
ভারতে নারী ক্ষমতায়নের জন্য গ্রামীণ অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করতে ২০২৪-২০২৫ অর্থ বছরে লাখপতি দিদি যোজনা চালু করেছিল । NRLM এর অধীন স্বনির্ভর গোষ্ঠীর দিদিদের প্রায় ৩ কোটি লাখপতি দিদি তৈরি করার লক্ষ্য নিয়ে কাজ শুরু করে। পশ্চিমবঙ্গে WBSRLM এর অধীন ২৮.৪০ লক্ষ লাখপতি দিদি তৈরির লক্ষ্য নিয়ে কাজ শুরু করে এবং ২০২৪-২০২৬ পর্যন্ত ৩৭.৬৯ লক্ষ লাখপতি দিদি করা হয়। বর্তমানে সারা দেশে ২০২৬-২০২৯ অর্থবছরে ৬ কোটি লাখপতি দিদি এবং পশ্চিমবঙ্গে ৮০ লক্ষের অধিক লাখপতি দিদি তৈরি লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে এগোচ্ছে। ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরে WBSRLM তথ্য অনুসারে মোট ১১.৩৭ লক্ষ SHG এবং ১.১৮ কোটি সদস্যা রয়েছেন। এদের মধ্যে আনন্দধারা (WBSRLM) স্বনির্ভর গোষ্ঠীর ২০ লক্ষ সদস্যকে চিহ্নিতকরণ করে লাখপতি দিদি প্রকল্প পশ্চিমবঙ্গ সরকার কাজ শুরু করেছে।
লাখপতি দিদি কাকে বলে?
সংজ্ঞা: লাখপতি দিদি হলো এমন একটি স্বনির্ভর গোষ্ঠী (SHG) পরিবার, যাদের বার্ষিক পারিবারিক আয় টেকসই জীবিকা গ্রহণের মাধ্যমে ১ লক্ষ টাকার বেশি।
আরও দেখতে ক্লিক করুন👉 লাখপতি দিদি যোজনা পরিকল্পনা ও রূপ রেখা।
লাখপতি দিদি প্রকল্পের মূল নীতিসমূহ
টেকসই জীবিকা
- বহুমুখী : কোনো দিদিকে আয়ের জন্য কেবল একটিমাত্র উৎসের ওপর নির্ভর করে থাকলে চলবে না। একাধিক আয়ের পথ (যেমন: একই সাথে মাচা চাষের সাথে হাঁস-মুরগি বা ছাগল পালন, কিংবা কৃষির পাশাপাশি অ-খামার ক্ষুদ্র উদ্যোগ) যুক্ত করতে হবে, যাতে একটিতে ক্ষতি হলেও অন্যটি থেকে সংসার চলে।
- ঝুঁকিহীন : এমন কোনো পরিকল্পনা নেওয়া যাবে না যেখানে হুট করে বড় আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কা থাকে। বৈরী আবহাওয়া, পোকার আক্রমণ বা বাজার দর পড়ে যাওয়ার মতো ঝুঁকিগুলো আগে থেকেই চিহ্নিত করে তা প্রতিরোধ করার ব্যবস্থা থাকতে হবে (যেমন: বিমা, সঠিক টিকাকরণ বা শেড নেট ব্যবহার)।
- মর্যাদাপূর্ণ: দিদি যে কাজই করুন না কেন, তা যেন সমাজে তাঁর সম্মান ও আত্মমর্যাদা বৃদ্ধি করে। কঠিন ও অমানবিক কায়িক পরিশ্রমের বদলে প্রযুক্তি, প্রশিক্ষণ ও প্রাতিষ্ঠানিক সহায়তার (যেমন: প্রডিউসার গ্রুপ বা সঙ্ঘ) মাধ্যমে তাঁকে উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তুলতে হবে।
সংক্ষেপে বলতে গেলে, লাখপতি দিদির আয়ের পথটি এমন হতে হবে যা তাঁকে যেকোনো পরিস্থিতিতে আর্থিক নিরাপত্তা দেবে এবং সমাজে তাঁর মর্যাদা ও স্বাবলম্বিতা বজায় রাখবে।
লাখপতি দিদি তৈরিতে সরকারি প্রকল্পের মেলবন্ধন
- আর্থিক ও অবকাঠামোগত মেলবন্ধন : একজন দিদির পক্ষে নিজের টাকায় জলসেচের জন্য গভীর নলকূপ বা খামার পুকুর তৈরি করা অসম্ভব। কিন্তু পঞ্চায়েত বা ১০০ দিনের কাজের (VB -GRAM-G) সঙ্গে মেলবন্ধন ঘটিয়ে সেই কাজ বিনামূল্যে করে দেওয়া যায়।
