প্রধানমন্ত্রী ফসল বীমা যোজনা (PMFBY) ২০২৬: ফর্ম ফিলাপ ও ক্ষতিপূরণের নিয়ম

প্রধানমন্ত্রী ফসল বীমা যোজনা (PMFBY) আবেদন পদ্ধতি। আবেদনের ও স্ট্যাটাস চেইক অনলাইন লিংক। খাড়িফ মরশুমে প্রধানমন্ত্রী ফসল/শস্য বীমা যোজনা লাস্ট ডেট ২০২৬, PMBSY application Process and status check
প্রধানমন্ত্রী ফসল বীমা যোজনা (PMFBY) আবেদন পদ্ধতি।

আমাদের দেশে চাষবাস সম্পূর্ণভাবে আবহাওয়ার ওপর নির্ভরশীল। অনেক সময় কঠোর পরিশ্রম করে ফসল ফলানোর পর হঠাৎ বন্যা, খরা, শিলাবৃষ্টি বা পোকার আক্রমণে চোখের সামনে সমস্ত ফসল নষ্ট হয়ে যায়। এইরকম প্রাকৃতিক দুর্যোগে কৃষকদের চরম আর্থিক ক্ষতি থেকে বাঁচাতে ভারত সরকার একটি দারুণ জনকল্যাণমূলক প্রকল্প চালু করেছে, যার নাম প্রধানমন্ত্রী ফসল বীমা যোজনা।

সহজ ভাষায় বলতে গেলে, এটি হলো ফসলের সুরক্ষাকবচ। সামান্য কিছু টাকা জমা দিয়ে প্রধানমন্ত্রী শস্য বীমা যোজনা আবেদন করে রাখলে, প্রাকৃতিক কারণে ফসল নষ্ট হলে সরকার তার পুরো ক্ষতিপূরণ দেয়। খাড়িফ মরশুমে ১৫ জুলাই থেকে প্রধানমন্ত্রী ফিমা যোজনা লাস্ট ডেট ৩১ আগষ্ট ২০২৬ পর্যন্ত আবেদন চলবে পশ্চিমবঙ্গে।

১. এক নজরে: প্রধানমন্ত্রী ফসল বীমা যোজনা (PMFBY) ২০২৬

বিষয়বিস্তারিত তথ্য
PMFBY ফুল ফর্মPradhan Mantri Fasal Bima Yojana (প্রধানমন্ত্রী ফসল /শস্য বিমা যোজনা)
মূল উদ্দেশ্যপ্রাকৃতিক দুর্যোগ, পোকা বা রোগের আক্রমণে ফসলের ক্ষতি হলে কৃষকদের আর্থিক সুরক্ষা ও বিমা প্রদান নিশ্চিত করা।
চালুর তারিখ১৮ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৬ সালে এটি প্রথম চালু হয়।
প্রবর্তক সরকারভারত সরকার (কেন্দ্রীয় সরকার)।
আবেদনের সময়বছরে মূলত দুবার আবেদন হয়— খারিফ মরশুম (বর্ষাকালীন চাষ) এবং রবি মরশুম (শীতকালীন চাষ)। সরকারের নোটিফিকেশন অনুযায়ী নির্দিষ্ট শেষ তারিখের মধ্যে আবেদন করতে হয়।
খারীফ ২০২৬প্রধানমন্ত্রী ফসল বীমা যোজনা আবেদন শুরু ৭ জুলাই – ৩১ আগষ্ট।
বিমা কোম্পানিএগ্রিকালচার ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি অফ ইন্ডিয়া (AIC) সহ বিভিন্ন তালিকাভুক্ত বেসরকারি কোম্পানি (যেমন- HDFC ERGO, SBI General)।
আবেদন পদ্ধতিঅনলাইন (PMFBY পোর্টাল) এবং অফলাইন (ব্যাংক বা কৃষি অফিস)।
ক্ষতিপূরণের সময়ফসলের ক্ষতি যাচাই এবং চূড়ান্ত রিপোর্ট জমা হওয়ার সাধারণত ৩০ থেকে ৪৫ দিনের মধ্যে টাকা সরাসরি ব্যাংক অ্যাকাউন্টে ঢোকে।
প্রিমিয়ামের হারখারিফ ফসলের জন্য ২%, রবি ফসলের জন্য ১.৫% এবং বাণিজ্যিক/উদ্যানপালন ফসলের জন্য ৫%।
বিশেষ সুবিধাখরা বা প্রতিকূল আবহাওয়ায় জমিতে জলের অভাব ঘটলে বা ফসল রোপণ করতে না পারলেও বিমার সুবিধা পাওয়া যায়।

