে বিষাক্ত গ্যাস হিসেবে না মিশে মাটিতেই জমা থাকে।
২.২. ন্যূনতম চাষের কিছু প্রয়োগ পদ্ধতি:
- ১. নো-টিল ফার্মিং : জমি না চষে সরাসরি সিড ড্রিল (Seed Drill) বা নিড়ানি দিয়ে বীজ বপন করা। যেমন: ধান কাটার পরেই সরাসরি গম বা খেসারি বোনা।
- ২. স্ট্রিপ টিলেজ : পুরো খেত না চষে শুধু যে লাইনে বীজ বোনা হবে সেইটুকু সরু অংশ হালকা চষে নেওয়া (যেমন: ভুট্টা চাষ)।
- ৩. মালচিং নির্ভর চাষ: খড় বা পাতা দিয়ে মাটি ঢেকে রেখে সরাসরি ফসলের চারা রোপণ করা।

৩. বৈচিত্র্যময় ফসল চাষ পদ্ধতি
প্রাকৃতিক কৃষি নিয়মাবলী তে একই জমিতে বারবার একই ফসল (Monoculture) চাষ না করে বিভিন্ন জাতের ফসল একসাথে বা একের পর এক চাষ করাই হলো বৈচিত্র্যময় ফসল চাষ। এটি খেতের প্রাকৃতিক ভারসাম্য বজায় রাখতে দারুণ সাহায্য করে।
৩.১. বৈচিত্র্যময় ফসল চাষের সুবিধা:
- ১. মাটির স্বাস্থ্যের উন্নতি: ডালজাতীয় ফসল (যেমন: মুগ, কলাই, অড়হর) মাটির নাইট্রোজেন স্থির করে, আবার মুলো বা গাজরের মতো গভীর শিকড়ের ফসল মাটির নিচের স্তর আলগা করে বায়ু চলাচল বাড়ায়।
- ২. প্রাকৃতিক পোকা ও রোগ নিয়ন্ত্রণ: এক ফসলের পোকা অন্য ফসলের ঘ্রাণ বা উপস্থিতির কারণে সহজে ছড়াতে পারে না। যেমন: ভুট্টার সাথে সিম বা শিমজাতীয় সবজি চাষ করলে উপকারী পোকা (যেমন: লেডিবাগ) এসে ক্ষতিকর পোকা খেয়ে ফেলে।
- ৩.১.৩. জল ব্যবহারের দক্ষতা: বিভিন্ন গভীরতার শিকড়যুক্ত ফসল একসাথে থাকলে মাটির বিভিন্ন স্তর থেকে জল ও পুষ্টি শুষে নিতে পারে, ফলে সেচের জল অপচয় হয় না।
- ৩.১.৪. প্রাকৃতিকভাবে আগাছা দমন: সূর্যমুখী বা বাদাম গাছের মতো চওড়া পাতার ফসল মাটি ঢেকে রাখে, ফলে সূর্যের আলো না পেয়ে আগাছা জন্মাতে পারে না।
- ৩.১.৫. প্রাকৃতিক দুর্যোগে ঝুঁকি হ্রাস: প্রতিকূল আবহাওয়ায় একটি ফসল নষ্ট হলেও অন্য ফসল থেকে কৃষক ভাইদের উৎপাদন ও আয় বজায় থাকে।
৪.১. জীবন্ত উদ্ভিদের মাধ্যমে মাটি ঢেকে রাখা উপায় ও সুবিধা
- ১. সর্বদা সবুজ আচ্ছাদন : বছরে ৩৬৫ দিনই জমিতে কোনো না কোনো সবুজ উদ্ভিদ রেখে মাটির সরাসরি রোদ বা বৃষ্টির আঘাত থেকে সুরক্ষা দেওয়া।
- ২. আগাছা দমন : কভার ক্রপ দ্রুত বৃদ্ধি পেয়ে জমি ঢেকে ফেলে, ফলে ক্ষতিকর আগাছা পর্যাপ্ত সূর্যালোক না পেয়ে জন্ম নিতে পারে না।
