
দেশী মাগুর মাছ চাষ পদ্ধতি অত্যন্ত লাভ জনক মাছ চাষ ব্যবসা। বর্তমানে দেশে বিজ্ঞান ভিত্তিক মাছের চাষের পরিমাণ বাড়ছে। মাগুর মাছ যে কোন পতিত বা হাজা-মজা চাষ করা যায় যদি আপনি নিচের পদ্ধতি গুলি অনুসরণ করেন তবে কম খরচে দেশী মাগুর মাছ চাষ করে সফলতা অর্জন করতে পারবেন।
১) পুকুর নির্বাচন :-
ছোট অগভীর পুকুর, যেখানে জলের গভীরতা ৩ থেকে ৪ ফুট সেই সব পুকুর কেই মাগুর মাছ চাষের পক্ষে আদর্শ মনে করা যেতে পারে। পতিত বা হাজা-মজা পুকুরেও চাষ করা সম্ভব। পুকুরের আয়তন ৫ শতক থেকে ৩৩ শতক হলে ভালো হয়।
২) পুকুরের পাড় সংস্কার :-
- পুকুরের পাড় একটু চওড়া রাখা দরকার।
- পাড়ে যাতে ইঁদুর গর্ত না করতে পারে তার প্রতি সজাগ দৃষ্টি রাখতে হবে।
- বর্ষাকালে মাগুর মাছ বুকে হেঁটে বাইরে চলে যাওয়ার চেষ্টা করে তাই পুকুরের পাড় একটু উঁচু রাখতে হবে।
- সবচেয়ে ভালো ব্যবস্থা হল পুকুরের পাড়ের উপর ১-১.৫ ফুট উঁচু ইঁটের প্রাচীর করে দেওয়া। এতে প্রাথমিক খরচ হলেও অনেকদিন স্থায়ী হয়।
- প্রাচীর দেওয়া সম্ভব না হলে পুকুরের পাড়ে চাটাই বা জালের বেড়া দেওয়া যেতে পারে।
৩) পুকুর প্রস্তুতি :-
- পুকুর যদি শুকনো না থাকে তবে প্রথমে পুকুরের জলজ আগাছা অপসারণ করতে হবে।
- প্রতি শতকে তিন ফুট জলের জন্য ৪ কেজি মহুয়া খোল প্রয়োগ করে অবাঞ্ছিত মাছ তুলে ফেলতে হবে।
- মহুয়া খইল দেওয়ার ৭ দিন বাদে প্রতি শতকে ১ থেকে ১.৫ কেজি চুন গুলে সমভাবে জলে ছড়িয়ে দিতে হবে।
- চুন প্রয়োগের পরের দিন তলার মাটি ঘেঁটে দিতে হবে। এতে জৈব পদার্থের দ্রুত বিয়োজন হবে এবং মাগুর মাছের প্রাকৃতিক খাদ্য উপাদান তরান্বিত হবে।
- পুকুরে প্রাকৃতিক খাদ্যকণা উৎপাদন ঠিকমত না হলে প্রতি শতকে ৫০ থেকে ৬০ কেজি গোবর প্রয়োগ করা দরকার।
আড়ও দেখুন পুকুরে ও ট্যাংকে পাবদা মাছ চাষ পদ্ধতি: সম্পূর্ণ লাভজনক গাইডলাইন
৪) চারা মজুত পদ্ধতি :-
- প্রতি শতকে ২৫০ থেকে ৩০০ টি মাগুর মাছের চারা ছাড়া যেতে পারে।
- চারার দৈর্ঘ্য কমপক্ষে ২ ইঞ্চি হওয়া দরকার। চারাগুলি যেন সুস্থ, সবল ও শুড় যুক্ত হয়।
- চারাগুলি পুকুরে ছাড়ার আগে অবশ্যই শোধন করে নিতে হবে।
- শোধন করার জন্য লিটার প্রতি জলে ৮-১০ ফোঁটা ফরম্যালিন মিশিয়ে চারাগুলিকে ১০-১৫ মিনিট ডুবিয়ে রেখে বা ০.৩ শতাংশ অ্যাক্রোফ্লাভিন মেশানো জলে ৫ মিনিট ডুবিয়ে রেখে পুকুরে ছাড়তে হবে।
মাগুর মাছের খাদ্য ব্যবস্থাপনা ও সঠিক প্রয়োগ পদ্ধতি