- কারিগরি সহায়তা ও সক্ষমতা বৃদ্ধি : কৃষি দপ্তর থেকে বিনামূল্যে উন্নত বীজ ও মালচিং শিট পাওয়া, উদ্যানপালন (Horticulture) দপ্তর থেকে পলি হাউস বা মাচা চাষের উপকরণ পাওয়া এবং প্রাণিসম্পদ উন্নয়ন (ARD) দপ্তর থেকে পশুপালনের টিকা ও ওষুধ সুনিশ্চিত করা।
- বাজার ও পরিকাঠামো সুবিধা : জাতীয় বা রাজ্য স্তরের অন্যান্য সরকারি কর্মসূচির (যেমন: স্যানিটারি ন্যাপকিন উৎপাদন ইউনিট বা আইসিডিএস-এর খাদ্য সরবরাহ) কাজ এই লখপতি দিদি ও প্রডিউসার গ্রুপগুলোকে (PG) পাইয়ে দেওয়া।
- সহজ কথায়: আনন্দধারা বা এনআরএলএম (NRLM) প্রকল্প একা সব টাকা বা প্রশিক্ষণ দেয় না। তাই পঞ্চায়েত, কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ দপ্তরের বাজেট ও সুবিধাগুলোকে দিদিদের লাখপতি পরিকল্পনায় যুক্ত করাই হলো মেলবন্ধন।
লাখপতি দিদি কর্মপরিকল্পনার ৫ ‘এ’ (5 A) রূপরেখা
স্বনির্ভর গোষ্ঠীর (SHG) সদস্য দিদিদের টেকসই জীবিকা নিশ্চিত করে বার্ষিক ন্যূনতম ১ লক্ষ টাকা আয়ের স্তরে পৌঁছে দিতে এই ৫ ‘এ’ (5 A) রূপরেখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। নিচে এই কাঠামোর মূল ৫টি ভিত্তি বিস্তারিত আলোচনা করা হলো:
- সম্পদ (Assets): সম্পদ দৃশ্যমান হতে পারে—যেমন জমি, সরঞ্জাম, গবাদি পশু বা টাকা; আবার অদৃশ্যমানও হতে পারে—যেমন সামাজিক যোগাযোগ, সুনাম বা দক্ষতা।
- সুযোগ/অ্যাক্সেস (Access): সম্পদ, পরিষেবা ও সুযোগের প্রাপ্যতা এবং পৌঁছানোর সক্ষমতাকে বোঝায়। এর মধ্যে রয়েছে বাজার, তথ্য, প্রযুক্তি, অবকাঠামো এবং আর্থিক পরিষেবার সুযোগ।
- সামর্থ্য বা দক্ষতা (Ability or Skill): ব্যক্তি বা সম্প্রদায়ের দক্ষতা, জ্ঞান এবং শারীরিক সক্ষমতাকে নির্দেশ করে।
- মনোভাব (Attitude): ঝুঁকি নেওয়ার মানসিকতা, পরিবর্তনের প্রতি নমনীয়তা, প্রতিকূল পরিস্থিতিতে ঘুরে দাঁড়ানোর ক্ষমতা (resilience) এবং জীবন ও কাজের প্রতি সামগ্রিক দৃষ্টিভঙ্গির মতো বিষয়গুলো এর অন্তর্ভুক্ত।
- নিশ্চয়তা (Assurance): পণ্য, বাজার ইত্যাদির ক্ষেত্রে আত্মবিশ্বাস বা নিশ্চিত থাকার বিষয়গুলো এর অন্তর্ভুক্ত।
লাখপতি দিদি পরিকল্পনার প্রক্রিয়া — (PLD) চিহ্নিতকরণ
১. সম্ভাব্য লাখপতি দিদি (PLD) চিহ্নিতকরণ:
- বহুবিধ খামার (Farm) ও অ-খামার (Non-farm) জীবিকার সুযোগ গ্রহণকারী স্বনির্ভর গোষ্ঠীর (SHG) সদস্যদের সময়মতো চিহ্নিতকরণ সুনিশ্চিত করা।
- লখপতি জীবিকার বিভিন্ন খামার ও অ-খামার কর্মসূচি বিষয়ে সিএলএফ (CLF)-কে ওরিয়েন্টেশন দেওয়া এবং ওই এলাকায় জীবিকা প্রসারে সিএলএফ যেন অগ্রণী ভূমিকা নেয় তা নিশ্চিত করা।
- মাস্টার ট্রেইনার (MT) দ্বারা সিআরপি (CRP)-দের প্রশিক্ষণ দেওয়া।
