
ভূমিকা: ড্রাগন ফল বা ‘কমলম’ কেন চাষ করবেন?
ড্রাগন ফল, যা বর্তমানে ভারতে ‘কমলম’ নামে পরিচিত, এটি কেবল একটি বিদেশি ফল নয়, বরং বর্তমান সময়ের অন্যতম লাভজনক অর্থকরী ফসল। ক্যাকটাস গোত্রীয় এই ফলটি তার অনন্য স্বাদ এবং ঔষধি গুণের জন্য বিশ্বজুড়ে সমাদৃত। এর বাজার চাহিদা এবং উচ্চমূল্যের কারণে পশ্চিমবঙ্গ, ত্রিপুরা, আসাম এবং বাংলাদেশের কৃষকদের কাছে এটি আয়ের প্রধান উৎস হয়ে উঠছে। ড্রাগন চাষ কেবল একদিনের পরিকল্পনা নয়, এটি একটি দীর্ঘমেয়াদী বিনিয়োগ। যদি বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে মাটির স্বাস্থ্যের সঠিক পরিচর্যা করা হয় এবং গাছকে প্রয়োজনীয় পুষ্টি প্রদান করা যায়, তবে একটি ড্রাগন বাগান থেকে একটানা ২৫ থেকে ৩০ বছর পর্যন্ত বাণিজ্যিক ফলন এবং লাভ পাওয়া সম্ভব। অর্থাৎ, একবার সঠিক বিনিয়োগ করলে এটি প্রজন্মের পর প্রজন্ম আয়ের উৎস হয়ে দাঁড়াতে পারে।
উৎপত্তিস্থল ও বৈজ্ঞানিক পরিচিতি
ড্রাগন ফলের আদি নিবাস হলো মেক্সিকো, মধ্য ও দক্ষিণ আমেরিকা। এর বৈজ্ঞানিক নাম Hylocereus spp.। বর্তমানে ভিয়েতনাম এই ফলের বিশ্ববাজারে নেতৃত্ব দিলেও ভারতের মাটি ও আবহাওয়া ড্রাগন চাষের জন্য অত্যন্ত উপযোগী বলে প্রমাণিত হয়েছে।
চাষের সময় ও আবহাওয়া: পশ্চিমবঙ্গ, ত্রিপুরা ও বাংলাদেশের উপযোগিতা
ড্রাগন ফল মূলত গ্রীষ্মমন্ডলীয় এবং উপ-গ্রীষ্মমন্ডলীয় আবহাওয়ার ফসল।
- তাপমাত্রা: ২০°C থেকে ৩০°C তাপমাত্রা এর বৃদ্ধির জন্য আদর্শ। তবে উত্তর-পূর্ব ভারতের পাহাড়ী ও সমতল অঞ্চলের ৬°C থেকে ৪০°C পর্যন্ত তাপমাত্রা এই গাছ সহ্য করতে পারে।
- উপযোগিতা: পশ্চিমবঙ্গ, ত্রিপুরা, আসাম ও বাংলাদেশের আবহাওয়া ড্রাগন চাষের জন্য স্বর্গরাজ্য। বিশেষ করে মে থেকে নভেম্বর মাস পর্যন্ত আমাদের এখানে যে আবহাওয়া থাকে, তা এই ফলের ফলনের জন্য সবচেয়ে ভালো।
ড্রাগন ফলের উন্নত জাতসমূহ
পিডিএফ-এর তথ্য অনুসারে ভারতে মূলত তিনটি প্রজাতির চাষ বেশি হয়:
- Hylocereus polyrhizus: লাল খোসা ও লাল শাঁস (যেমন- জুম্বো রেড, ভিয়েতনাম রেড)।
- Hylocereus undatus: লাল খোসা ও সাদা শাঁস।
- Hylocereus megalanthus: হলুদ খোসা ও সাদা শাঁস (এটি কিছুটা দুষ্পাপ্য)। পরামর্শ: বাণিজ্যিক চাষের ক্ষেত্রে লাল শাঁসের জাতগুলো (Red Flesh) বাজারে বেশি জনপ্রিয়।
মাটির ধরণ ও নির্বাচন
জৈব পদার্থ সমৃদ্ধ বেলে-দোআঁশ মাটি ড্রাগন চাষের জন্য সেরা। মাটির পিএইচ (pH) ৫.০ থেকে ৭.০-এর মধ্যে থাকা উচিত। তবে মনে রাখবেন, জমি যেন নিচু না হয়; কারণ ড্রাগন গাছ জলাবদ্ধতা একদম সহ্য করতে পারে না।
রোপণ দূরত্ব ও চারার সংখ্যা (বিঘা প্রতি হিসেব)
এক বিঘা (৩৩ শতক) জমিতে ড্রাগন চাষের জন্য সাধারণত ৩মি x ৩মি দূরত্বে খুঁটি পুঁততে হয়।
- খুঁটি: ৩৩ শতকে প্রায় ২৮০-৩০০টি খুঁটি প্রয়োজন।
- চারা: প্রতিটি খুঁটির গোড়ায় ৪টি করে চারা দিলে বিঘা প্রতি প্রায় ১,১২০ থেকে ১,২০০টি চারা লাগবে।
কৃষি সূত্র পরামর্শ: কেমন চারা ও খুঁটি নেবেন?