নোট: পশ্চিমবঙ্গের কৃষকদের জন্য এই সুবিধার সমতুল্য প্রকল্প হলো বাংলা শস্য বিমা, যা সম্পূর্ণ বিনামূল্যে প্রদান করা হয়। [বাংলা শস্য বিমা প্রকল্পে আবেদন করতে এখানে ক্লিক করুন]

২. কোন কোন ফসলের ওপর বীমা করা যায়?

এই যোজনার অধীনে প্রায় সমস্ত প্রধান ফসলের ওপরই বীমা করার সুবিধা রয়েছে। মরসুম অনুযায়ী সেগুলিকে নিচে ভাগ করে দেওয়া হলো:

  • খরিফ মরসুমের ফসল: আমন ও আউশ ধান, ভুট্টা, পাট, তৈলবীজ এবং বিভিন্ন ধরণের ডালশস্য। ( পশ্চিমবঙ্গে ধান ও ভুট্টা)
  • রবি মরসুমের ফসল: বোরো ধান, গম, সর্ষে, আলু, মসুর ডাল, তিসি এবং রবি মরসুমের অন্যান্য সবজি।
  • বাণিজ্যিক ও উদ্যানপালন ফসল: বিভিন্ন ধরণের বার্ষিক ফল, পান চাষ, আদা, হলুদ এবং বিশেষ কিছু দামী ফসল।

৩. কৃষকদের কত টাকা প্রিমিয়াম (Premium) দিতে হয়?

প্রধানমন্ত্রী শস্য বীমা যোজনা আবেদন করার জন্য যে টাকা জমা দিতে হয়, তাকে প্রিমিয়াম বলে। সাধারণত বীমার প্রিমিয়াম অনেক বেশি হয়, কিন্তু ফসল বীমা যোজনায় খরচের সিংহভাগ টাকা সরকার নিজে দেয়। কৃষকদের মাত্র নামমাত্র কিছু টাকা দিতে হয়, যার হিসাব নিচে দেওয়া হলো:

  • খরিফ ফসলের জন্য: মোট বীমা রাশির মাত্র ২% (২ টাকা) দিতে হয়। অর্থাৎ, ১০০ টাকার বীমা করতে কৃষক দেবেন মাত্র ২ টাকা, বাকি ৯৮ টাকা দেবে সরকার।
  • রবি ফসলের জন্য: মোট বীমা রাশির মাত্র ১.৫% (১ টাকা ৫০ পয়সা) দিতে হয়।
  • বাণিজ্যিক ও ফল-সবজি চাষের জন্য: বার্ষিক বা উদ্যানপালন ফসলের ক্ষেত্রে প্রিমিয়ামের হার কিছুটা বেশি, যা হলো মোট বীমা রাশির ৫% (৫ টাকা)।

৪. ফসল বীমা করার নিয়ম ও শর্তাবলী

দেশের যেকোনো প্রকৃত চাষি এই যোজনার সুবিধা নিতে পারেন। আবেদনের প্রধান শর্ত ও যোগ্যতাগুলি হলো:

  • নিজস্ব জমির মালিক: যে সমস্ত কৃষকের নিজের নামে চাষের জমি বা খতিয়ান রয়েছে, তাঁরা আবেদন করতে পারবেন।
  • লিজ বা ভাগচাষী: যদি আপনার নিজের জমি না থাকে এবং আপনি অন্য কারও জমি চুক্তিপত্র বা লিজ নিয়ে চাষ করেন, তবে আপনিও এই বীমা পাওয়ার যোগ্য।
  • কেসিসি (KCC) নেওয়া কৃষক: আগে ব্যাংক থেকে লোন নেওয়া কৃষকদের জন্য এই বীমা বাধ্যতামূলক ছিল, কিন্তু বর্তমানে এটি সম্পূর্ণ ঐচ্ছিক (Voluntary)। লোন নেওয়া বা না নেওয়া—সব ধরণের কৃষকই এখন নিজের ইচ্ছামতো এই বীমা করতে বা বাদ দিতে পারেন।