- সিএলএফ এলাকার প্রডিউসার গ্রুপ (PG), আইএফসি (IFC) এবং প্রাণিসম্পদ ক্লাস্টারের ওপর বিশেষ নজর দেওয়া—যাতে এই এলাকাগুলো থেকেই বেশি সংখ্যক পিএলডি (PLD) চিহ্নিত করা যায়।

২. তথ্য সংগ্রহের গুণমান ও সময়ানুবর্তিতা :
সংগৃহীত তথ্যের গুণগত ও পরিমাণগত দিক নিশ্চিত করে সম্ভাব্য লাখপতি দিদিদের (PLD) চিহ্নিতকরণ এবং যাচাইকরণের অগ্রগতির ওপর সাপ্তাহিক পর্যবেক্ষণ।
৩. মেলবন্ধন সহায়তা :
বিএমএমইউ (BMMU) ও ডিএমএমইউ (DMMU)-র সক্রিয় সহায়তায় বিভিন্ন সরকারি দপ্তর—যেমন প্রাণিসম্পদ বিকাশ, মৎস্য দপ্তর, কৃষি দপ্তর, জলসম্পদ অনুসন্ধান ও উন্নয়ন, উদ্যানপালন দপ্তর ইত্যাদির সাথে মেলবন্ধন নিশ্চিত করা।
পরিকল্পনা তৈরির সময় সিআরপি-র জন্য বিবেচ্য বিষয়সমূহ
- পারিবারিক আলোচনা: লাখপতি দিদিকে তাঁর পরিবারের সাথে আলোচনা করে জীবিকা নির্বাহের কার্যক্রম বা কাজগুলো নির্ধারণ করতে হবে।
- বিদ্যমান সম্পদ ও দক্ষতা: চিহ্নিত প্রতিটি কাজের জন্য লাখপতি দিদির পরিবারে বর্তমানে কী কী সম্পদ, দক্ষতা ও সুযোগ-সুবিধা রয়েছে তা নিয়ে আলোচনা করতে হবে।
- অর্থনৈতিক লাভ-ক্ষতি: চিহ্নিত প্রতিটি কাজের অর্থনীতি (খরচ ও লাভের হিসাব) দিদিকে ভালোভাবে বুঝতে হবে।
- ঝুঁকি আলোচনা: কোনো কাজ চূড়ান্ত করার আগে সিআরপি-কে সেই স্বনির্ভর গোষ্ঠীর পরিবারের সাথে যুক্ত ঝুঁকিসমূহ (যেমন: উৎপাদন ঝুঁকি, বাজারজাতকরণের ঝুঁকি ইত্যাদি) নিয়ে আলোচনা করতে হবে।
- বাহ্যিক সহায়তার চাহিদা: চিহ্নিত কাজের জন্য বাইরে থেকে কী কী সম্পদ বা সহায়তার প্রয়োজন, তা লাখপতি দিদি চিহ্নিত করবেন এবং সিআরপি তা নির্দিষ্ট টুলে নথিভুক্ত করবেন।
- নথিপত্র প্রস্তুত রাখা: পরিকল্পনা তৈরির সময় সিআরপি-র কাছে প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ সামগ্রী ও রেফারেন্স নথিপত্র হাতের কাছে প্রস্তুত রাখতে হবে।
প্রধান খামার জীবিকা কর্মসূচি:
কিভাবে লাখপতি দিদি তৈরি করে? ফিল্ড-পরীক্ষিত মডেল থেকে জাতীয় স্তরে প্রসারের কৌশল
সূচনা বা মূল উদ্দেশ্য
DAY-NRLM 2.0-এর লক্ষ্য হলো বিচ্ছিন্ন ও ব্যক্তিগত স্তরে সুবিধা দেওয়ার বদলে একটি সংগঠিত এবং বাজার-ভিত্তিক জীবিকা ব্যবস্থার (Market-led livelihood systems) দিকে পদার্পণ করা, যাতে দেশে মোট ৬ কোটি লাখপতি দিদি তৈরি করা সম্ভব হয়। চারটি প্রাতিষ্ঠানিক উপায়ের মাধ্যমে প্রসারের কৌশল:
১. ইন্টিগ্রেটেড ফার্মিং ক্লাস্টার (IFC)-র মাধ্যমে সম্প্রসারণ
- আইএফসি (IFC) ধারণার সংক্ষিপ্ত রূপরেখা: নির্দিষ্ট এলাকার একাধিক পরিপূরক জীবিকা মডেলের একত্রীকরণই হলো আইএফসি। এটি কৃষকদের যৌথ পরিকাঠামো ব্যবহারের সুযোগ দেয় এবং পরিবারের আর্থিক ঝুঁকি কমায়।
- প্রধান উপাদানসমূহ: উচ্চ মূল্যের ফসল, কৃষি-উদ্যানপালন (আম), খামার পুকুর ও মৎস্য চাষ, ছাগল ও দেশি হাঁস-মুরগি পালন এবং ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা ইউনিট।
