প্রাকৃতিক কৃষি মিশন (NMNF) কি? জানুন ZBNF পদ্ধতি ও সরকারি ক্ষেত বাঁচাও অভিযান

প্রাকৃতিক কৃষি ক্ষেতে সবুজ ধান ক্ষেতে এক ভারতীয় কৃষক হাতে জীবামৃত তরল সারের পাত্র নিয়ে দাঁড়িয়ে আছেন, পাশে একটি দেশি গরু ও একজন কৃষি কর্মকর্তা এবং সামনে 'Natural Farming' লেখা একটি কাঠের সাইনবোর্ড।
প্রাকৃতিক উপায়ে জীবামৃত তৈরি এবং মাঠপর্যায়ে প্রাকৃতিক কৃষির বাস্তব চিত্র।

প্রাকৃতিক কৃষির রূপান্তর: পদ্মশ্রী সুভাষ পালেকরের ZBNF/SPNF মডেল থেকে শুরু হওয়া প্রাকৃতিক কৃষি আজ এক দেশব্যাপী বিপ্লব। হরিয়ানার কুরুক্ষেত্র গুরুকুলে আচার্য দেবব্রত এবং ডাঃ হরিওমের সফল উদ্যোগের পর, ভারত সরকার একে National Mission on Natural Farming (NMNF) এবং প্রতিটি ব্লকে “ক্ষেত বাঁচাও” অভিযানের মাধ্যমে সরকারি রূপ দিয়েছে। রাসায়নিক সার ও বিষমুক্ত চাষের এই জাতীয় আন্দোলন এখন আর কেবল তাত্ত্বিক আলোচনা নয়, মাঠপর্যায়ে শত শত সফল কৃষকের বাস্তব সাফল্যের গল্প আজ এর কার্যকারিতা প্রমাণ করছে।

প্রাকৃতিক কৃষির সংজ্ঞা

সহজ কথায় বলতে গেলে, Natural Farming বা প্রাকৃতিক কৃষি হলো সম্পূর্ণভাবে প্রকৃতির নিয়মকে কাজে লাগিয়ে চাষবাস করার একটি বৈজ্ঞানিক ও টেকসই পদ্ধতি। ভারত সরকারের National Mission on Natural Farming (NMNF) গাইড এবং পদ্মশ্রী সুভাষ পালেকর (SPNF) প্রাকৃতিক কৃষি পদ্ধতির মূল সার মর্ম হলো—এটি কোনো সাধারণ জৈব চাষ নয়, বরং এটি এমন এক কৃষি ব্যবস্থা যেখানে বাজার থেকে কোনো রাসায়নিক সার (যেমন ইউরিয়া বা ডিএপি) কিংবা বিষাক্ত কীটনাশক কিনে জমিতে দেওয়ার প্রয়োজনই পড়ে না। শূন্য খরচে (ZBNF) নীতিতে স্থানীয় বাস্তুতন্ত্র, দেশি গরুর উপাদান এবং উদ্ভিদের নিজস্ব শক্তিকে কাজে লাগিয়ে ফসলের উৎপাদন বজায় রাখাই হলো এর আসল সংজ্ঞা।

প্রাকৃতিক কৃষির ধারণা

প্রাকৃতিক কৃষির মূল ধারণাটি দাঁড়িয়ে আছে একটি বৈজ্ঞানিক সত্যের ওপর। গাছ তার বেড়ে ওঠার জন্য প্রয়োজনীয় পুষ্টির প্রায় ৯৮% অংশ সরাসরি বাতাস, জল এবং সূর্যের আলো থেকে বিনামূল্যে গ্রহণ করে। বাকি যে ২% পুষ্টি উপাদানের প্রয়োজন হয়, তা মাটির বুকেই জমা থাকে। কিন্তু বছরের পর বছর রাসায়নিক ব্যবহারের ফলে মাটির সেই পুষ্টি লক হয়ে গেছে এবং মাটির উপকারী অণুজীব ও কেঁচো নষ্ট হয়ে গেছে। প্রাকৃতিক কৃষির কনসেপ্ট হলো—বাইরে থেকে কোনো কৃত্রিম খাবার না দিয়ে, মাটির ভেতরের সেই ঘুমন্ত কোটি কোটি উপকারী অণুজীবকে আবার জাগিয়ে তোলা, যাতে গাছ নিজে থেকেই মাটি থেকে তার প্রয়োজনীয় পুষ্টি টেনে নিতে পারে। এটি মূলত প্রকৃতির নিজস্ব চক্রকে পুনরায় সচল করার একটি ধারণা।

প্রাকৃতিক কৃষির মূল নীতিসমূহ

প্রাকৃতিক কৃষির ৪টি প্রধান স্তম্ভ বা মূল নীতি নিচে উল্লেখ করা হল:

  • সিন্থেটিক ইনপুট বর্জন : জমিতে বা ফসলে কোনো প্রকার কৃত্রিম রাসায়নিক বিষ, হরমোন বা আগাছানাশক দেওয়া সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।
  • অন-ফার্ম রিসোর্স বা নিজস্ব উপাদান: চাষের জন্য প্রয়োজনীয় সমস্ত অনুঘটক বা কালচার (যেমন- জীবামৃত, বীজামৃত) কৃষকের নিজের খামারেই তৈরি হবে।
  • মালচিং বা মাটির আচ্ছাদন: জমিকে কখনো নগ্ন বা ফাঁকা রাখা যাবে না। খড়, লতাপাতা বা জীবন্ত ফসল দিয়ে মাটিকে সবসময় ঢেকে রাখতে হবে, যাতে মাটির উপরিভাগের তাপমাত্রা ঠিক থাকে।
  • জীববৈচিত্র্য বা বহুমুখী ফসল: একই জমিতে শুধু এক ধরণের ফসল না বুনে একসাথে বা পর্যায়ক্রমে ডালজাতীয় এবং অন্যান্য ফসলের মিশ্র চাষ করা।

আড়ও দেখুন প্রধানমন্ত্রী কিষাণ সম্মান নিধি (PM-KISAN) সম্পূর্ণ গাইডলাইন ও আবেদন নিয়ম

প্রাকৃতিক কৃষির বৈশিষ্ট্যসমূহ

  • চাষের খরচ এক ধাক্কায় শূন্যে : এই পদ্ধতির সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হলো, সার বা ওষুধের জন্য চাষিকে বাজারের ওপর নির্ভর করতে হয় না। ঘরের উপাদান দিয়ে সব তৈরি হওয়ায় উৎপাদন খরচ প্রায় থাকেই না।
  • জল সেচের সাশ্রয়ী ব্যবহার : মালচিং ব্যবহারের ফলে মাটির আর্দ্রতা দীর্ঘক্ষণ বজায় থাকে। ফলে বাষ্পীভবন কম হওয়ায় ফসলে জল অনেক কম লাগে।
  • মাটির অর্গানিক কার্বন বৃদ্ধি: এই পদ্ধতিতে চাষ শুরু করার কিছুদিনের মধ্যেই মাটির স্বাস্থ্য ফিরতে শুরু করে এবং মাটিতে অর্গানিক কার্বনের পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পায়, যা জমির স্থায়ী উর্বরতা নিশ্চিত করে।

বিশেষ দ্রষ্টব্য: সাধারণ মানুষের মনে একটি বড় ভুল ধারণা আছে যে প্রাকৃতিক কৃষিতে প্রচুর জল সেচের প্রয়োজন হয়, যা সম্পূর্ণ ভুল। প্রাকৃতিক কৃষির আচ্ছাদন পদ্ধতি মাটির নিচে শুষ্ক সময়েও আর্দ্র বাষ্পীয় অবস্থা ধরে রাখে, ফলে জল সেচ অনেক কম লাগে।

প্রাকৃতিক কৃষির গুরুত্ব

আজকের দিনে দাঁড়িয়ে আমাদের কৃষি ব্যবস্থার সবচেয়ে বড় সংকট হলো অতিরিক্ত রাসায়নিক সার এবং বিষাক্ত কীটনাশকের ব্যবহার। এর ফলে একদিকে যেমন মাটির স্থায়ী উর্বরতা নষ্ট হচ্ছে, অন্যদিকে ফসলের মাধ্যমে সেই বিষ মানুষের শরীরে প্রবেশ করে নানা মারণ রোগের সৃষ্টি করছে। এই মারাত্মক পরিস্থিতি থেকে মুক্তি পেতে Natural Farming বা প্রাকৃতিক কৃষির গুরুত্ব অপরিসীম।

ভারত সরকারের প্রাকৃতিক কৃষি মিশন নীতি অনুযায়ী, এই পদ্ধতি মাটি এবং পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করার পাশাপাশি কৃষকদের বাজারের ওপর নির্ভরশীলতা সম্পূর্ণ কমিয়ে দেয়। এটি জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে ফসলকে রক্ষা করতে এবং কৃষির বাণিজ্যিক স্থায়িত্ব নিশ্চিত করতে সবচেয়ে বড় ভূমিকা পালন করছে।

প্রাকৃতিক কৃষির সুবিধাসমূহ

প্রাকৃতিক কৃষি বা ন্যাচারাল ফার্মিং আপন করে নিলে একজন চাষি সরাসরি কী কী সুবিধা পাবেন, তা নিচে আলোচনা করা হলো:

  • আর্থিক সাশ্রয় ও ঋণের মুক্তি: রাসায়নিক চাষে প্রতি বছর সার, বীজ এবং কীটনাশক কিনতে চাষিদের বড় অঙ্কের টাকা ধার বা ঋণ নিতে হয়। প্রাকৃতিক কৃষিতে সমস্ত ইনপুট (যেমন- জীবামৃত, নিমাস্ত্র) ঘরের উপাদান দিয়ে তৈরি হওয়ায় উৎপাদন খরচ এক ধাক্কায় প্রায় শূন্যে নেমে আসে। [নিমাস্ত্র তৈরি করতে এখানে ক্লিক করুন]
  • নিরাপদ ও পুষ্টিকর খাদ্য উৎপাদন: এই পদ্ধতিতে উৎপাদিত ফসলে কোনো বিষাক্ত রাসায়নিকের অবশিষ্টাংশ থাকে না। ফলে এই খাদ্য যেমন সুস্বাদু, তেমনই মানবদেহের জন্য ১০০% নিরাপদ।
  • মাটির স্থায়ী উর্বরতা ও অর্গানিক কার্বন বৃদ্ধি: দেশি গরুর গোবর ও মূত্র দিয়ে তৈরি উপাদান মাটিতে দেওয়ার ফলে মাটির উপরিভাগের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে থাকে এবং অর্গানিক কার্বনের (Organic Carbon) মাত্রা দ্রুত বাড়ে। ফলে জমি বছরের পর বছর নিজে থেকেই উর্বর থাকে।
  • পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষা: এই চাষে কোনো বিষ ব্যবহার না করায় জমির উপকারী বন্ধু পোকা, মৌমাছি, পাখি এবং মাটির কেঁচোরা সুরক্ষিত থাকে। ফলে প্রকৃতির ভেতরের খাদ্যশৃঙ্খল বা ইকোসিস্টেম আবার শক্তিশালী হয়ে ওঠে।

বিশেষ দ্রষ্টব্য: অনেকে মনে করেন প্রাকৃতিক কৃষিতে চাষ শুরু করলে প্রথম বছর থেকেই ফলন একবারে অর্ধেক হয়ে যায়, যা সম্পূর্ণ ভুল ধারণা। যদি সঠিক নিয়ম মেনে প্রথম থেকেই মালচিং এবং ঘন জীবামৃত ব্যবহার করা যায়, তবে মাটির অণুজীব দ্রুত সক্রিয় হয়ে ওঠায় ফলনে তেমন কোনো বড় ঘাটতি দেখা যায় না এবং খরচ কম হওয়ায় নিট লাভ বেশি হয়।

প্রাকৃতিক কৃষির সম্ভাবনা ও পরিধি

আমাদের দেশে, বিশেষ করে গ্রামীণ অর্থনীতিতে প্রাকৃতিক কৃষির সম্ভাবনা অত্যন্ত উজ্জ্বল ও দূরপ্রসারী:

প্রিমিয়াম বাজারের সুবিধা : বর্তমানে বিশ্বজুড়ে এবং দেশের বাজারে রাসায়নিকমুক্ত ও পুষ্টিকর খাদ্যের চাহিদা রকেটের গতিতে বাড়ছে। সাধারণ ফসলের তুলনায় প্রাকৃতিক উপায়ে উৎপাদিত ফসলের বাজারমূল্য অনেক বেশি পাওয়া যায়, যা কৃষকদের আয় দ্বিগুণ করতে সাহায্য করবে।

প্রান্তিক কৃষকদের স্বনির্ভরতা: আমাদের দেশের অধিকাংশ চাষিই ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক। তাদের পক্ষে চড়া দামে সার-ওষুধ কেনা সম্ভব হয় না। এই পদ্ধতির পরিধি এতটাই সহজ যে যেকোনো প্রান্তিক চাষি নিজের ঘরের ১টি মাত্র দেশি গরুকে কাজে লাগিয়ে অনায়াসে এক একর বা তার বেশি জমিতে সফলভাবে চাষ করতে পারেন।

জলসম্পদ সংরক্ষণ: এই পদ্ধতিতে মাটিকে সবসময় আচ্ছাদন বা খড়-লতাপাতা দিয়ে ঢেকে রাখার কারণে মাটিতে জলের বাষ্পীভবন বন্ধ হয়। ফলে ভূগর্ভস্থ জলের অপচয় কমে এবং শুষ্ক বা খরাপ্রবণ এলাকাতেও চমৎকার চাষবাস করা সম্ভব হয়।

আড়ও দেখুন জৈব সার বলতে কি বুঝায় ? জৈব চাষ কি? জৈব চাষের বৈশিষ্ট্য ও অগ্রগতি

কৃতিক কৃষির মূল লক্ষ্য ও মাটির আসল জাদু

Natural Farming বা প্রাকৃতিক কৃষির মূল ভিত্তি হলো মাটির ভেতরের জীব মণ্ডলকে (Soil Biology) জাগ্রত করা। রাসায়নিক চাষে যেখানে কারখানায় তৈরি সার ব্যবহার করা হয়, সেখানে প্রাকৃতিক কৃষিতে সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক ও জৈবিক অনুঘটক ব্যবহার করা হয়। এই চাষের মূল লক্ষ্য হলো জমিকে এমন একটি স্বয়ংসম্পূর্ণ ইকোসিস্টেমে পরিণত করা, যেখানে মাটি নিজেই নিজের উর্বরতা ধরে রাখতে পারে এবং ফসলের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়।

