ধানী পোনা চাষ পদ্ধতি: আধুনিক লালন পুকুর ব্যবস্থাপনা ও প্রস্তুতির সম্পূর্ণ গাইড

মৎস মৈত্রী প্রোডিউসর গ্রুপের দিদিরা আধুনিক ধানী পোনা চাষ পদ্ধতি-তে মাছের ধানী পোনা সংগ্রহ করছেন।
মৎস মৈত্রী প্রোডিউসর গ্রুপের দিদিরা আধুনিক ধানী পোনা চাষ পদ্ধতি-তে মাছের ধানী পোনা সংগ্রহ করছেন।

মাছ চাষের প্রতিটি ধাপই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তবে যারা রেণু পোনা থেকে ধানী পোনা এবং ধানী পোনা থেকে চারা পোনা তৈরির ব্যবসা করেন, তাদের জন্য ধানী পোনা চাষ পদ্ধতি জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে। অনেকে রেণু পোনা চাষে সফল হলেও ধানী পোনার ক্ষেত্রে এসে খেই হারিয়ে ফেলেন। এর মূল কারণ হলো সঠিক লালন পুকুর ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে অজ্ঞতা। বন্ধুরা, আপনারা যদি আমাদের ডিম পোনা চাষ পদ্ধতি না পড়ে থাকেন, তবে সেটি আগে একটু দেখে নিবেন, তাহলে আজকের এই আলোচনাটি বুঝতে আরও সুবিধা হবে।

মাছের ডিম পোনা চাষ পদ্ধতি দেখতে [এখানে ক্লিক করুন ]

১. ধানী পোনা পালনের নিয়ম ও আদর্শ পুকুর নির্বাচন

ধানী পোনা চাষ পদ্ধতি-তে ধানী পোনা লালন করার জন্য খুব বড় পুকুরের প্রয়োজন হয় না, তবে পুকুরটি হতে হবে পরিপাটি। পুকুর প্রস্তুতির সময় আমাদের প্রধান লক্ষ্য থাকে মাছের জন্য একটি নিরাপদ এবং খাদ্যসমৃদ্ধ পরিবেশ তৈরি করা। পুকুরটি যদি শুকনো হয় তবে এক ধরণের প্রস্তুতি, আর যদি জল থাকে তবে অন্য ধরণের ব্যবস্থা নিতে হবে। তবে যাই হোক না কেন, মাছের পোনা ছাড়ার আগে পুকুরের তলা থেকে পাড় পর্যন্ত প্রতিটি ইঞ্চি পরীক্ষা করা প্রয়োজন।

ক. পুকুরের পাড় ও নেট সুরক্ষা (Border & Netting)

পুকুরের পাড় মেরামত করা ধানী পোনা চাষ পদ্ধতি-তে চাষের প্রাথমিক ধাপ। বর্ষার জলে বা ইঁদুরের গর্তে পাড় ভেঙে গেলে আপনার কষ্টের সম্পদ বেরিয়ে যেতে পারে। তাই পাড়ের গর্তগুলো ভালো করে বন্ধ করে দিন। ধানী পোনা যাতে পাড়ের ফুটো দিয়ে বেরিয়ে না যায়, তার জন্য চারিদিকে জাল বা নেট দিয়ে ঘিরে দেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ।

বিশেষ টিপস: নেটের নিচের দিকে সেলাই করে দড়ি ঢুকিয়ে দিন। এরপর এক ফুট অন্তর অন্তর গরুর খুঁটার মতো শক্ত খুঁটি বানিয়ে মাটিতে টান টান করে গেঁথে দিন। এতে সাপ বা ব্যাঙ যেমন ঢুকতে পারবে না, তেমনি মাছও বেরিয়ে যাবে না।