- যৌথ পরিকাঠামো ও সেবাসমূহ: বায়ো-ইনপুট রিসোর্স সেন্টার, যৌথ ড্রিপ সেচ, পশু সখীর মাধ্যমে দ্বারে দ্বারে প্রাণিসম্পদ সেবা, গ্রেডিং ও প্যাকেজিং কেন্দ্র, VB GRAM G মেলবন্ধন এবং ক্লাস্টার-স্তরের বাজার সংযোগ ডেস্ক।
- আর্থিক বরাদ্দ (DPR Budget): MKSP প্রকল্প থেকে ৪০ লক্ষ টাকা এবং বিভিন্ন দপ্তরের মেলবন্ধন সহ মোট ডিপিআর ২ কোটি টাকা পর্যন্ত বরাদ্দ থাকে।
আরও দেখুন ইন্টিগ্রেটেড ফার্মিং ক্লাস্টার সম্পর্কে বিস্তারিত গাইড জানতে ক্লিক করুন।
২. প্রডিউসার গ্রুপ (PG) কেন্দ্রিক সম্প্রসারণ কাঠামো
প্রডিউসার গ্রুপ (PG) হলো মাঠপর্যায়ে কৃষি ও অ-খামার পণ্য একত্রীকরণ এবং যৌথ ব্যবসার প্রধান মাধ্যম।
আর্থিক সহায়তা ও তহবিল বিন্যাস:
- অবকাঠামো তহবিল (Infrastructure Fund): প্রতিটি PG-র জন্য ১.৫ লক্ষ টাকা।
- চলতি মূলধন ঋণ (Working Capital Loan): ব্যবসার প্রয়োজনীয়তার ওপর ভিত্তি করে CLF থেকে ৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত ঋণ সুবিধা।
বিভিন্ন ক্ষেত্রে PG-র মূল ভূমিকা ও সুবিধা:
- উচ্চ মূল্যের ফসল (HVC): পাইকারি কৃষি উপকরণ (Input) কেনা এবং উৎপাদিত পণ্যের (Output) যৌথ বাজারজাতকরণ।
- আম ও উদ্যানপালন: চারাগাছ নার্সারি ও বাগান রক্ষণাবেক্ষণ এবং বাজার সংযোগ।
- মৎস্য চাষ: মৎস্য সখী কেন্দ্রিক PG গঠন করে চারাপোনা সরবরাহ ও যৌথ মাছ চাষ।
- ছাগল ও হাঁস-মুরগি পালন: পশু সখী কেন্দ্রিক PG গঠন করে স্বাস্থ্য সেবা, সুষম খাদ্য সরবরাহ ও পণ্য বিক্রি।
- তসর ও লাক্ষা চাষ: গুটি বা লাক্ষা একত্রীকরণ এবং FPO/PC-তে পাঠানোর আগে প্রাথমিক প্রক্রিয়াজাতকরণ।
- ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা ইউনিট: সদস্য উদ্যোক্তাদের ইনকিউবেশন সেবা, পাইকারি কেনাকাটা ও পারস্পরিক সহায়তা প্রদান।
আরও দেখুন প্রডিউসার গ্রুপ গঠন ও পরিচালনা বিস্তারিত জানতে ক্লিক করুন।
৩. MKSP-র অধীনে বিশেষ ভ্যালু চেইন প্রকল্প
উচ্চ মূল্যের খামার পণ্যের মানোন্নয়ন এবং প্রক্রিয়াজাতকরণের জন্য বিশেষ সহায়তা:
- গঠন ও তহবিল আবেদন (PE & DPR): ১০-৩০টি PG-র প্রায় ২০০-৫০০ জন কৃষক দিদিকে যুক্ত করে ব্লক স্তরে প্রডিউসার এন্টারপ্রাইজ (PE) গঠন করা হয় এবং সুনির্দিষ্ট DPR তৈরির মাধ্যমে সরাসরি প্রকল্প ফান্ডের আবেদন করা হয়।
- অবকাঠামো উন্নয়ন : ফসল সংগ্রহ ও প্রক্রিয়াজাতকরণের জন্য কালেকশন সেন্টার, গ্রেডিং-প্যাকেজিং ইউনিট, প্রসেসিং শেড ও সোলার ড্রায়ার তৈরি।
- চলতি মূলধন: ফসল ওঠার সময়ে চাষিদের থেকে সরাসরি নগদ মূল্যে পণ্য কেনা, পাইকারি কৃষি উপকরণ মজুত এবং প্যাকেজিং ও ব্র্যান্ডিংয়ের নগদ অর্থসংস্থান।
৪. WBSRLM – AAP-র অধীনে ফার্ম সাবসেক্টর উন্নয়ন
রাজ্য জীবিকা মিশনের বার্ষিক কর্মপরিকল্পনা (AAP)-র আওতায় খামার খাতের লক্ষ্যমাত্রা, বাজেট এবং সক্ষমতা বৃদ্ধির সংযোগ স্থাপন:
- বার্ষিক প্রশিক্ষণ ও প্রযুক্তি বিস্তার: প্রাকৃতিক কৃষি, সুষম পশু পালন এবং পুষ্টি নিরাপত্তার ওপর ব্লক ও ক্লাস্টার স্তরে দিদি ও সিআরপিদের জন্য বার্ষিক প্রশিক্ষণ ও ফিল্ড এক্সপোজার পরিকল্পনা রূপায়ন।
- খামার খাতের বাজেট ও সংহতি: বার্ষিক পরিকল্পনার নির্দিষ্ট বাজেট অনুযায়ী কৃষি ও প্রাণিসম্পদ খাতের টেকসই উৎপাদন নিশ্চিত করা এবং লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী প্রচার চালানো।
পশ্চিমবঙ্গের জন্য প্রস্তাবিত জীবিকা মডেল
১. উচ্চ মূল্যের ফসল :
- বিবরণ: গ্রামীণ কৃষকদের আয় বৃদ্ধি এবং ঝুঁকি কমানোর জন্য বহুমুখী ফসল চাষের প্রসার।
- উপাদানসমূহ: মাচা পদ্ধতিতে সবজি চাষ , কলম করা সবজি, ড্রিপ ও মালচিং , শেড নেট, বহুতল চাষ ইত্যাদি।
২. মৎস্য চাষ
- বিবরণ: পুষ্টিগত নিরাপত্তা ও আয় বাড়াতে একুয়াকালচার বা মাছ চাষের উন্নয়ন।
- উপাদানসমূহ: আইএমসি (IMC), রেনু থেকে চারাপোনা লালনপালনের নার্সারি।
৩. ছাগল ও দেশি হাঁস-মুরগি পালন
বিবরণ: গ্রামীণ পরিবারের জন্য একটি নির্ভরযোগ্য জীবিকা সম্পদ হিসেবে ছোট গবাদি পশু পালনে সহায়তা।
উপাদানসমূহ: টিকাকরণ ও কৃমিনাশক , উন্নত শেড ও উন্নত খাদ্য, কোল্ড চেইন ইউনিট।
৪. ছাঁচভিত্তিক ক্ষুদ্র উদ্যোগ/সামগ্রী তৈরি
- বিবরণ: গ্রামীণ মহিলাদের মধ্যে উদ্যোগ বাড়াতে বিভিন্ন ক্ষেত্রে ক্ষুদ্র স্তরের ব্যবসায়িক ইউনিট গঠনে সহায়তা।
- উপাদানসমূহ: উদ্যোক্তা উন্নয়ন, সেলাই ও মোর্ডিং/ছাঁচ ইউনিট স্থাপন ।
অ-কৃষি জীবিকা উন্নয়ন
গ্রামীণ অকৃষি খাতে নতুন উদ্যোক্তা তৈরি, ব্যবসার বিকাশ এবং লাখপতি দিদি হিসেবে গড়ে তোলার জন্য প্রয়োজনীয় সরকারি সুবিধা ও সহায়তার বিবরণ:
ক) এসভিইপি আমব্রেলা প্রোগ্রাম – ব্লক নির্বাচন (SVEP):
- স্টার্ট-আপ ভিলেজ এন্টারপ্রেনারশিপ প্রোগ্রাম (SVEP): গ্রামে নতুন ব্যবসা শুরু করার জন্য সম্ভাব্য দিদিদের উৎসাহিত করা এবং ব্যবসায়িক পরিকল্পনা তৈরিতে সাহায্য করা।
- ওয়ান স্টপ ফ্যাসিলিটি সেন্টার (OSF): ব্যবসা রেজিস্ট্রেশন, ট্রেড লাইসেন্স ও আইনি সহায়তার জন্য উদ্যোক্তা দিদিদের এক ছাদের নিচে সার্ভিস দেওয়া।
- মাইক্রো এন্টারপ্রাইজ ডেভেলপমেন্ট (MED): ছোট উদ্যোগ বা দোকানের (যেমন: দর্জি, পার্লার, মুদিখানা) পরিধি বাড়ানো ও ব্যবসায়িক উন্নতি নিশ্চিত করা।
- আজীবিকা গ্রামীণ এক্সপ্রেস যোজনা (AGEY): কাঁচামাল আনানেওয়া বা পণ্য পরিবহনের সমস্যা দূর করতে গাড়ি/টোটো ক্রয়ে সহায়তার মাধ্যমে দূরবর্তী এলাকায় যোগাযোগ সহজ করা।
খ) NRLM কর্মসূচি
- PMFME যোজনা (প্রধানমন্ত্রী অনুক্ষুদ্র খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ শিল্প): আটা, মশলা বা আচারের মতো খাদ্য প্রক্রিয়াকরণের নতুন কাজে ৩৫% সরকারি ভর্তুকিসহ প্রাতিষ্ঠানিক সুবিধা দেওয়া।