- ৩. মাটির আর্দ্রতা সংরক্ষণ : জীবন্ত গাছের ছায়ায় মাটির তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে থাকে এবং জলের বাষ্পীভবন ব্যাপকভাবে কমে যায়।
- ৪. জৈব পদার্থ ও কার্বন বৃদ্ধি : জীবন্ত উদ্ভিদের শিকড় ও ঝরে পড়া পাতা মাটিতে জৈব কার্বনের পরিমাণ বৃদ্ধি করে।
- ৫. মাটি ক্ষয় রোধ : গাছের বিস্তৃত শিকড় মাটিকে শক্ত করে ধরে রাখে, যা ঝোড়ো বাতাস বা ভারী বৃষ্টিতে উর্বর মাটি ধুয়ে যাওয়া থেকে রক্ষা করে।
- ৬. নাইট্রোজেন সংবন্ধন : কভার ক্রপ হিসেবে সিম বা ডালজাতীয় ফসল (যেমন: বরবটি, ধনঞ্চে, মুগ) ব্যবহার করলে বাতাসে থাকা নাইট্রোজেন প্রাকৃতিকভাবে মাটিতে জমা হয়।
- ৭. গভীর শিকড়ের পুষ্টি সংগ্রহ: গভীর শিকড়যুক্ত জীবন্ত গাছ মাটির নিচের স্তর থেকে অপ্রাপ্ত পুষ্টি উপাদান টেনে উপরের স্তরে নিয়ে আসে, যা প্রধান ফসলের কাজে লাগে।
- ৮. উপকারী অনুজীব ও কেঁচোর আশ্রয় : জীবন্ত শিকড় থেকে নিঃসৃত নিঃসরক (Root Exudates) অণুজীব ও কেঁচোর পুষ্টি যোগায় এবং তাদের বংশবৃদ্ধিতে সাহায্য করে।
- ৯. মাটির শক্ত স্তর ভাঙা : গভীর শিকড়যুক্ত কভার ক্রপ (যেমন: মুলো বা আলফালফা) মাটির নিচের শক্ত স্তর (Hardpan) প্রাকৃতিকভাবে ভেঙে বায়ু চলাচল বাড়ায়।
- ১০. ক্ষতিকর পোকা ও রোগ ব্যবস্থাপনা : প্রধান ফসলের সাথে কভার ক্রপ থাকলে ক্ষতিকর পোকার জীবনচক্র ভেঙে যায় এবং রোগ ছড়ানোর গতি কমে।
- ১১. পশুখাদ্যের সংস্থান : প্রধান ফসল কাটার পর কভার ক্রপ হিসেবে চাষ করা গাছ থেকে খামারের পশুপাখির জন্য পুষ্টিকর কাঁচা ঘাস ও পশুখাদ্য পাওয়া যায়।
৪.২. শুকনো পাতা ও খড় দিয়ে মাটি ঢেকে রাখার উপায় ও সুবিধা
- ১. বাষ্পীভবন রোধ ও সেচের জল সাশ্রয় : শুকনো খড় বা পাতা বিছিয়ে দিলে মাটির জল বাষ্প হয়ে উড়তে পারে না, ফলে সেচের জল অনেক কম লাগে।
- ২. মাটির চরম তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ: তীব্র গরমের সময় মাটিকে ঠান্ডা রাখা এবং শীতের সময় মাটিকে উষ্ণ রাখতে থার্মাল ইনসুলেটর বা তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রক হিসেবে কাজ করে।
- ৩. জৈব সারে রূপান্তর: সময়ের সাথে সাথে শুকনো খড়, পাতা বা কাঠের গুঁড়ো মাটির অণুজীব ও কেঁচো দ্বারা পচে মূল্যবান জৈব সারে পরিণত হয়।