প্রাকৃতিক কৃষির দুনিয়া: গরু ভিত্তিক বনাম গরু ছাড়া চাষ পদ্ধতি

প্রাকৃতিক কৃষির বিশাল দুনিয়াকে মূলত দুটি সহজ ভাগে ভাগ করে আলোচনা করা যায়:

১. গবাদি পশু ভিত্তিক পদ্ধতি

এটি প্রাকৃতিক কৃষির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এবং মূল ধারা। এই ব্যবস্থার কেন্দ্রে রয়েছে আমাদের দেশি গরু।

  • কেন দেশি গরু জরুরি: বৈজ্ঞানিক গবেষণায় দেখা গেছে, একটি দেশি গরুর ১ গ্রাম গোবরের মধ্যে প্রায় ৩০০ থেকে ৫০০ কোটিরও বেশি উপকারী অণুজীব (Microbes) থাকে।
  • দেশি গরুর গোবর ও মূত্রকে বেসন, গুড় এবং মাটির সাথে মিশিয়ে বিভিন্ন ধরনের কালচার তৈরি করা হয়, যা মাটিতে কোটি কোটি অণুজীবের জন্ম দেয়। একটিমাত্র দেশি গরু দিয়ে অনায়াসে ৩০ একর জমিতে প্রাকৃতিক চাষ করা সম্ভব।

২. অ-গবাদি পশু ভিত্তিক পদ্ধতি

যেসব কৃষকের কাছে দেশি গরু নেই, তাদের জন্য এই বিকল্প ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

  • এখানে মূলত খামারের অন্যান্য জৈব উপাদান, গাছের পাতা, নিমের নির্যাস, ফসলের অবশিষ্টাংশ এবং কম্পোস্টিংয়ের বিভিন্ন প্রাকৃতিক স্তর ব্যবহার করে মাটির স্বাস্থ্য রক্ষা করা হয়।
  • এছাড়াও বিভিন্ন ডালজাতীয় ফসলের শিকড়ে থাকা ব্যাকটেরিয়াকে কাজে লাগিয়ে নাইট্রোজেন ফিক্সেশন করা হয়।

আড়ও দেখুন : ঘরে বসে জৈব কীটনাশক তৈরির সহজ নিয়ম জানতে এখানে ক্লিক করুন।

প্রাকৃতিক কৃষির প্রধান ৪টি স্তম্ভ

ভারত সরকারের নির্দেশিকা অনুসারে, প্রাকৃতিক কৃষির আসল জাদু লুকিয়ে আছে ৪টি মূল উপাদানের সঠিক ব্যবহারের মধ্যে:

১. বীজামৃত (Bijamrut) — বীজ শোধন

  • কাজ: এটি নতুন বীজ বা চারা রোপণের আগে তা শোধন করার একটি সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক ফর্মুলা।
  • উপাদান: দেশি গরুর গোবর, মূত্র, চুন এবং মাটির মিশ্রণ।
  • সুবিধা: এটি বীজকে ছত্রাক ও মাটির ভেতরের ক্ষতিকর পোকা থেকে রক্ষা করে এবং বীজের অঙ্কুরোদগম ক্ষমতা অনেক বাড়িয়ে দেয়।

আড়ও দেখুন: ঘরে বসে বীজামৃত তৈরির সহজ নিয়ম জানতে ক্লিক করুন

২. জীবামৃত (Jeevamrut) — মাটির অণুজীবের খাদ্য

  • কাজ: এটি কোনো সার নয়, এটি হলো কোটি কোটি উপকারী ব্যাকটেরিয়ার একটি তরল মিশ্রণ বা কালচার। এটি তরল (ঘন জীবামৃত) বা শুকনো (শুকনো জীবামৃত) দুভাবেই ব্যবহার করা যায়।
  • উপাদান: জল, দেশি গরুর গোবর, গোমূত্র, গুড়, বেসন (ডালের গুঁড়ো) এবং অটুট মাটির উপরিভাগের সজীব মাটি।
  • সুবিধা: এটি মাটিতে দেওয়ার সাথে সাথে অণুজীবের সংখ্যা রকেটের গতিতে বাড়ে, যা মাটির লক হয়ে থাকা পুষ্টি উপাদানকে গলিয়ে গাছের গ্রহণের উপযোগী করে তোলে।

আড়ও দেখুন : ঘরে বসে কিভাবে জীবামৃত তৈরি করবেন সহজ নিয়ম জানতে ক্লিক করুন।

৩. আচ্ছাদন বা মালচিং — মাটির সুরক্ষা

  • কাজ: মাটিকে খড়, শুকনো পাতা বা জীবন্ত ফসল (যেমন- ডালশস্য) দিয়ে ঢেকে রাখা।
  • সুবিধা: মালচিং করলে মাটির উপরিভাগের আর্দ্রতা বজায় থাকে, ফলে ফসলে সেচের জল অনেক কম লাগে। এটি আগাছা জন্মাতে বাধা দেয় এবং মাটির কেঁচোদের রোদের হাত থেকে বাঁচিয়ে ২৪ ঘণ্টা কাজ করতে সাহায্য করে।

