
জৈষ্ঠ্য ও আষাঢ় মাসের এই সন্ধিক্ষণে আবহাওয়া অত্যন্ত পরিবর্তনশীল থাকে। একদিকে তীব্র গরম, অন্যদিকে বর্ষার আগমন। এই সময়ে সঠিক পরিকল্পনা না করলে চাষে বড় ক্ষতি হতে পারে। নিচে জুন মাসে কি কি সবজি চাষ করা যায়? এবং সামগ্রিক চাষবাসের একটি সম্পূর্ণ গাইডলাইন দেওয়া হলো।
১. জুন মাসে কি কি সবজি চাষ করা যায়? (সবজি ও শাকের উন্নত জাত)
এই মরসুমে যে সমস্ত গ্রীষ্মকালীন সবজি চাষ ও জাত নিয়ে আমরা আলোচনা করব, তা নিচে দেওয়া হলো। জুন মাসে কি কি সবজি চাষ করা যায়? ও জাত গুলি নিজের জমিতে চাষ করলে ফলন অনেক বেশি পাওয়া যায়:
- ঢ্যাঁড়শ / ভেন্ডি: পুসা সাওয়ানি, অর্ক অনামিকা, প্রভনী ক্রান্তি, পঞ্চমুখী।
- ঝিঙে: পুসা নাসদার, সাতপুতী, হাইব্রিড শতাব্দী, ময়না।
- করলা ও উচ্ছে: জৌনপুরী, কোয়েম্বাটুর লং, পলি হাইব্রিড, নামধারী, উন্নত গ্রীন।
- চিচিঙ্গা: কোয়েম্বাটুর শর্ট, আইএইচআর-২০৪, স্থানীয় উন্নত লতা।
- ধুধুল / পুরল: স্থানীয় সিলেকশন জাত, পুসা চিকনি।
- চালকুমড়ো: ইন্দু, জৌনপুরী, হাইব্রিড ময়না।
- মিষ্টি কুমড়ো: পুসা বিশ্বাস, অর্ক চন্দন, হাইব্রিড সোহিনী।
- লাউ: পুসা সামার প্রোলিফিক লং, রাজেন্দ্র চমত্কার, অর্ক বাহার।
- শসা: পুসা সংযোগ, শীতল, জাপানি লং গ্রীন, মালিনী।
- বেগুন: পুসা পার্পল লং, মুক্তকেশী, বনগাঁও模块, সুফলা।
- লঙ্কা: সূর্যমুখী, পুসা জবালা, বুলেট, কৃষ্ণা।
- টমেটো (গ্রীষ্মকালীন): পুসা শীতল, অর্ক রক্ষক, অর্ক সম্রাট, রুচি।
- পটল: দামোদর, সায়ন্তন, স্বর্ণ অলংকার (লতা কাটিং)।
- কাঁকরোল: সবুজ সোনা, কোলন-১, কোলন-২ (স্থানীয় উন্নত জাত)।
- বরবটি: পুসা ফাল্গুনী, পুসা দোফসলী, অর্ক গরিমা।
- ফরাস বিন: পুসা পার্বতী, কন্টেন্ডার।
- গুঁড়ি কচু / মুখী কচু: পঞ্চমুখী, বিলাসী, ডেনিস।
- ওল: গজেন্দ্র, বিধান কুসুম।
- পুঁই শাক: পুসা কীর্তি, লাল পুঁই, সবুজ লতা।
- ডাঁটা শাক: কোয়েম্বাটুর-১, পুসা কিরণ, কাটোয়া ডাঁটা।
- কলমি শাক: পুসা মুক্তা, স্থানীয় লতা কলমি (জল সহ্যকারী জাত)।
- নোটে শাক: বড় নোটে, কাঁটা নোটে (স্থানীয় জাত)।
২. পূর্ববর্তী ফসলের পরিচর্যা, সার, ওষুধ ও জল নিকাশী
যাঁরা মে মাসে বা তার আগে ফসল বুনেছিলেন, তাঁদের জন্য এই গ্রীষ্মকালীন সবজি চাষ ও ফসল চাষ ব্যবস্থাপনা জুন মাসে ফসল পরিচর্যা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
- জল নিকাশী করণীয় কাজ: জুন মাসে যেকোনো সময় ভারী বৃষ্টিপাত শুরু হতে পারে। তাই সবজি ক্ষেতের আল কেটে নর্দমা তৈরি রাখুন যাতে জমিতে কোনোভাবেই জল জমে না থাকে।
- সার প্রয়োগ ও টপ ড্রেসিং: জুন মাসে সবজি চাষে ঝিঙে, করলা ও ভেন্ডি গাছে ফুল-ফল আসার এই প্রধান সময়। এই সময়ে প্রতি বিঘায় ৫ কেজি পটাস এবং ১০ কেজি নাইট্রোজেন সার উপরি প্রয়োগ করতে হবে।
