প্রধানমন্ত্রী কৃষি সিঞ্চায়ী যোজনা (PMKSY): কৃষি সেচ যোজনা সুবিধা ও আবেদন পদ্ধতি।

প্রধানমন্ত্রী কৃষি সিঞ্চায়ী যোজনা (PMKSY): কি কি সেচ সুবিধা দিচ্ছে , আবেদন পদ্ধতি এবং কিভাবে প্রদান করে.
প্রধানমন্ত্রী কৃষি সিঞ্চায়ী যোজনা (PMKSY) আবেদন করে লাভ নিন।

বর্তমান যুগে চাষের খরচ কমাতে এবং ফসলের উৎপাদন বাড়াতে আধুনিক সেচ ব্যবস্থার কোনো বিকল্প নেই। কৃষকদের এই কাজে আর্থিক সহায়তা দিতে আমাদের দেশে কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের দুটি অত্যন্ত জনপ্রিয় প্রকল্প রয়েছে। একটি হলো কেন্দ্রীয় সরকারের প্রধানমন্ত্রী কৃষি সিঞ্চায়ী যোজনা (PMKSY)। এই সেচ প্রকল্পের মূল লক্ষ্যই হলো কৃষকদের জমিতে উন্নত প্রযুক্তির মাধ্যমে জলের অপচয় রোধ করা এবং ড্রিপ বা স্প্রিঙ্কলার সেচ বসানোর জন্য বড় অঙ্কের সরকারি সাবসিডি বা অনুদান দেওয়া। আজকের পোস্টে আমরা এই দুটি যোজনার সুবিধা এবং আবেদন পদ্ধতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করব।

প্রধানমন্ত্রী কৃষি সেচ যোজনা (PMKSY) এক নজরে

কৃষকদের বোঝার সুবিধার্থে প্রধানমন্ত্রী কৃষি সেচ যোজনা (PMKSY) একনজরে দেখার তালিকা নিচে দেওয়া হলো:

বৈশিষ্ট্যবাংলা কৃষি সেচ যোজনা (BKSY)
পরিচালনাকারী সরকারএটি সম্পূর্ণভাবে পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকার দ্বারা পরিচালিত ও অর্থায়িত নিজস্ব প্রকল্প।
সূচনা বা চালুর বছরপশ্চিমবঙ্গ সরকারের এই প্রকল্পটি ২০১৯ সালে রাজ্যে প্রথম চালু হয়।
প্রকল্পের ধরনএটি সম্পূর্ণভাবে রাজ্য স্তরের একটি বিশেষ কৃষি কল্যাণ প্রকল্প।
মূল উদ্দেশ্য রাজ্যের ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের জমিতে আধুনিক ও সূক্ষ্ম সেচ প্রযুক্তির বিস্তার ঘটানো।
প্রধান সুবিধাএই স্কিমে জমিতে ড্রিপ সেচ (Drip) বা স্প্রিঙ্কলার (Sprinkler) বসানোর জন্য সরাসরি অনুদান দেওয়া হয়।
সাবসিডির পরিমাণক্ষুদ্র, প্রান্তিক এবং বিশেষ করে মহিলা কৃষকদের ক্ষেত্রে ১০০% পর্যন্ত সাবসিডি (সম্পূর্ণ বিনামূল্যে) দেওয়া হয়।
আবেদন পদ্ধতি সম্পূর্ণ অফলাইন পদ্ধতি; ব্লকের সহকারী কৃষি অধিকর্তা (ADA) অফিস বা দুয়ারে সরকার ক্যাম্পে ফর্ম জমা দিতে হয়।

আড়ও দেখুন – প্রধানমন্ত্রী কিষাণ সম্মান নিধি (PM-KISAN) সম্পূর্ণ গাইডলাইন ও আবেদন নিয়ম

১. প্রধানমন্ত্রী কৃষি সিঞ্চায়ী যোজনা (PMKSY) কী এবং এর মূল উদ্দেশ্য?