মাগুর মাছ চাষে সফল হওয়ার প্রধান চাবিকাঠি হলো সঠিক খাদ্য নির্বাচন এবং তা সময়মতো প্রয়োগ করা। মাগুর মাছ সাধারণত নিশাচর প্রকৃতির, অর্থাৎ দিনের বেলা এরা পুকুরের নিচে শুয়ে থাকে এবং রাতে এদের দৌরাত্ম্য ও খাদ্য গ্রহণের হার বেড়ে যায়।
ক. পরিপূরক খাদ্যের ধরণ ও মিশ্রণ
মাগুর মাছের চারা পুকুরে ছাড়ার পরের দিন থেকেই নিয়মিত পরিপূরক খাবার দেওয়া জরুরি। ভালো ফলন পেতে খাবারে প্রোটিনের পরিমাণ কমপক্ষে ৩০ শতাংশ হওয়া প্রয়োজন।
- বাড়িতে তৈরি খাবার: নষ্ট হওয়া চাল বা গম, কমদামী শুকনো মাছ বা চিংড়ির গুঁড়ো এবং ছাগলের নাড়িভুঁড়ি খাবার হিসেবে ব্যবহার করা যায়।
- আদর্শ মিশ্রণ: সহজে পাওয়া যায় এমন উপকরণ যেমন—চালের কুঁড়ো, সরষে খোল ও মাছের গুঁড়ো ১:১:১ অনুপাতে মিশিয়ে মাছকে পরিবেশন করুন।
খ. খাবার প্রয়োগের সঠিক মাত্রা
মাছের ওজন এবং খাবারের ধরণের ওপর ভিত্তি করে দৈনিক খাবারের পরিমাণ নির্ধারণ করতে হয়:
সাধারণ পরিপূরক খাদ্য: মাছের মোট দৈহিক ওজনের ৩-৫ শতাংশ হারে প্রতিদিন খাবার দিতে হবে।
বাণিজ্যিক ভাসমান খাবার: যদি বাজার থেকে কেনা ভালো কোম্পানির ভাসমান ফিশ ফিড ব্যবহার করেন, তবে মাছের মোট ওজনের মাত্র ২ শতাংশ দিলেই চলে।
গ. খাবার দেওয়ার সময় ও নিয়ম (টাইম টেবিল)
মাগুর মাছ রাতের দিকে খেতে বেশি ভালোবাসে, তাই খাবারের বড় অংশটি রাতে দেওয়া উচিত।
বণ্টন: প্রতিদিনের মোট খাবারের ৩০ শতাংশ ভোরে এবং বাকি ৭০ শতাংশ সন্ধ্যার পর দেওয়া ভালো।
সময়সূচী: উন্নত পদ্ধতিতে মোট খাবারকে ২-৩ ভাগে ভাগ করে সন্ধ্যাবেলা, রাত ১০টার পর এবং খুব ভোরে প্রয়োগ করা সবচেয়ে কার্যকর।
ঘ. সঠিক বৃদ্ধি পর্যবেক্ষণ
প্রতি মাসে অন্তত একবার জাল টেনে মাছের গড় দৈহিক ওজন পরীক্ষা করা উচিত। এই ওজনের ওপর ভিত্তি করেই পরবর্তী মাসের প্রতিদিনের খাবারের সঠিক মাত্রা নির্ধারণ করতে হয়।
ঙ. খাদ্য প্রয়োগের ধরণ
- ক) মিশ্র গুঁড়ো খাবার পুকুরের জলের উপর ছড়িয়ে দেওয়া।
- খ) মিশ্র খাবার জল দিয়ে মেখে ঢেলা বা মন্ড তৈরী করে ঝুড়ি বা মাটির পাত্রে পুকুরের তলায় বিভিন্ন জায়গায় রেখে দিলে মাছ ভালোভাবে খায়। এর সুবিধা হল যে, মাছ কতটা খাবার খেয়েছে তা সহজেই জানা যায় এবং সেই মত খাবারের পরিমাণ ঠিক করা যায়।
- গ) ক্রয়কৃত ভাসমান ফিড নির্দিষ্ট জায়গায় পরিবেশন করা হয়।
আড়ও দেখুন গলদা চিংড়ি চাষের আধুনিক পদ্ধতি: চারা মজুত থেকে রোগ বালাই দমন