৫. PMFBY আবেদনের জন্য কী কী নথিপত্র লাগে?

প্রধানমন্ত্রী ফসল বীমার আবেদন প্রক্রিয়াটি সঠিক ও ঝামেলামুক্ত রাখতে নিচে দেওয়া কাগজপত্রগুলি আগে থেকেই গুছিয়ে রাখা প্রয়োজন:

  • ১. পরিচয়পত্র : আবেদনকারী কৃষকের আধার কার্ড এবং ভোটার কার্ড।
  • ২. ব্যাংক পাসবই: কৃষকের নিজস্ব ব্যাংক অ্যাকাউন্টের পাসবইয়ের প্রথম পাতার জেরক্স (যেখানে অ্যাকাউন্ট নম্বর ও IFSC কোড পরিষ্কার দেখা যায়)। ব্যাংক অ্যাকাউন্টটি অবশ্যই সচল এবং আধার লিঙ্কড হতে হবে।
  • ৩. জমির নথিপত্র: চাষের জমির সাম্প্রতিক খতিয়ান, পর্চা বা দলিলের কপি।
  • ৪. ফসল রোপণের শংসাপত্র: কৃষক ওই জমিতে নির্দিষ্ট ফসলটি বুনেছেন বা রোপণ করেছেন, তার একটি প্রমাণপত্র। এটি সাধারণত স্থানীয় কৃষি আধিকারিক ( KPS) বা গ্রাম পঞ্চায়েত প্রধানের কাছ থেকে সার্টিফাই করিয়ে নিতে হয়।
  • ৫. ভাগচাষীদের ক্ষেত্রে চুক্তিপত্র: নিজস্ব জমি না থাকলে জমির আসল মালিকের সাথে করা লিজ বা ভাগচাষের চুক্তিপত্র জমা দিতে হবে।

বিশেষ দ্রষ্টব্য- আপনি যদি PM কিষান নতুন আবেদন ও স্ট্যাটাস চেক করতে চান তো এই লিংকে ক্লিক করুন।

৬. প্রধানমন্ত্রী ফসল বীমা যোজনা ফর্ম ফিলাপ 2026

ফসল বীমার আবেদন মূলত দুইভাবে করা যায়—অনলাইন এবং অফলাইন। কৃষকেরা তাঁদের সুবিধামতো যেকোনো একটি মাধ্যম বেছে নিতে পারেন:

ক) অফলাইন আবেদন পদ্ধতি:

  • আপনার নিকটবর্তী কমার্শিয়াল ব্যাংক, গ্রামীণ ব্যাংক বা সমবায় সমিতি, CSC (তথ্যমিত্র কেন্দ্র)-তে গিয়ে ফসল বীমার ফর্ম তুলতে পারেন।
  • এছাড়া আপনার ব্লকের সহ-কৃষি অধিকর্তার (ADA) অফিসে বা স্থানীয় সহজ তথ্য মিত্র কেন্দ্রে গিয়ে ফর্ম জমা দেওয়া যায়।

খ) প্রধানমন্ত্রী ফসল বিমা যোজনা ২০২৬ আবেদন অনলাইন পদ্ধতি

আপনি নিজেই সরাসরি প্রধানমন্ত্রী ফসল বীমা যোজনার অফিশিয়াল পোর্টাল আবেদন করতে নিচের নীল বটম টি তে ক্লিক করুন।

ধাপে ধাপে নির্দেশিকা

  • ধাপ ১: উপরের লিংকে ক্লিক করে অফিসিয়াল পোর্টালে যান এবং ‘Farmer Corner’-এ টাচ করুন।
  • ধাপ ২: নতুন হলে ‘Guest Farmer’ হিসেবে নিজের নাম ও মোবাইল নম্বর দিয়ে রেজিস্টার করুন।
  • ধাপ ৩: বর্তমান মরশুম, বছর এবং আপনার ফসলের নাম সিলেক্ট করুন।
  • ধাপ ৪: আপনার ব্লক, মৌজা এবং জমির খতিয়ান/দাগ নম্বর ইনপুট করুন।
  • ধাপ ৫: প্রয়োজনীয় ডকুমেন্টস (যেমন- পরিচয়পত্র, ব্যাংক পাসবই এবং জমির পর্চা) আপলোড করে সামান্য প্রিমিয়াম অনলাইনে জমা দিন এবং রসিদটি প্রিন্ট করে রাখুন।