- ৪. বৃষ্টির ফোঁটার আঘাত প্রশমন: ভারী বৃষ্টির ফোঁটা সরাসরি মাটিতে পড়ে মাটির কণা যেন আলাদা বা জমাট বেঁধে না যায় তা আটকায়।
- ৫. আগাচার বীজ অঙ্কুরোদগম রোধ: মাটি পুরোপুরি শুকনো উপাদান দিয়ে ঢাকা থাকায় আগাচার বীজ পর্যাপ্ত আলো না পেয়ে গজাতে পারে না।
- ৬. মাটির অনুজীবকে রোদ থেকে রক্ষা: সূর্যের ক্ষতিকর অতিবেগুনি রশ্মি ও অতিরিক্ত উত্তাপ থেকে মাটির উপরিভাগের উপকারী অনুজীবদের বাঁচায়।
- ৭. ফসলের গুণমান ও পরিচ্ছন্নতা রক্ষা: ফল বা সবজি (যেমন: স্ট্রবেরি, টমেটো, লঙ্কা) সরাসরি মাটির সংস্পর্শে আসে না, ফলে পচন ও ছত্রাকজনিত আক্রমণ কম হয়।
- ৮. মাটি ধুয়ে যাওয়া ও নর্দমা ভরাট বন্ধ: বৃষ্টির জলে মাটি ধুয়ে গড়িয়ে গিয়ে খেতের পাশের নালা বা নর্দমা ভরাট হয়ে যাওয়া রোধ করে।
৫. পশুপালনের অন্তর্ভুক্তি
প্রাকৃতিক কৃষির নিয়মাবলিতে কৃষির সাথে পশুপালনের (গরু, ছাগল, হাঁস-মুরগি, মাছ) মেলবন্ধন মাটির পুষ্টিচক্র সক্রিয় করে, বাইরের কেনা ইনপুটের নির্ভরতা কমায় এবং কৃষকের আয় বাড়ায়।
৫.১. পশুপালনের অন্তর্ভুক্তির সুবিধাসমূহ :
- ১. পুষ্টি চক্র ও মাটির উর্বরতা : পশুর সার (N, P, K ও জৈব কার্বন) এবং মূত্র মাটির জৈব পদার্থ, অণুজীবের সক্রিয়তা ও জলধারণ ক্ষমতা বাড়ায়, ফলে রাসায়নিক সারের প্রয়োজন কমে।
- ২. জীববৈচিত্র্য ও বাস্তুতন্ত্রের সেবা: চারণভূমির পশু আগাছা কমায় এবং বন্ধু পোকার আবাস তৈরি করে। হাঁস-মুরগি পোকা, আগাছার বীজ ও ফলের মাছি খেয়ে জমিতে উর্বর সার জোগায়।
- ৩. সম্পদের দক্ষ ব্যবহার: ফসলের অবশিষ্টাংশ ও খামারের বর্জ্য পশুখাদ্য হিসেবে ব্যবহৃত হয়। সমন্বিত মৎস্য চাষ পুষ্টির পুনর্ব্যবহার ও উৎপাদন বাড়ায়।
- ৪. অর্থনৈতিক ও জলবায়ু সহনশীলতা: দুগ্ধ, মাংস, ডিম বা মাছ বিক্রি থেকে ধারাবাহিক আয় নিশ্চিত হয়। চারণভূমির মাধ্যমে মাটি ক্ষয় রোধ ও খরা সহনশীলতা বাড়ে এবং জরুরি প্রয়োজনে পশু ‘চলমান সঞ্চয়’ হিসেবে কাজ করে।
৫.২. পশুপালনের কিছু ব্যবহারিক পদ্ধতি
- ১. মিশ্র চাষ : দেশি গরু (গীর, শাহিওয়াল) থেকে দুধ ও সার পাওয়া যায় এবং ছাগল (যেমন: জামুনাপারি) পতিত জমিতে চরে শক্ত আগাছা খেয়ে মূল্যবান সার তৈরি করে।
- ২. সবজি খেতে হাঁস-মুরগি পালন: খেতে মুক্তভাবে হাঁস-মুরগি চরালে তারা পোকা কমায় এবং তাদের মলমূত্র মাটিকে উর্বর করে।