মাগুর মাছের পরিপূরক মিশ্র খাদ্যের তালিকা
হতে তৈরি কয়েকটি পরিপূরক খাদ্যের উপকরণ ও তাদের মিশ্রণ ১ঃ১ঃ১ অনুপাত দেওয়া হল- নিচের যে কোনও একটি পদ্ধতি অনুসরণ করতে পারেন ।
- ক) স্বল্প মূল্যের শুটকি মাছ/চিংড়ি/রেশম গুটি পোকার গুঁড়ো : চালের কুঁড়ো : বাদাম খইলের গুঁড়ো/সরষের খইলের গুঁড়ো
খ) সামুদ্রিক মাছের গুঁড়ো : বাদাম খইলের গুঁড়ো : গোবর গ্যাস স্লারি - গ) ঝিনুক বা শামুকের মাংস : বাদাম খইলের গুঁড়ো : চালের কুঁড়ো
ঘ) মুরগীর নাড়ি-ভুঁড়ি সিদ্ধ : সয়াবিন খইলের গুঁড়ো : চালের কুঁড়ো - ঙ) মাছের নাড়ি-ভুঁড়ি : সয়াবিন খইলের গুঁড়ো : চালের কুঁড়ো
চ) সামুদ্রিক মাছ সিদ্ধ : সয়াবিন খইলের গুঁড়ো : চালের কুঁড়ো
৬)পুকুরে মাছের পরিচর্যা:-
- ক) প্রতি ১৫ দিন বা মাসে অন্তত একবার জালের সাহায্যে ৪০-৫০ টি মাছ ধরে নমুনা পরীক্ষা করা দরকার। সেই সঙ্গে মাছের স্বাস্থ্য ও তাদের বৃদ্ধির হারও মাপা দরকার। মাছের বৃদ্ধির সাথে সমতা রেখে পরিপূরক খাদ্যের পরিমাণও বাড়ানো যেতে পারে।
- খ) পুকুরে রাসায়নিক সারের ব্যবহার হয় কিন্তু পরিপূরক খাদ্যের জন্যে পুকুরে জু প্লাঙ্কটনের খাদ্য উপস্থিতি জরুরি। এর জন্যে প্রতি মাসে একবার প্রতি শতকে ২০০ গ্রাম রাইস ব্র্যান ২০ গ্রাম মোলাসেস বা চিটে গুড় ও ১ গ্রাম ইস্ট (ইস্টকে সামান্য হালকা গরম জলে মিশিয়ে নিতে হয় ) সব গুলিকে একত্রে করে তাঁর ৩থেকে ৪ গুন্ জল মিশিয়ে একটি বড়ো পাত্রে২৪ ঘন্টা ভিজিয়ে রেখে পরের দিন উপরের জল টুকু সমস্ত পুকুরে ছড়িয়ে দেওয়া হয় এবং পাত্রে জমে থাকা অংশে আবার জল পরিপূর্ণ করে দিয়ে পরের দিন পুকুরে ছড়িয়ে দেওয়া হয়।
- গ। প্রতি মাসে একবার ৩ ফুট জল থাকলে প্রতি শতকে ২০০ গ্রাম চুন ও ২০০ গ্রাম লবন দেওয়া হয়।
- ঘ। প্রতি শতকে মাসে একবার ৫০ গ্রাম মোলাসেস গুলিয়ে পুকুরে ছড়িয়ে দেওয়া হয় এতে অতিরিক্ত এমোনিয়া ভেঙে ফেলে এবং লবন চুনের ব্যবহারে মাছের মল ও অব্যবরিত খাদ্য গুলি শোধন হয়ে বায়োফ্লকে রূপান্তরিত হয় খাদ্য কম লাগে ও রোগ কম হয়।
- ঙ) মাসে একবার শতকে ৪ কেজি গোবর বা কম্পোস্ট ব্যবহার করা হয়।
৮) মাছ উৎপাদন :-
মাগুর মাছ ৬-৭ মাসে বিক্রয় উপযোগী হয়। মাছের ঘনত্ব শতকে ৩০০ টি দিয়ে আধা নিবিড় চাষ পদ্ধতিতে হলে মাগুর মাছ সাধারণতঃ ৬ -৭ মাসে ১২৫-১৫০ গ্রাম ওজনের হয়ে থাকে। এ ধরণের চাষে ক্ষেত্রে মাছের বাঁচার হার শতকরা প্রায় ৮০ ভাগ। ৬-৭ মাসে শুধু মাগুর মাছ চাষে প্রতি শতকে ২৫ কেজি থেকে ৩৫ কেজি মত উৎপাদন পাওয়া যায়।