বিশেষ সতর্কবার্তা: প্রতিটি ফসলের বীমা করার একটি নির্দিষ্ট সময়সীমা বা লাস্ট ডেট (Deadline) থাকে। সাধারণত খরিফ ফসলের জন্য জুলাই-আগস্ট এবং রবি ফসলের জন্য ডিসেম্বর-জানুয়ারি মাসের মধ্যে আবেদন প্রক্রিয়া শেষ করতে হয়। তাই সঠিক সময়ে কৃষি অফিসে যোগাযোগ করা জরুরি।

আড়ও দেখুন: কৃষাণ ক্রেডিট কার্ড (KCC) কিভাবে করবেন ও ব্যাংক কিভাবে ঋণ পরিকল্পনা করে জানতে ক্লিক করুন।

৭. প্রধানমন্ত্রী ফসল বিমা যোজনা (PMFBY) স্ট্যাটাস চেক পদ্ধতি

ভারতের অন্যান্য রাজ্যের কৃষকেরা যারা কেন্দ্রীয় পোর্টালে আবেদন করেছেন, তারা নিচের পদক্ষেপে স্ট্যাটাস দেখতে পাবেন। PMFBY-এর অফিসিয়াল পোর্টালে প্রবেশ করতে নিচের বটম এ ক্লিক করুন।

  • ধাপ ১: প্রথমে PMFBY-এর অফিসিয়াল পোর্টালে (pmfby.gov.in) প্রবেশ করুন।
  • ধাপ ১: হোমপেজের মেনুবার থেকে “Application Status” অপশনটিতে ক্লিক করুন।
  • ধাপ ২: এবার আপনার আবেদনের সময় পাওয়া ‘Receipt Number’ বা ‘Application Number’ টি নির্দিষ্ট ঘরে বসান।
  • ধাপ ৩: স্ক্রিনে দেখানো ক্যাপচা কোডটি (Captcha) সঠিকভাবে টাইপ করুন।
  • ধাপ ৪: সবশেষে “Check Status” বোতামে ক্লিক করলেই আপনার বিমাটি কোন পর্যায়ে আছে (যেমন- Approved, Rejected বা Pending) তা দেখতে পাবেন।

​৮. প্রধানমন্ত্রী ফসল বীমা যোজনা ফর্ম ফিলাপ পশ্চিমবঙ্গ ২০২৬

​পশ্চিমবঙ্গে ২০২৬ সালের খরিফ মরশুমে প্রধানমন্ত্রী ফসল বিমা যোজনা (PMFBY) বাস্তবায়নের জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে অনুমোদন দিয়েছে রাজ্য সরকার। গত ১৪ জুলাই ২০২৬ তারিখে কৃষি দপ্তরের 675-AG-11031(11)/1/2026-NAB নং বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে।

​চলতি বছর এই প্রকল্প মূলত দুটি প্রধান ফসলের জন্য কার্যকর করা হবে—যথা, ধান (আউশ ও আমনসহ) এবং খরিফ ভুট্টা। বিশেষ ঘোষণা অনুযায়ী, গ্রামাঞ্চলের পাশাপাশি পৌর বা শহরাঞ্চলের পৌর এলাকার আওতাভুক্ত চাষিরাও সংশ্লিষ্ট সংলগ্ন গ্রাম পঞ্চায়েত বা ব্লকের মাধ্যমে এই বিমার সুবিধা পাওয়ার জন্য আবেদন করতে পারবেন।

ক্ষতিপূরণের পরিমাণ: এই বিমার অধীনে ধানের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ৮০% এবং খরিফ ভুট্টার ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ৯০% পর্যন্ত ক্ষতির নিরাপত্তা মিলবে।

​কবে ও কীভাবে আবেদন করবেন? আবেদনের শেষ তারিখ কবে?

এই প্রকল্পের জন্য নাম নথিভুক্তকরণ ও আবেদন প্রক্রিয়া ইতিমধ্যে শুরু হয়ে গেছে। ফসল বিমায় আবেদন করার শেষ তারিখ, প্রয়োজনীয় নথিপত্র এবং অন্যান্য নিয়মাবলী নিচে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো:

১. নাম নথিভুক্তকরণ ও আবেদন শুরু (১৫ জুলাই ২০২৬ থেকে):

​ক্রপ ক্যালেন্ডার অনুযায়ী ১৫ জুলাই ২০২৬ তারিখ থেকে NCIP (National Crop Insurance Portal) পোর্টালে কৃষকদের নাম নথিভুক্তকরণ এবং আবেদন গ্রহণ শুরু হয়েছে।