৬. প্রাকৃতিক উপায়ে কীট ও রোগ ব্যবস্থাপনা
রাসায়নিক মুক্ত চাষে জীববৈচিত্র্য, খাদ্যশৃঙ্খল ও বন্ধু পোকা/পাখিদের কাজে লাগিয়ে প্রাকৃতিকভাবে পোকা ও রোগ নিয়ন্ত্রণে রাখার পদ্ধতি।
৬.১. প্রাকৃতিক পোকা ও রোগ ব্যবস্থাপনার সুবিধাসমূহ:
- ১. জীববৈচিত্র্য বৃদ্ধি : বাস্তুতন্ত্রে শিকারী পোকা ও পাখির সংখ্যা বাড়িয়ে প্রাকৃতিকভাবে পোকার প্রাদুর্ভাব কমায়।
- ২. মাটির স্বাস্থ্যের উন্নতি : অণুজীবের ভারসাম্য বজায় রেখে মাটির গঠন ও উর্বরতা বৃদ্ধি করে।
- ৩. সাশ্রয়ী চাষ : নিম, গোমূত্র ও উদ্ভিদজাত নির্যাস ব্যবহারের ফলে রাসায়নিক কীটনাশকের খরচ বেঁচে যায়।
- ৪. অবশিষ্টাংশ-মুক্ত ফসল : বিষাক্ত কেমিক্যালের অবশিষ্টাংশ না থাকায় নিরাপদ রাসায়নিক মুক্ত চাষের খাদ্যের বাজারে চাহিদা বাড়ায়।
- ৫. জলবায়ু সহনশীলতা : কৃষি ব্যবস্থাটিকে প্রতিকূল আবহাওয়ার সাথে সহজে খাপ খাইয়ে নিতে সাহায্য করে।
৬.২ প্রাকৃতিক পোকা ও রোগ ব্যবস্থাপনার কিছু বাস্তব উদাহরণ:
৬.২.১. প্রতিরোধমূলক পদ্ধতি
- ক. খেত পরিচ্ছন্নতা : আগাছা ও আক্রান্ত ফসলের গোড়া সরিয়ে পোকার প্রজনন স্থান ধ্বংস করা।
- খ. বীজ শোধন : মাটিবাহিত পোকা থেকে রক্ষা করতে বীজকে গোমূত্র বা ছাই দিয়ে প্রলেপ দেওয়া।
6.২.২. শস্য চাষের কৌশল
- ক. ফসল চক্র: শস্যের সাথে ডালজাতীয় ফসল অদলবদল করে পোকার জীবনচক্র ভাঙা ও মাটি উন্নত করা।
- খ. সাথী ফসল : খেতের পাশে পোকা-প্রতিরোধক গাছ (যেমন: গাদা বা রসুন) লাগিয়ে পোকা দূরে রাখা।
- গ. ফাঁদ ফসল : খেতের চারপাশে গাদা বা রেড়ির গাছ লাগিয়ে ক্ষতিকর পোকাকে মূল ফসল থেকে দূরে আকর্ষণ করা।
৬.২.৪. সময়সূচি সামঞ্জস্য
প্রাকৃতিক কৃষি ব্যবস্থাপনায় পোকার আক্রমণের পিক-সিজন এড়িয়ে চারা রোপণ বা ফসল কাটা উচিত।
৬.২.৫. জৈবিক পদ্ধতি
- ক. উপকারী পতঙ্গের বাসস্থান: খেতের চারপাশে ফুল গাছ লাগিয়ে লেডিবাগ, মাকড়সা ও শিকারী বোলতা আকর্ষিত করা।
- খ. উদ্ভিদজাত নির্যাস নিমাস্র : নিম পাতা, গোবর ও গোমূত্রের মিশ্রণ (চোষক পোকা ও শুঁয়োপোকা দমনে)।
- গ.নিমের বীজের শাঁসের নির্যাস (NSKE): স্পর্শজনিত জৈব কীটনাশক যা পোকার বৃদ্ধি রোধ করে।
- ঘ.ব্রহ্মাস্র: নিম, আতা, পেঁপে ও পেয়ারা পাতা দিয়ে তৈরি বায়ো-পেস্টিসাইড।