আড়ও দেখুন আধুনিক মাছ মোটাতাজাকরণ পদ্ধতি: কার্প ফ্যাটেনিং পদ্ধতিতে মাছ চাষ কৌশল
৯. পোনা ও মাগুর মাছের মিশ্র চাষ :-
যে সমস্ত পুকুরে পোনা মাছের চাষ হয় সেই সব পুকুরে পোনা মাছের সঙ্গে মাগুর মাছের চাষও করা যায়। পুকুরের নীচের স্তরে বসবাসকারী মাছ যেমন মৃগেল ও সাইপ্রিনাস কার্পের সংখ্যা কমিয়ে বা বাদ দিয়ে দ্বিগুণ সংখ্যক মাগুর মাছের চারা ছাড়া যায়। চারার দৈর্ঘ্য কমপক্ষে ৫ সেমি হওয়া প্রয়োজন। এদের জন্য আলাদা কোন খাবার দেওয়ার প্রয়োজন হয় না। পোনা মাছের খাবারই এরা খায়। পুকুরের নীচের স্তরের মাছ বাদ দিলে প্রতি শতকে ২৫ -৩০ টি মাগুরের চারা মজুত করা যেতে পারে।
১০. মাগুর মাছ ধরার কৌশল:-
পুকুরে দেশী মাগুর মাছ চাষ পদ্ধতি-তে ছোট পুকুর হলে মাগুর মাছ বাজার বুঝে আহরণ করা সহজ হয়। জাল টেনে প্রথম দিকে বেশির ভাগ মাছ উঠে যায় তবে বাকি মাছ পুকুর শুকিয়ে ধরতে হয়। পোনা মাছের মজুত পুকুরে মাগুরের ফলন তোলা কষ্টকর ব্যাপার। পুকুর শুকনো না করলে সম্পূর্ণ মাছ পাওয়া যায় না। পুকুরের বিভিন্ন জায়গায় যদি মাটির কলসী ফেলে রাখা যায় তাহলে প্রায় ৫০ শতাংশ মাগুর মাছ ধরা পড়ে কারণ এরা এই সব কলসীকে নিজেদের বাসস্থান হিসাবে ব্যবহার করে।
১১. মাগুর মাছ চাষে পরিবেশ গত সমস্যার সমাধান:-
- ১) পুকুরের জলের গভীরতা কম থাকলে গরমের সময় জলের উষ্ণতা দ্রুত বৃদ্ধি পায়। চাষের পুকুরের জলের উষ্ণতা অবশ্যই ৩৫ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেডের নীচে রাখতে হবে। গরমকালে জলের গভীরতা অন্তত ১ মিটার রাখলে এই সমস্যা থেকে অনেকটা রেহাই পাওয়া যায়।
- ২) গরমে অতিরিক্ত শ্যাওলা জন্মালে জলের স্বচ্ছতা হ্রাস পায়। ভোরের দিকে জলে দ্রবীভূত অক্সিজেনের পরিমাণ কমে যায়। জলে কখনও কখনও দ্রবীভূত অ্যামোনিয়া বাড়ে। এই সময় পরিপূরক খাবার কয়েকদিন বন্ধ রাখতে হবে এবং সম্ভব হলে জল পাল্টাতে পারলে ভালো।
১১. মাগুর মাছের রোগের চিকিৎসা :-
- ১) সিউডোমোনাস প্রজাতির ব্যাকটেরিয়া দ্বারা মাগুর মাছের গায়ে ঘা, ঠোঁট লালচে হওয়া, শুড় খসে পড়া রোগের সৃষ্টি হয়। এর প্রতিকার হিসেবে প্রতি কেজি পরিপূরক খাবারের সাথে ১০০ মিলিগ্রাম টেরামাইসিন বা সালফাডাইয়াজিন ৭ দিন ধরে প্রয়োগ করতে হবে।