​২. আবেদন জমা ও প্রিমিয়াম কাটার শেষ তারিখ (৩১ আগস্ট ২০২৬):

  • ঋণগ্রহীতা চাষি (Loanee): যেসব কৃষকের ব্যাংক থেকে কৃষি ঋণ নেওয়া আছে, তাঁদের প্রিমিয়ামের টাকা সংশ্লিষ্ট ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থেকে কেটে নেওয়ার শেষ সময় ৩১ আগস্ট।
  • অ-ঋণগ্রহীতা চাষি (Non-Loanee): যাঁরা ঋণ নেননি, তাঁরা সিএসসি (CSC – তথ্যমিত্র কেন্দ্র), ব্যাংক, সমবায় সমিতি (PACS), বিমা এজেন্ট অথবা সরাসরি অনলাইনে প্রিমিয়াম জমা দিয়ে আবেদন করার শেষ তারিখ ৩১ আগস্ট ২০২৬।

​৩. চালান তৈরি ও এসএমএস (SMS) প্রাপ্তি (০২ থেকে ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬):

  • ​অ-ঋণগ্রহীতা চাষিদের ক্ষেত্রে ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬-এর মধ্যে চালান তৈরি ও প্রিমিয়াম জমার কাজ শেষ করবে ব্যাংক বা সিএসসি।
  • ​১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬-এর মধ্যে ব্যাঙ্ক ও সিএসসিগুলো কৃষকদের সমস্ত তথ্য পোর্টালে আপলোড সম্পন্ন করবে। তথ্য আপলোড সফল হলে পোর্টালে নিবন্ধিত কৃষকদের মোবাইলে নিশ্চিতকরণ SMS পাঠানো হবে।

​৪. বিমা কোম্পানি কর্তৃক আবেদন যাচাই (৩১ আগস্টের পর ১৫ থেকে ৩০ দিন):

​আপনি আবেদন জমা দেওয়ার পর বিমা সংস্থাগুলো আপনার দেওয়া তথ্য ও নথি পরীক্ষা করবে।
​ঋণগ্রহীতা কৃষকদের ক্ষেত্রে আবেদন পাওয়ার ১৫ দিনের মধ্যে এবং অ-ঋণগ্রহীতা কৃষকদের ক্ষেত্রে ৩০ দিনের মধ্যে আবেদনটি গ্রহণ (Accept), বাতিল (Reject) বা সংশোধনের জন্য ফেরত (Revert) পাঠাবে।

​৫. আবেদনপত্রের ভুল সংশোধন (নোটিশ পাওয়ার ৭ দিনের মধ্যে):

​বিমা কোম্পানি যদি আপনার আবেদনে কোনো ভুল খুঁজে পায় এবং তা সংশোধনের নির্দেশ দেয়, তবে খবর পাওয়ার বা নোটিশ পাওয়ার ৭ দিনের মধ্যে সিএসসি, ব্যাংক বা বিমা মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে ভুল সংশোধন করে পুনরায় আপলোড করতে হবে।

KCC বা ঋণগ্রহীতা কৃষকদের করণীয়:

আপনি যদি KCC নিয়ে ধান বা ভুট্টা চাষ করে থাকেন, তবে আপনাকে নতুন করে বিমার আবেদন করতে হবে না। ব্যাঙ্ক আপনার অ্যাকাউন্ট থেকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে প্রিমিয়ামের টাকা কেটে নেবে। তবে আপনার কেসিসি অ্যাকাউন্টে যেন পর্যাপ্ত টাকা থাকে এবং ব্যাংকের খাতায় আপনার ফসলের নাম (ধান/ভুট্টা) সঠিক তোলা থাকে, তা ৩১ আগস্ট ২০২৬-এর মধ্যে ব্যাংকে গিয়ে একবার নিশ্চিত করে নিন।

৯. ফসল নষ্ট হলে টাকা পাওয়ার নিয়ম ও সময়সীমা

অনেকেই মনে করেন বীমা করলেই টাকা পাওয়া যায়, কিন্তু ফসল নষ্ট হওয়ার পর সঠিক নিয়মটি না মানলে ক্ষতিপূরণ আটকে যেতে পারে। টাকা পাওয়ার আসল নিয়মটি নিচে দেওয়া হলো:

  • ৭২ ঘণ্টার মধ্যে অবগতি: বন্যা, শিলাবৃষ্টি বা অন্য কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগে যদি আপনার মাঠের ফসল নষ্ট হয়, তবে ক্ষতি হওয়ার ঠিক ৭২ ঘণ্টার মধ্যে আপনাকে বীমা কোম্পানি, স্থানীয় কৃষি অফিস অথবা টোল-ফ্রি নম্বরে ফোন করে জানাতে হবে। দেরি করলে দাবি বা ক্লেইম খারিজ হতে পারে।
  • মাঠ পরিদর্শন: আপনার অভিযোগ পাওয়ার পর বীমা কোম্পানির প্রতিনিধি এবং সরকারি কৃষি দপ্তরের অফিসাররা যৌথভাবে আপনার জমিতে এসে ক্ষতির পরিমাণ খতিয়ে দেখবেন এবং ছবি তুলবেন।
  • ক্ষতিপূরণ নির্ধারণ: এছাড়া পুরো এলাকার গড় ফলন দেখার জন্য ‘ক্রপ কাটিং এক্সপেরিমেন্ট’-এর সাহায্য নেওয়া হয়। যদি দেখা যায় প্রাকৃতিক কারণে ওই এলাকার ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে, তবে বীমা পাস করা হয়।
  • ডিরেক্ট বেনিফিট ট্রান্সফার (DBT): সমস্ত ভেরিফিকেশন সফলভাবে সম্পন্ন হওয়ার পর, সরকার এবং বীমা কোম্পানির তরফ থেকে ক্ষতিপূরণের টাকা সরাসরি কৃষকের রেজিস্টার্ড ব্যাংক অ্যাকাউন্টে পাঠিয়ে দেওয়া হয়।

আড়ও দেখুন – আপনি কি কৃষি পরিকাঠামো এর জন্য ঋণ নিতে চাচ্ছেন? ২ কোটি টাকা পযন্ত ঋন জানতে ক্লিক করুন।

প্রায়ই জিজ্ঞাসিত প্রশ্নাবলী (FAQ)

প্রশ্ন: ব্যাংক থেকে কেসিসি (KCC) লোন নেওয়া থাকলে কি ফসল বীমা করা বাধ্যতামূলক?

উত্তর: না, এখন আর বাধ্যতামূলক নয়। আগে এটি অটোমেটিক কেটে নেওয়া হতো, কিন্তু বর্তমানে এটি সম্পূর্ণ ঐচ্ছিক। লোন নেওয়া কৃষকেরা যদি বীমা করতে না চান, তবে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ব্যাংককে লিখিতভাবে জানাতে হবে।

প্রশ্ন: খরা বা বন্যা ছাড়াও কি ফসল কাটার পর মাঠে থাকা ফসলের ক্ষতিপূরণ মেলে?

উত্তর: হ্যাঁ, মেলে। ফসল কাটার পর জমিতে শুকোতে দেওয়া হয়েছে এমন ফসল যদি পরবর্তী ১৪ দিনের মধ্যে কোনো ঘূর্ণিঝড়, শিলাবৃষ্টি বা অসময়ের বৃষ্টিতে নষ্ট হয়, তবে তার জন্যও এই যোজনার অধীনে ‘Post-Harvest Loss’ বা ফসল কাটার পরবর্তী ক্ষতির ক্ষতিপূরণ পাওয়া যায়।

প্রশ্ন: ফসল বিমা যোজনা কী?

উত্তর: ফসল বিমা যোজনা হলো সরকার পরিচালিত এমন একটি বিশেষ আর্থিক সুরক্ষা কবচ, যেখানে খরা, বন্যা, ঝড় বা পোকার আক্রমণের মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগে চাষের ক্ষতি হলে কৃষকদের আর্থিক ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয়। এই যোজনার মূল লক্ষ্য হলো জমিতে সেচের পানির অভাব বা অন্য যেকোনো প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের কারণে কৃষকেরা যাতে ঋণের জালে জড়িয়ে না পড়েন এবং নিশ্চিতভাবে আবার চাষাবাদ শুরু করতে পারেন, তার জন্য সামান্য প্রিমিয়ামের বিনিময়ে ফসলের সম্পূর্ণ বিমা সুরক্ষা প্রদান করা।

আরো দেখতে নিচের লিঙ্কে ক্লিক করুন

Spread the love

Leave a Comment

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Scroll to Top