- ঙ. অগ্নিআস্র : লঙ্কা ও রসুনের নির্যাস যা প্রাকৃতিক পোকা তাড়াক হিসেবে কাজ করে।
আরো দেখুন বাড়িতে প্রাকৃতিক উপায়ে জৈব কীটনাশক তৈরির সহজ পদ্ধতি।
৭. কৃত্রিম বা রাসায়নিক ইনপুট বর্জন
প্রাকৃতিক কৃষি ব্যবস্থাপনায় মাটিতে জৈব পদার্থ এবং উপকারী অণুজীবের বৃদ্ধি ঘটিয়ে স্বাবলম্বী মাটি তৈরি করে। রাসায়নিক সার ও কীটনাশক বর্জন করলে মাটির জলধারণ ক্ষমতা বাড়ে, কার্বন সঞ্চয় (Carbon Sequestration) সমৃদ্ধ হয়, চাষের খরচ কমে এবং বিষমুক্ত নিরাপদ খাদ্য উৎপাদিত হয়।
৭.১ রাসায়নিক ইনপুটের বিকল্প কিছু ব্যবহারিক পদ্ধতি :
৭.১.১. অন-ফার্ম বায়ো-ইনপুটসের ব্যবহার : গোবর, গোমূত্র, গুড়, বেসন ও মাটি দিয়ে তৈরি জীবাণুমৃত ব্যবহারে মাটির উর্বরতা প্রাকৃতিকভাবে বাড়ে।
৭.১.২. প্রাকৃতিক উপায়ে পোকা নিয়ন্ত্রণ
- ক. জৈবিক পদ্ধতি : লেডিবাগ বা ট্রাইকোগ্রামা বোলতার মতো প্রাকৃতির শিকারী পোকা সংরক্ষণ করা।
- খ. নিম-ভিত্তিক স্প্রে: নিমাস্র ও নিমের নির্্যাস কার্যকর প্রাকৃতিক কীটনাশক হিসেবে ব্যবহার করা।
৭.১.৩. মাটির স্বাস্থ্যের উন্নতি
- ক. ফসল চক্র : খাদ্যশস্যের সাথে ডালজাতীয় শস্য অদলবদল করে চাষ করা।
- খ. বহুফসল চাষ : একসাথে একাধিক ফসল চাষ করে পোকার প্রাদুর্ভাব কমানো।
৭.২.৪. আগাছা ব্যবস্থাপনা :
- ক. মালচিং: ফসলের অবশিষ্টাংশ বা খড় দিয়ে মাটিকে ঢেকে প্রাকৃতিকভাবে আগাছা দমন করা।
- খ. কভার ক্রপ : প্রধান ফসলের মাঝে ডালজাতীয় গাছ লাগিয়ে আগাছার বৃদ্ধি আটকানো।
৮. খামারে তৈরি জৈব ইনপুটের ব্যবহার
খামারে পাওয়া উদ্ভিদ ও পশুর উপাদান দিয়ে তৈরি বায়ো-ইনপুটস (যেমন: জীবামৃত, বীজামৃত) মাটিতে অনুজীব, এনজাইম ও জৈব উপাদান যোগায়। এটি গাছের বৃদ্ধি ঘটায় এবং কেনা সারের ওপর নির্ভরতা কমায়।
৮.১ খামারে তৈরি বায়ো-ইনপুটসের সুবিধাসমূহ
- ১. মাটির অনুজীবের সক্রিয়তা: প্রাকৃতিক কৃষি ব্যবস্থাপনায় কম্পোস্ট ও জীবামৃত মাটির ব্যাকটেরিয়ার সংখ্যা বাড়ায়, যা নাইট্রোজেন সংবন্ধন, ফসফরাস ও পটাশিয়ামকে দ্রবীভূত করে গাছের জন্য সহজলভ্য করে।
- ২. মাটির স্বাস্থ্যের উন্নতি : মাটির গঠন ও জলধারণ ক্ষমতা বাড়ায়। রাইজোবিয়াম ও মাইকোরাইজার মতো উপকারী অনুজীবের বৃদ্ধি ঘটায়।