- ২) ব্যাকটেরিয়া ঘটিত মাগুর মাছের পেটে জল জমা রোগের সৃষ্টি হয়। এর প্রতিকার হিসাবে প্রতি কেজি পরিপূরক খাবারের সাথে ১০০ মিলিগ্রাম অ্যান্টিবায়োটিক ৭ দিন ধরে প্রয়োগ করতে হয়।
- ৩) এক প্রকার কৃমি দ্বারা মাগুর মাছের পেট ফোলা রোগের সৃষ্টি হয়। এর প্রতিকার হিসাবে আক্রান্ত মাছকে পুকুর থেকে তুলে ফেলতে হয়।
আড়ও দেখুন মাছের রোগ ও প্রতিকার পদ্ধতি: ১৫টি প্রধান রোগের লক্ষণ ও চিকিৎসা
উপসংহার
বর্তমান সময়ে দেশী মাগুর মাছ চাষ পদ্ধতি ও পোনা এবং মাগুর মাছের মিশ্র চাষের পরিমাণ বাড়ছে। বেকার সমস্যা সমাধানে মাগুর মাছ চাষ গ্রামাঞ্চলে বৃদ্ধি পাচ্ছে। সেই সাথে বর্তমান সময়ে অধিক ঘনত্বে মাছ চাষের প্রতি চাষীদের আগ্রহ বাড়ছে। কন্টেন্ট টি তে সাধারণ মাগুর চাষের নিয়ম ও রোগ চিকিৎসা সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে। অধিক ঘনত্বে চাষ করতে বিশেষ কিছু বিজ্ঞান ভিত্তিক পদ্ধতি অনুসরণ করতে হয় এবং এর জন্য অভিজ্ঞ মৎস চাষী বা সরকারি বিভাগের মাছ চাষ প্রশিক্ষণ নিয়ে চাষ করলে ঝুকি কম ও উৎপাদন বেশি হয় কম খরচে।
পরই জিজ্ঞাসিত প্রশ্নোত্তর (FAQ)
১. প্রশ্ন: দেশী মাগুর মাছ কত দিনে বড় হয় এবং বাজারে বিক্রির উপযোগী হয়?
উত্তর: সঠিক পুকুর পরিচর্যা এবং উন্নত সুষম খাদ্য ব্যবস্থাপনা বজায় রাখলে দেশী মাগুর মাছ সাধারণত ৫ থেকে ৬ মাসের মধ্যেই বিক্রির উপযোগী হয়ে ওঠে। এই সময়ের মধ্যে প্রতিটি মাছের গড় ওজন প্রায় ১০০ থেকে ১২০ গ্রাম পর্যন্ত হয়, যা বাজারে বেশ ভালো দামে বিক্রি করা যায়।
২. প্রশ্ন: মাগুর মাছের লেজ-পাখনা পচা বা ক্ষত রোগের চিকিৎসা কী?
উত্তর: মাগুর মাছের শরীরে লাল দাগ বা ক্ষত রোগ দেখা দিলে প্রতি শতক পুকুরে পানির গভীরতা বুঝে ১ কেজি চুন ও ১ কেজি লবণ প্রয়োগ করতে হবে। এছাড়া ব্যাকটেরিয়া বা ফাঙ্গাল ইনফেকশন দূর করতে মৎস্য বিশেষজ্ঞের পরামর্শ অনুযায়ী পটাসিয়াম পারমেঙ্গানেট দিয়ে পানি শোধন করলে দ্রুত সুফল পাওয়া যায়।
৩. প্রশ্ন: পোনা ও মাগুর মাছের মিশ্র চাষ কোন কোন মাছের সাথে করা যায়?
উত্তর: দেশী মাগুর মাছের সাথে কার্প জাতীয় মাছ (যেমন- রুই, কাতলা, মৃগেল) অথবা তেলাপিয়া ও সিলভার কার্পের মিশ্র চাষ করা সবচেয়ে লাভজনক। মাগুর মাছ পুকুরের নিচের স্তরে থাকে বলে অন্য স্তরের পোনা ও বড় মাছের খাবারে কোনো ভাগ বসায় না, ফলে একই পুকুর থেকে দ্বিগুণ উৎপাদন সম্ভব হয়।
তথ্য সূত্র
- মৎস বিভাগ পশ্চিমবঙ্গ।
- মৎস বিভাগ বাংলাদেশ (BFRI)।