চারা নির্বাচনের ক্ষেত্রে সব সময় বিশ্বস্ত নার্সারি বা মাদার গাছ থেকে নেওয়া শিকড়যুক্ত ‘কাটিং‘ ব্যবহার করুন।
খুঁটি: ড্রাগন গাছ ৩০-৪০ বছর বাঁচে, তাই খুঁটি হতে হবে অত্যন্ত মজবুত। আরসিসি (RCC) বা কংক্রিটের খুঁটি ব্যবহার করুন। খুঁটির উচ্চতা ৫-৬ ফুট হওয়া উচিত এবং মাথায় একটি বাইকের পুরনো টায়ার বা কংক্রিটের রিং লাগাতে হবে যাতে ডালগুলো ছাতার মতো ঝুলে থাকতে পারে।
মাটি তৈরি ও জৈব সার প্রয়োগ পদ্ধতি
জৈব শোধন ও প্রাথমিক পরিচর্যা
চারা রোপণের আগে গর্তের মাটি শোধন করা জরুরি।
- বীজামৃত: চারা লাগানোর আগে শিকড় ‘বীজামৃত’ দিয়ে শোধন করে নিলে চারা পচা রোগ হয় না।
- জীবামৃত: রোপণের পর প্রতি ১৫ দিন অন্তর নিয়মিত জল-এর সাথে জীবামৃত মিশিয়ে দিতে হবে। এটি মাটির অণুজীবের সংখ্যা বাড়াতে জাদুর মতো কাজ করে।
পরিচর্যা ও সার প্রয়োগ
পিডিএফ-এর বৈজ্ঞানিক তথ্য অনুযায়ী, একটি পূর্ণবয়স্ক খুঁটির জন্য বছরে নিম্নলিখিত সার প্রয়োজন:
- গোবর সার: ১১ কেজি
- ভার্মিকম্পোস্ট: ১২ কেজি
- রাসায়নিক (ঐচ্ছিক): ইউরিয়া ১৪৩ গ্রাম, এসএসপি ৫২ গ্রাম ও পটাশ ১৩৮ গ্রাম (বছরে ৫টি কিস্তিতে)।

কেন জৈব সার ও জৈব কীট বিতাড়ক (নিমাস্ত্র, অগ্নিয়াস্ত্র) ব্যবহার করবেন?