খ. পরিবেশ ও ছায়া ব্যবস্থাপনা

পুকুরের পাড়ে অতিরিক্ত গাছপালা থাকলে তার ছায়ায় জলের তাপমাত্রা কমে যায় এবং প্লাঙ্কটন তৈরিতে বাধা দেয়। তাই ধানী পোনা চাষ পদ্ধতি-তে পুকুরের ডালপালা এমনভাবে কেটে দিন যাতে পর্যাপ্ত সূর্যালোক জলে পড়ে। বিশেষ করে উত্তর ও পূর্ব দিক যতটা সম্ভব ফাঁকা রাখার চেষ্টা করবেন। পাড়ে কলাগাছ রাখা মাছ চাষের জন্য ক্ষতিকর। কলাগাছ কাটার পর এর গোড়া পচে গিয়ে গর্ত তৈরি হয়, যা পাড়কে দুর্বল করে এবং ইঁদুর ও সাপের উপদ্রব বাড়ায়।

২. জলের গভীরতা ও বৈজ্ঞানিক খনন পদ্ধতি

ধানী পোনা চাষ পদ্ধতি-তে জলের গভীরতা একটি বড় ফ্যাক্টর। ধানী পোনার জন্য ৪ ফুট থেকে ৬.৫ ফুট জলের গভীরতা আদর্শ হিসেবে ধরা হয়। পুকুরের আয়তন যদি এক একরের বেশি হয়, তবে মাঝখানের গভীরতা ৮ থেকে ১০ ফুট পর্যন্ত হতে পারে। এতে সুবিধা হলো, জলের উপরিভাগ যখন রোদে গরম হয়, তখন মাছেরা নিচের শীতল অংশে আশ্রয় নিতে পারে।

নতুন পুকুর খনন করার সময় সবসময় ৬০ ডিগ্রি অ্যাঙ্গেলে ঢাল (Slope) রাখার চেষ্টা করবেন। অযথা গভীরতা বাড়াবেন না; কারণ ধানী পোনা চাষ পদ্ধতি-তে জলের গভীরতা বেশি হলে সূর্যের আলো তলা পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে না, ফলে প্রাকৃতিক খাদ্য তৈরি ব্যাহত হয় এবং মাছের বৃদ্ধি থমকে যায়।

৩. পুকুর শোধন ও চুন প্রয়োগের গুরুত্ব

পুকুরের মাটির বিষাক্ত গ্যাস দূর করতে চুন বা ক্যালসিয়াম কার্বনেটের বিকল্প নেই। পুকুরে যে স্তর পর্যন্ত সর্বোচ্চ জল ওঠার সম্ভাবনা থাকে, সেই পর্যন্ত চুন ছিটিয়ে দিতে হবে। এটি মাটির অম্লতা নিয়ন্ত্রণ করে এবং ক্ষতিকর জীবাণু ধ্বংস করে।

  • সাধারণ প্রয়োগ: প্রতি শতকে ১ থেকে ২ কেজি চুন।
  • বিশেষ সংশোধন: আপনার পুকুরে যদি কাদা বা পাকের পরিমাণ বেশি থাকে, তবে প্রতি শতকে ৩ থেকে ৪ কেজি (১-২ কেজিতে কাজ হবে না) চুন প্রয়োগ করা প্রয়োজন। এটি মাটির গভীরে থাকা বিষাক্ত গ্যাস বের করে আনতে সাহায্য করবে।

৪. প্রাকৃতিক খাদ্য ও প্লাঙ্কটন তৈরির জাদুকরী কৌশল

পুকুরে পোনা ছাড়ার অন্তত ৭-১০ দিন আগে প্রাকৃতিক খাদ্য তৈরি করা বাধ্যতামূলক। ১৬-১৭% প্রাকৃতিক খাদ্য মজুত না থাকলে মাছের পোনা অপুষ্টিতে ভুগবে। প্রাকৃতিক খাদ্য দুই প্রকার:

ক. জু-প্ল্যাঙ্কটন (প্রাণীকণা) তৈরি

এটি মাছের জন্য উচ্চ প্রোটিন সমৃদ্ধ জৈব খাদ্য। পুকুরে জৈব সার বা গোবর প্রয়োগ করলে জল হালকা বাদামি রঙের হয়, যা প্রাণীকণার উপস্থিতি জানান দেয়।

পদ্ধতি: প্রতি শতকে ৮-১০ কেজি শুকনো গোবর ছড়িয়ে দিন। যদি দেখেন ৪-৫ দিন পরেও জলের রং বদলাচ্ছে না, তবে প্রতি শতকে ৬০০ গ্রাম কাঁচা গোবর ও ১৫০ গ্রাম সরিষার খৈল একত্রে ৫ দিন পচিয়ে জলে ছিটিয়ে দিন। এটি মাছের চাহিদামতো তলাবাসি প্রাণী বা কেঁচো জাতীয় খাদ্য তৈরি করবে।

খ. ফাইটো-প্ল্যাঙ্কটন (উদ্ভিদকণা) তৈরি

ধানী পোনা চাষ পদ্ধতিএটি জলকে স্বচ্ছ সবুজ রঙে রূপান্তরিত করে। উদ্ভিদকণা সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় পুকুরে প্রচুর অক্সিজেন তৈরি করে।

প্রয়োগ বিধি: প্রতি শতকে DAP ৫০ গ্রাম ও ইউরিয়া ৫০ গ্রাম ব্যবহার করুন। মনে রাখবেন, ফসফেট বা DAP জলে গুলতে সময় লাগে, তাই এগুলি ২-৩ ঘণ্টা আগে ভিজিয়ে রাখুন। প্রয়োগের ৩০ মিনিট আগে ইউরিয়া মিশিয়ে সমস্ত পুকুরে ছড়িয়ে দিন। পটাশ ব্যবহারের চেয়ে এই পর্যায়ে DAP ও ইউরিয়া বেশি কার্যকর

৫. শুকনো পুকুরে ধঞ্চে চাষের সুবিধা

যদি আপনার পুকুর অনেকদিন শুকনো পড়ে থাকে, তবে সেখানে ধঞ্চে বীজ ছিটিয়ে দিতে পারেন। পুকুর প্রস্তুতির সময় যখন লাঙল বা ট্রাক্টর দিয়ে মাটি চষবেন, তখন ধঞ্চে গাছগুলোকে মাটির সাথে মিশিয়ে দিন। এটি মাটিতে প্রচুর পরিমাণে নাইট্রোজেন এবং প্রাকৃতিক সার বৃদ্ধি করে, ধানী পোনা চাষ পদ্ধতি-তে মাছের বৃদ্ধির জন্য লটারি জেতার মতো লাভজনক।

৬. ধানী পোনা মজুত বিধি ও সঠিক অনুপাত

ধানী পোনা চাষ পদ্ধতি-তে সবচেয়ে বড় ভুল হয় পোনা মজুতের সময়। অনেকে অতিরিক্ত লাভের আশায় বেশি পোনা মজুত করে ফেলেন, ফলে মাছের বৃদ্ধি থমকে যায়। সাধারণত পালন পুকুরে ধানী পোনা থেকে চারা পোনা তৈরি করা হয়। রেণু পোনা ছাড়ার ১ মাস পর (পরিচর্যা ভালো হলে তার আগেই) ধানী পোনা তৈরি হয়। যখন পোনার ওজন ৩-৫ গ্রাম হয়, তখন সেটিকে ৪-৬ ইঞ্চি মাপের চারা পোনা তৈরির জন্য নির্দিষ্ট ঘনত্বে মজুত করতে হবে।

মজুত ঘনত্ব ও সংখ্যা নির্ণয়

একটি আদর্শ লালন পুকুরে প্রতি শতকে সর্বোচ্চ ১০০০টি ধানী পোনা মজুত করা যেতে পারে। পোনা পুকুরে ছাড়ার আগে অবশ্যই শোধন করে নিতে হবে। এক্ষেত্রে মাছের সঠিক অনুপাত বা রেশিও বজায় রাখা খুব জরুরি। ১০টি মাছের হিসাব ধরে নিচে কয়েকটি জনপ্রিয় সেট দেওয়া হলো:

  • সেট-১: কাতলা : রুই : মৃগেল = ২ : ৪ : ৪
  • সেট-২: কাতলা : রুই : মৃগেল : কমন কার্প = ৩ : ৪ : ১ : ২
  • সেট-৩: কাতলা : রুই : মৃগেল : গ্রাসকার্প = ৩ : ৩৩ : ৩ : ১
  • সেট-৪: কাতলা : রুই : মৃগেল : সিলভার কার্প : গ্রাসকার্প : কমন কার্প = ২ : ২ : ১.৫ : ২ : ১ : ১.৫

উদাহরণ: আপনি যদি প্রথম সেটটি বেছে নেন এবং প্রতি শতকে ১০০০টি পোনা ছাড়েন, তবে সংখ্যাটি হবে— কাতলা ২০০টি, রুই ৪০০টি এবং মৃগেল ৪০০টি। বাড়ির পুকুর হোক বা কেনা পোনা, ছাড়ার আগে অবশ্যই লবণ জল বা পটাশ জলে ডুবিয়ে শোধন করে নেবেন।

৭. মাছের পোনার খাবার তালিকা ও প্রয়োগ কৌশল

মাছের দ্রুত বৃদ্ধির জন্য শুধু প্রাকৃতিক খাদ্যের ওপর নির্ভর করলে চলবে না। ধানী পোনা থেকে চারাপোনা তৈরির কৌশল হিসেবে সম্পূরক খাদ্যের ভূমিকা অপরিসীম।
ফিশ ফিড বা ভাসমান খাবার

ধানী পোনা চাষ পদ্ধতি-তে আপনি যদি বাজার থেকে কেনা ভাসমান ফিশ ফিড ব্যবহার করেন, তবে প্রতিদিন মাছের মোট দৈহিক ওজনের ২০% হারে খাদ্য দিতে হবে। খাবারের দানা হতে হবে ০.০৫ এমএম সাইজের এবং তাতে অন্তত ৩০% প্রোটিন থাকতে হবে। এই খাবারটি দিনে ২-৩ বারে ভাগ করে দেবেন। মাছ যত বড় হবে, ফিডের সাইজও সেই অনুযায়ী বাড়িয়ে দিতে হবে।
হাতে তৈরি সম্পূরক খাদ্য

অনেকে সাশ্রয় করতে হাতে তৈরি খাবার দিতে পছন্দ করেন। এক্ষেত্রে সরিষার খৈল এবং রাইস ব্রান (বা চালের কুঁড়ো) ১:১ অনুপাতে মিশিয়ে ব্যবহার করবেন।

  • খাবার চার্ট: ১০ কেজি খাদ্য তৈরি করতে চাইলে ৫ কেজি খৈল, ৫ কেজি রাইস ব্রান এবং ১০০ গ্রাম লবণ মিশিয়ে দিন।
  • প্রয়োগ পদ্ধতি: প্রথম ১ মাস সবকিছু ভালো করে গুঁড়ো করে ছেঁকে নিয়ে পুকুরে ছড়িয়ে দিন। ১ মাস পর থেকে সরিষার খৈল আগের দিন ভিজিয়ে রেখে রাইস ব্রান ও লবণ মিশিয়ে লাড্ডুর মতো বড় বড় বল বানিয়ে নিন। এই বলগুলো বাঁশের ঝুড়ি বা প্লাস্টিকের ট্রে-তে করে জলের নিচে নির্দিষ্ট জায়গায় বসিয়ে দিন।
  • বিশেষ সংশোধন: ধানী পোনা চাষ পদ্ধতি-তে মাছের ওজন ৩-৫ গ্রাম হলে ২০% খাবার দেওয়া ঠিক আছে। কিন্তু ১০ দিন পর পর মাছের ওজন পরীক্ষা করে খাবারের হার ২% করে কমাতে হবে। যখন মাছের ওজন ২৫ গ্রাম ছাড়িয়ে যাবে, তখন দৈনিক খাবারের হার ৩-৫% এর মধ্যে রাখতে হবে।