- রোগ নিরাময় ও ওষুধ: আর্দ্র আবহাওয়ার কারণে ডাউনি মিলডিউ এবং গোড়া পচা রোগ দেখা দিতে পারে। এর সঠিক সমাধান ও ওষুধ ব্যবহারের নিয়ম জানতে [এখানে হাইপারলিংক যুক্ত করুন]।
৩. জুন মাসে কোন কোন ফল চাষ করবে ও জাত
জুন মাসে সবজি চাষ নতুন ফলের বাগান তৈরি বা চারা রোপণের জন্য গর্ত তৈরি করার উপযুক্ত সময়। এই মরসুমের প্রধান ফল ও জাতগুলি হলো:
- আম: আম্রপালি, মল্লিকা, হিমসাগর।
- পেয়ারা: এল-৪৯ (লখনউ ঊনপঞ্চাশ), বারুইপুর, ভিএনআর বিহি। [ বারোমাসি থাই পেয়ারা চাষ পদ্ধতি জানুন ]
- কাঁঠাল: এই বারোমাসি ভিয়েতনামি জাতের কাঁঠাল চারা রোপনের সঠিক সময়। [চাষ পদ্ধতি জানতে এখানে ক্লিক করুন]
- লেবু: পাতিলেবু (কাকজি), গন্ধরাজ, মোসাম্বি।
- পেঁপে: রেড লেডি (৭৮৬), পুসা ম্যাজেস্টি, রাঁচি। [ উন্নত পেপে চাষ জানতে ক্লিক করুন]
৪. ধান চাষ প্রস্তুতি ও বীজতলা পরিচর্যা
আষাঢ় মাসে অমন ধান চাষের প্রস্তুতি হিসাবে ধান বীজতলা করার সময়। বাড়ির বীজ দিয়ে ধানের বাম্পার ফলন পেতে ধানের বীজ বাছাই ও শোধন করে রোপণ করা উচিত এবং স্বাস্থবান চারা পেতে সঠিক পদ্ধতিতে ধানের বীজতলা তৈরি করতে মাটি শোধন , জৈব সার ও কীটনাশক প্রয়োগ করে সঠিক পরিচর্যা করা আবশ্যক।
৫. জৈব উপায়ে বীজ শোধন ও সার প্রস্তুত প্রণালী
- ৪.১ বীজ শোধন ও বীজামৃত : নতুন বীজ বপনের আগে বীজ বাহিত ছত্রাক রোগ প্রতিরোধ করতে জৈব উপায়ে তৈরি বীজামৃত দিয়ে শোধন করা আবশ্যিক। বীজামৃত তৈরি ও বীজ শোধনের সঠিক নিয়ম জানতে [এখানে ক্লিক করুন]।
- ৪.২ মাটির উর্বরতায় জীবামৃত : মাটিতে উপকারী ব্যাকটেরিয়ার সংখ্যা এবং গাছের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে প্রতি একর জমিতে ২০০ লিটার জীবামৃত স্প্রে বা সেচের জলের সাথে মিশিয়ে দিতে হবে। জীবামৃত প্রস্তুত প্রণালী ও ব্যবহারের পদ্ধতি জানতে [এখানে ক্লিক করুন]।
- ৪.৩ কেঁচোসার প্রয়োগ: জৈষ্ঠ্য আষাঢ় মাসে সবজি চাষ করার সময় মূল জমি তৈরিতে প্রতি শতকে অন্তত ১০-১৫ কেজি ভালো মানের কেঁচোসার মাটির সাথে মিশিয়ে দিন। কেঁচোসার প্রয়োগের উপকারিতা ও ডোজ জানতে [এখানে ক্লিক করুন]।
৫. জৈব কীটনাশক প্রস্তুত ও ব্যবহার বিধি
রাসায়নিক বিষমুক্ত গ্রীষ্মকালীন সবজি চাষ ও জাত সুরক্ষায় নিচে দেওয়া জৈব ওষুধগুলি অত্যন্ত কার্যকর:
- ৫.১ নিমাস্ত্র : চোষক পোকা ও ছোট লার্ভা দমনের জন্য নিমঘটিত এই জৈব ওষুধ দারুণ কাজ করে। নিমাস্ত্র তৈরি ও ব্যবহার বিধি জানতে [এখানে ক্লিক করুন]।
- ৫.২ অগ্নিঅস্ত্র : বেগুন বা লঙ্কার ডগা ও ফল ছেদকারী পোকা দমনের জন্য তীব্র ঝাঁঝালো অগ্নিঅস্ত্র ব্যবহার করা হয়। অগ্নিঅস্ত্র প্রস্তুত প্রণালী ও স্প্রে করার নিয়ম জানতে [এখানে ক্লিক করুন]।