রাসায়নিকের পরিবর্তে নিমাস্ত্র ও অগ্নিয়াস্ত্র ব্যবহার করলে:
- ফলের স্বাদ: ফলের মিষ্টতা বা ব্রিক্স (Brix) লেভেল অনেক বাড়ে।
- স্থায়িত্ব: ফল অনেকদিন টাটকা থাকে (Shelf life)।
- ট্রান্সপোর্ট: ফলের বাইরের খোসা শক্ত হয়, যা দূরপাল্লার পরিবহনে সুবিধা দেয়।
- স্বাস্থ্যের সুরক্ষা: কেমিক্যালমুক্ত ফল হিসেবে বাজারে প্রিমিয়াম দাম পাওয়া যায়।
ডাল ও ফল ছাঁটাই (Pruning)
গাছ যখন খুঁটির টায়ারের ওপর উঠে যাবে, তখন ডালগুলোকে নিচের দিকে ঝুলিয়ে দিতে হবে। পুরনো, রোগাক্রান্ত বা সরু ডাল কেটে ফেলতে হবে যাতে মূল কাণ্ড পুষ্টি পায়। একটি ডালে অনেক ফল এলে ১-২টি বড় ফল রেখে বাকি ছোটগুলো ছিঁড়ে দিলে ফলের সাইজ অনেক বড় হয়।
আড়ও দেখুন জীবামৃত (Jeevamrut): প্রাকৃতিক কৃষির মহাবিজ্ঞান ও মাটির হারানো সাম্রাজ্য পুনরুদ্ধারের সূত্র
২. সেচ ব্যবস্থাপনা: সনাতন বনাম আধুনিক ড্রিপ পদ্ধতি
ড্রাগন ক্যাকটাস জাতীয় গাছ হলেও এর ভালো ফলনের জন্য পরিমিত জল একান্ত প্রয়োজন।
- সনাতন পদ্ধতি: অনেক চাষি নালা তৈরি করে প্লাবন সেচ দেন। তবে ড্রাগনের ক্ষেত্রে এটি ঝুঁকিপূর্ণ। অতিরিক্ত জল গোড়ায় জমলে ‘রুট রট’ বা মূল পচা রোগ হয়। যদি সনাতন পদ্ধতিতে সেচ দিতেই হয়, তবে খেয়াল রাখতে হবে যেন মাটি শুধু ভেজা থাকে, কাদা না হয়।
- ড্রিপ বা বিন্দু সেচ পদ্ধতি (আধুনিক): ড্রাগন চাষের জন্য এটিই সবচেয়ে বিজ্ঞানসম্মত উপায়। এতে পাইপের মাধ্যমে সরাসরি গাছের গোড়ায় ফোঁটায় ফোঁটায় জল পড়ে। এতে জলের অপচয় কম হয় এবং আর্দ্রতা বজায় থাকে। গবেষণাপত্র অনুযায়ী, গ্রীষ্মকালে প্রতিটি পোল বা খুঁটির জন্য প্রতিদিন গড়ে ১.৫ থেকে ২ লিটার জল দেওয়া আদর্শ।
- জীবামৃত প্রয়োগ: সেচের জল-এর সাথে জীবামৃত মিশিয়ে সরাসরি গোড়ায় দেওয়া যায় (যাকে ফার্টিগেশন বলে)। প্রতি মাসে অন্তত একবার ড্রাম থেকে সেচের লাইনে জীবামৃত ছেড়ে দিলে মাটির উর্বরতা এবং গাছের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বহুগুণ বেড়ে যায়।
ছাদ বাগানে ড্রাগন চাষের বিশেষ টিপস
যারা ড্রাগন ফল ছাদ বাগানে করতে চান, তাদের জন্য:
- টব: কমপক্ষে ২০ ইঞ্চির ড্রাম বা বড় টব নিন।
- মাটি প্রস্তুতি: ১ ভাগ মাটি, ১ ভাগ বালু এবং ১ ভাগ ভার্মিকম্পোস্টের সাথে কিছু হাড়ের গুঁড়ো ও শিং কুচি মিশিয়ে নিন।
- জল ব্যবস্থাপনা: টবের নিচে যেন জল নিকাশির ভালো ছিদ্র থাকে। অতিরিক্ত জল দিলে ড্রাগনের মূল পচে যায়।
ফুল ফোটা ও পরাগ সংযোগের বিজ্ঞান (Hand Pollination)
ড্রাগন ফুল রাতে ফোটে (সাধারণত রাত ৭টা থেকে ৯টার মধ্যে)।