- ইনকিউবেটেড উদ্যোগের স্থায়িত্ব : নতুন বা ছোট ব্যবসাগুলো যাতে মাঝপথে বন্ধ না হয়ে লাভজনকভাবে টিকে থাকে, তার জন্য নিয়মিত গাইডেন্স দেওয়া।
গ) জাতীয় উদ্যোক্তা অভিযান (NEC)
- সিআরপি-লাইভলিহুডস প্রশিক্ষণ: লাইভলিহুড সিআরপি (CRP)-দের কাজের দক্ষতা বাড়ানো, যাতে তাঁরা দিদিদের ব্যবসায়ের সঠিক গাইড দিতে পারেন।
- জীবিকা ম্যাপিং ও সঙ্ঘ প্রশিক্ষণ: গ্রামের কোথায় কোন ব্যবসার সুযোগ আছে তা সঙ্ঘ স্তরে ম্যাপিং করে নতুন দিদিদের কাজের দিশা দেখানো।
- সকল উদ্যোক্তার জন্য ইডিপি (EDP) প্রশিক্ষণ: ব্যবসা পরিচালনা, ক্যাশ-ফ্লো ও লাভ-ক্ষতির হিসাব সহজভাবে শেখাতে দিদিদের প্রশিক্ষণে পাঠানো।
- জীবিকার ডেটাবেস তৈরি : ব্লকের সকল ছোট-বড় উদ্যোক্তাদের তথ্য ডিজিটালি সংরক্ষণ করা।
- ঋণের জন্য সিআইএফ (CIF)-এর ব্যবহার: নতুন ব্যবসা শুরুর মূলধন হিসেবে Community Investment Fund (CIF) থেকে সহজ শর্তে ঋণ পাইয়ে দেওয়া।
ঘ) রাজ্যভিত্তিক উদ্যোগসমূহ:
- আইসিডিএস (ICDS) খাদ্য সামগ্রী সরবরাহ: ৩১২টি সঙ্ঘ সমবায়ের মাধ্যমে অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রে খাবার সরবরাহের কাজে যুক্ত করে স্থায়ী কাজের সুযোগ করে দেওয়া।
- আরটিই (RTE) খাদ্য উৎপাদন ইউনিট: রেডি-টু-ইট (RTE) খাবার তৈরির জন্য স্থাপিত ৪৬টি ইউনিটে কাজের মাধ্যমে দিদিদের আয় নিশ্চিত করা।
- এসএইচজি ফুড জয়েন্ট/ক্যান্টিন: সরকারি দপ্তর বা মোড়ে চালু থাকা ৫৪টি ফুড জয়েন্টে দিদিদের যুক্ত করে নিয়মিত উপার্জনের পথ তৈরি করা।
- স্যানিটারি ন্যাপকিন উৎপাদন ইউনিট: বর্তমানে কার্যকরী ১৩টি উৎপাদন ইউনিটের মতো নতুন ইউনিটে দিদিদের কাজের সুযোগ করে দেওয়া।
- মার্কেটিং বা বাজারজাতকরণ: উৎপাদিত সামগ্রী সরাসরি গ্রাহকের কাছে ভালো দামে বিক্রির জন্য ‘সরস মেলা’ (SARAS Mela) ও আনন্দধারা স্টলে জায়গা পাওয়ার সুযোগ করে দেওয়া।
লাখপতি দিদি পর্যবেক্ষণ কাঠামো
১. প্রশাসনিক স্তর: জেলা ও ব্লক টিম
- লাখপতি দিদি আয়ের তথ্য এন্ট্রি প্রক্রিয়ার সার্বিক তদারকি ও পর্যবেক্ষণ করা।
- যাচাইকরণ স্ট্যাটাসের ওপর ভিত্তি করে এসিআরপি (ACRP)-দের এন্ট্রি করা আয়ের তথ্যের চূড়ান্ত অনুমোদন বা বাতিল করবেন ব্লক নোডাল অফিসারগণ।
- ডেটা এন্ট্রি অপারেটরগণ (DEO) প্রশাসনিক স্তরে ডেটা প্রসেসিং সহজতর করবেন।
২. সংঘ যাচাইকরণ স্তর
- সংঘ স্তরে CSP লাইভলিহুড A-CRP-দের ইনপুট করা আয়ের তথ্য যাচাই করবেন সিএসপি লাইভলিহুডগণ।
- তথ্যের সঠিকতা ও নির্ভরযোগ্যতা মূল্যায়ন করতে পিএলডি (PLD) রেকর্ডগুলির নিয়মিত স্যাম্পলিংয়ের মাধ্যমে যাচাই করা হবে।
- প্রশাসনিক অনুমোদনের আগে প্রয়োজনীয় সংশোধনের জন্য চিহ্নিত গরমিলগুলো ফ্ল্যাগ করা হবে।
৩. সর্বনিম্ন স্তর: আজিবিকা সিআরপি (A-CRP)