- ৫.৩ ব্রহ্মাস্ত্র : বড় আকারের ক্যাটারপিলার বা লেদা পোকা দমনের জন্য ব্রহ্মাস্ত্র অত্যন্ত শক্তিশালী। ব্রহ্মাস্ত্র কীটনাশক ব্যবহারের নিয়ম জানতে [এখানে ক্লিক করুন]।
৬. মাশরুম চাষ পদ্ধতি ও পরিচর্যা
জুন মাসের আর্দ্র আবহাওয়া মিল্কি মাশরুম (Milky Mushroom) এবং অয়েস্টার মাশরুম (Oyster Mushroom) চাষের জন্য অত্যন্ত অনুকূল।
- ৬.১ বেড প্রস্তুতি ও করণীয়: স্পন বা মাশরুমের বীজ রোপণের আগে খড় ভালো করে সেদ্ধ করে জীবাণুমুক্ত করে নিতে হবে। ঘরের আর্দ্রতা ৭০-৮০% বজায় রাখতে দেওয়ালে ও মেঝেতে হালকা জলের ছিটা দিন।
- ৬.২ মাশরুম চাষ পদ্ধতি: বাণিজ্যিক উপায়ে কম খরচে মাশরুমের বেড তৈরি, ফলন তোলা এবং রোগ দমনের সম্পূর্ণ গাইডলাইন জানতে [এখানে ক্লিক করুন]।
৭. পশুপালন ব্যবস্থাপনা ও চিকিৎসা
গ্রীষ্ম ও বর্ষার এই সন্ধিক্ষণে পশু-পাখির নানাবিধ রোগব্যাধি ছড়ায়। তাই খামারীদের এই মাসে বাড়তি সতর্ক থাকতে হবে।
- ৭.১ হাঁস পালন: গরমের ধকল থেকে বাঁচাতে হাঁসের জলের সাথে ইলেকট্রোলাইট এবং ভিটামিন সি মেশাতে হবে। উন্নত পদ্ধতিতে হাঁসের চিকিৎসা জানতে [এখানে ক্লিক করুন]।
- ৭.২ মুরগি পালন: এই সময়ে রানীক্ষেত এবং গামবোরো রোগের প্রতিষেধক সময়মতো দিতে হবে। মুরগি পালন ও পোল্ট্রি খামারের আধুনিক রোগ চিকিৎসা পদ্ধতি জানতে [এখানে ক্লিক করুন]।
- ৭.৩ ছাগল পালন: বর্ষা আসার আগেই ছাগলের পিপিআর (PPR) রোগের টিকাকরণ সম্পন্ন করুন। লাভজনক ছাগল পালন ও আধুনিক মাচা পদ্ধতি জানতে [এখানে ক্লিক করুন]।
- ৭.৪ গরু পালন: এই সময়ে গবাদি পশুর খুরা রোগ (FMD) বা চটকা রোগের প্রকোপ বাড়ে। উন্নত জাতের গরু পালন ও ডেইরি খামার ব্যবস্থাপনা জানতে [এখানে ক্লিক করুন]।
- ৭.৫ শুকর পালন: শুকরের ঘরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ করা ও নিয়মিত কৃমিনাশক ওষুধ খাওয়ানো জরুরি। বাণিজ্যিক শুকর পালন ও খামারীদের রোগ নিরাময় গাইড জানতে [এখানে ক্লিক করুন]।
৮. মৎস্য চাষে জুন মাসের করণীয়
আষাঢ় মাসে সবজি চাষ এর পাশাপাশি মাছ চাষের পুকুর প্রস্তুতি এবং নতুন মাছের চারা বা পোনা ছাড়ার কাজ পুরোদমে শুরু হয়।
- ৮.১ পুকুর প্রস্তুতি: পোনা ছাড়ার আগে পুকুরে চুন প্রয়োগ (বিঘায় ২৫-৩০ কেজি) করতে হবে। রাক্ষুসে মাছ ও ক্ষতিকর অণুজীব দূর করতে মহুয়ার খৈল প্রয়োগ করুন।
- ৮.২ চাষ পদ্ধতি: জলের অম্লতা ও ক্ষারত্ব (pH) ঠিক রেখে বৈজ্ঞানিক উপায়ে মৎস্য চাষ পদ্ধতি এবং চারাপোনা মজুতের নিয়ম জানতে [এখানে ক্লিক করুন]।
৯. কৃষি ব্যবসা পরিচালনা
জুন মাসে ফসল পরিচর্যার সাথে এখন ভুট্টা, বোরো ধান এককভাবে বিক্রি করার চেয়ে দলগতভাবে চাষ ও বিপণন করলে ফসলের সঠিক বাজার মূল্য পাওয়া যায় এবং মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য কমে।