- পরাগায়ন: অনেক সময় পোকামাকড়ের অভাবে পরাগায়ন হয় না। তাই একটি ব্রাশ দিয়ে পুরুষ ফুলের রেণু স্ত্রী ফুলের গর্ভমুণ্ডে লাগিয়ে দিতে হয়।
- আলোর ব্যবস্থা (Lighting): কৃত্রিম লাইট ব্যবহার করে অমশ মরসুমেও ফুল আনা সম্ভব, তবে আমাদের দেশে প্রাকৃতিক আলোই যথেষ্ট। মে থেকে অক্টোবর মাসে সবচেয়ে বেশি ফুল আসে।
আন্তঃফসল (Intercropping): লাভ ও খরচের হিসেব
ড্রাগন গাছ বড় হতে এবং পূর্ণ ফলন দিতে প্রায় ২ বছর সময় নেয়। এই সময়ে খুঁটিগুলোর মাঝখানের ফাঁকা জায়গা ফেলে না রেখে আন্তঃফসল চাষ করা বুদ্ধিমানের কাজ।
- কতদিন পর্যন্ত চাষ করা যাবে: রোপণের প্রথম ২ থেকে ৩ বছর পর্যন্ত অনায়াসে আন্তঃফসল নেওয়া যায়। এরপর ড্রাগন গাছের ঝোপ বড় হয়ে গেলে ছায়ার কারণে অন্য ফসল হওয়া কঠিন হয়ে পড়ে।
- কী কী ফসল চাষ করা ভালো: ড্রাগনের জন্য এমন ফসল বেছে নিতে হবে যা মাটির নাইট্রোজেন বাড়ায় এবং উচ্চতায় কম হয়। যেমন—শিম, মটরশুঁটি, চীনাবাদাম, ধনেপাতা, পালং শাক বা স্বল্প মেয়াদী সবজি।
- কেন ভালো: আন্তঃফসল চাষ করলে জমিতে আগাছা কম হয় এবং মাটির রস বজায় থাকে।
পুষ্টিগুণ ও স্বাস্থ্য উপকারিতা
ড্রাগন ফলে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি, ম্যাগনেসিয়াম এবং অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট থাকে। এটি রক্তে হিমোগ্লোবিন বাড়াতে এবং ইমিউনিটি বৃদ্ধিতে সাহায্য করে। চিকিৎসকরা ডায়াবেটিস ও হৃদরোগীদের এই ফল খাওয়ার পরামর্শ দেন। তবে কিডনি রোগীদের ক্ষেত্রে পটাশিয়াম বেশি থাকায় ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
ড্রাগন চাষে বিনিয়োগ ও আয়ের বৈজ্ঞানিক খতিয়ান: লাভ-ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ হিসেব
ড্রাগন চাষে প্রথম বছর বিনিয়োগ কিছুটা বেশি হলেও, দ্বিতীয় বছর থেকে এটি লাভের মুখ দেখাতে শুরু করে। নিচে এক বিঘা (৩৩ শতক) জমির আদর্শ হিসেব দেওয়া হলো
এক বিঘা (৩৩ শতক) জমিতে ড্রাগন চাষের প্রাথমিক খরচ ও আয়ের হিসেব
| খাতের বিবরণ | পরিমাণ / সংখ্যা | আনুমানিক খরচ (টাকা) | মন্তবব্য |
|---|---|---|---|
| কংক্রিট খুঁটি (পোল) | ২৮০ – ৩০০ টি | ১,২০,০০০ – ১,৪০,০০০ | মাথায় টায়ার বা রিং সহ |
| উন্নত জাতের চারা | ১,১২০ – ১,২০০ টি | ৫০,০০০ – ৬০,০০০ | প্রতি খুঁটিতে ৪টি চারা |
| জমি তৈরি ও গর্ত খনন | ল্যাম্পসাম | ১০,০০০ – ১৫,০০০ | জৈব সার ও শোধন সহ |
| সার ও লেবার খরচ | প্রথম বছর | ২০,০০০ – ২৫,০০০ | জল সেচ ও পরিচর্যা |
| মোট প্রাথমিক বিনিয়োগ | ২,০,০০০০ -২,৪০,০০০ | এটি এককালীন বড় বিনিয়োগ | |
| বার্ষিক ফলন (২য় বছর+) | ৩,০০০ – ৪,০০০ কেজি | গাছ যত বাড়বে ফলন তত বাড়বে | |