৪. ভাপসা বা বাষ্পীয় অবস্থা (Whapasa) — জল ও বায়ুর ভারসাম্য

  • কাজ: ভাপসা হলো মাটির এমন একটি অবস্থা যেখানে মাটির কণার মধ্যে জল এবং বাতাস সম পরিমাণে (৫০:৫০ অনুপাতে) অবস্থান করে।
  • সুবিধা: অনেকে মনে করেন গাছের শিকড় সরাসরি জল পান করে, যা ভুল ধারণা। গাছের শিকড় আসলে মাটির ভেতরের জলীয় বাষ্প বা ‘ভাপসা’ অবস্থা থেকে পুষ্টি টানে। এই ভাপসা অবস্থা তৈরি হওয়ার কারণে প্রাকৃতিক কৃষিতে অতিরিক্ত সেচের জল লাগে না এবং মাটির গঠন নরম থাকে।

প্রাকৃতিক কৃষি মিশনের (NMNF) মূল উদ্দেশ্য সমূহ

ভারত সরকার দেশের প্রতিটি ব্লকে রাসায়নিকমুক্ত কৃষির বিস্তার ঘটাতে National Mission on Natural Farming (NMNF) প্রকল্পটিকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। এই মিশন প্রচারের প্রধান উদ্দেশ্যগুলো নিচে আলোচনা করা হলো:

  • নিরাপদ ও বিষমুক্ত খাদ্য সুনিশ্চিত করা: দেশের সাধারণ মানুষের কাছে রাসায়নিকের অবশিষ্টাংশমুক্ত (Chemical Residue-free) পুষ্টিকর ও নিরাপদ খাদ্য পৌঁছে দেওয়া এই মিশনের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য।
  • চাষের খরচ কমিয়ে কৃষকের আয় বৃদ্ধি: সার ও কীটনাশকের পেছনে প্রান্তিক কৃষকদের যে বিপুল পরিমাণ টাকা খরচ হয়, তা বন্ধ করে সম্পূর্ণ ঘরের উপাদানে চাষ নিশ্চিত করা। এতে কৃষকের নিট মুনাফা অনেক বেড়ে যায়।
  • মাটির স্বাস্থ্য ও ইকোসিস্টেমের পুনরুজ্জীবন: বছরের পর বছর কেমিক্যাল ব্যবহারের ফলে মৃতপ্রায় হয়ে পড়া মাটির অর্গানিক কার্বন বৃদ্ধি করা এবং মাটির উপকারী বন্ধু পোকা ও অণুজীবদের ফিরিয়ে আনা।
  • জলসম্পদ রক্ষা এবং গ্রীনহাউস গ্যাস কমানো: কৃষিক্ষেত্রে জলের অপচয় রোধ করা এবং রাসায়নিক সার তৈরির কারখানা থেকে নির্গত ক্ষতিকর গ্রীনহাউস গ্যাসের পরিমাণ কমিয়ে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করা।

আড়ও দেখুন ভারতে জৈব কৃষি শংসা পত্র পাওয়ার পদ্ধতি ও প্রাকৃতিক চাষের পূর্ণাঙ্গ গাইড

ভারত সরকার “খেতি বাঁচাও অভিযান ” আন্দোলন

রাসায়নিক সারের অতিরিক্ত ব্যবহারের ফলে দেশের উর্বর জমি যেভাবে মরুভূমি হয়ে যাচ্ছে, তা রুখতেই ভারত সরকার এই বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে। এই অভিযানের মূল লক্ষ্য হলো—”রাসায়নিক সার ও বিষাক্ত কীটনাশক হটাও, কৃষিজমি ও পরিবেশ বাঁচাও। ভারতের সমস্ত কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, কৃষি বিজ্ঞান কেন্দ্র (KVK), ব্লক কৃষি বিভাগ ২০২৬ সালের জুন মাসের ৩০ দিন ব্যাপী ক্ষেত বাচাও অভিযান সচেতনতা অনুষ্ঠান করছে কৃষকদের নিয়ে। PM-PRANAM যোজনার মাধ্যমে প্রাকৃতিক কৃষিকে চাষ পদ্ধতি হিসাবে গ্রহণ করার জন্য উৎসাহ দিচ্ছে।

খেতি বাঁচাও অভিয়ানের অধীনে দুটি প্রধান স্তম্ভের ওপর কাজ করা হচ্ছে:

  • রাসায়নিকের ব্যবহার কমানো: ইউরিয়া বা ডিএপি (DAP)-এর মতো চড়া দামের রাসায়নিক সারের ব্যবহার এক ধাক্কায় কমিয়ে, তার জায়গায় সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক উপাদান ও জৈব সারের ব্যবহার বাড়ানো।
  • PM-PRANAM প্রকল্প: এই প্রকল্পের মাধ্যমে যে সমস্ত ব্লক বা রাজ্য রাসায়নিক সারের ব্যবহার যত বেশি কমাতে পারবে, সরকার তাদের বিশেষ আর্থিক অনুদান দেবে। এই অনুদানের টাকা সরাসরি গ্রামীণ এলাকায় প্রাকৃতিক কৃষির পরিকাঠামো তৈরি এবং চাষিদের সহায়তায় খরচ করা হবে।
  • বাস্তব পরিস্থিতি: বর্তমানে আমাদের প্রতিটি ব্লকেই স্বনির্ভর গোষ্ঠীর (SHG) সদস্য এবং কৃষি ট্রেইনারদের মাধ্যমে চাষি ভাইদের দেশি গরুর গোবর-মূত্র ব্যবহার করে জীবামৃত ও বীজামৃত তৈরির প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। বাজার থেকে চড়া দামের বিষ না কিনেও যে মাটিকে সুস্থ রেখে ভালো ফলন পাওয়া সম্ভব—এই “খেতি বাঁচাও” অভিযান আজ মাঠপর্যায়ে তা প্রমাণ করে দিচ্ছে।

আড়ও দেখুন কৃষি প্রযুক্তি পরিচালন সংস্থা (ATMA) প্রকল্প গাইডলাইন:

মাঠপর্যায়ের বাস্তব চিত্র ও রাজ্যভিত্তিক অগ্রগতি

ভারতে Natural Farming বা প্রাকৃতিক কৃষির বর্তমান চিত্রটি অত্যন্ত আশাব্যঞ্জক। কেন্দ্রীয় সরকারের মিশন গাইডলাইন এবং বিভিন্ন রাজ্যের নিজস্ব উদ্যোগে লক্ষ লক্ষ কৃষক এখন এই রাসায়নিকমুক্ত চাষের দিকে ঝুঁকছেন। নিচে প্রধান কয়েকটি রাজ্যের বাস্তব চিত্র তুলে ধরা হলো:

১. অন্ধ্রপ্রদেশ — দেশের পথপ্রদর্শক

  • প্রাকৃতিক কৃষির ক্ষেত্রে অন্ধ্রপ্রদেশ ভারতের মধ্যে সবচেয়ে বড় রোল মডেল।
  • এখানে এটি APCNF (Andhra Pradesh Community-managed Natural Farming) মডেল নামে পরিচিত।
  • স্বনির্ভর গোষ্ঠীর (SHG) নারীদের এবং কমিউনিটি রিসোর্স পার্সনদের (CRP) কাজে লাগিয়ে রাজ্যটি লাখ লাখ একর জমিকে সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক কৃষির আওতায় নিয়ে এসেছে। তাদের এই LEISA (Low External Input Sustainable Agriculture) মডেলটি আজ বিশ্বজুড়ে প্রশংসিত।

২. গুজরাট — রাজ্য স্তরের বড় বিপ্লব

  • গুজরাট সরকার প্রাকৃতিক কৃষির প্রসারে ব্যাপক জোয়ার এনেছে।
  • রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে যে সমস্ত কৃষক সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক উপায়ে চাষ করছেন, তাদের দেশি গরুর রক্ষণাবেক্ষণের জন্য বিশেষ আর্থিক অনুদান (মাসিক ভাতা) দেওয়া হচ্ছে।
  • এর ফলে ডাঙ্গ (Dang) জেলা ভারতের প্রথম সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক কৃষি জেলা হিসেবে স্বীকৃতি পাওয়ার দিকে এগিয়ে গেছে।

৩. হিমাচল প্রদেশ — পাহাড়ি এলাকার সাফল্য

  • হিমাচল প্রদেশ সরকার “প্রাকৃতিক খেতি খুশহাল কিসান যোজনা” (Prakritik Kheti Khushhal Kisan Yojana) চালু করে এই চাষকে প্রতিটি ঘরে পৌঁছে দিয়েছে।
  • পাহাড়ি আপেল বাগান থেকে শুরু করে মরসুমি সবজি চাষে জীবামৃত ও আচ্ছাদন পদ্ধতির ব্যাপক ব্যবহারের ফলে সেখানকার কৃষকদের বাজারের ওপর নির্ভরতা প্রায় শেষ হয়ে গেছে।

৪. হরিয়ানা ও রাজস্থান — জলসংকটের সমাধান

  • হরিয়ানা: ঐতিহ্যগতভাবে রাসায়নিক চাষের গড় হওয়া সত্ত্বেও, হরিয়ানার বিস্তীর্ণ এলাকায় এখন বাসমতি চাল এবং গম চাষে প্রাকৃতিক পদ্ধতি সফলভাবে প্রয়োগ করা হচ্ছে। সরকার বড় বড় প্রদর্শনী খামার তৈরি করে কৃষকদের ট্রেনিং দিচ্ছে।
  • রাজস্থান: রাজস্থানের মতো শুষ্ক ও জলসংকটপ্রবণ এলাকায় প্রাকৃতিক কৃষির ‘মালচিং’ এবং ‘ভাপসা’ টেকনিকটি ম্যাজিকের মতো কাজ করেছে। কম জলে কীভাবে চমৎকার ফলন পাওয়া যায়, রাজস্থানের খামারিরা তা প্রমাণ করে দেখিয়েছেন।