৮. নিয়মিত পরিচর্যা ও জল ব্যবস্থাপনা

পুকুরের জল এবং তলার পরিবেশ ঠিক না থাকলে সব পরিশ্রম বৃথা যাবে। তাই লালন পুকুর ব্যবস্থাপনা-য় নিয়মিত কিছু কাজ করতে হয়:

  • চুন ও লবণের ব্যবহার: প্রতি মাসে একবার প্রতি শতকে ১০০ গ্রাম লবণ এবং বিঘা প্রতি ৩ কেজি ৩০০ গ্রাম লবণ প্রয়োগ করতে হবে। এটি প্রয়োগের ফলে মাছের ফুলকা পরিষ্কার থাকে এবং রোগবালাই কম হয়। চুন অবশ্যই ২৪ ঘণ্টা আগে ভিজিয়ে রেখে পরের দিন সকাল ১০টার পর রৌদ্রোজ্জ্বল দিনে প্রয়োগ করবেন। মেঘলা দিনে চুন দেবেন না।
  • চিটেগুড় বা মোলাসেস: মাসে একবার প্রতি শতকে ৫০ গ্রাম চিটেগুড় জলে গুলে সারা পুকুরে ছড়িয়ে দিন। এটি জলের কার্বন-নাইট্রোজেন রেশিও ঠিক রাখে।
  • সারের পুনঃপ্রয়োগ: জলের স্বচ্ছ সবুজ বা বাদামি রং বজায় রাখতে প্রতি মাসে একবার সার দিতে হবে। প্রতি শতকে ৬.৫০ কেজি গোবর এবং ১.৫০ কেজি সরিষার খৈল ৫ দিন পচিয়ে নিয়ে সাথে বিঘা প্রতি ৫ কেজি DAP মিশিয়ে সকাল ১০টার পর ছিটিয়ে দিন।

আড়ও দেখুন মাছের রোগের কারণ ও প্রতিকার: আধুনিক মাছ চাষের পূর্ণাঙ্গ গাইড

৯. স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও জাল টানা

বন্ধুরা, মাছ সুস্থ আছে কি না তা বোঝার সেরা উপায় হলো জাল টানা। প্রতি ৭ দিন অন্তর পুকুরে জাল টানুন। এতে তলার বিষাক্ত গ্যাস বেরিয়ে যায় এবং মাছের সাঁতার কাটার ফলে শারীরিক ব্যায়াম হয়, যা দ্রুত বৃদ্ধিতে সাহায্য করে। মাছ এক পুকুর থেকে অন্য পুকুরে নেওয়ার প্রয়োজন হলে আগের দিন খাবার দেওয়া সম্পূর্ণ বন্ধ রাখতে হবে।

সঠিকভাবে এই ধানী পোনা চাষ পদ্ধতি অনুসরণ করলে আপনি খুব অল্প সময়েই সুস্থ-সবল চারা পোনা উৎপাদন করে বাজারে বিক্রি করতে পারবেন অথবা বড় চাষের পুকুরে মজুত করতে পারবেন।