| বার্ষিক গড় আয় | ১৫০ টাকা/কেজি দরে | ৪,৫০,০০০ – ৬,০০,০০০ | বাজার দর অনুযায়ী পরিবর্তনশীল |
ড্রাগন বাগানে আন্তঃফসলের (Intercropping) অতিরিক্ত লাভ
ড্রাগন বাগান পূর্ণ ফলন দেওয়ার আগে (প্রথম ২-৩ বছর) ফাঁকা জায়গায় নিচু জাতের ফসল চাষ করে বাড়তি আয় করা সম্ভব।
| আন্তঃফসলের নাম | চাষের সময়কাল | বিঘা প্রতি খরচ (টাকা) | আনুমানিক লাভ (টাকা) | ড্রাগন গাছের উপকারিতা |
|---|---|---|---|---|
| মটরশুঁটি / বিন | শীতকাল | ৫,০০০ – ৭,০০০ | ১০,০০০ – ১৫,০০০ | মাটিতে নাইট্রোজেন যোগ করে |
| ধনেপাতা / শাক | সারা বছর | ৩,০০০ – ৪,০০০ | ৭,০০০ – ৮,০০০ | আগাছা দমন ও মাটির রস রক্ষা |
| চীনাবাদাম | খরিফ মরসুম | ৬,০০০ – ৮,০০০ | ১২,০০০ – ১৪,০০০ | মাটির অণুজীবের সক্রিয়তা বাড়ায় |
| গাছ আলু / কচু | বর্ষাকাল | ৪,০০০ – ৫,০০০ | ৮,০০০ – ১০,০০০ | জমির সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করে |
কৃষি সুত্র বিশেষ সতর্কতা
- জল ব্যবস্থাপনা: ড্রাগন চাষে বন্যার মতো জল দেওয়া ভুল পদ্ধতি, কৃষি বিভাগ গবেষণা অনুযায়ী ড্রাগন একটি ক্যাকটাস জাতীয় গাছ, তাই বিন্দু সেচ বা হালকাভাবে ড্রিপের মাধ্যমে জল দেওয়া সঠিক যাতে শিকড় পচা রোগ না হয়।
- বীজ শোধন: রাসায়নিক দিয়ে চারা শোধন ভুল পদ্ধতি হবে। আপনার নির্দেশিত ‘বীজামৃত’ এবং ‘জীবামৃত’ ব্যবহারের বৈজ্ঞানিক গুরুত্ব এখানে উল্লেখ করা হয়েছে যাতে ফলের গুণমান ও স্বাদ বাড়ে।
- পরাগায়ন সচেতনতা: ড্রাগন ফুল দিনের বেলা পরাগায়ন করা একটি ভুল পদ্ধতি, যেহেতু ড্রাগন ফুল রাতে ফোটে, তাই রাত ৭:৩০ থেকে ৮:৩০ এর মধ্যে কৃত্রিম পরাগায়ন করা সঠিক যাতে ফলের আকার বড় হয় এবং ফুল ঝরা বন্ধ হয়।
- চুন ব্যবস্থাপনা: মাটির পিএইচ (pH) পরীক্ষা না করে চুন প্রয়োগ করা ভুল পদ্ধতি , নিয়মিত মাটির পিএইচ (pH) বজায় রাখতে নিয়মিত চুন ব্যবহার করা সঠিক।
- চাষ প্রশিক্ষণ: ড্রাগন চাষ শুরু করার আগে বাজার মূল্য জেনে নিবেন, কোথায় বিক্রি করবেন এবং নিকটবর্তী কৃষি বিভাগ বা কৃষি বিজ্ঞান কেন্দ্র ,উদ্যানপালন বিভাগে পরামর্শ করে চাষ শুরু করবেন।
উপসংহার
ড্রাগন চাষ কেবল শখের বিষয় নয়, এটি একটি দীর্ঘমেয়াদী লাভজনক ব্যবসা। সঠিক বিজ্ঞানসম্মত পদ্ধতি, উন্নত চারা এবং নিয়মিত জৈব পরিচর্যা করলে ড্রাগন বাগান থেকে ৩০-৪০ বছর পর্যন্ত নিয়মিত আয় করা সম্ভব। আপনি যদি একজন সচেতন কৃষক হন, তবে আজই শুরু করুন আপনার ড্রাগন স্বপ্নের বাগান।
প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্নাবলী (FAQ)
প্রশ্ন: ড্রাগন ফল চাষে কত দিনে ফল পাওয়া যায়?