প্রধানমন্ত্রী কৃষি সিঞ্চায়ী যোজনা (PMKSY) হলো কৃষকদের সুবিধার্থে চালু হওয়া দেশের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সরকারি সেচ প্রকল্প। নিচে প্রকল্পের বিবরণ দেওয়া হলো:

প্রধানমন্ত্রী কৃষি সিঞ্চায়ী যোজনা (PMKSY) কি?

এটি ২০১৫ সালে চালু হওয়া একটি কেন্দ্রীয় সরকারি যোজনা, যা কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের যৌথ অর্থায়নে পরিচালিত হয়।

মূল উদ্দেশ্য:

হার খেত কো পানি’: দেশের প্রতিটি চাষযোগ্য জমিতে কোনো না কোনো উপায়ে সেচের পানি পৌঁছে দেওয়া।
‘পার ড্রপ মোর ক্রপ’: পানির অপচয় রোধ করে প্রতি ফোঁটা পানির সঠিক ব্যবহারের মাধ্যমে ফসলের উৎপাদন বাড়ানো।
পরিকাঠামো উন্নয়ন: গ্রামীণ এলাকায় পানির উৎস তৈরি করা, জলবিভাজিকা বা ওয়াটারশেড (Watershed) ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং বড় সেচ প্রকল্পগুলোর আধুনিকীকরণ করা।

২. PMKSY প্রকল্পের সেচ সিস্টেম ও পরিকাঠামো

এই যোজনার বিভিন্ন উপ-বিভাগ (যেমন- ‘Per Drop More Crop’ এবং ‘Har Khet Ko Pani’) মিলিয়ে কৃষকদের মূলত নিচে দেওয়া ৫ থেকে ৬ ধরণের আধুনিক সেচ ব্যবস্থা ও পরিকাঠামো তৈরিতে সাহায্য করা হয়:

ক) ড্রিপ সেচ সিস্টেম

পদ্ধতি: এই সিস্টেমে মাঠজুড়ে সরু সরু প্লাস্টিকের পাইপ বিছিয়ে দেওয়া হয়। পাইপের গায়ে ছোট ছোট ছিদ্র বা ‘ড্রিপার’ থাকে, যা সরাসরি গাছের গোড়ায় ফোঁটা ফোঁটা করে জল পৌঁছে দেয়।

উপকারিতা: এতে জলের অপচয় প্রায় ৭০% পর্যন্ত কমে যায়। জল সরাসরি গাছের শিকড়ে পাওয়ায় গাছের বৃদ্ধি খুব ভালো হয় এবং জমিতে আগাছা কম জন্মায়। এটি লঙ্কা, টমেটো, বেগুন, পেঁপে বা যেকোনো ফল ও সবজি চাষের জন্য দারুণ উপযোগী।

খ) স্প্রিঙ্কলার সেচ সিস্টেম

  • পদ্ধতি: এই সিস্টেমে মাঠের মাঝে পাইপ খাড়া করে তার মাথায় বিশেষ নজেল বা ফাস্ট ফ্লো স্প্রিঙ্কলার লাগিয়ে দেওয়া হয়। পাম্প চালু করলে এই নজেলগুলো ঘুরে ঘুরে ঠিক কৃত্রিম বৃষ্টির মতো চারপাশের ফসলের ওপর জল ছড়িয়ে দেয়।
  • উপকারিতা: কম সময়ে এবং খুব কম জলে অনেকটা জমি একসাথে সেচ দেওয়া যায়। আলু, সর্ষে, গম, ডালশস্য এবং চিনেবাদাম চাষের জন্য স্প্রিঙ্কলার সিস্টেম অত্যন্ত লাভজনক।