বিশেষ দ্রষ্টব্য: অনেকে মনে করেন প্রাকৃতিক কৃষি কেবল ছোট বা পারিবারিক বাগানের জন্য উপযুক্ত, বড় বাণিজ্যিক চাষে এটি ব্যর্থ। এটি সম্পূর্ণ ভুল ধারণা, অন্ধ্রপ্রদেশ বা গুজরাটের লাখো কৃষক আজ একরের পর একর জমিতে বাণিজ্যিক স্তরে ধান, তুলা ও সবজি চাষ করে রেকর্ড ফলন ও লাভ করছেন।

সফল প্রাকৃতিক কৃষি কৃষক উদাহরণ

প্রাকৃতিক কৃষি পদ্ধতিতে শূন্য খরচে কৃষি করে অধিক উৎপাদন করে যারা অন্য কৃষকদের কাছে উদাহরণ হয়ে উঠেছেন তাদের কয়েকজনের সফলতা নিচে আলোচনা করা হয়েছে।

১. শ্রী এম লক্ষ্মণ (অন্ধ্রপ্রদেশ)

  • পটভূমি: ২০১৯ সালের আগে তিনি সাধারণ রাসায়নিক পদ্ধতিতে চাষ করতেন। কিন্তু দিন দিন চড়া দামের সার-ওষুধের কারণে তাঁর ঋণের বোঝা বাড়ছিল এবং স্বাস্থ্যের ক্ষতি হচ্ছিল।
  • প্রাকৃতিক কৃষিতে রূপান্তর: ২০১৯ সালে তিনি ‘সেন্টার ফর সাসটেইনেবল এগ্রিকালচার’ (CSA)-এর সহায়তায় মাত্র ১.৫ একর জমিতে প্রাকৃতিক চাষ শুরু করেন। তিনি মাল্টি-লেয়ার ক্রপিং মডেল (বহুস্তরীয় চাষ) বেছে নেন।
  • সাফল্য ও পদ্ধতি: তিনি প্রধান ফসল হিসেবে ৭৩০টি পেয়ারা গাছ এবং দীর্ঘমেয়াদি আয়ের জন্য ৩৩০টি চন্দন গাছ লাগান। এর মাঝে আন্তঃফসল হিসেবে লেবু, ডালিম, বেদানা ও ১০ রকমের শাকসবজি চাষ করেন। জমিতে কোনো রাসায়নিক না দিয়ে তিনি সম্পূর্ণ ড্রিপ ইরিগেশনের মাধ্যমে ১৫ দিন পর পর জীবামৃত ব্যবহার করেন এবং পোকা দমনের জন্য নিম খৈল ও ফ্রুট ফ্লাই ট্র্যাপ ব্যবহার করেন। বর্তমানে তিনি প্রতি রবিবার বাজারে নিজের উৎপাদিত বিষমুক্ত সবজি চড়া দামে বিক্রি করে সম্পূর্ণ ঋণমুক্ত ও স্বাবলম্বী।

২. ৮০ বছর বয়সী কৃষক রোসাইয়া ( অন্ধ্রপ্রদেশ)

  • পটভূমি: অন্ধ্রপ্রদেশের গুন্টুর জেলার এই ৮০ বছর বয়সী প্রবীণ কৃষক বর্তমান যুগের তরুণদের কাছে প্রাকৃতিক কৃষির এক মস্ত বড় অনুপ্রেরণা।
  • সাফল্য ও পদ্ধতি: তিনি পদ্মশ্রী সুভাষ পালেকরের মডেল অনুসরণ করে বিনা চাষে সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক পদ্ধতিতে চাষ করেন। মাত্র ৭৫ সেন্ট (১ একরেরও কম) জমিতে তিনি কোনো বাইরের শ্রমিক ছাড়াই একা হাতে নারকেল, নানাবিধ ফল ও শাকসবজি সহ প্রায় ৫২ রকমের ফসল একসাথে ফলাচ্ছেন! তাঁর এই অকল্পনীয় সাফল্যের জন্য অন্ধ্রপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রীও তাঁকে বিশেষভাবে সম্মানিত করেছেন।

৩. দিপালী মাহাতো (পুরুলিয়া, পশ্চিমবঙ্গ)

সাফল্য ও পদ্ধতি: পুরুলিয়ার জেলার হুড়া ব্লকে কুসুম জুড়িয়া গ্রামের এই সাধারণ মহিলা চাষি আজ একজন সফল ‘মিলেটপ্রেনিউর’ বা বাজরা চাষি হিসেবে পরিচিত। তিনি সম্পূর্ণ জৈব ও প্রাকৃতিক উপায়ে অত্যন্ত কম খরচে পুষ্টিকর মিলেট বা দানাশস্য চাষ শুরু করেন। কোনো রকম রাসায়নিক সার ছাড়াই তাঁর প্রথম চাষেই দারুণ ফলন আসে। আনন্দধারা প্রকল্প (WBSRLM) এবং একটি স্থানীয় সংস্থার যৌথ সহায়তায় বর্তমানে তিনি একটি ‘মিলেট ক্যাফে’ পরিচালনা করছেন, যা গ্রামীণ মহিলাদের স্বনির্ভরতার এক মস্ত বড় উদাহরণ।

আড়ও দেখুন গোবর দিয়ে তরল জৈব সার তৈরির পদ্ধতি: গাছের গ্রোথ প্রোমোটার বা ভিটামিন তৈরি গাইড

প্রায়ই জিজ্ঞাসিত প্রশ্নোত্তর (FAQ)

প্রশ্ন ১: প্রাকৃতিক কৃষি (Natural Farming) কী?