- ৯.১ প্রোডিউসর গ্রুপ (PG): গ্রামের ১০-১৫ জন সক্রিয় কৃষক বা স্বনির্ভর দলের মহিলাদের নিয়ে একটি ছোট পিজি বা উৎপাদক গোষ্ঠী তৈরি করা যায়। [জানতে এখানে ক্লিক করুন]
- ৯.২ কৃষক উৎপাদক সংগঠন (FPO): বড় স্তরে লাইসেন্স ও সরকারি অনুদান পেয়ে বীজ, সারের ব্যবসা এবং সরাসরি বড় কোম্পানিতে ফসল সরবরাহের জন্য এফপিও বা কৃষক উৎপাদক কোম্পানি গঠন করা অত্যন্ত লাভজনক। কৃষক উৎপাদক সংগঠন (FPO) গঠনের নিয়মাবলী জানতে [জানতে এখানে ক্লিক করুন]।
১০. উপসংহার
জুন মাসে কি কি সবজি চাষ করা যায়? এই পরিবর্তনশীল আবহাওয়া যেমন চ্যালেঞ্জিং, তেমনই সঠিক গ্রীষ্মকালীন সবজি চাষ ও ফসল চাষ ব্যবস্থাপনা মেনে চললে এটিই হতে পারে বছরের সবচেয়ে লাভজনক সময়। জৈষ্ঠ্য আষাঢ় মাসে সবজি চাষ করার সময় অতিরিক্ত রাসায়নিক সার ব্যবহার না করে বীজামৃত ও জীবামৃতের মতো জৈব উপাদানের ওপর ভরসা রাখলে মাটির স্বাস্থ্য ভালো থাকে এবং উৎপাদন খরচ কমে। সঠিক সময়ে পশুপালনের টিকাকরণ এবং এফপিও (FPO) এর মাধ্যমে দলগত বিপণনই পারে একজন কৃষককে প্রকৃত স্বাবলম্বী করে তুলতে।
প্রায়ই জিজ্ঞাসিত প্রশ্নোত্তর (FAQ)
১. জুন মাসে কোন কোন সবজি চাষ করলে সবচেয়ে বেশি লাভ হয়?
উত্তর: জুন মাসে বা আষাঢ়ের শুরুতে ঢ্যাঁড়শ (ভেন্ডি), ঝিঙে, চিচিঙ্গা, করলা, চালকুমড়ো এবং শসা চাষ করলে সবচেয়ে বেশি লাভ পাওয়া যায়। এই সময়ে বাজারে গ্রীষ্মকালীন সবজির ভালো চাহিদা থাকে, ফলে চাষীরা সঠিক দাম পান।
২. আষাঢ় মাসের বর্ষায় সবজি ক্ষেত নষ্ট হওয়া থেকে বাঁচানোর উপায় কী?
উত্তর: বর্ষার মরসুমে গ্রীষ্মকালীন সবজি চাষে প্রধান চ্যালেঞ্জ হলো গোড়া পচা রোগ। এটি এড়াতে জমি তৈরির সময়ই জল নিকাশী নর্দমা কেটে রাখতে হবে যাতে ক্ষেতে জল না জমে। এছাড়া ডগা ও ফল ছেদকারী পোকা দমনের জন্য নিয়মিত ব্রহ্মাস্ত্র বা অগ্নিঅস্ত্রের মতো জৈব কীটনাশক ব্যবহার করা উচিত।
৩. গ্রীষ্মকালীন সবজি চাষে ফলন বাড়াতে কোন সার দেওয়া উচিত?
উত্তর: গ্রীষ্মকালীন ফসলে ফুল ও ফল আসার সময় মাটির উর্বরতা বাড়াতে কেঁচোসার (Vermicompost) অত্যন্ত কার্যকর। এর পাশাপাশি গাছের দ্রুত বৃদ্ধি এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানোর জন্য প্রতি একর জমিতে ২০০ লিটার জীবামৃত সেচের জলের সাথে মিশিয়ে দিলে ফলন ৯০% পর্যন্ত বৃদ্ধি পায়।
তথ্য সূত্র
- বিধানচন্দ্র কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (BCKV) মরসুম ভিত্তিক চাষ নির্দেশিকা।
- উত্তরবঙ্গ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (UBKV)।
- ভারতীয় কৃষি গবেষণা পরিষদ (ICAR)
- ভাষ পালেকর প্রাকৃতিক কৃষি (SPNF)
- ডিরেক্টরেট অফ মাশরুম রিসার্চ (DMR)।
- ক্ষুদ্র কৃষক কৃষি-ব্যবসা কনসোর্টিয়াম (SFAC)