গ) রেইনগান বা গান সেচ

  • পদ্ধতি: এটি হলো স্প্রিঙ্কলার সেচেরই একটি বড় এবং শক্তিশালী রূপ। একটি বড় বন্দুকের মতো দেখতে নজেল (Rain Gun) স্ট্যান্ডের ওপর বসানো থাকে, যা উচ্চ চাপে চারদিকে ঘুড়তে ঘুড়তে অনেক দূর পর্যন্ত (প্রায় ৫০ থেকে ১০০ ফুট বা তার বেশি ব্যাসার্ধ জুড়ে) বৃষ্টির মতো জল স্প্রে করতে পারে।
  • উপকারিতা: আখ, ভুট্টা, চা বাগান বা বড় চারণভূমিতে যেখানে সাধারণ পাইপ নিয়ে যাওয়া কঠিন, সেখানে একটি মাত্র রেইনগান বসিয়ে বিশাল বড় জমিতে দ্রুত সেচ দেওয়া সম্ভব হয়।

ঘ) খামার পুকুর বা জল ধারণ পরিকাঠামো

  • পদ্ধতি: এই যোজনার অধীনে কৃষকদের জমিতে বৈজ্ঞানিক উপায়ে ‘খামার পুকুর’ বা ছোট জলাশয় খনন করার জন্য বড় আর্থিক সাহায্য দেওয়া হয়।
  • উপকারিতা: বর্ষাকালের বৃষ্টির জল এই পুকুরে ধরে রাখা হয়। পরবর্তী সময়ে যখন খরা দেখা দেয় বা শীতকালে যখন জলের অভাব হয়, তখন এই জমানো জল দিয়ে অনায়াসে ফসলে সেচ দেওয়া যায়।

ঙ) ভূগর্ভস্থ পাইপলাইন সেচ

  • পদ্ধতি: কুয়ো, বোরওয়েল বা পুকুর থেকে চাষের মাঠ পর্যন্ত মাটির তলা দিয়ে প্লাস্টিক বা পিভিসি (PVC) পাইপলাইন নিয়ে যাওয়ার জন্য এই প্রকল্পে ভর্তুকি দেওয়া হয়।
  • উপকারিতা: মাটির ওপর খোলা নালা দিয়ে জল নিয়ে গেলে রোদে জল শুকিয়ে যায় এবং মাটির নিচে জল চুষে নষ্ট হয়। মাটির তলা দিয়ে পাইপলাইনে জল নিয়ে গেলে এক ফোঁটা জলেরও অপচয় হয় না এবং দূরের জমিতেও সহজে জল পৌঁছানো যায়।

চ) কুয়ো ও পাম্পসেট স্থাপন

পদ্ধতি: যে সমস্ত এলাকায় সেচের জলের অন্য কোনো উৎস নেই, সেখানে নতুন করে অগভীর বা গভীর কুয়ো (Open Wells/Tube wells) তৈরি এবং জল তোলার জন্য ডিজেল বা সৌরচালিত পাম্পসেট (Solar Pumpset) বসানোর ক্ষেত্রেও এই যোজনার মাধ্যমে আর্থিক অনুদান মেলানো হয়।

আড়ও দেখুন প্রধানমন্ত্রী ফসল বীমা যোজনা (PMFBY) ২০২৬: ফর্ম ফিলাপ ও ক্ষতিপূরণের নিয়ম

৩. PMKSY প্রকল্পে আবেদনের যোগ্য কারা?

দেশের প্রকৃত কৃষকদের সেচের সমস্যা দূর করতে এই যোজনার নিয়মাবলী অত্যন্ত নমনীয় রাখা হয়েছে। নিচে দেওয়া ব্যক্তি বা গোষ্ঠীগুলি এই প্রকল্পে আবেদনের যোগ্য:

  • ১. নিজস্ব জমির মালিক: যে সমস্ত কৃষকের নিজের নামে আবাদি বা চাষযোগ্য জমি রয়েছে, তাঁরা সকলেই এই প্রকল্পের সুবিধা পাবেন।
  • ২. ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষক: যাঁদের জমির পরিমাণ ২ হেক্টরের (প্রায় সাড় ৭ বিঘা) নিচে, তাঁরা এই প্রকল্পে অগ্রাধিকার পাবেন এবং সবচেয়ে বেশি (৮৫% থেকে ৯০%) ভর্তুকি পাবেন।
  • ৩. লিজ বা ভাগচাষী: যদি কোনো কৃষকের নিজস্ব জমি না থাকে, কিন্তু তিনি অন্য কারও জমি লিজ (Lease) নিয়ে বা চুক্তিভিত্তিতে ভাগচাষ করছেন, তবে তিনিও আবেদন করতে পারবেন। তবে শর্ত হলো, ওই জমিতে তাঁর চাষের মেয়াদ বা লিজ চুক্তির মেয়াদ অন্তত ৭ বছর অবশিষ্ট থাকতে হবে।
  • ৪. সমবায় ও স্বনির্ভর গোষ্ঠী: কোনো এলাকার কৃষকেরা মিলে যদি কোনো সমবায় সমিতি (Cooperative Society), উৎপাদক গোষ্ঠী (FPO) বা স্বনির্ভর গোষ্ঠী (SHG) তৈরি করে যৌথভাবে চাষ করেন, তবে সেই সমিতিও এই সেচ সিস্টেমের জন্য আবেদন করতে পারে।
  • ৫. SC/ST এবং মহিলা কৃষক: তফশিলি জাতি (SC), তফশিলি উপজাতি (ST) এবং মহিলা কৃষকদের এই প্রকল্পে বিশেষ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়।

৫. PMKSY কৃষি সেচ যোজনাতে আবেদনের নথিপত্র

PMKSY প্রকল্পের অধীনে সরকারি ভর্তুকি সরাসরি পেতে এবং জালিয়াতি রুখতে আবেদন করার সময় নিচে দেওয়া কাগজপত্রগুলি জমা দিতে হয়:

  • ১. পরিচয়পত্র: আবেদনকারী কৃষকের আধার কার্ড (Aadhaar Card) এবং ভোটার কার্ড।
  • ২. জমির নথিপত্র: চাষের জমির সাম্প্রতিক খতিয়ান, পর্চা বা দলিলের কপি। জমিটি যে চাষযোগ্য এবং সেখানে সেচের প্রয়োজন, তা প্রমাণ করার জন্য এটি লাগে।
  • ৩. ভাগচাষীদের ক্ষেত্রে চুক্তিপত্র: নিজস্ব জমি না থাকলে জমির মালিকের সাথে করা রেজিস্টার্ড লিজ চুক্তিপত্র বা পঞ্চায়েত/কৃষি আধিকারিক দ্বারা প্রত্যয়িত প্রমাণপত্র।
  • ৪. ব্যাংক পাসবই: কৃষকের নিজস্ব ব্যাংক অ্যাকাউন্টের পাসবইয়ের প্রথম পাতার জেরক্স। মনে রাখবেন, ব্যাংক অ্যাকাউন্টটির সাথে যেন আধার লিঙ্ক এবং DBT (Direct Benefit Transfer) চালু থাকে, কারণ ভর্তুকির লেনদেন এই অ্যাকাউন্টের মাধ্যমেই হবে।
  • ৫. পাসপোর্ট সাইজ ছবি: আবেদনকারীর ২-৩ কপি সাম্প্রতিক রঙিন ছবি।
  • ৬. কাস্ট সার্টিফিকেট (যদি প্রযোজ্য হয়): কৃষক যদি SC বা ST ক্যাটাগরির হন এবং অতিরিক্ত ভর্তুকি পেতে চান, তবে তাঁর জাতিগত শংসাপত্র বা কাস্ট সার্টিফিকেট জমা দিতে হবে।

৬. PMKSY যোজনায় কীভাবে আবেদন করবেন?

প্রধানমন্ত্রী কৃষি সিঞ্চায়ী যোজনার (PMKSY) আবেদন প্রক্রিয়াটি মূলত রাজ্য সরকারের কৃষি দপ্তর পরিচালনা করে। কৃষকেরা দুইভাবে এই প্রকল্পের জন্য আবেদন করতে পারেন:

  • ১. আপনার ব্লকের সহ-কৃষি অধিকর্তার (ADA) অফিসে অথবা মহকুমা স্তরের কৃষি দপ্তরে যান।
  • ২. সেখান থেকে PMKSY প্রকল্পের ‘পার ড্রপ মোর ক্রপ’ (PDMC) বা ‘হর খেত কো পানি’র নির্দিষ্ট আবেদন ফর্মটি সংগ্রহ করুন।
  • ৩. ফর্মে আপনার নাম, জমির বিবরণ এবং আপনি কোন সেচ সিস্টেমটি (ড্রিপ, স্প্রিঙ্কলার, রেইনগান বা খামার পুকুর) নিতে চান তা পরিষ্কারভাবে উল্লেখ করুন।
  • ৪. ফর্মের সাথে আপনার আধার কার্ড, জমির পর্চা, ব্যাংক পাসবই এবং ছবি সংযুক্ত করে কৃষি অফিসে জমা দিন।

৭. আবেদনের পর সেচ সিস্টেম প্রদান পদ্ধতি

PMKSY প্রকল্পে আবেদনের পর থেকে জমিতে যন্ত্রপাতি বসা বা টাকা পাওয়ার পুরো প্রক্রিয়াটি কয়েকটি ধাপে সম্পন্ন হয়। নিচে এর পুঙ্খানুপুঙ্খ বিবরণ দেওয়া হলো:

  • ধাপ ১: জমি পরিদর্শন ও যাচাইকরণ: আপনার আবেদন জমা পড়ার পর, ব্লক কৃষি দপ্তরের কর্মকর্তারা বা টেকনিক্যাল টিম সরাসরি আপনার চাষের জমিতে আসবেন। তাঁরা যাচাই করে দেখবেন যে আপনার জমিতে জলের উৎস (পুকুর বা বোরওয়েল) আছে কি না এবং আপনি যে সেচ সিস্টেমটির আবেদন করেছেন তা সেখানে বসানো সম্ভব কি না।
  • ধাপ ২: সরকারি অনুমোদন বা ওয়ার্ক অর্ডার: জমি পরিদর্শনের রিপোর্ট পজিটিভ হলে, কৃষি দপ্তর থেকে আপনার নামে একটি অনুমোদন পত্র বা ‘ওয়ার্ক অর্ডার’ (Work Order) জারি করা হবে।
  • ধাপ ৩: তালিকাভুক্ত কোম্পানি নির্বাচন: প্রতিটি রাজ্যে সরকারের তরফ থেকে অনুমোদিত ও রেজিস্টার্ড কিছু ড্রিপ/স্প্রিঙ্কলার প্রস্তুতকারক কোম্পানি বা ডিলারদের তালিকা থাকে। আপনাকে সেই তালিকা থেকে যেকোনো একটি কোম্পানি বেছে নিতে হবে।
  • ধাপ ৪: কৃষকের ভাগের টাকা জমা দেওয়া: যন্ত্রপাতির মোট খরচের ওপর আপনার প্রাপ্য সরকারি ভর্তুকি (ধরে নিন ৮০% বা ৮৫%) বাদ দিয়ে বাকি যে টাকাটি (১৫% বা ২০% কৃষকের নিজস্ব ভাগ) থাকে, তা আপনাকে ড্রাফট বা চেকের মাধ্যমে ওই ডিলারের কাছে বা নির্দিষ্ট অ্যাকাউন্টে জমা করতে হবে।
  • ধাপ ৫: জমিতে যন্ত্রপাতি স্থাপন: আপনার ভাগের টাকা জমা হওয়ার পর, কোম্পানির টেকনিক্যাল টিম আপনার জমিতে এসে সম্পূর্ণ ড্রিপ, স্প্রিঙ্কলার বা রেইনগান সিস্টেমটি নিজ দায়িত্বে বসিয়ে দিয়ে যাবে এবং এটি কীভাবে চালাতে হয় তা আপনাকে শিখিয়ে দেবে।
  • ধাপ ৬: জিও-ট্যাগিং এবং ফাইনাল ভেরিফিকেশন: যন্ত্রপাতি বসানো শেষ হলে কৃষি দপ্তরের অফিসাররা আবার আপনার জমিতে আসবেন। তাঁরা চালু অবস্থায় সেচ সিস্টেমটির ছবি তুলবেন এবং ‘জিও-ট্যাগিং’ (Geo-tagging) করবেন, যাতে প্রমাণ থাকে যে সরকারি অনুদানের জিনিসটি সঠিক জমিতেই ব্যবহার হচ্ছে।
  • ধাপ ৭: ডিরেক্ট বেনিফিট ট্রান্সফার (DBT): জিও-ট্যাগিং সফলভাবে সম্পন্ন হওয়ার পর, সরকার সেই বড় অঙ্কের ভর্তুকির টাকাটি সরাসরি ওই ডিলার বা কোম্পানির অ্যাকাউন্টে পাঠিয়ে দেয় (কিছু কিছু রাজ্যে বা খামার পুকুর কাটার ক্ষেত্রে ভর্তুকির টাকা সরাসরি কৃষকের ব্যাংক অ্যাকাউন্টেও পাঠানো হয়)।