উত্তর: ড্রাগন চারা রোপণের সাধারণত ১২ থেকে ১৫ মাস পর থেকেই ফল আসা শুরু হয়। তবে ভালো এবং বাণিজ্যিক ফলন পেতে ১৮ থেকে ২৪ মাস সময় লাগে। যদি আপনি উন্নত জাতের বড় কাটিং বা চারা রোপণ করেন, তবে সময় কিছুটা কম লাগতে পারে।
প্রশ্ন: এক বিঘা জমিতে ড্রাগন চাষে খরচ কত হয়?
উত্তর: ১ বিঘা (৩৩ শতক) জমিতে ড্রাগন চাষে প্রাথমিক খরচ (খুঁটি, চারা, জমি তৈরি ও লেবার) প্রায় ২.৫ থেকে ৩ লক্ষ টাকা। এর মধ্যে বড় খরচ হলো কংক্রিটের খুঁটি এবং উন্নত জাতের চারা। তবে একবার বাগান তৈরি হয়ে গেলে পরবর্তী ২৫-৩০ বছর শুধু পরিচর্যা খরচ ছাড়া বাড়তি বড় বিনিয়োগ লাগে না।
প্রশ্ন: ড্রাগন গাছে কত দিন পর পর জল দিতে হয়?
উত্তর: ড্রাগন গাছে জল দেওয়ার বিষয়টি নির্ভর করে আবহাওয়ার ওপর। সাধারণত গ্রীষ্মকালে মাটি শুকিয়ে গেলে ২-৩ দিন অন্তর হালকা সেচ দেওয়া ভালো (প্রতি খুঁটিতে ১.৫-২ লিটার)। বর্ষাকালে সেচের প্রয়োজন হয় না, বরং নিকাশি ব্যবস্থার দিকে নজর দিতে হয়। ড্রিপ বা বিন্দু সেচ পদ্ধতি ড্রাগনের জন্য সবচেয়ে উপযোগী।
প্রশ্ন: ড্রাগন গাছের ফুল কেন ঝরে যায়?
উত্তর: ড্রাগন ফুল ঝরে যাওয়ার প্রধান কারণ হলো পরাগায়নের অভাব। ড্রাগন ফুল রাতে ফোটে, তাই অনেক সময় প্রাকৃতিক পরাগায়ন ঠিকমতো হয় না। এছাড়া মাটিতে বোরন বা পটাশ সারের অভাব এবং অতিরিক্ত জল বা ছত্রাকের আক্রমণ থাকলেও ফুল ঝরে যেতে পারে। হাত দিয়ে কৃত্রিম পরাগায়ন (Hand Pollination) করলে এই সমস্যা ৯০% কমে যায়।
প্রশ্ন ৫: ড্রাগন ফল চাষের সবচেয়ে ভালো জাত কোনটি?
উত্তর: বর্তমানে বাজারে এবং চাষিদের কাছে ‘রেড ফ্লেশ’ বা লাল শাঁসযুক্ত জাতগুলো সবচেয়ে জনপ্রিয়। বিশেষ করে জুম্বো রেড, ভিয়েতনাম রেড এবং বাংলাদেশের বারি ড্রাগন ফল-১ বাণিজ্যিক চাষের জন্য সেরা বলে গণ্য হয়। এগুলোর মিষ্টতা বেশি এবং চাহিদা অনেক।







![বস্তায় আদা চাষ পদ্ধতি: ১টি বস্তায় ৩ কেজি আদা পাওয়ার ৭টি গোপন কৌশল [২০২৬ আপডেট] বস্তায় আদা চাষ পদ্ধতি ও মাটি তৈরির সঠিক নিয়ম - ১টি বস্তায় ৩ কেজি ফলন](https://krishisutra.com/wp-content/uploads/2026/02/bostay-ada-chash-podhati-krishi-sutra-300x169.webp)