- ৩. রোগ ও পোকা প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি : নিমাস্র, জীবাণুমৃত, সপ্তধান্যাঙ্কুর ও টক দই স্প্রে করলে গাছের প্রাকৃতিক রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ে।
- ৪. সুষম পুষ্টি : পুষ্টির ভারসাম্যহীনতাজনিত সমস্যা দূর করে ফসলের গুণমান নিশ্চিত করে।
- ৫. পরিবেশ ও স্বাস্থ্যের নিরাপত্তা : ভূগর্ভস্থ জলদূষণ ও মাটির বিষাক্ততা কমায়।
- ৫. প্রতিকূল আবহাওয়া সহনশীলতা: গাছের শিকড় মজবুত করে খরা ও তাপমাত্রা ওঠানামার ধাক্কা সহ্য করার ক্ষমতা বাড়ায়।
- ৬. টেকসই ও চক্রাকার অর্থনীতি : খামারের বর্জ্যকে (খড়, গোবর, গোমূত্র) পুনর্ব্যবহার করে সারে রূপান্তর করে।
৯. স্থানীয় পরিবেশ-সহনশীল দেশি বীজের ব্যবহার
প্রাকৃতিক কৃষির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ হলো স্থানীয় আবহাওয়া ও মাটিতে শত শত বছর ধরে টিকে থাকা দেশি জাতের বীজ ব্যবহার করা। এই বীজগুলো কম খরচে চাষযোগ্য, প্রাকৃতিক দুর্যোগ সহনশীল এবং কৃষকের স্বাবলম্বিতা বজায় রাখতে অপরিহার্য।
৯.১ দেশি বীজ ব্যবহারের সুবিধাসমূহ :
৯.১.১. কৃষি-জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ
- ক. জিনগত সম্পদ রক্ষা : ঐতিহ্যবাহী বীজ শত বছরের কৃষক অভিজ্ঞতার ফসল। এগুলো বাস্তুতন্ত্রের পুষ্টিচক্র ও পরাগায়নে সাহায্য করে স্থানীয় জিনগত সম্পদ রক্ষা করে।
- খ. বাণিজ্যিক বীজের ওপর নির্ভরতা হ্রাস : হাইব্রিড বীজের একঘেয়েমি দূর করে জিনগত বৈচিত্র্য বজায় রাখে, ফলে বড় ধরনের ফসল হানির ঝুঁকি কমে।
৯.১.২. কম ইনপুট যুক্ত চাষের উপযুক্ততা:
ক. বহিরাগত উপকরণের ওপর ন্যূনতম নির্ভরতা: রাসায়নিক সার ও বিষ ছাড়া কম পুষ্টির মাটিতেও এই বীজ ভালো ফলন দেয়। যেমন: কর্ণাটকের স্থানীয় রাগী/মিলেট জাত।
খ. সাশ্রয়ী চাষ : প্রাকৃতিক রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা থাকায় আলাদা কীটনাশক কিনতে হয় না, ফলে উৎপাদন খরচ কমে।
৯.১.৩. সাংস্কৃতিক ও পুষ্টিগত তাৎপর্য:
- ক. উন্নত পুষ্টিগুণ : প্রাকৃতিক কৃষি ব্যবস্থাপনায় হাইব্রিড ফসলের চেয়ে দেশি জাতের ধান ও ফসলের পুষ্টি এবং ভেষজ গুণ অনেক বেশি। যেমন: পশ্চিমবঙ্গের সুগন্ধি ও ঔষধি গুণসম্পন্ন দেশি চাল ‘গোবিন্দভোগ’ বা আইরন সমৃদ্ধ ‘দুধেশ্বর’ এবং ‘কালোজিরে’ ধান, যা পুষ্টির দিক থেকে অতুলনীয়।