৮. চাষি ভাইদের উদ্দেশ্যে শেষ কথা

প্রধানমন্ত্রী কৃষি সিঞ্চায়ী যোজনা (PMKSY) আমাদের দেশ ও রাজ্যের কৃষকদের জন্য একটি আশীর্বাদ স্বরূপ। প্রথাগত সেচ পদ্ধতিতে যেখানে প্রচুর জল ও শ্রমিকের মজুরি নষ্ট হয়, সেখানে ড্রিপ বা স্প্রিঙ্কলার ব্যবহার করলে কম জলেই দ্বিগুণ ফলন পাওয়া সম্ভব। তাই আর দেরি না করে আজই আপনার স্থানীয় কৃষি অফিসে যোগাযোগ করুন এবং সরকারি ভর্তুকির সুবিধা নিয়ে আপনার চাষবাসকে আরও আধুনিক ও লাভজনক করে তুলুন।

প্রায়ই জিজ্ঞাসিত প্রশ্নোত্তর (FAQ)

১. PMKSY schemes online apply

উত্তর: হ্যাঁ, অনলাইন ও অফলাইন দুভাবেই করা যায়। আপনি কেন্দ্রীয় পোর্টাল (pmksy.gov.in) অথবা আপনার রাজ্যের কৃষি পোর্টাল (যেমন পশ্চিমবঙ্গের ‘মাটির কথা’) থেকে ফর্ম ডাউনলোড করে লোকাল কৃষি অফিসে জমা দিতে পারেন।

২. সরকারি পুকুর কাটার টাকা

উত্তর: নিজের জমিতে সেচের পুকুর কাটার জন্য সরকার মোট খরচের ৫০% থেকে ৯০% পর্যন্ত টাকা ভর্তুকি বা অনুদান হিসেবে দেয়। ছোট কৃষকদের নিজের পকেট থেকে মাত্র ১০% থেকে ১৫% টাকা দিতে হয়।

৩. সেচের পাইপ সাবসিডি

উত্তর: ড্রিপ বা স্প্রিঙ্কলার সেচের পাইপ এবং মেশিন কেনার জন্য ছোট ও প্রান্তিক চাষিরা সর্বোচ্চ ৮৫% থেকে ৯০% পর্যন্ত সরকারি সাবসিডি পান। বাকি সামান্য টাকা ডিলারের কাছে জমা দিতে হয়।

তথ্য সুত্র

  • প্রধানমন্ত্রী কৃষি সিঞ্চায়ী যোজনা (PMKSY) ভারত সরকার।
Spread the love

Leave a Comment

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Scroll to Top