- সম্ভাব্য লাখপতি দিদিদের (PLD – Potential Lakhpati Didis) আয়ের প্রাথমিক তথ্য এন্ট্রির দায়িত্বে থাকবেন আজীবিকা সিআরপি-গণ।
- ইনপুট করা আয় ও জীবিকার তথ্য সংশ্লিষ্ট পরিবার/পিএলডি (PLD) থেকে সংগৃহীত প্রকৃত তথ্যের ওপর ভিত্তি করে হবে।

মাস্টার ট্রেইনার (MT) – মূল ভূমিকা ও দায়িত্ব
মাস্টার ট্রেইনার এসিআরপি/মাঠ-পর্যায়ের কর্মীদের এবং জেলা/ব্লক প্রশাসনিক দলের মধ্যে সেতু হিসেবে কাজ করবেন।
মাস্টার ট্রেইনারের প্রধান দায়িত্ব সমূহ
১. সিএসপি জীবিকা যাচাইকরণ পর্যবেক্ষণ
- L-CSP জীবিকা যাচাইকরণ সুশৃঙ্খল এবং যথাযথভাবে করা হচ্ছে কি না তা পর্যবেক্ষণ করা।
- যাচাইকরণ প্রক্রিয়ার মান এবং নির্ভরযোগ্যতা পর্যালোচনা করা।
২. অনিয়মিত মাঠ পরিদর্শন
- CSP জীবিকা যাচাইকরণের কার্যকারিতা যাচাই করতে অনিয়মিত মাঠ পরিদর্শন করা।
- নির্বাচিত পিএলডি (PLD) রেকর্ডগুলিকে প্রকৃত মাঠ পরিস্থিতির সাথে মিলিয়ে দেখা।
৩. A-CRP-দের অনিয়মিত নমুনা সংগ্রহ
- অনিয়মিতভাবে আজীবিকা সিআরপি দ্বারা করা আয়ের তথ্যের মান ও নির্ভুলতা পর্যালোচনা করা।
- বারবার হওয়া ত্রুটি, অসঙ্গতি বা অস্বাভাবিক প্যাটার্ন চিহ্নিত করা।
৪. তথ্য মান এবং তথ্যের পবিত্রতা নিশ্চিত করা
- আয়ের তথ্যের সামগ্রিক মান, ধারাবাহিকতা এবং নির্ভরযোগ্যতা পর্যবেক্ষণ করা।
- সম্ভাব্য অসঙ্গতি, অস্বাভাবিক প্যাটার্ন বা সম্ভাব্য তথ্যের ম্যানিপুলেশন চিহ্নিত করা এবং সংশ্লিষ্ট ব্লক/জেলা দলকে জানানো।
৫. জীবিকা-ভিত্তিক কাজের বণ্টন পর্যবেক্ষণ
- ব্লকে লাখপতি দিদিদের জীবিকা-ভিত্তিক কাজের বণ্টন বিশ্লেষণ করা।
- সংশ্লিষ্ট গ্রামের প্রকৃত মাঠ পরিস্থিতি অনুযায়ী খামার (Farm), অ-খামার (Non-Farm) এবং মজুরি-ভিত্তিক (Wage-Based) জীবিকার মধ্যে বাস্তবসম্মত বণ্টন নিশ্চিত করা।
সমন্বয় কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে MT – মেলবন্ধন ও জীবিকা সংযোগ
ব্লক স্তরে মেলবন্ধন এবং জীবিকা সংযোগের মূল দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি হিসেবেও এমটি (MT) কাজ করবেন।
A. সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরের সাথে মেলবন্ধন
লাখপতি দিদি/PLD -দের উপযুক্ত সরকারি স্কিম, পরিষেবা এবং জীবিকা সহায়তার সাথে যুক্ত করতে সংশ্লিষ্ট লাইন ডিপার্টমেন্টগুলোর সাথে যোগাযোগ ও মেলবন্ধন সহজতর করা।
B. ডোমেইন CRP-দের সাথে সমন্বয়
- বিভিন্ন ডোমেইন সিআরপি (যেমন: IFC -CRP, এন্টারপ্রাইজ প্রমোশন সিআরপি (EP-CRP), প্রাণিমিত্রা ইত্যাদি) এবং ব্লক প্রশাসনের মধ্যে সমন্বয় সাধন করা।
- এই সিআরপি-দের দ্বারা প্রশিক্ষিত বা সমর্থিত সুবিধাভোগীদের PLD হিসেবে চিহ্নিত করা এবং পরবর্তীতে লাখপতি দিদিতে রূপান্তরিত হওয়া নিশ্চিত করতে ট্র্যাক করা।
C. জীবিকা-ভিত্তিক CRP সংযোগ
নির্দিষ্ট জীবিকা গ্রহণকারী পিএলডি-দের সংশ্লিষ্ট ডোমেইন সিআরপি, সেবা গ্রাম বা পরিষেবা প্রদানকারীদের সাথে যুক্ত করা। উদাহরণস্বরূপ:
- ছাগল পালন: প্রাণিমিত্রা ।
- কৃষি-ভিত্তিক জীবিকা: সংশ্লিষ্ট ফার্স্ট/আইএফসি সিআরপি
- উদ্যোগ / অ-কৃষি কাজ: এন্টারপ্রাইজ প্রমোশন সিআরপি (EP-CRP)
৬. লাখপতি দিদি আয়ের তথ্য সংগ্রহের মূল উদ্দেশ্য
তৃণমূল স্তরের মহিলাদের প্রকৃত জীবিকা ও আয়ের পরিস্থিতি সঠিকভাবে ফুটিয়ে তুলতে এবং সরকারি সুবিধাগুলোর সাথে সংযোগ ঘটাতে আয়ের তথ্য নিশ্চিতকরণের মূল নীতিসমূহ:
- সঠিক : দিদিদের পরিচালিত বিভিন্ন খামার ও অকৃষি খাতের প্রকৃত আয়-ব্যয়ের হিসাব নির্ভুলভাবে নথিভুক্ত করা। কোনো আনুমানিক তথ্যের ওপর ভিত্তি না করে দিদিদের বাস্তব উপার্জনকে নিখুঁতভাবে তুলে ধরাই এর প্রধান লক্ষ্য।
- যাচাইকৃত: সংগৃহীত আয়ের ডেটা মাঠপর্যায়ে সরজমিনে অনুসন্ধান এবং সঙ্ঘ বা পঞ্চায়েত স্তরের তথ্যের সাথে মিলিয়ে পরীক্ষা করা। এতে সিস্টেমে জমা হওয়া প্রতিটি দিদির অর্থনৈতিক উন্নতির হিসাব প্রাতিষ্ঠানিকভাবে প্রমাণিত ও সত্যতা নিশ্চিত হয়।
- প্রতিনিধিত্বমূলক: সংগৃহীত তথ্য যেন ওই অঞ্চলের বা গোষ্ঠীর সামগ্রিক জীবিকার বাস্তব ও পূর্ণাঙ্গ প্রতিচ্ছবি তুলে ধরে। এলাকাভিত্তিক কৃষি, প্রাণিসম্পদ বা ক্ষুদ্র শিল্পের প্রকৃত সম্ভাবনা ও চ্যালেঞ্জগুলো এতে সঠিকভাবে প্রতিফলিত হয়।
- বিশ্বাসযোগ্য: তথ্যের স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা এমনভাবে বজায় রাখা, যাতে তা ব্যাংক, সরকারি দপ্তর ও ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে সম্পূর্ণরূপে গ্রহণযোগ্য হয়। এটি দিদিদের ভবিষ্যতে ঋণ বা সরকারি অনুদান পেতে বিশেষ সহায়তা করে।
- কার্যকরী: কেবল ডেটা সংগ্রহের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে, যেসব দিদির আয় এখনও বছরে এক লাখ টাকার নিচে রয়েছে, তাদের ঘাটতি চিহ্নিত করা। এই তথ্যের ওপর ভিত্তি করে অবিলম্বে কৃষি বা অকৃষি জীবিকার বিভিন্ন প্রকল্পের সাথে দিদিদের যুক্ত করে লখপতি দিদি হওয়ার পথ সুগম করা।
প্রায়ই জিজ্ঞাসিত প্রশ্নোত্তর(FAQ)
প্রশ্ন ১: লাখপতি দিদি প্রকল্পের মূল লক্ষ্য কী?
উত্তর: স্বনির্ভর গোষ্ঠীর (SHG) দিদিদের প্রশিক্ষণ, সরকারি ঋণ ও বাজারের সুবিধা দিয়ে তাঁদের বছরে অন্তত ১ লাখ টাকা (বা মাসে ১০০০ টাকা) স্থায়ী উপার্জনের যোগ্য করে তোলা।
প্রশ্ন ২: কারা লাখপতি দিদি হতে পারেন?
উত্তর: রাজ্য জীবিকা মিশনের (WBSRLM) অধীনে স্বনির্ভর গোষ্ঠীর (SHG) সাথে যুক্ত যেকোনো সক্রিয় সদস্যা এই প্রকল্পের সুবিধা পেতে পারেন।
প্রশ্ন ৩: লাখপতি দিদি হওয়ার জন্য কীভাবে সাহায্য পাওয়া যায়?
উত্তর: সঙ্ঘ সমবায় বা লাইভলিহুড সিআরপি (CRP)-র মাধ্যমে আবেদন করে ব্যবসায়িক প্রশিক্ষণ (EDP), সিআইএফ (CIF) ফান্ড থেকে সহজ ঋণ ও সরকারি মেলার মাধ্যমে বাজারি সুবিধা পাওয়া যায়।