- খ. ঐতিহ্যবাহী খাদ্যসংস্কৃতি রক্ষা: আঞ্চলিক খাদ্যাভ্যাস ও ঐতিহ্যগত খাদ্য বৈচিত্র্য টিকিয়ে রাখতে স্থানীয় দেশি বীজ সংরক্ষণ অত্যন্ত জরুরি।
- গ. কৃষি-বাস্তুতন্ত্র সমর্থন : পশ্চিমবঙ্গের বৈচিত্র্যময় জলবায়ুতে (যেমন: রাঢ় অঞ্চল বা উত্তরবঙ্গের পরিবেশ) দেশি ডাল, মিলেট ও ধানের মিশ্র চাষ খেতের জীববৈচিত্র্য বাড়ায়, মাটির উর্বরতা ধরে রাখে এবং প্রাকৃতিকভাবে পোকা দমন করতে সাহায্য করে।
উপসংহার:
সব শেষে বলা যায়, প্রাকৃতিক কৃষি হলো প্রকৃতির নিয়মের সাথে বৈজ্ঞানিক চাষ পদ্ধতির এক চমৎকার মেলবন্ধন। প্রাকৃতিক কৃষির মূল নীতি-তে রাসায়নিক সার ও বিষ বর্জন করে খামারের গোবর-মূত্র দিয়ে জীবামৃত, মাটিকে ঢেকে রাখার জন্য মালচিং এবং দেশের বিভিন্ন রাজ্যে তথা পশ্চিমবঙ্গের ঐতিহ্যবাহী দেশি বীজের সঠিক ব্যবহারই হলো এর মূল ভিত্তি। এই ৯টি নীতি অনুসরণ করলে চাষের খরচ যেমন শূন্যের কাছাকাছি নেমে আসবে, তেমনই মাটির স্বাস্থ্য রক্ষা পাবে এবং মানুষের জন্য নিরাপদ খাদ্য উৎপাদন সুনিশ্চিত হবে।
প্রায়ই জিজ্ঞাসিত প্রশ্নোত্তর (FAQ)
প্রশ্ন ১: প্রাকৃতিক কৃষি এবং জৈব কৃষির মধ্যে মূল পার্থক্য কী?
উত্তর: জৈব কৃষিতে বাজার থেকে কেনা জৈব সার বা কেমিক্যাল-মুক্ত ইনপুট ব্যবহার করা হয়, যা খরচসাপেক্ষ। অন্যদিকে, প্রাকৃতিক কৃষিতে বাজার থেকে কিছুই না কিনে খামারের গোবর-মূত্র, অনুজীব ও দেশি উপাদান দিয়ে সম্পূর্ণ কম খরচে চাষ করা হয়।
প্রশ্ন ২: রাসায়নিক চাষ থেকে হঠাৎ প্রাকৃতিক কৃষিতে বদলালে কি ফলন কমে যাবে?
উত্তর: শুরুর ১-২ বছর মাটিতে অনুজীবের সংখ্যা পুনরুদ্ধারের সময় সামান্য ফলন কমতে পারে। তবে জীবাণুমৃত, ঘন-জীবাণুমৃত এবং মালচিং সঠিক মাত্রায় ব্যবহার করলে খুব দ্রুত মাটির উর্বরতা ফিরে আসে এবং উৎপাদন স্বাভাবিক ও টেকসই হয়।
প্রশ্ন ৩: প্রাকৃতিক উপায়ে উপদ্রবকারী পোকা ও রোগ দ্রুত দমনের সহজ উপায় কী?
উত্তর: চোষক পোকার জন্য নিমাস্র, বড় লার্ভার জন্য ব্রহ্মাস্র এবং কাণ্ড ছিদ্রকারী পোকার জন্য অগ্নিআস্র স্প্রে করা সেরা সমাধান। পাশাপাশি খেতের চার পাশে গাদা ফুল (ট্র্যাপ ক্রপ) ও ভুট্টা/জোয়ার (বর্ডার ক্রপ) লাগালে রোগ-পোকা প্রাকৃতিকভাবেই দমিত থাকে।
তথ্য সূত্র
- জাতীয় প্রাকৃতিক কৃষি মিশন (NMNF) ভারত সরকার।
- ভারতীয় কৃষি অনুসন্ধান কেন্দ্র (ICAR)