উত্তর: এটি সম্পূর্ণ রাসায়নিকমুক্ত এমন এক টেকসই চাষ পদ্ধতি, যেখানে বাজারের কেনা সার-ওষুধ ছাড়া প্রকৃতির নিয়ম মেনে চাষ করা হয়। এই পদ্ধতিতে দেশি গরুর গোবর-মূত্র ও খামারের নিজস্ব উপাদান ব্যবহার করে মাটির উর্বরতা ও ফসলের উৎপাদন বাড়ানো হয়।

প্রশ্ন ২: SPNF মডেল কী?

উত্তর: SPNF-এর পুরো নাম হলো ‘সুভাষ পালেকর ন্যাচারাল ফার্মিং’, যা পদ্মশ্রী সুভাষ পালেকরের দেওয়া একটি বিশেষ মডেল। এই মডেলে দেশি গরুর উপাদান দিয়ে তৈরি বীজামৃত ও জীবামৃত ব্যবহারের মাধ্যমে চাষের খরচ এক ধাক্কায় শূন্যে নামিয়ে আনা হয়।

প্রশ্ন ৩: ZBNF কী?

উত্তর: ZBNF হলো ‘জিরো বাজেট ন্যাচারাল ফার্মিং’, যার অর্থ হলো বাজার থেকে কোনো চড়া দামের ইনপুট না কিনে শূন্য খরচে চাষবাস করা। ফসলের অবশিষ্টাংশ দিয়ে মালচিং বা আচ্ছাদন তৈরি এবং আন্তঃফসল চাষের মাধ্যমে এই পদ্ধতিতে ফলন ধরে রাখা হয়।

প্রশ্ন ৪: NMNF কী?

উত্তর: NMNF হলো ভারত সরকারের ‘ন্যাশনাল মিশন অন ন্যাচারাল ফার্মিং’ (National Mission on Natural Farming) নামক একটি জাতীয় প্রকল্প। এই মিশনের মূল লক্ষ্য হলো রাসায়নিকমুক্ত চাষের সঠিক গাইডলাইন ও সরকারি সহায়তার মাধ্যমে দেশজুড়ে প্রাকৃতিক কৃষির বিস্তার ঘটানো।

প্রশ্ন ৫: জমিতে রাসায়নিক সার ছাড়া কীভাবে ফলন বাড়ানো যায়?

উত্তর: জমিতে নিয়মিত ঘন জীবামৃত ব্যবহার করে মাটির ঘুমন্ত উপকারী অণুজীব ও কেঁচোদের সক্রিয় করে তুললে ফলন দ্রুত বৃদ্ধি পায়। এর সাথে ডালজাতীয় ফসলের মিশ্র চাষ এবং খড়-লতাপাতার আচ্ছাদন দিলে মাটি নিজে থেকেই তার প্রয়োজনীয় পুষ্টি তৈরি করে নেয়।

প্রশ্ন ৬: প্রাকৃতিক কৃষি পদ্ধতিতে কি হাইব্রিড বীজের ফসল চাষ সম্ভব?

উত্তর: হ্যাঁ, প্রাকৃতিক কৃষি পদ্ধতিতে হাইব্রিড বীজের ফসল চাষ করা সম্ভব, তবে দেশি বা সনাতন বীজ ব্যবহার করাই এই চাষের মূল উদ্দেশ্য। হাইব্রিড বীজের ক্ষেত্রে সঠিক পুষ্টির জন্য জমিতে জীবামৃত ও আচ্ছাদনের (মালচিং) পরিমাণ কিছুটা বাড়িয়ে দিলে ভালো ফলন পাওয়া যায়।

তথ্য সূত্র

  • জাতীয় প্রাকৃতিক কৃষি মিশন (NMNF) ভারত সরকার।
  • শূন্য খরচে প্রাকৃতিক কৃষি (ZBNF) ভারত সরকার।
  • জাতীয় জৈব ও প্রাকৃতিক কৃষি গবেষণা কেন্দ্র (NCOF) ভারত সরকার।
  • সুভাষ পালেকর প্রাকৃতিক কৃষি (SPNF)
  • সফল কৃষক উদাহরণ- The times of a better India, centre of sustainable agriculture. and ETV Andhra Pradesh.
Spread the love

Leave a Comment

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Scroll to Top