১০. উপসংহার

পরিশেষে বলা যায়, মাছ চাষের সাফল্যে ধানী পোনা চাষ পদ্ধতি একটি শক্তিশালী ভিত্তি হিসেবে কাজ করে। সঠিক সময়ে পুকুর প্রস্তুতি, বৈজ্ঞানিক উপায়ে সারের প্রয়োগ এবং পুষ্টিকর খাবার নিশ্চিত করতে পারলে ধানী পোনা থেকে সুস্থ-সবল চারাপোনা উৎপাদন করা সময়ের ব্যাপার মাত্র। মনে রাখবেন, মাছের স্বাস্থ্যের প্রতি নিয়মিত নজরদারি এবং জলের গুণমান বজায় রাখাই একজন সফল মৎস্য চাষির প্রধান পরিচয়। বন্ধুরা, আমাদের এই প্রতিবেদনে আলোচিত নিয়মগুলো মেনে চললে আপনারা নিশ্চয়ই মাছ চাষে লাভবান হবেন।

কৃষি সুত্র পরামর্শ ও সতর্কতা: মাছের ডিম পোনা বা ডিম উৎপাদন চাষ কার্য শুরু করার পূর্বে, পুকুরে কোন কিছু প্রয়োগের পূর্বে আপনার নিকটবর্তী মৎস বিভাগ থেকে মাছের ডিম পোনা চাষ পদ্ধতি প্রশিক্ষণ বা পরামর্শ নিয়ে করুন । পুকুরের পরিবেশ পরিস্থিতির উপর অনেক সময় আমাদের বলা ব্যবহারিক জিনিস গুলির মাত্রা পরিবর্তন হতে পারে, তাই মৎস বিশেষজ্ঞ এর সাথে পরামর্শ করে প্রয়োগ করুন ।

বাড়িতে বসেই নিজ ভাষায় মৎস বিভাগ ভারত সরকারের এর মৎস বিজ্ঞানীদের সাথে পরামর্শ নিতে টোল ফ্রী নম্বরে ফোন করুন ।

প্রায়ই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন (FAQ)

১. ধানী পোনা কাকে বলে?

উত্তর: রেণু পোনা ছাড়ার ২০-৩০ দিন পর যখন পোনার আকার ১-১.৫ ইঞ্চি হয় এবং ওজন ৩-৫ গ্রাম হয়, তখন তাকে ধানী পোনা বলা হয়।

২. ১ বিঘা পুকুরে কত ধানী পোনা ছাড়া যায়?

উত্তর: বিঘা প্রতি (৩৩ শতক) আদর্শ ঘনত্বে ৩৩,০০০ থেকে সর্বোচ্চ ৩৫,০০০টি ধানী পোনা মজুত করা যায়। তবে চারাপোনা বড় করতে চাইলে ঘনত্ব কিছুটা কমানো ভালো।

৩. ধানী পোনা কত দিনে চারা পোনা হয়?

উত্তর: সঠিক পরিচর্যা এবং নিয়মিত পুষ্টিকর খাবার দিলে ৪৫ থেকে ৬০ দিনের মধ্যেই ধানী পোনা ৪-৬ ইঞ্চি মাপের বড় চারা পোনায় রূপান্তরিত হয়।

৪. ধানী পোনার সেরা খাবার কোনটি?

উত্তর: ধানী পোনার জন্য ৩০% প্রোটিন সমৃদ্ধ ভাসমান ফিশ ফিড সেরা। এছাড়া বাড়িতে তৈরি সরিষার খৈল ও রাইস ব্রানের ১:১ মিশ্রণও খুব কার্যকর।

৫. পুকুরে প্রাকৃতিক খাবার আছে কি না বুঝবো কীভাবে?

উত্তর: পুকুরের জলের রং যদি হালকা বাদামি বা স্বচ্ছ সবুজ দেখায়, তবে বুঝবেন সেখানে পর্যাপ্ত প্রাকৃতিক খাদ্য (প্লাঙ্কটন) আছে। গ্লাসে করে জল তুলে আলোর বিপরীতে দেখলে ছোট ছোট প্রাণীকণাও চোখে পড়ে।

তথ্য সুত্র

  • মৎস বিভাগ ,পশ্চিমবঙ্গ সরকার।
  • ভারতীয় মৎস গবেষণা কেন্দ্র উড়িষ্যা (ICAR-CIFA)
Spread the love

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!
Scroll to Top